নিউজ ডেস্ক
২৩ এপ্রিল, ২০২৬, 2:07 PM
গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন আপনি, হঠাৎ চোখ খুলে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলেন রাত ৩টা! এমনটা কি আপনার সাথে প্রায়ই ঘটছে? আপনি একা নন। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ মাঝরাতে ঠিক একই সময়ে ঘুম ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। কেন এমন হয় প্রশ্ন জাগে অনেকের মনে।
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে চিকিৎসকরা এর পেছনের বৈজ্ঞানিক কারণ ও প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করেছেন। বেশ কিছু কারণও তুলে ধরেছেন তারা।
চিকিৎসকরা জানান, আপনি যদি রাত ১০টা বা ১১টার দিকে ঘুমান, তবে ৩টার দিকে আপনি সাধারণত ‘রেপিড আই মুভমেন্ট’ বা হালকা ঘুমের স্তরে থাকেন। এই সময়ে হৃদস্পন্দন এবং রক্তচাপ কিছুটা বেড়ে যায়, যা সামান্য শব্দ বা আলোতেও আপনার ঘুম ভাঙিয়ে দিতে যথেষ্ট।
বর্তমান সময়ের কর্মব্যস্ত জীবনে দুশ্চিন্তা ঘুমের সবচেয়ে বড় শত্রু। অবচেতন মনের অস্থিরতা মাঝরাতে জেগে ওঠার প্রধান কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুশ্চিন্তা শরীরের ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ মেকানিজমকে সক্রিয় করে তোলে, ফলে গভীর ঘুম থেকে মস্তিষ্ক দ্রুত জেগে ওঠে।
বারবার বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন
আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি, তখনও শরীর খাবার হজম, পানি প্রক্রিয়াজাত করার কাজ করে। তাই মাঝরাতে বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হওয়া স্বাভাবিক।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ঘুমানোর আগে পানি কম পান করুন। তবুও সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আলো
রুমে যদি আলো ঢোকে, আপনার মস্তিষ্ক সেটা দিন মনে করে। ফলে ঘুম ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। সে কারণের ব্ল্যাকআউট পর্দা ব্যবহার করুন বা চোখে স্লিপ মাস্ক দিন।
রাস্তার গাড়ির শব্দ, পাশের বাসার টিভি এসব ছোট ছোট শব্দও ঘুম ভাঙিয়ে দিতে পারে। তাই ইয়ারপ্লাগ বা হোয়াইট নয়েজ ব্যবহার করতে পারেন।
দুপুরের ঘুমের প্রভাব
দুপুরে একটু ঘুম ভালো লাগে, কিন্তু রাতে তার খেসারত দিতে হতে পারে। তাই দুপুরে বিশ্রাম নিলে ২০ মিনিটের বেশি নয়।
শারীরিক ব্যথা
ঘাড়, পিঠ, মাসল ক্র্যাম্প এসবও মাঝরাতে ঘুম ভাঙাতে পারে। সমাধানে ঘুমানোর ভঙ্গি ঠিক করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বয়সের প্রভাব
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুম হালকা হয়ে যায়। ফলে সহজেই ঘুম ভেঙে যায়। সে কারণে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও ওঠার অভ্যাস করুন।
ঘুমের রোগ
যদি নিয়মিত এমন হয়, তাহলে হতে পারে এটা বিভিন্ন ঘুমের রোগের কারণে হতে পারে।
যেমন: ইনসমনিয়া, স্লিপ অ্যাপনিয়া কিংবা রেস্টলেস লেগ সিনড্রোমে আপনি ভুগতে পারেন। তাই সুস্থ থাকতে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
অনেকে মনে করেন মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পিছনে আধ্যাত্মিক কারণ আছে। তবে বিজ্ঞান বলছে, এটা শরীরের অভ্যাস বা কোনও নির্দিষ্ট কারণে তৈরি হওয়া রুটিনও হতে পারে। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঘুম ভেঙে গেলে কী করবেন
১৫–২০ মিনিট চেষ্টা করেও যদি ঘুম না আসে—
বিছানা থেকে উঠে পড়ুন
হালকা বই পড়ুন
মেডিটেশন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন
মৃদু গান শুনুন
তবে কোনোভাবেই মোবাইল ব্যবহার করবেন না, নীল আলো ঘুম আরও দূরে ঠেলে দেয়।
যদি নিয়মিতভাবে রাত ৩টায় ঘুম ভেঙে যায় এবং এর ফলে দিনের কাজে ব্যাঘাত ঘটে, তবে এটি ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ বা ‘ইনসোমনিয়া’র লক্ষণ হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চিকিৎসকদের মধ্যে রাত ৩টায় ঘুম ভেঙে যাওয়া বিরক্তিকর হলেও, এটা খুব সাধারণ একটি বিষয়। সচেতনতা আর জীবন-যাপনে কিছু ছোট পরিবর্তনেই আপনি ফিরে পেতে পারেন শান্ত ঘুম।
নিউজ ডেস্ক
২৩ এপ্রিল, ২০২৬, 2:07 PM
গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন আপনি, হঠাৎ চোখ খুলে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলেন রাত ৩টা! এমনটা কি আপনার সাথে প্রায়ই ঘটছে? আপনি একা নন। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ মাঝরাতে ঠিক একই সময়ে ঘুম ভেঙে যাওয়ার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। কেন এমন হয় প্রশ্ন জাগে অনেকের মনে।
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে চিকিৎসকরা এর পেছনের বৈজ্ঞানিক কারণ ও প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করেছেন। বেশ কিছু কারণও তুলে ধরেছেন তারা।
চিকিৎসকরা জানান, আপনি যদি রাত ১০টা বা ১১টার দিকে ঘুমান, তবে ৩টার দিকে আপনি সাধারণত ‘রেপিড আই মুভমেন্ট’ বা হালকা ঘুমের স্তরে থাকেন। এই সময়ে হৃদস্পন্দন এবং রক্তচাপ কিছুটা বেড়ে যায়, যা সামান্য শব্দ বা আলোতেও আপনার ঘুম ভাঙিয়ে দিতে যথেষ্ট।
বর্তমান সময়ের কর্মব্যস্ত জীবনে দুশ্চিন্তা ঘুমের সবচেয়ে বড় শত্রু। অবচেতন মনের অস্থিরতা মাঝরাতে জেগে ওঠার প্রধান কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুশ্চিন্তা শরীরের ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ মেকানিজমকে সক্রিয় করে তোলে, ফলে গভীর ঘুম থেকে মস্তিষ্ক দ্রুত জেগে ওঠে।
বারবার বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন
আমরা যখন ঘুমিয়ে থাকি, তখনও শরীর খাবার হজম, পানি প্রক্রিয়াজাত করার কাজ করে। তাই মাঝরাতে বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন হওয়া স্বাভাবিক।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ঘুমানোর আগে পানি কম পান করুন। তবুও সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আলো
রুমে যদি আলো ঢোকে, আপনার মস্তিষ্ক সেটা দিন মনে করে। ফলে ঘুম ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। সে কারণের ব্ল্যাকআউট পর্দা ব্যবহার করুন বা চোখে স্লিপ মাস্ক দিন।
রাস্তার গাড়ির শব্দ, পাশের বাসার টিভি এসব ছোট ছোট শব্দও ঘুম ভাঙিয়ে দিতে পারে। তাই ইয়ারপ্লাগ বা হোয়াইট নয়েজ ব্যবহার করতে পারেন।
দুপুরের ঘুমের প্রভাব
দুপুরে একটু ঘুম ভালো লাগে, কিন্তু রাতে তার খেসারত দিতে হতে পারে। তাই দুপুরে বিশ্রাম নিলে ২০ মিনিটের বেশি নয়।
শারীরিক ব্যথা
ঘাড়, পিঠ, মাসল ক্র্যাম্প এসবও মাঝরাতে ঘুম ভাঙাতে পারে। সমাধানে ঘুমানোর ভঙ্গি ঠিক করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বয়সের প্রভাব
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুম হালকা হয়ে যায়। ফলে সহজেই ঘুম ভেঙে যায়। সে কারণে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও ওঠার অভ্যাস করুন।
ঘুমের রোগ
যদি নিয়মিত এমন হয়, তাহলে হতে পারে এটা বিভিন্ন ঘুমের রোগের কারণে হতে পারে।
যেমন: ইনসমনিয়া, স্লিপ অ্যাপনিয়া কিংবা রেস্টলেস লেগ সিনড্রোমে আপনি ভুগতে পারেন। তাই সুস্থ থাকতে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
অনেকে মনে করেন মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পিছনে আধ্যাত্মিক কারণ আছে। তবে বিজ্ঞান বলছে, এটা শরীরের অভ্যাস বা কোনও নির্দিষ্ট কারণে তৈরি হওয়া রুটিনও হতে পারে। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঘুম ভেঙে গেলে কী করবেন
১৫–২০ মিনিট চেষ্টা করেও যদি ঘুম না আসে—
বিছানা থেকে উঠে পড়ুন
হালকা বই পড়ুন
মেডিটেশন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন
মৃদু গান শুনুন
তবে কোনোভাবেই মোবাইল ব্যবহার করবেন না, নীল আলো ঘুম আরও দূরে ঠেলে দেয়।
যদি নিয়মিতভাবে রাত ৩টায় ঘুম ভেঙে যায় এবং এর ফলে দিনের কাজে ব্যাঘাত ঘটে, তবে এটি ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ বা ‘ইনসোমনিয়া’র লক্ষণ হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চিকিৎসকদের মধ্যে রাত ৩টায় ঘুম ভেঙে যাওয়া বিরক্তিকর হলেও, এটা খুব সাধারণ একটি বিষয়। সচেতনতা আর জীবন-যাপনে কিছু ছোট পরিবর্তনেই আপনি ফিরে পেতে পারেন শান্ত ঘুম।