মো. সালমান ফারসি
২৩ এপ্রিল, ২০২৬, 11:32 AM
আমরা যখন ইন্টারনেটে ফেসবুক দেখি, ইউটিউবে ভিডিও দেখি, কিংবা কোনো ওয়েবসাইটে গিয়ে কিছু খুঁজে দেখি—তখন প্রায়ই একটি ছোট্ট মেসেজ আমাদের সামনে আসে : ‘This website uses cookies’ অথবা ‘Accept Cookies।’ বেশিরভাগ সময় আমরা কোনো কিছু না ভেবেই ‘Accept’ বাটনে ক্লিক করে দেই, কারণ আমরা শুধু দ্রুত আমাদের কাজটা শেষ করতে চাই। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না, এই ছোট্ট একটি ক্লিকের মাধ্যমেই আমরা আমাদের ডিভাইস এবং ব্যক্তিগত তথ্যের উপর একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুমতি দিয়ে দিচ্ছি।
প্রথমেই সহজভাবে বুঝে নেওয়া যাক কুকিজ (Cookies) কী। Cookies আসলে ছোট ছোট টেক্সট ফাইল, যেগুলো কোনো ওয়েবসাইট আপনার ব্রাউজারের মধ্যে সংরক্ষণ করে রাখে। আপনি যখন কোনো সাইটে প্রবেশ করেন, তখন সেই সাইট আপনার কিছু তথ্য মনে রাখতে চায়—যেমন আপনি লগইন করেছেন কিনা, আপনি কোন ভাষা ব্যবহার করছেন, আপনি কী কী পেজে ঘুরে দেখেছেন ইত্যাদি। এই তথ্যগুলোই Cookies এর মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়। ফলে আপনি যখন আবার সেই একই ওয়েবসাইটে ফিরে যান, তখন সাইটটি আপনাকে চিনে ফেলে এবং আপনার আগের ব্যবহার অনুযায়ী অভিজ্ঞতা দেয়।
এখন আসল প্রশ্ন—আপনি যখন ‘Accept Cookies’ চাপেন, তখন আসলে কী হয়? সহজভাবে বললে, আপনি সেই ওয়েবসাইটকে আপনার ডিভাইসে এই Cookies সংরক্ষণ করার অনুমতি দিচ্ছেন। এর ফলে আপনার জন্য অনেক সুবিধা তৈরি হয়। যেমন ধরুন, আপনি কোনো ওয়েবসাইটে একবার লগইন করলেন—পরবর্তীতে বারবার আপনাকে লগইন করতে হয় না, কারণ Cookies আপনার লগইন তথ্য মনে রাখে। আবার আপনি যদি কোনো অনলাইন শপিং সাইটে কিছু পণ্য দেখেন, তাহলে সেই সাইট বা অন্য সাইটে একই ধরনের পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখতে পাবেন। এটাকে বলা হয় Personalized Experience—মানে আপনার আগ্রহ অনুযায়ী কনটেন্ট দেখানো।
শুধু তাই নয়, Cookies এর কারণে ওয়েবসাইট অনেক দ্রুত লোড হয় এবং আপনার ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নেয়। আপনি কী পছন্দ করেন, কী করেন না—এই সব তথ্যের উপর ভিত্তি করে সাইটটি আরও ‘স্মার্ট’ হয়ে ওঠে। তাই অনেক সময় আমরা দেখি, ইন্টারনেট আমাদের ‘বোঝে’—আমরা যা খুঁজছি, সেটাই সামনে চলে আসে।
কিন্তু এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে—এই সুবিধার পাশাপাশি কিছু ঝুঁকিও থাকে। যখন আপনি Cookies Accept করেন, তখন অনেক ক্ষেত্রে আপনার অনলাইন কার্যকলাপ ট্র্যাক করা হয়। আপনি কোন ওয়েবসাইটে যাচ্ছেন, কী সার্চ করছেন, কোন জিনিসে বেশি সময় দিচ্ছেন—এই সব তথ্য সংগ্রহ করা হয়। অনেক সময় এই তথ্যগুলো তৃতীয় পক্ষের (third-party) বিজ্ঞাপন কোম্পানির কাছে শেয়ার করা হয়। ফলে তারা আপনাকে নির্দিষ্টভাবে টার্গেট করে বিজ্ঞাপন দেখাতে পারে। এ কারণেই অনেক মানুষ মনে করেন, Cookies Accept করা মানে নিজের Privacy বা গোপনীয়তার একটি অংশ ছেড়ে দেওয়া।
এখন যদি আপনি ‘Reject’ বা ‘Cancel Cookies’ অপশনটি বেছে নেন, তাহলে পরিস্থিতি একটু ভিন্ন হয়। তখন ওয়েবসাইট আপনার ডিভাইসে অপ্রয়োজনীয় বা tracking cookies সংরক্ষণ করতে পারে না। এর ফলে আপনার Privacy অনেকটাই সুরক্ষিত থাকে। আপনার অনলাইন কার্যকলাপ সহজে ট্র্যাক করা যায় না এবং আপনি কম personalized বিজ্ঞাপন দেখতে পান। যারা তাদের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে বেশি সচেতন, তারা সাধারণত এই অপশনটি বেছে নেন।
তবে এরও কিছু অসুবিধা আছে। Cookies ছাড়া অনেক ওয়েবসাইট ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। ধরুন, আপনি কোনো সাইটে লগইন করলেন—কিন্তু Cookies Accept করেননি—তাহলে পেজ রিফ্রেশ করলেই আবার লগইন করতে হতে পারে। আবার অনলাইন শপিংয়ের সময় আপনি কার্টে যে পণ্যগুলো রাখবেন, সেগুলো সেভ থাকবে না। কিছু কিছু ফিচার একেবারেই কাজ নাও করতে পারে, অথবা আপনার অভিজ্ঞতা কিছুটা ধীর এবং ঝামেলাপূর্ণ হয়ে যেতে পারে।
বর্তমানে অনেক আধুনিক ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের জন্য ‘Manage Cookies’ বা ‘Customize Settings’ অপশন দেয়। এখানে আপনি নিজেই ঠিক করতে পারেন—কোন ধরনের Cookies আপনি Allow করবেন আর কোনগুলো করবেন না। সাধারণত তিন ধরনের Cookies থাকে—Necessary (যেগুলো সাইট চালানোর জন্য জরুরি), Functional (যেগুলো আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করে), এবং Tracking বা Marketing Cookies (যেগুলো আপনার আচরণ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞাপন দেখায়)। সচেতন ব্যবহারকারীরা সাধারণত শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় Cookies Allow করে এবং বাকি গুলো বন্ধ রাখে।
সবশেষে বলা যায়, Cookies কোনো ক্ষতিকর প্রযুক্তি নয়। বরং এটি আমাদের অনলাইন অভিজ্ঞতা সহজ এবং দ্রুত করার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। তবে সমস্যাটা তখনই তৈরি হয়, যখন আমরা না বুঝেই সবকিছু Accept করে দেই। তাই প্রতিবার ‘Accept Cookies’ বাটনে ক্লিক করার আগে একটু চিন্তা করা উচিত—এই ওয়েবসাইটটি কি বিশ্বাসযোগ্য? আমি কি আমার তথ্য শেয়ার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি?
ডিজিটাল যুগে নিজের তথ্যের নিরাপত্তা নিজের হাতেই। তাই সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ছোট্ট একটি ক্লিক—কিন্তু এর প্রভাব অনেক বড়।
লেখক
সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার
মো. সালমান ফারসি
২৩ এপ্রিল, ২০২৬, 11:32 AM
আমরা যখন ইন্টারনেটে ফেসবুক দেখি, ইউটিউবে ভিডিও দেখি, কিংবা কোনো ওয়েবসাইটে গিয়ে কিছু খুঁজে দেখি—তখন প্রায়ই একটি ছোট্ট মেসেজ আমাদের সামনে আসে : ‘This website uses cookies’ অথবা ‘Accept Cookies।’ বেশিরভাগ সময় আমরা কোনো কিছু না ভেবেই ‘Accept’ বাটনে ক্লিক করে দেই, কারণ আমরা শুধু দ্রুত আমাদের কাজটা শেষ করতে চাই। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না, এই ছোট্ট একটি ক্লিকের মাধ্যমেই আমরা আমাদের ডিভাইস এবং ব্যক্তিগত তথ্যের উপর একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুমতি দিয়ে দিচ্ছি।
প্রথমেই সহজভাবে বুঝে নেওয়া যাক কুকিজ (Cookies) কী। Cookies আসলে ছোট ছোট টেক্সট ফাইল, যেগুলো কোনো ওয়েবসাইট আপনার ব্রাউজারের মধ্যে সংরক্ষণ করে রাখে। আপনি যখন কোনো সাইটে প্রবেশ করেন, তখন সেই সাইট আপনার কিছু তথ্য মনে রাখতে চায়—যেমন আপনি লগইন করেছেন কিনা, আপনি কোন ভাষা ব্যবহার করছেন, আপনি কী কী পেজে ঘুরে দেখেছেন ইত্যাদি। এই তথ্যগুলোই Cookies এর মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়। ফলে আপনি যখন আবার সেই একই ওয়েবসাইটে ফিরে যান, তখন সাইটটি আপনাকে চিনে ফেলে এবং আপনার আগের ব্যবহার অনুযায়ী অভিজ্ঞতা দেয়।
এখন আসল প্রশ্ন—আপনি যখন ‘Accept Cookies’ চাপেন, তখন আসলে কী হয়? সহজভাবে বললে, আপনি সেই ওয়েবসাইটকে আপনার ডিভাইসে এই Cookies সংরক্ষণ করার অনুমতি দিচ্ছেন। এর ফলে আপনার জন্য অনেক সুবিধা তৈরি হয়। যেমন ধরুন, আপনি কোনো ওয়েবসাইটে একবার লগইন করলেন—পরবর্তীতে বারবার আপনাকে লগইন করতে হয় না, কারণ Cookies আপনার লগইন তথ্য মনে রাখে। আবার আপনি যদি কোনো অনলাইন শপিং সাইটে কিছু পণ্য দেখেন, তাহলে সেই সাইট বা অন্য সাইটে একই ধরনের পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখতে পাবেন। এটাকে বলা হয় Personalized Experience—মানে আপনার আগ্রহ অনুযায়ী কনটেন্ট দেখানো।
শুধু তাই নয়, Cookies এর কারণে ওয়েবসাইট অনেক দ্রুত লোড হয় এবং আপনার ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী নিজেকে মানিয়ে নেয়। আপনি কী পছন্দ করেন, কী করেন না—এই সব তথ্যের উপর ভিত্তি করে সাইটটি আরও ‘স্মার্ট’ হয়ে ওঠে। তাই অনেক সময় আমরা দেখি, ইন্টারনেট আমাদের ‘বোঝে’—আমরা যা খুঁজছি, সেটাই সামনে চলে আসে।
কিন্তু এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে—এই সুবিধার পাশাপাশি কিছু ঝুঁকিও থাকে। যখন আপনি Cookies Accept করেন, তখন অনেক ক্ষেত্রে আপনার অনলাইন কার্যকলাপ ট্র্যাক করা হয়। আপনি কোন ওয়েবসাইটে যাচ্ছেন, কী সার্চ করছেন, কোন জিনিসে বেশি সময় দিচ্ছেন—এই সব তথ্য সংগ্রহ করা হয়। অনেক সময় এই তথ্যগুলো তৃতীয় পক্ষের (third-party) বিজ্ঞাপন কোম্পানির কাছে শেয়ার করা হয়। ফলে তারা আপনাকে নির্দিষ্টভাবে টার্গেট করে বিজ্ঞাপন দেখাতে পারে। এ কারণেই অনেক মানুষ মনে করেন, Cookies Accept করা মানে নিজের Privacy বা গোপনীয়তার একটি অংশ ছেড়ে দেওয়া।
এখন যদি আপনি ‘Reject’ বা ‘Cancel Cookies’ অপশনটি বেছে নেন, তাহলে পরিস্থিতি একটু ভিন্ন হয়। তখন ওয়েবসাইট আপনার ডিভাইসে অপ্রয়োজনীয় বা tracking cookies সংরক্ষণ করতে পারে না। এর ফলে আপনার Privacy অনেকটাই সুরক্ষিত থাকে। আপনার অনলাইন কার্যকলাপ সহজে ট্র্যাক করা যায় না এবং আপনি কম personalized বিজ্ঞাপন দেখতে পান। যারা তাদের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে বেশি সচেতন, তারা সাধারণত এই অপশনটি বেছে নেন।
তবে এরও কিছু অসুবিধা আছে। Cookies ছাড়া অনেক ওয়েবসাইট ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। ধরুন, আপনি কোনো সাইটে লগইন করলেন—কিন্তু Cookies Accept করেননি—তাহলে পেজ রিফ্রেশ করলেই আবার লগইন করতে হতে পারে। আবার অনলাইন শপিংয়ের সময় আপনি কার্টে যে পণ্যগুলো রাখবেন, সেগুলো সেভ থাকবে না। কিছু কিছু ফিচার একেবারেই কাজ নাও করতে পারে, অথবা আপনার অভিজ্ঞতা কিছুটা ধীর এবং ঝামেলাপূর্ণ হয়ে যেতে পারে।
বর্তমানে অনেক আধুনিক ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের জন্য ‘Manage Cookies’ বা ‘Customize Settings’ অপশন দেয়। এখানে আপনি নিজেই ঠিক করতে পারেন—কোন ধরনের Cookies আপনি Allow করবেন আর কোনগুলো করবেন না। সাধারণত তিন ধরনের Cookies থাকে—Necessary (যেগুলো সাইট চালানোর জন্য জরুরি), Functional (যেগুলো আপনার অভিজ্ঞতা উন্নত করে), এবং Tracking বা Marketing Cookies (যেগুলো আপনার আচরণ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞাপন দেখায়)। সচেতন ব্যবহারকারীরা সাধারণত শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় Cookies Allow করে এবং বাকি গুলো বন্ধ রাখে।
সবশেষে বলা যায়, Cookies কোনো ক্ষতিকর প্রযুক্তি নয়। বরং এটি আমাদের অনলাইন অভিজ্ঞতা সহজ এবং দ্রুত করার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। তবে সমস্যাটা তখনই তৈরি হয়, যখন আমরা না বুঝেই সবকিছু Accept করে দেই। তাই প্রতিবার ‘Accept Cookies’ বাটনে ক্লিক করার আগে একটু চিন্তা করা উচিত—এই ওয়েবসাইটটি কি বিশ্বাসযোগ্য? আমি কি আমার তথ্য শেয়ার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি?
ডিজিটাল যুগে নিজের তথ্যের নিরাপত্তা নিজের হাতেই। তাই সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ছোট্ট একটি ক্লিক—কিন্তু এর প্রভাব অনেক বড়।
লেখক
সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার