ধর্ম ডেস্ক
১৯ অক্টোবর, ২০২৫, 3:55 PM
ইসলাম মানুষকে সহনশীল হতে এবং অন্যকে ক্ষমা করতে শেখায়। যারা কথায় ও কাজে সহনশীলতা প্রকাশ করে, আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্য রেখেছেন বিরাট পুরস্কার ও প্রতিদান। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অবশ্যই সহনশীলদের প্রতিদান পূর্ণভাবে দেওয়া হবে’ (সুরা জুমার : আয়াত ১০)। সংযম ও সহনশীলতা জান্নাতের পথ সুগম করে। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে, সংঘাত-সংঘর্ষে, দ্বন্দ্ব-কলহে, ঝগড়া-ফাসাদে, বালা-মসিবতে সর্বাবস্থায় সংযম ও সহনশীলতা অবলম্বন করা উচিত। সহনশীলতা ও ক্ষমা মুসলমানের ঈমানের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ঈমান কী? তিনি বলেন, ‘ঈমান হচ্ছে ধৈর্য এবং সহনশীলতা।’
সহনশীলতা ইসলামের একটি মৌলিক নীতি এবং ধর্মীয় নৈতিক কর্তব্য। এর মানে এই নয় যে, ইসলাম কোনো অন্যায়ের ব্যাপারে ছাড়, অনুকম্পা বা প্রশ্রয় দেয় এবং এটাও বোঝায় না যে, ইসলামে নীতির অভাব রয়েছে। বরং ইসলাম সবসময়ই সহনশীলতার নির্দেশ দেয়। তবে অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়ন, অন্যের অধিকার কেড়ে নেওয়া, আল্লাহর আদেশ লঙ্ঘনে ছাড় দেয় না।
মানুষ জীবনে বিভিন্ন অবস্থার সম্মুখীন হয়। কখনো সুখের সম্মুখীন হয়, কখনো দুখ-কষ্টের মুখোমুখি হয়, কখনো পাপে নিমজ্জিত হয়, আবার কখনো বা অন্যায়-অনাচারে নিপতিত হয়। এসব অবস্থায় মানুষকে চরম সংযম ও পরম সহনশীলতা অবলম্বনের জন্য ইসলাম জোরালো তাগিদ দিয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা সহনশীলতা ও নামাজের মাধ্যমে আমার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো, নিশ্চয় আল্লাহ সহনশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৫৩)
বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট, রোগ-শোক, ক্ষুধা-তৃষ্ণা, বন্যা-খরা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ যাবতীয় বালা মুসিবতে কোনোরকম বিচলিত না হয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা করে যথাসম্ভব শান্ত বিনম্রভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর নির্দেশ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার নামই সহনশীলতা। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তিশৃঙ্খলা ও কল্যাণকর জীবনযাপনের জন্য এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। মানুষ যখন দুখ-কষ্টে জড়িয়ে বেশি বিচলিত হয় তখন সে দিশাহারা অবস্থায় বিভিন্ন প্রকার মন্দ ও অসৎ কাজ করতে থাকে। সে যদি বিপদে অযথা বিচলিত না হয়ে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা করে এবং ধৈর্যধারণ ও সহনশীলতা অবলম্বন করে তা হলে সে দয়াময়ের নেয়ামতপ্রাপ্ত হয়। এমনিভাবে মানুষ যদি কোনো সুখ-শান্তির মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়, তখন সে বিপদগামী হতে পারে এবং তার অমঙ্গল হওয়া স্বাভাবিক। আর যদি সে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে ও আনন্দ-উল্লাসে আত্মহারা না হয়ে পরম করুণাময় মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে, তা হলে আল্লাহ তাকে দয়াপরবশ হয়ে অশেষ কল্যাণ দান করেন।
যদিও সবসময় সংযত হওয়া কঠিন ও কষ্টসাধ্য কাজ, তবু এটি এমন এক মহৎ মানবিক গুণ, যা সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণের জন্য খুবই প্রয়োজন। দুনিয়াতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহনশীলতা ও সংযমের বিকল্প নেই। এ জন্যই ইসলাম ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়সহ সব ক্ষেত্রে সহনশীলতার শিক্ষা দেয়। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা ও সন্তান-সন্ততি, ভাই-বোনের মধ্যে সহনশীলতা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মতামত ও চিন্তার ক্ষেত্রে সহনশীলতা, অন্যান্য ধর্মের মানুষের আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক, সংলাপ ও সহযোগিতার মধ্যে সহনশীলতার দীক্ষা দেয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সুখ-শান্তি ও কল্যাণের স্বার্থে সহনশীলতা অবলম্বন করার তওফিক দান করুন।
ধর্ম ডেস্ক
১৯ অক্টোবর, ২০২৫, 3:55 PM
ইসলাম মানুষকে সহনশীল হতে এবং অন্যকে ক্ষমা করতে শেখায়। যারা কথায় ও কাজে সহনশীলতা প্রকাশ করে, আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্য রেখেছেন বিরাট পুরস্কার ও প্রতিদান। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘অবশ্যই সহনশীলদের প্রতিদান পূর্ণভাবে দেওয়া হবে’ (সুরা জুমার : আয়াত ১০)। সংযম ও সহনশীলতা জান্নাতের পথ সুগম করে। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে, সংঘাত-সংঘর্ষে, দ্বন্দ্ব-কলহে, ঝগড়া-ফাসাদে, বালা-মসিবতে সর্বাবস্থায় সংযম ও সহনশীলতা অবলম্বন করা উচিত। সহনশীলতা ও ক্ষমা মুসলমানের ঈমানের এক অনন্য বৈশিষ্ট্য। রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ঈমান কী? তিনি বলেন, ‘ঈমান হচ্ছে ধৈর্য এবং সহনশীলতা।’
সহনশীলতা ইসলামের একটি মৌলিক নীতি এবং ধর্মীয় নৈতিক কর্তব্য। এর মানে এই নয় যে, ইসলাম কোনো অন্যায়ের ব্যাপারে ছাড়, অনুকম্পা বা প্রশ্রয় দেয় এবং এটাও বোঝায় না যে, ইসলামে নীতির অভাব রয়েছে। বরং ইসলাম সবসময়ই সহনশীলতার নির্দেশ দেয়। তবে অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়ন, অন্যের অধিকার কেড়ে নেওয়া, আল্লাহর আদেশ লঙ্ঘনে ছাড় দেয় না।
মানুষ জীবনে বিভিন্ন অবস্থার সম্মুখীন হয়। কখনো সুখের সম্মুখীন হয়, কখনো দুখ-কষ্টের মুখোমুখি হয়, কখনো পাপে নিমজ্জিত হয়, আবার কখনো বা অন্যায়-অনাচারে নিপতিত হয়। এসব অবস্থায় মানুষকে চরম সংযম ও পরম সহনশীলতা অবলম্বনের জন্য ইসলাম জোরালো তাগিদ দিয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা সহনশীলতা ও নামাজের মাধ্যমে আমার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো, নিশ্চয় আল্লাহ সহনশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৫৩)
বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট, রোগ-শোক, ক্ষুধা-তৃষ্ণা, বন্যা-খরা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ যাবতীয় বালা মুসিবতে কোনোরকম বিচলিত না হয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা করে যথাসম্ভব শান্ত বিনম্রভাবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর নির্দেশ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার নামই সহনশীলতা। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তিশৃঙ্খলা ও কল্যাণকর জীবনযাপনের জন্য এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। মানুষ যখন দুখ-কষ্টে জড়িয়ে বেশি বিচলিত হয় তখন সে দিশাহারা অবস্থায় বিভিন্ন প্রকার মন্দ ও অসৎ কাজ করতে থাকে। সে যদি বিপদে অযথা বিচলিত না হয়ে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা করে এবং ধৈর্যধারণ ও সহনশীলতা অবলম্বন করে তা হলে সে দয়াময়ের নেয়ামতপ্রাপ্ত হয়। এমনিভাবে মানুষ যদি কোনো সুখ-শান্তির মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়, তখন সে বিপদগামী হতে পারে এবং তার অমঙ্গল হওয়া স্বাভাবিক। আর যদি সে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে ও আনন্দ-উল্লাসে আত্মহারা না হয়ে পরম করুণাময় মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে, তা হলে আল্লাহ তাকে দয়াপরবশ হয়ে অশেষ কল্যাণ দান করেন।
যদিও সবসময় সংযত হওয়া কঠিন ও কষ্টসাধ্য কাজ, তবু এটি এমন এক মহৎ মানবিক গুণ, যা সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণের জন্য খুবই প্রয়োজন। দুনিয়াতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহনশীলতা ও সংযমের বিকল্প নেই। এ জন্যই ইসলাম ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়সহ সব ক্ষেত্রে সহনশীলতার শিক্ষা দেয়। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা ও সন্তান-সন্ততি, ভাই-বোনের মধ্যে সহনশীলতা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মতামত ও চিন্তার ক্ষেত্রে সহনশীলতা, অন্যান্য ধর্মের মানুষের আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক, সংলাপ ও সহযোগিতার মধ্যে সহনশীলতার দীক্ষা দেয়। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সুখ-শান্তি ও কল্যাণের স্বার্থে সহনশীলতা অবলম্বন করার তওফিক দান করুন।