নিউজ ডেস্ক
২৭ এপ্রিল, ২০২৬, 2:34 PM
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকায় প্রস্তাবিত কনটেইনার ডিপো নির্মাণ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও মারাত্মক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যমান নীতিমালা উপেক্ষা করে আবাসিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকায় এই ডিপো স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ঘোড়াশাল রেলওয়ে ফ্লাগ স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় ডিপো স্থাপনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে প্রাথমিক সীমানা নির্ধারণ ও মাইকিং করে বিভিন্ন স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং সব স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাবিত ডিপোর আওতায় ঘোড়াশাল সাদ্দাম বাজার থেকে মুসাবিন হাকিম ডিগ্রি কলেজ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এখানে রয়েছে একটি ডিগ্রি কলেজ, প্রাথমিক বিদ্যালয়, পৌরসভার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, খেলার মাঠ, মসজিদ, মাদ্রাসা, নিবন্ধিত খেলাধুলা করার ক্লাব, সরকারি ডাকঘরসহ ঐতিহ্যবাহী পালপাড়া।
স্থানীয়রা বলেন, এখানে কনটেইনার ডিপো স্থাপন আমাদের অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। উন্নয়নের নাম দিয়ে যদি আমাদের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক কেন্দ্রগুলো ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়, তাহলে সেই উন্নয়ন আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় কনটেইনার ডিপো স্থাপন মানে শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটা আমাদের প্রতিদিনের জীবনের ওপর এক ভয়াবহ চাপ। অবিরাম শব্দদূষণ, অমানবিক যানজট, প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কায় একটি পুরো জনপদ ধীরে ধীরে শ্বাসরুদ্ধ করে তোলা হবে। এটা কোনোভাবেই উন্নয়ন নয়। এটা আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থামিয়ে দেওয়া। আমাদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া। আমাদের সন্তানের নিরাপদ শৈশব, শিক্ষার নিশ্চয়তা, প্রবীণদের শান্ত ও নিরাপদ জীবন, আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সামাজিক বন্ধন- সবকিছুই আমাদের কাছে অমূল্য। এই মূল্যবোধগুলো ভেঙে দিয়ে কোনো তথাকথিত উন্নয়ন প্রকল্পকে আমরা স্বাগত জানাতে পারি না।
ঘোড়াশাল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ঘোড়াশাল শুধু একটি এলাকা নয়, এটি মানুষের বসতি, স্বপ্ন, শিক্ষা আর সংস্কৃতির এক জীবন্ত কেন্দ্র। এখানে কনটেইনার ডিপোর মতো ভারী ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্প চাপিয়ে দেওয়ার অর্থ হচ্ছে, ইচ্ছাকৃতভাবে একটি জনপদকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলা। উন্নয়নের নামে যদি মানুষের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ হয়, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়, মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ, খেলার মাঠ হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে সেই উন্নয়ন আসলে উন্নয়ন নয়, সেটি হচ্ছে অবিচার। সরকারের নিজস্ব নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, এ ধরনের ডিপো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে স্থাপন করতে হবে। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দিতে চাই, ঘোড়াশালের মানুষ নীরব থাকতে জানে আবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেও জানে। এই প্রকল্প যদি জনমত উপেক্ষা করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়, তাহলে আমরা গণমানুষকে সঙ্গে নিয়ে আইনগত ও গণতান্ত্রিক সব ধরনের আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও পাইকসা দাখিল মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষক কায়ছারুল আলম খান মিঠু বলেন, উন্নয়ন প্রয়োজন, তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে এ ধরনের প্রকল্প হলে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটবে। ভারী যানবাহনের শব্দে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। এ ধরনের প্রকল্প স্থাপন করা হলে তার নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর। ভারী যানবাহনের অবিরাম চলাচল, হর্নের উচ্চ শব্দ এবং যান্ত্রিক কার্যক্রমের কারণে তীব্র শব্দদূষণ সৃষ্টি হবে, যা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও পাঠগ্রহণের স্বাভাবিক পরিবেশকে বিঘিœত করবে। সব উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও শিক্ষার মান অক্ষুণœœ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্রীড়া সংগঠক উদয়ন সংঘ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম আল আমিন বলেন, কনটেইনার ডিপো নির্মাণের এই সিদ্ধান্ত আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। এটি শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়, এটি সরাসরি আমাদের ক্রীড়া, সংস্কৃতি, তরুণ সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর আঘাত। এই এলাকায় যে মাঠে প্রতিদিন শত শত তরুণ খেলাধুলা করে, সেটা ধ্বংস হয়ে গেলে তারা বিপথে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, এটি অপরাধ ও মাদক থেকে দূরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তরুণদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দিয়ে কোনো উন্নয়ন গ্রহণযোগ্য নয়।
পরিবেশবিদেরা মনে করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সার্বক্ষণিক যানবাহনের আসা-যাওয়া, হর্নের শব্দ এবং যান্ত্রিক কার্যক্রমের কারণে শব্দদূষণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, যা বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলবে। পাশাপাশি যানবাহনের ধোঁয়া ও অন্যান্য নির্গমণের ফলে বায়ুদূষণও বাড়বে, যা শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এছাড়া এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়বে, ভারী যানবাহনের চলাচল বাড়বে এবং এর ফলে সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে। এতে করে এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হবে। সব মিলিয়ে এ ধরনের একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বসবাসের অনুকূল পরিবেশ নষ্ট হয়ে গিয়ে এলাকা ধীরে ধীরে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে ‘আইসিডি ও কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন (সিএফএস) নীতিমালা, ২০২১’ অনুযায়ী, নতুন কনটেইনার ডিপো স্থাপনের ক্ষেত্রে তা শহর বা পৌরসভার বাইরে এবং আবাসিক এলাকা থেকে কমপক্ষে ২০ কিলোমিটার দূরে হওয়া বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী অবকাঠামো নিশ্চিত করার নির্দেশনাও রয়েছে। প্রস্তাবিত স্থানটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় এসব শর্ত পূরণ করা সম্ভব নয়।
প্রকল্পটির পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে কি নাÑ এ বিষয়ে জানতে নরসিংদী পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের করা হলে সহকারী পরিচালক প্রশান্ত কুমার রায় বলেন, তিনি এ বিষয়ে অবগত নন। এ ব্যাপারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিউজ ডেস্ক
২৭ এপ্রিল, ২০২৬, 2:34 PM
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকায় প্রস্তাবিত কনটেইনার ডিপো নির্মাণ ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও মারাত্মক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যমান নীতিমালা উপেক্ষা করে আবাসিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকায় এই ডিপো স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ঘোড়াশাল রেলওয়ে ফ্লাগ স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় ডিপো স্থাপনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে প্রাথমিক সীমানা নির্ধারণ ও মাইকিং করে বিভিন্ন স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং সব স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাবিত ডিপোর আওতায় ঘোড়াশাল সাদ্দাম বাজার থেকে মুসাবিন হাকিম ডিগ্রি কলেজ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এখানে রয়েছে একটি ডিগ্রি কলেজ, প্রাথমিক বিদ্যালয়, পৌরসভার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, খেলার মাঠ, মসজিদ, মাদ্রাসা, নিবন্ধিত খেলাধুলা করার ক্লাব, সরকারি ডাকঘরসহ ঐতিহ্যবাহী পালপাড়া।
স্থানীয়রা বলেন, এখানে কনটেইনার ডিপো স্থাপন আমাদের অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। উন্নয়নের নাম দিয়ে যদি আমাদের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক কেন্দ্রগুলো ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়, তাহলে সেই উন্নয়ন আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় কনটেইনার ডিপো স্থাপন মানে শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটা আমাদের প্রতিদিনের জীবনের ওপর এক ভয়াবহ চাপ। অবিরাম শব্দদূষণ, অমানবিক যানজট, প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কায় একটি পুরো জনপদ ধীরে ধীরে শ্বাসরুদ্ধ করে তোলা হবে। এটা কোনোভাবেই উন্নয়ন নয়। এটা আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থামিয়ে দেওয়া। আমাদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া। আমাদের সন্তানের নিরাপদ শৈশব, শিক্ষার নিশ্চয়তা, প্রবীণদের শান্ত ও নিরাপদ জীবন, আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সামাজিক বন্ধন- সবকিছুই আমাদের কাছে অমূল্য। এই মূল্যবোধগুলো ভেঙে দিয়ে কোনো তথাকথিত উন্নয়ন প্রকল্পকে আমরা স্বাগত জানাতে পারি না।
ঘোড়াশাল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ঘোড়াশাল শুধু একটি এলাকা নয়, এটি মানুষের বসতি, স্বপ্ন, শিক্ষা আর সংস্কৃতির এক জীবন্ত কেন্দ্র। এখানে কনটেইনার ডিপোর মতো ভারী ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্প চাপিয়ে দেওয়ার অর্থ হচ্ছে, ইচ্ছাকৃতভাবে একটি জনপদকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলা। উন্নয়নের নামে যদি মানুষের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ হয়, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়, মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ, খেলার মাঠ হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে সেই উন্নয়ন আসলে উন্নয়ন নয়, সেটি হচ্ছে অবিচার। সরকারের নিজস্ব নীতিমালায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, এ ধরনের ডিপো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে স্থাপন করতে হবে। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দিতে চাই, ঘোড়াশালের মানুষ নীরব থাকতে জানে আবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেও জানে। এই প্রকল্প যদি জনমত উপেক্ষা করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়, তাহলে আমরা গণমানুষকে সঙ্গে নিয়ে আইনগত ও গণতান্ত্রিক সব ধরনের আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও পাইকসা দাখিল মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষক কায়ছারুল আলম খান মিঠু বলেন, উন্নয়ন প্রয়োজন, তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে এ ধরনের প্রকল্প হলে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটবে। ভারী যানবাহনের শব্দে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। এ ধরনের প্রকল্প স্থাপন করা হলে তার নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর। ভারী যানবাহনের অবিরাম চলাচল, হর্নের উচ্চ শব্দ এবং যান্ত্রিক কার্যক্রমের কারণে তীব্র শব্দদূষণ সৃষ্টি হবে, যা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও পাঠগ্রহণের স্বাভাবিক পরিবেশকে বিঘিœত করবে। সব উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও শিক্ষার মান অক্ষুণœœ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ক্রীড়া সংগঠক উদয়ন সংঘ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম আল আমিন বলেন, কনটেইনার ডিপো নির্মাণের এই সিদ্ধান্ত আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। এটি শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়, এটি সরাসরি আমাদের ক্রীড়া, সংস্কৃতি, তরুণ সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর আঘাত। এই এলাকায় যে মাঠে প্রতিদিন শত শত তরুণ খেলাধুলা করে, সেটা ধ্বংস হয়ে গেলে তারা বিপথে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, এটি অপরাধ ও মাদক থেকে দূরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তরুণদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দিয়ে কোনো উন্নয়ন গ্রহণযোগ্য নয়।
পরিবেশবিদেরা মনে করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সার্বক্ষণিক যানবাহনের আসা-যাওয়া, হর্নের শব্দ এবং যান্ত্রিক কার্যক্রমের কারণে শব্দদূষণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে, যা বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলবে। পাশাপাশি যানবাহনের ধোঁয়া ও অন্যান্য নির্গমণের ফলে বায়ুদূষণও বাড়বে, যা শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এছাড়া এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়বে, ভারী যানবাহনের চলাচল বাড়বে এবং এর ফলে সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে। এতে করে এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হবে। সব মিলিয়ে এ ধরনের একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বসবাসের অনুকূল পরিবেশ নষ্ট হয়ে গিয়ে এলাকা ধীরে ধীরে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে ‘আইসিডি ও কনটেইনার ফ্রেইট স্টেশন (সিএফএস) নীতিমালা, ২০২১’ অনুযায়ী, নতুন কনটেইনার ডিপো স্থাপনের ক্ষেত্রে তা শহর বা পৌরসভার বাইরে এবং আবাসিক এলাকা থেকে কমপক্ষে ২০ কিলোমিটার দূরে হওয়া বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী অবকাঠামো নিশ্চিত করার নির্দেশনাও রয়েছে। প্রস্তাবিত স্থানটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় এসব শর্ত পূরণ করা সম্ভব নয়।
প্রকল্পটির পরিবেশগত ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে কি নাÑ এ বিষয়ে জানতে নরসিংদী পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের করা হলে সহকারী পরিচালক প্রশান্ত কুমার রায় বলেন, তিনি এ বিষয়ে অবগত নন। এ ব্যাপারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।