CKEditor 5 Sample
ঢাকা ২২ জুলাই, ২০২৬
শিরোনামঃ
জিয়া পরিষদের নামে জনতা ব্যাংকে ‘ভুয়া’ কমিটি ঘোষণা! জনতা ব্যাংকে ‘আরসি’ জটিলতা, পদবি বাদ দেওয়ার নামে কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ! প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রীর সাক্ষাৎ এক ম্যাচ বাকি থাকতে ব্রাজিল শিবিরে আতঙ্ক শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আগ্রহী সিঙ্গাপুরের এসএটিএস মঙ্গলবার রাজধানীতে ১১ দলের সমাবেশ সৌদি বধের রাতে ধূলিসাৎ মেসির ১৮ বছরের অহংকার, ইয়ামালের পাশে এখন শুধুই পেলে বিশ্ববাজারে দ্রুত কমছে তেলের দাম রোনালদোকে বল দেওয়ার বাড়তি চাপ নেই, বললেন কনসেইসাও যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকার জেরে ১০ মার্কিন সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা চীনের

ভোটে নির্বাচিত ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপির মধ্যে পার্থক্য কোথায়?

#
news image

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতে সংরক্ষিত নারী আসনের বিধান থাকলেও, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তুলনায় তাদের ভূমিকা ও কার্যকর ক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক এখন তুঙ্গে। সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হতেই রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মাঝে এই প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে: এই ব্যবস্থা কি সত্যিই নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন করছে, নাকি এটি কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক অলংকার?

ভোটের সদস্য বনাম সংরক্ষিত সদস্য: ব্যবধান কোথায়?

সংবিধান অনুযায়ী, সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ জন সদস্য এবং সংরক্ষিত ৫০ জন নারী সদস্য—উভয়ই সংসদের পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে বিবেচিত হন। তারা সমান সুযোগ-সুবিধা ও সম্মানী ভোগ করেন। তবে মূল পার্থক্যটি গড়ে ওঠে দায়বদ্ধতা ও কর্মক্ষেত্রে।

নির্বাচনী এলাকা: নির্বাচিত সদস্যদের নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকা থাকে, যেখানে ভোটারদের কাছে তারা সরাসরি দায়বদ্ধ। অন্যদিকে, সংরক্ষিত নারী সদস্যদের কোনো সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা বা নিজস্ব ভোটার নেই।

ক্ষমতার ভারসাম্য: সরাসরি ভোটে জয়ী সদস্যের পেছনে জনগণের রায় থাকে, যা তাকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী করে তোলে। সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের ক্ষেত্রে এই 'জনম্যান্ডেট' না থাকায় নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে তাদের কণ্ঠস্বর অনেক সময় দুর্বল হয়ে পড়ে।

আইনি সমতা বনাম বাস্তবিক বৈষম্য

সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফওজিয়া করিমের মতে, কাগজে-কলমে সুযোগ-সুবিধা এক হলেও ক্ষমতার ভারসাম্য ও জনসম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে দুজনের ব্যবধান আকাশ-পাতাল। তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি নির্বাচনের দাবি জানানো হলেও কোনো সরকারই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি, যার ফলে সংরক্ষিত সদস্যরা এক ধরণের 'নির্ভরশীল' নেতৃত্বের বৃত্তে আটকা পড়েছেন।

মনোনয়ন ও দলীয় আনুগত্যের রাজনীতি

বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত আসনের বর্তমান কাঠামো নারীর স্বাধীন নেতৃত্ব বিকাশের পথে বড় বাধা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দলীয় হাই কমান্ডের প্রতি আনুগত্য অথবা প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যরাই এই মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে থাকেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ সাহান এই প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে প্রশ্ন তোলেন, "গত কয়েক দশকে সংরক্ষিত আসনের কয়জন সদস্য জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্বে উঠে আসতে পেরেছেন?" তার মতে, এই পরিসংখ্যানটিই বলে দেয় যে সংরক্ষিত ব্যবস্থা তৃণমূল থেকে যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার চেয়ে দলীয় আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ ভাবনা

নারীর ক্ষমতায়ন কেবল সংসদে আসনের সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি সংরক্ষিত আসনের বদলে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা যেত, তবে নারী নেত্রীরা জনগণের আস্থা নিয়ে প্রকৃত অর্থে ক্ষমতায়িত হতে পারতেন। ত্রয়োদশ সংসদকে সামনে রেখে এই দাবিটিই এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

নিউজ ডেস্ক

২৩ এপ্রিল, ২০২৬,  1:42 PM

news image
সংগৃহীত

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতে সংরক্ষিত নারী আসনের বিধান থাকলেও, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তুলনায় তাদের ভূমিকা ও কার্যকর ক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক এখন তুঙ্গে। সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হতেই রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মাঝে এই প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে: এই ব্যবস্থা কি সত্যিই নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন করছে, নাকি এটি কেবল সংখ্যাতাত্ত্বিক অলংকার?

ভোটের সদস্য বনাম সংরক্ষিত সদস্য: ব্যবধান কোথায়?

সংবিধান অনুযায়ী, সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ জন সদস্য এবং সংরক্ষিত ৫০ জন নারী সদস্য—উভয়ই সংসদের পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে বিবেচিত হন। তারা সমান সুযোগ-সুবিধা ও সম্মানী ভোগ করেন। তবে মূল পার্থক্যটি গড়ে ওঠে দায়বদ্ধতা ও কর্মক্ষেত্রে।

নির্বাচনী এলাকা: নির্বাচিত সদস্যদের নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকা থাকে, যেখানে ভোটারদের কাছে তারা সরাসরি দায়বদ্ধ। অন্যদিকে, সংরক্ষিত নারী সদস্যদের কোনো সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা বা নিজস্ব ভোটার নেই।

ক্ষমতার ভারসাম্য: সরাসরি ভোটে জয়ী সদস্যের পেছনে জনগণের রায় থাকে, যা তাকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী করে তোলে। সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের ক্ষেত্রে এই 'জনম্যান্ডেট' না থাকায় নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে তাদের কণ্ঠস্বর অনেক সময় দুর্বল হয়ে পড়ে।

আইনি সমতা বনাম বাস্তবিক বৈষম্য

সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফওজিয়া করিমের মতে, কাগজে-কলমে সুযোগ-সুবিধা এক হলেও ক্ষমতার ভারসাম্য ও জনসম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে দুজনের ব্যবধান আকাশ-পাতাল। তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি নির্বাচনের দাবি জানানো হলেও কোনো সরকারই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি, যার ফলে সংরক্ষিত সদস্যরা এক ধরণের 'নির্ভরশীল' নেতৃত্বের বৃত্তে আটকা পড়েছেন।

মনোনয়ন ও দলীয় আনুগত্যের রাজনীতি

বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত আসনের বর্তমান কাঠামো নারীর স্বাধীন নেতৃত্ব বিকাশের পথে বড় বাধা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দলীয় হাই কমান্ডের প্রতি আনুগত্য অথবা প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যরাই এই মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে থাকেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ সাহান এই প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে প্রশ্ন তোলেন, "গত কয়েক দশকে সংরক্ষিত আসনের কয়জন সদস্য জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্বে উঠে আসতে পেরেছেন?" তার মতে, এই পরিসংখ্যানটিই বলে দেয় যে সংরক্ষিত ব্যবস্থা তৃণমূল থেকে যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার চেয়ে দলীয় আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ ভাবনা

নারীর ক্ষমতায়ন কেবল সংসদে আসনের সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি সংরক্ষিত আসনের বদলে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা যেত, তবে নারী নেত্রীরা জনগণের আস্থা নিয়ে প্রকৃত অর্থে ক্ষমতায়িত হতে পারতেন। ত্রয়োদশ সংসদকে সামনে রেখে এই দাবিটিই এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।