নিউজ ডেস্ক
০২ মে, ২০২৬, 12:06 PM
বিশ্বজুড়ে পালিত মে দিবসের সমাবেশগুলো এবার প্রথাগত শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। শুক্রবার ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আয়োজিত কর্মসূচিতে মজুরি বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের দাবির পাশাপাশি যুদ্ধবিরোধী স্লোগান, ফিলিস্তিনের সমর্থন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী কড়া বার্তা দেখা গেছে।
প্যারিস থেকে ইস্তাম্বুল এবং মাদ্রিদ থেকে সিউল সবখানেই বিক্ষোভকারীরা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির জন্য মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও পুঁজিবাদকে দায়ী করেছেন।
প্যারিসে শ্রমিক নেতাদের মূল দাবি মজুরি বৃদ্ধি ও সামাজিক সুরক্ষা হলেও, সেখানে ফিলিস্তিনি পতাকা ও যুদ্ধবিরোধী স্লোগান প্রধান্য পায়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হলে টিয়ার গ্যাস ও গ্রেনেড ছোড়া হয়। মাদ্রিদে হাজার হাজার মানুষ ‘পুঁজিবাদের যুদ্ধের খেসারত দিতে হবে’ লেখা ব্যানার নিয়ে মিছিল করেন। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কড়া সমালোচনা করা হয়।
জার্মানির মিউনিখেও উগ্র বামপন্থি বিক্ষোভকারীদের হটাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। লন্ডনের হেনরি জ্যাকসন সোসাইটির গবেষক এমা শুবার্ট বলেন, মে দিবসের সমাবেশগুলো এখন মতাদর্শিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যেখানে ফিলিস্তিনি পতাকাসহ কট্টর পশ্চিমাবিরোধী মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ঐতিহাসিক তাকসিম স্কয়ারে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে বামপন্থি দলগুলোর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ফিলিপাইনের ম্যানিলায় মার্কিন দূতাবাসের কাছে বিক্ষোভকারীরা জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম কমানোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানান। সেখানে ট্রাম্প, নেতানিয়াহু এবং ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রকে একটি ‘তিন মাথাওয়ালা দানব’ হিসেবে ফুটিয়ে তুলে কুশপুত্তলিকা প্রদর্শন করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলেও হাজার হাজার শ্রমিক জড়ো হন। কোরিয়া কনফেডারেশন অব ট্রেড ইউনিয়নসের চেয়ারম্যান ইয়াং কিয়ং-সু বিক্ষোভকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের শিকার ইরান ও ফিলিস্তিনের শ্রমিক ও জনগণের সঙ্গে একতাবদ্ধ হোন।’
হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো নীল গার্ডিনার এই পরিস্থিতির সমালোচনা করে একে ‘নৈতিক অবক্ষয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের উচিত ছিল তেহরানের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, কিন্তু তারা উল্টো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু করছে।
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও ২০২৬ সালের এই মে দিবস বিশ্বজুড়ে এক বিশেষ বার্তা দিয়েছে, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের রাজপথ এখন আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও আদর্শিক লড়াইয়ের ময়দান হয়ে উঠেছে।
নিউজ ডেস্ক
০২ মে, ২০২৬, 12:06 PM
বিশ্বজুড়ে পালিত মে দিবসের সমাবেশগুলো এবার প্রথাগত শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের গণ্ডি পেরিয়ে রাজনৈতিক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। শুক্রবার ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আয়োজিত কর্মসূচিতে মজুরি বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের দাবির পাশাপাশি যুদ্ধবিরোধী স্লোগান, ফিলিস্তিনের সমর্থন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী কড়া বার্তা দেখা গেছে।
প্যারিস থেকে ইস্তাম্বুল এবং মাদ্রিদ থেকে সিউল সবখানেই বিক্ষোভকারীরা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির জন্য মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও পুঁজিবাদকে দায়ী করেছেন।
প্যারিসে শ্রমিক নেতাদের মূল দাবি মজুরি বৃদ্ধি ও সামাজিক সুরক্ষা হলেও, সেখানে ফিলিস্তিনি পতাকা ও যুদ্ধবিরোধী স্লোগান প্রধান্য পায়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হলে টিয়ার গ্যাস ও গ্রেনেড ছোড়া হয়। মাদ্রিদে হাজার হাজার মানুষ ‘পুঁজিবাদের যুদ্ধের খেসারত দিতে হবে’ লেখা ব্যানার নিয়ে মিছিল করেন। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কড়া সমালোচনা করা হয়।
জার্মানির মিউনিখেও উগ্র বামপন্থি বিক্ষোভকারীদের হটাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। লন্ডনের হেনরি জ্যাকসন সোসাইটির গবেষক এমা শুবার্ট বলেন, মে দিবসের সমাবেশগুলো এখন মতাদর্শিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যেখানে ফিলিস্তিনি পতাকাসহ কট্টর পশ্চিমাবিরোধী মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ঐতিহাসিক তাকসিম স্কয়ারে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে বামপন্থি দলগুলোর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ফিলিপাইনের ম্যানিলায় মার্কিন দূতাবাসের কাছে বিক্ষোভকারীরা জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম কমানোর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানান। সেখানে ট্রাম্প, নেতানিয়াহু এবং ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রকে একটি ‘তিন মাথাওয়ালা দানব’ হিসেবে ফুটিয়ে তুলে কুশপুত্তলিকা প্রদর্শন করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলেও হাজার হাজার শ্রমিক জড়ো হন। কোরিয়া কনফেডারেশন অব ট্রেড ইউনিয়নসের চেয়ারম্যান ইয়াং কিয়ং-সু বিক্ষোভকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের শিকার ইরান ও ফিলিস্তিনের শ্রমিক ও জনগণের সঙ্গে একতাবদ্ধ হোন।’
হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো নীল গার্ডিনার এই পরিস্থিতির সমালোচনা করে একে ‘নৈতিক অবক্ষয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের উচিত ছিল তেহরানের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, কিন্তু তারা উল্টো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু করছে।
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও ২০২৬ সালের এই মে দিবস বিশ্বজুড়ে এক বিশেষ বার্তা দিয়েছে, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের রাজপথ এখন আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও আদর্শিক লড়াইয়ের ময়দান হয়ে উঠেছে।