নিউজ ডেস্ক
১৩ মার্চ, ২০২৬, 12:40 PM
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা-এ তিন সন্তান রেখে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করা এক নারীর বিরুদ্ধে সন্তান অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালত ওই নারীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাটখিল উপজেলার ভীমপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার মেয়ে নার্গিস আক্তার মুক্তা (৩৫)-এর সঙ্গে ২০০৯ সালের ৪ ডিসেম্বর সামাজিকভাবে বিয়ে হয় ব্যবসায়ী মাহমুদুল হক ভূঁইয়ার। প্রায় ১৩ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ তিন সন্তান জন্ম নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, সংসার চলাকালে নার্গিস আক্তার মুক্তা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। পরে বিবাহিত ব্যক্তি মিজানুর রহমান মিঠুর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে তিন সন্তান রেখে তার সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন তিনি।
এই ঘটনার পর মাহমুদুল হক ভূঁইয়ার সঙ্গে তার দাম্পত্য বিচ্ছেদ ঘটে। আপসের ভিত্তিতে তালাক সম্পন্ন হয় এবং নার্গিস আক্তার মুক্তা তার পাওনা বুঝে নেন। সেই সময় সন্তানদের ওপর ভবিষ্যতে কোনো দাবি করবেন না-এমন শর্তেও সম্মত হন বলে জানা গেছে। পরে সন্তানরা চট্টগ্রামে বাবার কাছে থেকে একটি স্কুলে পড়াশোনা করতে থাকে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ডিভোর্সের পর ওই নারী তার মা ও দ্বিতীয় স্বামীর পরামর্শে সন্তানদের অপহরণের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী বোরকা পরা এক নারীকে দিয়ে এবং কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে ভাড়া করে চট্টগ্রামের একটি স্কুল থেকে শিশুদের নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এ সময় শিশুদের দাদী মারা গেছেন-এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাদের স্কুল থেকে বের করার চেষ্টা করা হয়। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে যাচাই-বাছাই করলে অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।
বাদীর দাবি, এ বিষয়ে অভিযুক্ত নারীর ২ চাচা মো. খোকা ও মো. জসিমকে অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে মাহমুদুল হক ভূঁইয়া চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-এ মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর সিআর–২৬১/২৩।
মামলাটি তদন্ত করে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই এস আই নোমান মুন্সী দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত অভিযুক্ত নার্গিস আক্তার মুক্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি চাটখিল থানা-এ পাঠানো হয়েছে।
মামলার বাদী মাহমুদুল হক ভূঁইয়া বলেন, আমি ও আমার সন্তানরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। অভিযুক্ত নারী, তার মা ও সহযোগীরা বিভিন্নভাবে আমাকে হুমকি দিচ্ছে। আমি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং বিষয়টি দ্রুত আইনগতভাবে নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
নিউজ ডেস্ক
১৩ মার্চ, ২০২৬, 12:40 PM
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা-এ তিন সন্তান রেখে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করা এক নারীর বিরুদ্ধে সন্তান অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালত ওই নারীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাটখিল উপজেলার ভীমপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার মেয়ে নার্গিস আক্তার মুক্তা (৩৫)-এর সঙ্গে ২০০৯ সালের ৪ ডিসেম্বর সামাজিকভাবে বিয়ে হয় ব্যবসায়ী মাহমুদুল হক ভূঁইয়ার। প্রায় ১৩ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ তিন সন্তান জন্ম নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, সংসার চলাকালে নার্গিস আক্তার মুক্তা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। পরে বিবাহিত ব্যক্তি মিজানুর রহমান মিঠুর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে তিন সন্তান রেখে তার সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন তিনি।
এই ঘটনার পর মাহমুদুল হক ভূঁইয়ার সঙ্গে তার দাম্পত্য বিচ্ছেদ ঘটে। আপসের ভিত্তিতে তালাক সম্পন্ন হয় এবং নার্গিস আক্তার মুক্তা তার পাওনা বুঝে নেন। সেই সময় সন্তানদের ওপর ভবিষ্যতে কোনো দাবি করবেন না-এমন শর্তেও সম্মত হন বলে জানা গেছে। পরে সন্তানরা চট্টগ্রামে বাবার কাছে থেকে একটি স্কুলে পড়াশোনা করতে থাকে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ডিভোর্সের পর ওই নারী তার মা ও দ্বিতীয় স্বামীর পরামর্শে সন্তানদের অপহরণের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী বোরকা পরা এক নারীকে দিয়ে এবং কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে ভাড়া করে চট্টগ্রামের একটি স্কুল থেকে শিশুদের নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এ সময় শিশুদের দাদী মারা গেছেন-এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাদের স্কুল থেকে বের করার চেষ্টা করা হয়। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে যাচাই-বাছাই করলে অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।
বাদীর দাবি, এ বিষয়ে অভিযুক্ত নারীর ২ চাচা মো. খোকা ও মো. জসিমকে অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে মাহমুদুল হক ভূঁইয়া চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-এ মামলা দায়ের করেন। মামলার নম্বর সিআর–২৬১/২৩।
মামলাটি তদন্ত করে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই এস আই নোমান মুন্সী দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আদালত অভিযুক্ত নার্গিস আক্তার মুক্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি চাটখিল থানা-এ পাঠানো হয়েছে।
মামলার বাদী মাহমুদুল হক ভূঁইয়া বলেন, আমি ও আমার সন্তানরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। অভিযুক্ত নারী, তার মা ও সহযোগীরা বিভিন্নভাবে আমাকে হুমকি দিচ্ছে। আমি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং বিষয়টি দ্রুত আইনগতভাবে নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।