CKEditor 5 Sample
ঢাকা ২১ মে, ২০২৬

জিলহজ্জ মাসের ফজিলত ও গুরুত্বপূর্ণ আমল

#
news image

জিলহজ্জ ইসলামী চান্দ্রবর্ষের শেষ মাস এবং অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি মাস। এ মাসে হজ, কোরবানি এবং আরাফার মতো মহান ইবাদত সংঘটিত হয়। বিশেষ করে জিলহজ্জের প্রথম ১০ দিন ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জিলহজ্জের বিশেষ ফজিলত অপরিসীম। প্রথম ১০ দিনের মর্যাদা অনেক বেশি। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর কাছে জিলহজ্জের প্রথম দশ দিনের আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই।” — সহিহ বুখারি। অর্থাৎ এই দশ দিনের নেক আমল বছরের অন্য সময়ের তুলনায় অধিক প্রিয় ও মর্যাদাপূর্ণ।

আল্লাহ তাআলা সূরা আল-ফাজরে বলেছেন: 'শপথ ফজরের, এবং দশ রাতের।'

— সূরা আল-ফাজর: ১-২। অনেক মুফাসসিরের মতে এখানে “দশ রাত” বলতে জিলহজ্জের প্রথম দশ দিনকে বোঝানো হয়েছে।

জিলহজ্জ হজের মাস। এ মাসেই মুসলমানরা পবিত্র হজ্জ পালন করেন। এটি ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি।

এ মাসের আরাফার দিনের ফজিলত সবচেয়ে বেশি। জিলহজ্জের ৯ তারিখ হলো আরাফাত দিবস। হাদিসে এসেছে: 'আরাফার দিনের রোজা পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হয়। — সহিহ মুসলিম। তবে, হজে অবস্থানরত ব্যক্তিদের জন্য রোজা না রাখাই উত্তম।

১০ জিলহজ্জ থেকে শুরু হয় ঈদ উল আযহা বা কোরবানির ঈদ। কোরবানি হলো হযরত ইবরাহিম আ.-এর ত্যাগের স্মৃতি, যার চেতনা প্রতিটি মুসলমান ধারণ করেন।

জিলহজ্জে গুরুত্বপূর্ণ আমল সম্পর্কেও নানা বর্ণনায় উল্লেখ পাওয়া যায়। এর মধ্যে নফল রোজা রাখা অন্যতম। বিশেষত—১ থেকে ৯ জিলহজ্জ পর্যন্ত রোজা এবং ৯ জিলহজ্জ (আরাফার রোজা) খুবই ফজিলতপূর্ণ।

এ মাসের গুরুত্বপূর্ণ আমলের মধ্যে রয়েছে বেশি বেশি তাকবির পাঠ। এ সময় বেশি পড়া হয়: 'আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।' ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পড়া সুন্নত। যা তাকবিরে তাশরিক নামে পরিচিত। সাধারণত ৯ জিলহজ্জ ফজর থেকে শুরু হয়ে ১৩ জিলহজ্জ আসর পর্যন্ত তাকবিরে তাশরিক পড়া হয়। অর্থাৎ মোট ৫ দিনের মধ্যে ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর এটি পড়া হয়। উক্ত দিনগুলোতে এটি প্রত্যেক ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর একবার পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা (হানাফি মতে ওয়াজিবের নিকটবর্তী গুরুত্বসম্পন্ন আমল)। এই তাকবির আল্লাহর মহিমা, তাওহিদ ও কৃতজ্ঞতার ঘোষণা। হজ, কোরবানি ও ইবরাহিম (আ.)-এর ত্যাগের স্মৃতির সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

এই দিনগুলো আত্মশুদ্ধি ও গুনাহ মাফের উত্তম সময় হওয়ায় প্রচুর তওবা ও ইস্তিগফার পাঠ করা উচিত। তাছাড়া, এ সময় বেশি বেশি—তাকবির, তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ), এবং জিকির করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া বৃদ্ধি করাও উচিত। গরিব-অসহায়দের সহায়তা করা এ সময় অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এ সময়কালে সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য কোরবানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যারা কোরবানি করবেন, তাদের জন্য ১ জিলহজ্জ থেকে কোরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত চুল ও নখ না কাটার ব্যাপারে হাদিসে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

জিলহজ্জের মূল শিক্ষা হলো, এই মাস আমাদের শেখায়—ত্যাগ, আনুগত্য, আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ সমর্পণ এবং মানবতার সেবা। অতএব, ঈদ উপলক্ষে জিলহজ্জ শুধু উৎসবের মাস নয়, এটি ইমান, ত্যাগ ও আধ্যাত্মিক উন্নতির এক মহান মাস।

নিউজ ডেস্ক

২০ মে, ২০২৬,  1:23 PM

news image
সংগৃহীত

জিলহজ্জ ইসলামী চান্দ্রবর্ষের শেষ মাস এবং অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি মাস। এ মাসে হজ, কোরবানি এবং আরাফার মতো মহান ইবাদত সংঘটিত হয়। বিশেষ করে জিলহজ্জের প্রথম ১০ দিন ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জিলহজ্জের বিশেষ ফজিলত অপরিসীম। প্রথম ১০ দিনের মর্যাদা অনেক বেশি। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর কাছে জিলহজ্জের প্রথম দশ দিনের আমলের চেয়ে অধিক প্রিয় অন্য কোনো দিনের আমল নেই।” — সহিহ বুখারি। অর্থাৎ এই দশ দিনের নেক আমল বছরের অন্য সময়ের তুলনায় অধিক প্রিয় ও মর্যাদাপূর্ণ।

আল্লাহ তাআলা সূরা আল-ফাজরে বলেছেন: 'শপথ ফজরের, এবং দশ রাতের।'

— সূরা আল-ফাজর: ১-২। অনেক মুফাসসিরের মতে এখানে “দশ রাত” বলতে জিলহজ্জের প্রথম দশ দিনকে বোঝানো হয়েছে।

জিলহজ্জ হজের মাস। এ মাসেই মুসলমানরা পবিত্র হজ্জ পালন করেন। এটি ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি।

এ মাসের আরাফার দিনের ফজিলত সবচেয়ে বেশি। জিলহজ্জের ৯ তারিখ হলো আরাফাত দিবস। হাদিসে এসেছে: 'আরাফার দিনের রোজা পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহের কাফফারা হয়। — সহিহ মুসলিম। তবে, হজে অবস্থানরত ব্যক্তিদের জন্য রোজা না রাখাই উত্তম।

১০ জিলহজ্জ থেকে শুরু হয় ঈদ উল আযহা বা কোরবানির ঈদ। কোরবানি হলো হযরত ইবরাহিম আ.-এর ত্যাগের স্মৃতি, যার চেতনা প্রতিটি মুসলমান ধারণ করেন।

জিলহজ্জে গুরুত্বপূর্ণ আমল সম্পর্কেও নানা বর্ণনায় উল্লেখ পাওয়া যায়। এর মধ্যে নফল রোজা রাখা অন্যতম। বিশেষত—১ থেকে ৯ জিলহজ্জ পর্যন্ত রোজা এবং ৯ জিলহজ্জ (আরাফার রোজা) খুবই ফজিলতপূর্ণ।

এ মাসের গুরুত্বপূর্ণ আমলের মধ্যে রয়েছে বেশি বেশি তাকবির পাঠ। এ সময় বেশি পড়া হয়: 'আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।' ফরজ নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক পড়া সুন্নত। যা তাকবিরে তাশরিক নামে পরিচিত। সাধারণত ৯ জিলহজ্জ ফজর থেকে শুরু হয়ে ১৩ জিলহজ্জ আসর পর্যন্ত তাকবিরে তাশরিক পড়া হয়। অর্থাৎ মোট ৫ দিনের মধ্যে ২৩ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পর এটি পড়া হয়। উক্ত দিনগুলোতে এটি প্রত্যেক ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর একবার পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা (হানাফি মতে ওয়াজিবের নিকটবর্তী গুরুত্বসম্পন্ন আমল)। এই তাকবির আল্লাহর মহিমা, তাওহিদ ও কৃতজ্ঞতার ঘোষণা। হজ, কোরবানি ও ইবরাহিম (আ.)-এর ত্যাগের স্মৃতির সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

এই দিনগুলো আত্মশুদ্ধি ও গুনাহ মাফের উত্তম সময় হওয়ায় প্রচুর তওবা ও ইস্তিগফার পাঠ করা উচিত। তাছাড়া, এ সময় বেশি বেশি—তাকবির, তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ), এবং জিকির করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া বৃদ্ধি করাও উচিত। গরিব-অসহায়দের সহায়তা করা এ সময় অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এ সময়কালে সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য কোরবানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যারা কোরবানি করবেন, তাদের জন্য ১ জিলহজ্জ থেকে কোরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত চুল ও নখ না কাটার ব্যাপারে হাদিসে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

জিলহজ্জের মূল শিক্ষা হলো, এই মাস আমাদের শেখায়—ত্যাগ, আনুগত্য, আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ সমর্পণ এবং মানবতার সেবা। অতএব, ঈদ উপলক্ষে জিলহজ্জ শুধু উৎসবের মাস নয়, এটি ইমান, ত্যাগ ও আধ্যাত্মিক উন্নতির এক মহান মাস।