CKEditor 5 Sample
ঢাকা ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

‘আমাকে পুলিশ ধরল’ যুবলীগ নেতার পোস্ট ভাইরাল

#
news image

‎রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানে যুবলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করার ঘটনায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে গ্রেপ্তারের পর তার ফেসবুক পোস্ট। পুলিশের হেফাজতে থাকার সময় নিজের ফেসবুক আইডি থেকে সেলফিসহ একটি পোস্ট দিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমাকে পুলিশ ধরল’। বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং ব্যাপক সমালোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের কিছুক্ষণ পর ওই পোস্টটি মুছে ফেলা হলেও ততক্ষণে পোস্টের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের কাঁচাবাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হুমায়ুন কবির (৩৫)। তিনি লোহানীপাড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং একই ওয়ার্ড যুবলীগের একজন নেতা। স্থানীয় সূত্র জানায়, হুমায়ুন কবির দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং সে সময় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং বর্তমানে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃত্বে রয়েছেন।

‎গ্রেপ্তারের পরপরই হুমায়ুন কবির নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি সেলফি ছবি পোস্ট করেন। ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল ‘আমাকে পুলিশ ধরল’। পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় এমন পোস্ট কীভাবে দেওয়া সম্ভব এ প্রশ্ন ঘিরেই মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। অনেকে বিষয়টিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে গ্রেপ্তার হয়েও একজন ব্যক্তি এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা দিতে পারে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া পোস্টটি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে দেখা যায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ লিখেছেন, ‘গ্রেপ্তার হয়েও যদি ফোন ব্যবহার করা যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য আইন কেমন?’ আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘পুলিশ হেফাজতে থেকেও কীভাবে সেলফি তুলে পোস্ট করা সম্ভব?’ অনেকে ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন হিসেবে দেখছেন।

‎এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান জাহিদ সরকার বলেন, সন্ত্রাস দমন আইনের একটি মামলায় হুমায়ুন কবিরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি ছাত্রলীগের সাবেক ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এবং বর্তমানে ওয়ার্ড যুবলীগের কমিটিতে রয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, এই পোস্টটি কোন জায়গা থেকে দেওয়া হয়েছে, তা আমি স্পষ্টভাবে বুঝতে পারিনি। সম্ভবত তার স্ত্রী বা পরিবারের কেউ ওই পোস্টটি দিয়ে থাকতে পারেন।

‎ওসির সঙ্গে কথা বলার কিছুক্ষণ পর হুমায়ুন কবিরের ফেসবুক আইডিতে ওই পোস্টটি আর পাওয়া যায়নি। তবে পোস্টটি মুছে ফেলা হলেও এর স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ায় বিতর্ক থামেনি। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন? গ্রেপ্তারকৃত একজন জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতার এমন আচরণ কি আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না? একই সঙ্গে পুলিশি হেফাজতের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিষয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে বদরগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা চলছে। স্থানীয়ভাবে অনেকেই বলছেন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের এমন আচরণ দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। আবার কেউ কেউ এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে থেকে যদি অপরাধ ও আইন অমান্যের সংস্কৃতি চলতে থাকে, তবে তা সমাজ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকি, গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া এবং আটক ব্যক্তির সঙ্গে আচরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ঘটনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

রংপুর প্রতিনিধি

০৭ জানুয়ারি, ২০২৬,  5:15 PM

news image

‎রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানে যুবলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করার ঘটনায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে গ্রেপ্তারের পর তার ফেসবুক পোস্ট। পুলিশের হেফাজতে থাকার সময় নিজের ফেসবুক আইডি থেকে সেলফিসহ একটি পোস্ট দিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমাকে পুলিশ ধরল’। বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং ব্যাপক সমালোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের কিছুক্ষণ পর ওই পোস্টটি মুছে ফেলা হলেও ততক্ষণে পোস্টের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের কাঁচাবাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হুমায়ুন কবির (৩৫)। তিনি লোহানীপাড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং একই ওয়ার্ড যুবলীগের একজন নেতা। স্থানীয় সূত্র জানায়, হুমায়ুন কবির দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং সে সময় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং বর্তমানে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃত্বে রয়েছেন।

‎গ্রেপ্তারের পরপরই হুমায়ুন কবির নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একটি সেলফি ছবি পোস্ট করেন। ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল ‘আমাকে পুলিশ ধরল’। পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় এমন পোস্ট কীভাবে দেওয়া সম্ভব এ প্রশ্ন ঘিরেই মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। অনেকে বিষয়টিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে গ্রেপ্তার হয়েও একজন ব্যক্তি এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা দিতে পারে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া পোস্টটি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে দেখা যায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ লিখেছেন, ‘গ্রেপ্তার হয়েও যদি ফোন ব্যবহার করা যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের জন্য আইন কেমন?’ আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘পুলিশ হেফাজতে থেকেও কীভাবে সেলফি তুলে পোস্ট করা সম্ভব?’ অনেকে ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন হিসেবে দেখছেন।

‎এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান জাহিদ সরকার বলেন, সন্ত্রাস দমন আইনের একটি মামলায় হুমায়ুন কবিরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি ছাত্রলীগের সাবেক ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এবং বর্তমানে ওয়ার্ড যুবলীগের কমিটিতে রয়েছেন। গ্রেপ্তারের পর ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, এই পোস্টটি কোন জায়গা থেকে দেওয়া হয়েছে, তা আমি স্পষ্টভাবে বুঝতে পারিনি। সম্ভবত তার স্ত্রী বা পরিবারের কেউ ওই পোস্টটি দিয়ে থাকতে পারেন।

‎ওসির সঙ্গে কথা বলার কিছুক্ষণ পর হুমায়ুন কবিরের ফেসবুক আইডিতে ওই পোস্টটি আর পাওয়া যায়নি। তবে পোস্টটি মুছে ফেলা হলেও এর স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ায় বিতর্ক থামেনি। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন? গ্রেপ্তারকৃত একজন জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতার এমন আচরণ কি আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না? একই সঙ্গে পুলিশি হেফাজতের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার বিষয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে বদরগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা চলছে। স্থানীয়ভাবে অনেকেই বলছেন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের এমন আচরণ দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। আবার কেউ কেউ এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে থেকে যদি অপরাধ ও আইন অমান্যের সংস্কৃতি চলতে থাকে, তবে তা সমাজ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক। এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকি, গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া এবং আটক ব্যক্তির সঙ্গে আচরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ঘটনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।