নিউজ ডেস্ক
২৭ এপ্রিল, ২০২৬, 12:22 PM
নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস সাত খুনের ঘটনার ১২ বছর পূর্ণ হলো আজ ২৭ এপ্রিল। নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের পর দ্রুততম সময়ে নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও ৮ বছর পরও আপিল বিভাগে আটকে আছে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি। রায়ের এই দীর্ঘসূত্রতায় নিহতদের পরিবারে বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ, হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতা।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে ফেরার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের লামাপাড়া এলাকা থেকে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ অপহরণ করা হয় সাতজনকে। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করা হয় তাদের হাত-পা বাধা মরদেহ।
এই ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়েরের পর তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি রায় ঘোষণা করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত। রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় প্রধান আসামি নূর হোসেন এবং র্যাব-১১-এর সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে।
এর ১৯ মাস পর ২০১৮ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেন। কিন্তু এরপর ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও নিষ্পত্তি হয়নি আপিল বিভাগে মামলাটির।
নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী ও মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি জানান, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
তিনি বলেছেন, আপিল বিভাগে ধীরগতির কারণে আমরা এখনো অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছি। আমরা চাই হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে দ্রুত তা কার্যকর করা হোক। দ্রুত রায় বাস্তবায়নে তিনি প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান অভিযোগ করেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের আত্মীয় হওয়ায় বিগত সরকার রিভিউ শুনানিতে বিচারকাজ স্থবির করে রেখেছিল। আমরা মনে করেছিলাম এই রায় কার্যকর হলে গুম-খুনের সংস্কৃতি বন্ধ হবে, কিন্তু রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে তা আটকে রাখা হয়।
জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আবুল কালাম আজাদ জাকির জানান, আসামিরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এতদিন আপিল আটকে রেখেছিল। তবে এখন পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল আশ্বস্ত করেছেন যে মামলাটি শেষ পর্যায়ে আছে। অচিরেই এটি নিষ্পত্তি হবে এবং খুনিদের ফাঁসি কার্যকর হবে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, ঢাকা বিভাগের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুমও একই মত প্রকাশ করে জানিয়েছেন দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির দাবি।
নিউজ ডেস্ক
২৭ এপ্রিল, ২০২৬, 12:22 PM
নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস সাত খুনের ঘটনার ১২ বছর পূর্ণ হলো আজ ২৭ এপ্রিল। নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের পর দ্রুততম সময়ে নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও ৮ বছর পরও আপিল বিভাগে আটকে আছে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি। রায়ের এই দীর্ঘসূত্রতায় নিহতদের পরিবারে বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ, হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতা।
২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে ফেরার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের লামাপাড়া এলাকা থেকে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ অপহরণ করা হয় সাতজনকে। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করা হয় তাদের হাত-পা বাধা মরদেহ।
এই ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়েরের পর তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি রায় ঘোষণা করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত। রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় প্রধান আসামি নূর হোসেন এবং র্যাব-১১-এর সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে।
এর ১৯ মাস পর ২০১৮ সালের ২২ আগস্ট হাইকোর্ট ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেন। কিন্তু এরপর ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও নিষ্পত্তি হয়নি আপিল বিভাগে মামলাটির।
নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী ও মামলার বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি জানান, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
তিনি বলেছেন, আপিল বিভাগে ধীরগতির কারণে আমরা এখনো অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছি। আমরা চাই হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে দ্রুত তা কার্যকর করা হোক। দ্রুত রায় বাস্তবায়নে তিনি প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান অভিযোগ করেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের আত্মীয় হওয়ায় বিগত সরকার রিভিউ শুনানিতে বিচারকাজ স্থবির করে রেখেছিল। আমরা মনে করেছিলাম এই রায় কার্যকর হলে গুম-খুনের সংস্কৃতি বন্ধ হবে, কিন্তু রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে তা আটকে রাখা হয়।
জেলা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আবুল কালাম আজাদ জাকির জানান, আসামিরা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এতদিন আপিল আটকে রেখেছিল। তবে এখন পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল আশ্বস্ত করেছেন যে মামলাটি শেষ পর্যায়ে আছে। অচিরেই এটি নিষ্পত্তি হবে এবং খুনিদের ফাঁসি কার্যকর হবে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, ঢাকা বিভাগের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুমও একই মত প্রকাশ করে জানিয়েছেন দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির দাবি।