নিউজ ডেস্ক
২০ মে, ২০২৬, 1:32 PM
মন খারাপ হওয়া মানুষের জীবনেরই অংশ। ব্যক্তিগত, পারিবারিক কিংবা পেশাগত নানা কারণেই অনেক সময় মন ভারী হয়ে আসে। তবে দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ ধরে রাখলে তা ধীরে ধীরে বিষণ্নতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
আবার, প্রতিদিন একই রকম কাজ, ব্যস্ততায় মাঝে মধ্যে হাঁপিয়ে উঠতে হয়। কোনো কিছুই ভালো লাগে না। কখনও কখনও নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে হয়। অনেকের মধ্যে থেকেও মনে হয় পাশে কেউ নেই। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে ইচ্ছে করে না। আত্মীয়-পরিজনকে এড়িয়ে চলতে ইচ্ছে হয়। কারও সাথে কথা বলার ইচ্ছা থাকে না। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্লান্তি, অবসাদ আর হতাশা যখন মন জুড়ে থাকে, তখন তার থেকেই বিচ্ছিন্নতাবোধ জন্মায়। মন বিষণ্ণ হয়ে থাকে। কোনও কিছুতেই উৎসাহ থাকে না।
কিন্তু, জীবন একটাই। ভালোবাসতে হবে জীবনকে। তাই খারাপ লাগা কাটিয়ে ওঠার জন্য কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। আসুন জেনে নেই মন ভালো রাখতে কী করবেন-
গভীর শ্বাসের অভ্যাস করুন
খুব বেশি অস্থির বা খারাপ লাগলে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন এবং আস্তে করে ছাড়ুন। এই সহজ ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে ও মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে।
হাঁটতে বের হন
মন খারাপ হলে কিছু সময়ের জন্য বাইরে হাঁটতে যেতে পারেন। হাঁটাহাঁটি শরীরে রক্তসঞ্চালন বাড়ায় এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁছাতে সাহায্য করে। এমনকি অল্প সময়ের হাঁটাও মন ভালো করতে কার্যকর হতে পারে।
ইতিবাচক বিষয়ের দিকে মন দিন
খারাপ লাগার সময় কোনো কিছুতেই আগ্রহ আসে না। তবু নিজের চারপাশে ছোট ছোট ইতিবাচক বিষয় খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। প্রিয় গান, প্রিয় মানুষ বা পছন্দের কাজ মনকে হালকা করতে পারে।
মনের কথা লিখে ফেলুন
নেতিবাচক অনুভূতি ও চিন্তাগুলো লিখে ফেললে অনেক সময় মন হালকা লাগে। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার এই অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। একই সঙ্গে নিজের ইতিবাচক দিকগুলোও লিখে রাখুন।
মননশীলতার চর্চা করুন
বর্তমান মুহূর্তের প্রতি সচেতন থাকা বা মাইন্ডফুলনেস অনুশীলন করলে নিজের অনুভূতি বোঝা সহজ হয়। এতে দুঃখ বা হতাশার কারণ চিহ্নিত করে তা নিয়ন্ত্রণের পথ খুঁজে পাওয়া যায়।
নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন
ভুল করা মানুষের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। তাই নিজের ভুল মেনে নিয়ে নিজেকে ক্ষমা করতে শিখুন। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি পাওয়া যায়।
প্রিয় মানুষের সঙ্গে কথা বলুন
মন খারাপের সময় নিজের অনুভূতিগুলো চেপে না রেখে কাছের কারও সঙ্গে শেয়ার করুন। বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে কথা বললে মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যায়।
পছন্দের কাজ করুন
গান শোনা, বই পড়া, সিনেমা দেখা, রান্না করা কিংবা ছবি আঁকার মতো পছন্দের কাজগুলো মন ভালো করতে সাহায্য করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিরতি নিন
অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার অনেক সময় মন খারাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। কিছু সময়ের জন্য ফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকলে মানসিক স্বস্তি মিলতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
ঘুম কম হলে মানসিক চাপ ও খারাপ লাগা আরও বেড়ে যেতে পারে। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম মন ও শরীর দুটোকেই ভালো রাখে।
নিজেকে ব্যস্ত রাখুন
খুব বেশি একা বসে থাকলে নেতিবাচক চিন্তা বাড়তে পারে। তাই ছোটখাটো কাজ, ঘর গোছানো বা নতুন কিছু শেখার মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারেন।
কৃতজ্ঞতার অভ্যাস গড়ে তুলুন
প্রতিদিন নিজের জীবনের ভালো দিকগুলো নিয়ে ভাবুন। যেসব বিষয় বা মানুষ আপনার জীবনে ইতিবাচক প্রভাব রাখছে, তাদের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে মন ভালো থাকে।
প্রকৃতির কাছাকাছি যান
খোলা আকাশ, গাছপালা বা নদীর পাশে কিছু সময় কাটানো মানসিক প্রশান্তি এনে দিতে পারে। প্রকৃতি অনেক সময় মনকে দ্রুত শান্ত করে।
প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তা নিন
দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ, হতাশা বা অস্থিরতা থাকলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজ ডেস্ক
২০ মে, ২০২৬, 1:32 PM
মন খারাপ হওয়া মানুষের জীবনেরই অংশ। ব্যক্তিগত, পারিবারিক কিংবা পেশাগত নানা কারণেই অনেক সময় মন ভারী হয়ে আসে। তবে দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ ধরে রাখলে তা ধীরে ধীরে বিষণ্নতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
আবার, প্রতিদিন একই রকম কাজ, ব্যস্ততায় মাঝে মধ্যে হাঁপিয়ে উঠতে হয়। কোনো কিছুই ভালো লাগে না। কখনও কখনও নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে হয়। অনেকের মধ্যে থেকেও মনে হয় পাশে কেউ নেই। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে ইচ্ছে করে না। আত্মীয়-পরিজনকে এড়িয়ে চলতে ইচ্ছে হয়। কারও সাথে কথা বলার ইচ্ছা থাকে না। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্লান্তি, অবসাদ আর হতাশা যখন মন জুড়ে থাকে, তখন তার থেকেই বিচ্ছিন্নতাবোধ জন্মায়। মন বিষণ্ণ হয়ে থাকে। কোনও কিছুতেই উৎসাহ থাকে না।
কিন্তু, জীবন একটাই। ভালোবাসতে হবে জীবনকে। তাই খারাপ লাগা কাটিয়ে ওঠার জন্য কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। আসুন জেনে নেই মন ভালো রাখতে কী করবেন-
গভীর শ্বাসের অভ্যাস করুন
খুব বেশি অস্থির বা খারাপ লাগলে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন এবং আস্তে করে ছাড়ুন। এই সহজ ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে ও মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে।
হাঁটতে বের হন
মন খারাপ হলে কিছু সময়ের জন্য বাইরে হাঁটতে যেতে পারেন। হাঁটাহাঁটি শরীরে রক্তসঞ্চালন বাড়ায় এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেন পৌঁছাতে সাহায্য করে। এমনকি অল্প সময়ের হাঁটাও মন ভালো করতে কার্যকর হতে পারে।
ইতিবাচক বিষয়ের দিকে মন দিন
খারাপ লাগার সময় কোনো কিছুতেই আগ্রহ আসে না। তবু নিজের চারপাশে ছোট ছোট ইতিবাচক বিষয় খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। প্রিয় গান, প্রিয় মানুষ বা পছন্দের কাজ মনকে হালকা করতে পারে।
মনের কথা লিখে ফেলুন
নেতিবাচক অনুভূতি ও চিন্তাগুলো লিখে ফেললে অনেক সময় মন হালকা লাগে। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার এই অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। একই সঙ্গে নিজের ইতিবাচক দিকগুলোও লিখে রাখুন।
মননশীলতার চর্চা করুন
বর্তমান মুহূর্তের প্রতি সচেতন থাকা বা মাইন্ডফুলনেস অনুশীলন করলে নিজের অনুভূতি বোঝা সহজ হয়। এতে দুঃখ বা হতাশার কারণ চিহ্নিত করে তা নিয়ন্ত্রণের পথ খুঁজে পাওয়া যায়।
নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন
ভুল করা মানুষের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। তাই নিজের ভুল মেনে নিয়ে নিজেকে ক্ষমা করতে শিখুন। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি পাওয়া যায়।
প্রিয় মানুষের সঙ্গে কথা বলুন
মন খারাপের সময় নিজের অনুভূতিগুলো চেপে না রেখে কাছের কারও সঙ্গে শেয়ার করুন। বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে কথা বললে মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যায়।
পছন্দের কাজ করুন
গান শোনা, বই পড়া, সিনেমা দেখা, রান্না করা কিংবা ছবি আঁকার মতো পছন্দের কাজগুলো মন ভালো করতে সাহায্য করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিরতি নিন
অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার অনেক সময় মন খারাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। কিছু সময়ের জন্য ফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকলে মানসিক স্বস্তি মিলতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
ঘুম কম হলে মানসিক চাপ ও খারাপ লাগা আরও বেড়ে যেতে পারে। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম মন ও শরীর দুটোকেই ভালো রাখে।
নিজেকে ব্যস্ত রাখুন
খুব বেশি একা বসে থাকলে নেতিবাচক চিন্তা বাড়তে পারে। তাই ছোটখাটো কাজ, ঘর গোছানো বা নতুন কিছু শেখার মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারেন।
কৃতজ্ঞতার অভ্যাস গড়ে তুলুন
প্রতিদিন নিজের জীবনের ভালো দিকগুলো নিয়ে ভাবুন। যেসব বিষয় বা মানুষ আপনার জীবনে ইতিবাচক প্রভাব রাখছে, তাদের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে মন ভালো থাকে।
প্রকৃতির কাছাকাছি যান
খোলা আকাশ, গাছপালা বা নদীর পাশে কিছু সময় কাটানো মানসিক প্রশান্তি এনে দিতে পারে। প্রকৃতি অনেক সময় মনকে দ্রুত শান্ত করে।
প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তা নিন
দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ, হতাশা বা অস্থিরতা থাকলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।