CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০২ মে, ২০২৬

সত্যিই কি মেসি-রোনালদো বিশ্বের সবচেয়ে ‘অলস’ ফুটবলার?

#
news image

একটি চমকপ্রদ র‌্যাঙ্কিং ফুটবল বিশ্বে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই তালিকারও শীর্ষে অবস্থান ফুটবলের সর্বকালের দুই সেরা তারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে আছেন হালের সেরা তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেও। তবে পুরো প্রেক্ষাপট দেখলে শীর্ষে থাকাটা তাদের জন্য বিব্রতকরই।

সম্প্রতি সিআইইএস ফুটবল অবজারভেটরির এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিপক্ষ দল বলের দখলে থাকলে সবচেয়ে কম দূরত্ব কভার করা খেলোয়াড়দের মধ্যে আছেন মেসি ও রোনালদো। এই তথ্য প্রকাশের পর ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

কিছু মানুষ এটিকে ‘আলসেমি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মেসি ও রোনালদোকে বিশ্বের সবচেয়ে 'অলস' ফুটবলারের তকমা দিচ্ছে। কিন্তু প্রতিবেদনে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, এই পরিমাপ কোনো নেতিবাচক মূল্যায়ন নয়। বরং এটি একজন খেলোয়াড়ের কৌশলগত ভূমিকা এবং শক্তি ব্যবস্থাপনার প্রতিফলন।

গবেষণাটি মূলত হিসাব করেছে, প্রতিপক্ষের দখলে বল থাকলে একজন খেলোয়াড় কতটা দূরত্ব অতিক্রম করেন।

মূল বিষয়গুলো ছিল—
* প্রতিটি খেলোয়াড়ের অতিক্রম করা দূরত্বকে তার দলের গড় দূরত্বের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
* কম সূচক মানে রক্ষণাত্মক পর্যায়ে তুলনামূলক কম সম্পৃক্ততা।
* ২০২৫-২৬ মৌসুমে ১,০০০ মিনিটের বেশি খেলা ফুটবলারদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই কারণেই প্রতিবেদনে একে সরাসরি পরিশ্রম বা পারফরম্যান্সের মানদণ্ড না বলে ‘অফ-দ্য-বল অ্যাক্টিভিটি’ র‌্যাঙ্কিং বলা হয়েছে।

তালিকায় প্রায় পুরোপুরি আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রাই জায়গা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পেও।

এর কারণ, সাধারণত ফরোয়ার্ডরা বল হারানোর পর অতিরিক্ত নিচে নেমে রক্ষণে অংশ নেন না। বরং তারা মাঠের ওপরে অবস্থান ধরে রাখেন, যাতে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে অংশ নিতে পারেন। তবে এখানে প্রেক্ষাপটই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো দুজনই এমন খেলার ধরন গড়ে তুলেছেন যেখানে কার্যকারিতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তারা সবসময় দৌড়ানোর বদলে কখন নড়াচড়া করতে হবে, সেই মুহূর্ত বেছে নেন। এভাবে তারা শক্তি সঞ্চয় করেন এবং আক্রমণভাগে আরও বেশি কার্যকর থাকতে পারেন।

গবেষণায় কিলিয়ান এমবাপ্পের উপস্থিতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে। বিশ্বের দ্রুততম খেলোয়াড়দের একজন হওয়া মানেই যে বল ছাড়া অবস্থায় সবচেয়ে বেশি দূরত্ব দৌড়াতে হবে, তা নয়।

এমনকি আল নাসরের মতো উচ্চ-প্রেসিং দলেও এমন কৌশল থাকতে পারে, যেখানে মূল স্ট্রাইকারকে রক্ষণাত্মক প্রেসিংয়ে অতটা জড়িত থাকতে হয় না।

সব মিলিয়ে, সিআইইএস ফুটবল অবজারভেটরির গবেষণা কোথাও বলেনি যে মেসি বা রোনালদো ‘আলসে’। বরং এটি দেখিয়েছে, কিছু খেলোয়াড় ক্রমাগত দৌড়ানোর বদলে আক্রমণে প্রভাব তৈরিকে অগ্রাধিকার দেন।

আধুনিক ফুটবলে বেশি দৌড়ানো মানেই সবসময় ভালো পারফরম্যান্স নয়। আর এই দুই কিংবদন্তির ক্ষেত্রে মাঠে তাদের প্রভাব এখনো প্রশ্নাতীত।

নিউজ ডেস্ক

০২ মে, ২০২৬,  12:17 PM

news image
ইন্টারনেট

একটি চমকপ্রদ র‌্যাঙ্কিং ফুটবল বিশ্বে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই তালিকারও শীর্ষে অবস্থান ফুটবলের সর্বকালের দুই সেরা তারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে আছেন হালের সেরা তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেও। তবে পুরো প্রেক্ষাপট দেখলে শীর্ষে থাকাটা তাদের জন্য বিব্রতকরই।

সম্প্রতি সিআইইএস ফুটবল অবজারভেটরির এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিপক্ষ দল বলের দখলে থাকলে সবচেয়ে কম দূরত্ব কভার করা খেলোয়াড়দের মধ্যে আছেন মেসি ও রোনালদো। এই তথ্য প্রকাশের পর ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

কিছু মানুষ এটিকে ‘আলসেমি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মেসি ও রোনালদোকে বিশ্বের সবচেয়ে 'অলস' ফুটবলারের তকমা দিচ্ছে। কিন্তু প্রতিবেদনে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, এই পরিমাপ কোনো নেতিবাচক মূল্যায়ন নয়। বরং এটি একজন খেলোয়াড়ের কৌশলগত ভূমিকা এবং শক্তি ব্যবস্থাপনার প্রতিফলন।

গবেষণাটি মূলত হিসাব করেছে, প্রতিপক্ষের দখলে বল থাকলে একজন খেলোয়াড় কতটা দূরত্ব অতিক্রম করেন।

মূল বিষয়গুলো ছিল—
* প্রতিটি খেলোয়াড়ের অতিক্রম করা দূরত্বকে তার দলের গড় দূরত্বের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
* কম সূচক মানে রক্ষণাত্মক পর্যায়ে তুলনামূলক কম সম্পৃক্ততা।
* ২০২৫-২৬ মৌসুমে ১,০০০ মিনিটের বেশি খেলা ফুটবলারদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই কারণেই প্রতিবেদনে একে সরাসরি পরিশ্রম বা পারফরম্যান্সের মানদণ্ড না বলে ‘অফ-দ্য-বল অ্যাক্টিভিটি’ র‌্যাঙ্কিং বলা হয়েছে।

তালিকায় প্রায় পুরোপুরি আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রাই জায়গা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পেও।

এর কারণ, সাধারণত ফরোয়ার্ডরা বল হারানোর পর অতিরিক্ত নিচে নেমে রক্ষণে অংশ নেন না। বরং তারা মাঠের ওপরে অবস্থান ধরে রাখেন, যাতে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে অংশ নিতে পারেন। তবে এখানে প্রেক্ষাপটই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো দুজনই এমন খেলার ধরন গড়ে তুলেছেন যেখানে কার্যকারিতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তারা সবসময় দৌড়ানোর বদলে কখন নড়াচড়া করতে হবে, সেই মুহূর্ত বেছে নেন। এভাবে তারা শক্তি সঞ্চয় করেন এবং আক্রমণভাগে আরও বেশি কার্যকর থাকতে পারেন।

গবেষণায় কিলিয়ান এমবাপ্পের উপস্থিতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে। বিশ্বের দ্রুততম খেলোয়াড়দের একজন হওয়া মানেই যে বল ছাড়া অবস্থায় সবচেয়ে বেশি দূরত্ব দৌড়াতে হবে, তা নয়।

এমনকি আল নাসরের মতো উচ্চ-প্রেসিং দলেও এমন কৌশল থাকতে পারে, যেখানে মূল স্ট্রাইকারকে রক্ষণাত্মক প্রেসিংয়ে অতটা জড়িত থাকতে হয় না।

সব মিলিয়ে, সিআইইএস ফুটবল অবজারভেটরির গবেষণা কোথাও বলেনি যে মেসি বা রোনালদো ‘আলসে’। বরং এটি দেখিয়েছে, কিছু খেলোয়াড় ক্রমাগত দৌড়ানোর বদলে আক্রমণে প্রভাব তৈরিকে অগ্রাধিকার দেন।

আধুনিক ফুটবলে বেশি দৌড়ানো মানেই সবসময় ভালো পারফরম্যান্স নয়। আর এই দুই কিংবদন্তির ক্ষেত্রে মাঠে তাদের প্রভাব এখনো প্রশ্নাতীত।