CKEditor 5 Sample
ঢাকা ২২ জুলাই, ২০২৬
শিরোনামঃ
জিয়া পরিষদের নামে জনতা ব্যাংকে ‘ভুয়া’ কমিটি ঘোষণা! জনতা ব্যাংকে ‘আরসি’ জটিলতা, পদবি বাদ দেওয়ার নামে কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ! প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রীর সাক্ষাৎ এক ম্যাচ বাকি থাকতে ব্রাজিল শিবিরে আতঙ্ক শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আগ্রহী সিঙ্গাপুরের এসএটিএস মঙ্গলবার রাজধানীতে ১১ দলের সমাবেশ সৌদি বধের রাতে ধূলিসাৎ মেসির ১৮ বছরের অহংকার, ইয়ামালের পাশে এখন শুধুই পেলে বিশ্ববাজারে দ্রুত কমছে তেলের দাম রোনালদোকে বল দেওয়ার বাড়তি চাপ নেই, বললেন কনসেইসাও যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকার জেরে ১০ মার্কিন সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা চীনের

এবার হরমুজ প্রণালিকে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

#
news image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালিকে মজা করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ফ্লোরিডার মিয়ামিতে আয়োজিত ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।

ইরান যুদ্ধের দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করার প্রেক্ষাপটে এবং এই প্রণালিটি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এমন মন্তব্য উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে হাসির রোল তৈরি করে। বক্তৃতার এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ইরানকে ট্রাম্প প্রণালি— থিতু হোন, আমি বলতে চেয়েছি হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে।’ এরপর তিনি বিদ্রূপাত্মক স্বরে ক্ষমা চেয়ে বলেন যে, ভুয়া সংবাদমাধ্যমগুলো হয়তো বলবে তিনি ভুল করে এটি বলেছেন, কিন্তু আসলে তাঁর অভিধানে ভুল বলে কিছু নেই।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে ইরান এই পথটি কার্যকরভাবে অবরোধ করে রাখায় প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে ঐতিহাসিক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে যে তারা ইরানের সামরিক শক্তিকে প্রায় ‘বিধ্বস্ত’ করে দিয়েছে, তবুও এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথটির নিয়ন্ত্রণ এখনো যুদ্ধের একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। গত সোমবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধের সমাধান হিসেবে এই প্রণালিটি তিনি এবং আয়াতুল্লাহ যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। তবে নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প এই প্রণালিটি নিজের নামে বা ‘আমেরিকা প্রণালি’ হিসেবে নতুন করে নামকরণের কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন।

ট্রাম্পের নিজের নামকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিংয়ে ব্যবহার করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। গত ডিসেম্বরেই হোয়াইট হাউস ঘোষণা করেছিল যে, ওয়াশিংটনের বিখ্যাত কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প-কেনেডি সেন্টার’ রাখা হচ্ছে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালেও তিনি রসিকতা করে কেনেডি সেন্টারকে নিজের নামে ডাকার চেষ্টা করেছিলেন।

মেক্সিকো উপসাগর বা ‘গালফ অফ মেক্সিকো’র নাম পরিবর্তনের চিন্তাও তিনি অতীতে প্রকাশ করেছিলেন। মিয়ামির এই সম্মেলনে তাঁর ‘ট্রাম্প প্রণালি’ সংক্রান্ত টিপ্পনীটি মূলত তাঁর সেই পুরনো প্রবণতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান একটি চুক্তির জন্য ‘মিনতি’ করছে এবং আলোচনার টেবিলে ফিরেছে, যদিও তেহরান সরাসরি কোনো আলোচনার খবর প্রত্যাখ্যান করেছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিত রাখার মেয়াদ আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে এবং এর বাণিজ্যিক নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ভবিষ্যৎ। ট্রাম্পের এই নামকরণ বিষয়ক রসিকতা যুদ্ধের গম্ভীর পরিস্থিতির মাঝে এক নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিল।

নিউজ ডেস্ক

২৮ মার্চ, ২০২৬,  1:38 PM

news image
ইন্টারনেট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালিকে মজা করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ফ্লোরিডার মিয়ামিতে আয়োজিত ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।

ইরান যুদ্ধের দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করার প্রেক্ষাপটে এবং এই প্রণালিটি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এমন মন্তব্য উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে হাসির রোল তৈরি করে। বক্তৃতার এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘ইরানকে ট্রাম্প প্রণালি— থিতু হোন, আমি বলতে চেয়েছি হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে।’ এরপর তিনি বিদ্রূপাত্মক স্বরে ক্ষমা চেয়ে বলেন যে, ভুয়া সংবাদমাধ্যমগুলো হয়তো বলবে তিনি ভুল করে এটি বলেছেন, কিন্তু আসলে তাঁর অভিধানে ভুল বলে কিছু নেই।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে ইরান এই পথটি কার্যকরভাবে অবরোধ করে রাখায় প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে ঐতিহাসিক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে যে তারা ইরানের সামরিক শক্তিকে প্রায় ‘বিধ্বস্ত’ করে দিয়েছে, তবুও এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথটির নিয়ন্ত্রণ এখনো যুদ্ধের একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। গত সোমবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধের সমাধান হিসেবে এই প্রণালিটি তিনি এবং আয়াতুল্লাহ যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। তবে নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প এই প্রণালিটি নিজের নামে বা ‘আমেরিকা প্রণালি’ হিসেবে নতুন করে নামকরণের কথা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন।

ট্রাম্পের নিজের নামকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিংয়ে ব্যবহার করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। গত ডিসেম্বরেই হোয়াইট হাউস ঘোষণা করেছিল যে, ওয়াশিংটনের বিখ্যাত কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প-কেনেডি সেন্টার’ রাখা হচ্ছে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালেও তিনি রসিকতা করে কেনেডি সেন্টারকে নিজের নামে ডাকার চেষ্টা করেছিলেন।

মেক্সিকো উপসাগর বা ‘গালফ অফ মেক্সিকো’র নাম পরিবর্তনের চিন্তাও তিনি অতীতে প্রকাশ করেছিলেন। মিয়ামির এই সম্মেলনে তাঁর ‘ট্রাম্প প্রণালি’ সংক্রান্ত টিপ্পনীটি মূলত তাঁর সেই পুরনো প্রবণতারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরান একটি চুক্তির জন্য ‘মিনতি’ করছে এবং আলোচনার টেবিলে ফিরেছে, যদিও তেহরান সরাসরি কোনো আলোচনার খবর প্রত্যাখ্যান করেছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিত রাখার মেয়াদ আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে এবং এর বাণিজ্যিক নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ভবিষ্যৎ। ট্রাম্পের এই নামকরণ বিষয়ক রসিকতা যুদ্ধের গম্ভীর পরিস্থিতির মাঝে এক নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিল।