নিউজ ডেস্ক
২৫ জুন, ২০২৬, 11:14 AM
জনতা ব্যাংক পিএলসি-এর কর্মকর্তাদের সাধারণ ব্যাংকিং প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার নাম করে কোটি টাকার অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুষ বাণিজ্যের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকের অফিসার কল্যাণ সমিতির শীর্ষ নেতা সাইফুল ইসলাম তালুকদার এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে সাধারণ কর্মকর্তাদের সংকটের সুযোগ নিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এখন ব্যাংকপাড়ায় ‘টক অব দ্যা টাউন’-এ পরিণত হয়েছে।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে ৩৯৬ জনকে ব্যাংক বিধি মোতাবেক ‘অফিসার আরসি (রুরাল ক্রেডিট) হিসেবে নিয়োগ দিয়ে কৃষি ঋণ সংশ্লিষ্ট শাখায় পদায়ন করা হয়। এদের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে সিনিয়র অফিসার পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। তবে নিয়োগের সাথে ‘আরসি’ শব্দযুক্ত থাকায় কৃষি ঋণ নেই এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা কর্পোরেট শাখায় তাঁদের পদায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
ফলে বছরের পর বছর ধরে বহু কর্মকর্তা পরিবার থেকে দূরে গ্রামীণ শাখাগুলোতেই চাকরি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ২০২৫ সালের শুরুতে ব্যাংকের উর্ধ্বতন অথরিটি এই ‘আরসি’ শব্দ উঠিয়ে তাঁদের সাধারণ ব্যাংকার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিলেও অজ্ঞাত কারণে তা মাঝপথে থমকে যায়। আর এই প্রশাসনিক জটিলতা ও কর্মকর্তাদের মানসিক সংকটকেই পুঁজি করে মাঠে নামে একটি স্বার্থান্বেষী মহল।
অভিযোগ উঠেছে, কর্মকর্তাদের এই মানবিক সংকটকে কাজে লাগিয়ে অফিসার কল্যাণ সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম তালুকদার ‘আরসি’ শব্দ প্রত্যাহারের নামে অর্থ আত্মসাতের মহাপরিকল্পনা ফাঁদেন। এই কাজে তাঁর দীর্ঘদিনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত মো. তৌহিদ পারভেজকে ব্যবহার করা হয়।
আরসি ভুক্ত কর্মকর্তাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০,০০০ (বিশ হাজার) টাকা করে চাঁদা সংগ্রহ করা শুরু হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ধূর্ত তৌহিদ পারভেজ নিজে ফয়লার হাট শাখায় কর্মরত থাকলেও অর্থ লেনদেনের জন্য বেছে নেন কুমিল্লার বাতাকান্দি শাখা। সেখানে আসমারুল হুসনা, পারভেজ ও নওসাদ এই তিনজনের নামে যৌথভাবে একটি গোপন হিসাব খোলা হয় (হিসাব নম্বর: ০১০০২৮২৫৯৮৫৯৫)।
বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত ব্যাংক স্টেটমেন্ট অনুযায়ী, বর্তমানে উক্ত হিসাবে ২৪,১৬,২২০/- (চব্বিশ লক্ষ ষোল হাজার দুইশত বিশ) টাকা জমা রয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহের একটি ব্যাংক হিসাবে ১০.১০ লক্ষাধিক টাকা এবং বরিশালের আরেকটি হিসাবে সমপরিমাণ টাকা রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে এই গোপন হিসাবগুলোর প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া অভিযোগের তীর আরও গভীরে। সাইফুল ইসলাম তালুকদার তাঁর এই দুষ্কর্মের প্রধান সহযোগী মো. তৌহিদ পারভেজকে বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর শাখার ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) হিসেবে পদায়ন করিয়েছেন বলে জানা গেছে। কোনো নিয়ম নীতি না মেনে এমন পদায়নের ঘটনায় ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
এর বাইওে সম্প্রতি ভুক্তভোগী কয়েকজন কর্মকর্তা আরসি শব্দ উঠানোর অগ্রগতি জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম তালুকদার তাঁদের দ্রুত টাকা দেওয়ার তাগিদ দেন। তিনি দাবি করেন, “তোমরা দ্রুত টাকা দাও। এই কাজ হাসিল করতে আমাকে এমডি স্যারকে ৫০ লক্ষ টাকা দিতে হবে, তবেই কাজ হবে।” উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ভাঙিয়ে এভাবে প্রকাশ্য ঘুষ দাবি ও অর্থ আদায়ের ঘটনায় জনতা ব্যাংকের সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
সাধারণ ব্যাংক কর্মকর্তারা মনে করছেন, ব্যাংকের সর্বোচ্চ মহলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং সাধারণ কর্মকর্তাদের পকেট কাটতেই এই সিন্ডিকেটটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাতের মহোৎসব বন্ধ করে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
নিউজ ডেস্ক
২৫ জুন, ২০২৬, 11:14 AM
জনতা ব্যাংক পিএলসি-এর কর্মকর্তাদের সাধারণ ব্যাংকিং প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার নাম করে কোটি টাকার অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুষ বাণিজ্যের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকের অফিসার কল্যাণ সমিতির শীর্ষ নেতা সাইফুল ইসলাম তালুকদার এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে সাধারণ কর্মকর্তাদের সংকটের সুযোগ নিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এখন ব্যাংকপাড়ায় ‘টক অব দ্যা টাউন’-এ পরিণত হয়েছে।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষে ৩৯৬ জনকে ব্যাংক বিধি মোতাবেক ‘অফিসার আরসি (রুরাল ক্রেডিট) হিসেবে নিয়োগ দিয়ে কৃষি ঋণ সংশ্লিষ্ট শাখায় পদায়ন করা হয়। এদের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে সিনিয়র অফিসার পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। তবে নিয়োগের সাথে ‘আরসি’ শব্দযুক্ত থাকায় কৃষি ঋণ নেই এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা কর্পোরেট শাখায় তাঁদের পদায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
ফলে বছরের পর বছর ধরে বহু কর্মকর্তা পরিবার থেকে দূরে গ্রামীণ শাখাগুলোতেই চাকরি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ২০২৫ সালের শুরুতে ব্যাংকের উর্ধ্বতন অথরিটি এই ‘আরসি’ শব্দ উঠিয়ে তাঁদের সাধারণ ব্যাংকার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিলেও অজ্ঞাত কারণে তা মাঝপথে থমকে যায়। আর এই প্রশাসনিক জটিলতা ও কর্মকর্তাদের মানসিক সংকটকেই পুঁজি করে মাঠে নামে একটি স্বার্থান্বেষী মহল।
অভিযোগ উঠেছে, কর্মকর্তাদের এই মানবিক সংকটকে কাজে লাগিয়ে অফিসার কল্যাণ সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম তালুকদার ‘আরসি’ শব্দ প্রত্যাহারের নামে অর্থ আত্মসাতের মহাপরিকল্পনা ফাঁদেন। এই কাজে তাঁর দীর্ঘদিনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত মো. তৌহিদ পারভেজকে ব্যবহার করা হয়।
আরসি ভুক্ত কর্মকর্তাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০,০০০ (বিশ হাজার) টাকা করে চাঁদা সংগ্রহ করা শুরু হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ধূর্ত তৌহিদ পারভেজ নিজে ফয়লার হাট শাখায় কর্মরত থাকলেও অর্থ লেনদেনের জন্য বেছে নেন কুমিল্লার বাতাকান্দি শাখা। সেখানে আসমারুল হুসনা, পারভেজ ও নওসাদ এই তিনজনের নামে যৌথভাবে একটি গোপন হিসাব খোলা হয় (হিসাব নম্বর: ০১০০২৮২৫৯৮৫৯৫)।
বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত ব্যাংক স্টেটমেন্ট অনুযায়ী, বর্তমানে উক্ত হিসাবে ২৪,১৬,২২০/- (চব্বিশ লক্ষ ষোল হাজার দুইশত বিশ) টাকা জমা রয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহের একটি ব্যাংক হিসাবে ১০.১০ লক্ষাধিক টাকা এবং বরিশালের আরেকটি হিসাবে সমপরিমাণ টাকা রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে এই গোপন হিসাবগুলোর প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া অভিযোগের তীর আরও গভীরে। সাইফুল ইসলাম তালুকদার তাঁর এই দুষ্কর্মের প্রধান সহযোগী মো. তৌহিদ পারভেজকে বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর শাখার ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) হিসেবে পদায়ন করিয়েছেন বলে জানা গেছে। কোনো নিয়ম নীতি না মেনে এমন পদায়নের ঘটনায় ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
এর বাইওে সম্প্রতি ভুক্তভোগী কয়েকজন কর্মকর্তা আরসি শব্দ উঠানোর অগ্রগতি জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম তালুকদার তাঁদের দ্রুত টাকা দেওয়ার তাগিদ দেন। তিনি দাবি করেন, “তোমরা দ্রুত টাকা দাও। এই কাজ হাসিল করতে আমাকে এমডি স্যারকে ৫০ লক্ষ টাকা দিতে হবে, তবেই কাজ হবে।” উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ভাঙিয়ে এভাবে প্রকাশ্য ঘুষ দাবি ও অর্থ আদায়ের ঘটনায় জনতা ব্যাংকের সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
সাধারণ ব্যাংক কর্মকর্তারা মনে করছেন, ব্যাংকের সর্বোচ্চ মহলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং সাধারণ কর্মকর্তাদের পকেট কাটতেই এই সিন্ডিকেটটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাতের মহোৎসব বন্ধ করে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জন্য ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।