নিউজ ডেস্ক
২৩ এপ্রিল, ২০২৬, 12:37 PM
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপে আজ শুরু হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির বহুল আলোচিত ‘মহারণ’। ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে, যেখানে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নন্দিগ্রাম, দার্জেলিং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি এবং কুচবিহারসহ বেশ কিছু আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। অন্তত ৮০টি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০১১ সালে ৩৫ বছরের সিপিএম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসার পর টানা তিন মেয়াদ ধরে রাজ্য শাসন করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন তার জন্য সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে পারে। যদিও ২০২১ সালের নির্বাচনে তার দল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস ২১৫টি আসন জিতে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিল, যেখানে ক্ষমতাসীন বিজেপি) পেয়েছিল ৭৭টি আসন।
বিজেপি গত কয়েক বছরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং উন্নয়নের ঘাটতির অভিযোগ তুলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে তৃণমূল এই নির্বাচনকে ‘বহিরাগতদের বিরুদ্ধে বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণের লড়াই’ হিসেবে তুলে ধরছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ/বাজেট আটকে রাখার অভিযোগ করছে।
এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর)। নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগে প্রায় ৮৯ লাখ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, যা মোট ভোটারের প্রায় ১১.৬ শতাংশ। এই সংখ্যা ২০২১ সালে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধানের চেয়েও বেশি, যা ক্ষমতাসীন দলের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রথম দফায় তৃণমূলের উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন গৌতম দেব (শিলিগুড়ি), উদয়ন গুহ (দিনহাটা), ফিরহাদ হাকিম (কলকাতা বন্দর) এবং পবিত্র কর (নন্দীগ্রাম)। অন্যদিকে বিজেপির হয়ে নন্দীগ্রাম থেকে লড়ছেন শুভেন্দু অধিকারী, যিনি দ্বিতীয় দফায় ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও চ্যালেঞ্জ জানাবেন। এছাড়া বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক (মাথাভাঙ্গা) এবং সাবেক রাজ্য সভাপতি দিলিপ ঘোষ (খড়গপুর সদর)।
নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে নজিরবিহীনভাবে। নির্বাচন কমিশন ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করেছে, যেখানে প্রায় ২.৪ লাখ নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ এপ্রিল এবং ভোট গণনা হবে ৪ মে। পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনকে ঘিরে পুরো ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নিউজ ডেস্ক
২৩ এপ্রিল, ২০২৬, 12:37 PM
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপে আজ শুরু হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির বহুল আলোচিত ‘মহারণ’। ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম দফায় ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে, যেখানে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নন্দিগ্রাম, দার্জেলিং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি এবং কুচবিহারসহ বেশ কিছু আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। অন্তত ৮০টি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০১১ সালে ৩৫ বছরের সিপিএম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসার পর টানা তিন মেয়াদ ধরে রাজ্য শাসন করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন তার জন্য সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে পারে। যদিও ২০২১ সালের নির্বাচনে তার দল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস ২১৫টি আসন জিতে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিল, যেখানে ক্ষমতাসীন বিজেপি) পেয়েছিল ৭৭টি আসন।
বিজেপি গত কয়েক বছরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং উন্নয়নের ঘাটতির অভিযোগ তুলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে তৃণমূল এই নির্বাচনকে ‘বহিরাগতদের বিরুদ্ধে বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণের লড়াই’ হিসেবে তুলে ধরছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ/বাজেট আটকে রাখার অভিযোগ করছে।
এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর)। নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগে প্রায় ৮৯ লাখ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, যা মোট ভোটারের প্রায় ১১.৬ শতাংশ। এই সংখ্যা ২০২১ সালে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধানের চেয়েও বেশি, যা ক্ষমতাসীন দলের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রথম দফায় তৃণমূলের উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন গৌতম দেব (শিলিগুড়ি), উদয়ন গুহ (দিনহাটা), ফিরহাদ হাকিম (কলকাতা বন্দর) এবং পবিত্র কর (নন্দীগ্রাম)। অন্যদিকে বিজেপির হয়ে নন্দীগ্রাম থেকে লড়ছেন শুভেন্দু অধিকারী, যিনি দ্বিতীয় দফায় ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও চ্যালেঞ্জ জানাবেন। এছাড়া বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক (মাথাভাঙ্গা) এবং সাবেক রাজ্য সভাপতি দিলিপ ঘোষ (খড়গপুর সদর)।
নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে নজিরবিহীনভাবে। নির্বাচন কমিশন ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করেছে, যেখানে প্রায় ২.৪ লাখ নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ এপ্রিল এবং ভোট গণনা হবে ৪ মে। পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনকে ঘিরে পুরো ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।