ইউসুফ আলী বাচ্চু
১০ অক্টোবর, ২০২৫, 6:57 PM
টানা বৃষ্টিপাত ও দুর্বল বাজার মনিটরিং ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে সক্রিয় 'অদৃশ্য সিন্ডিকেট'-এর কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে সবজির আকাশছোঁয়া দাম এবং তার প্রভাবে ডিম ও মাংসের মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জীবনযাত্রায় তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, বাজার অস্থিরতা এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর খিলক্ষেতসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির চড়া দাম দেখা যায়।
বৃষ্টিতে সবজিখেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং 'মৌসুম শেষ হওয়ার' অজুহাতে সবজির দাম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা দরে।
সবজির দাম বাড়ার কারণে ডিমের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে ডিমের দামও বেড়েছে। এছাড়া অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও চড়া।
ডিম ও মুরগি: এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা ও সোনালি মুরগি ২৮০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডাল: মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়, যা গত বছর ছিল ৯০-১০০ টাকা। মোটা দানার ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়।
তেল ও পেঁয়াজ: টিসিবি'র তথ্যমতে, খোলা সয়াবিন তেল লিটারে ২ টাকা বেড়ে ১৭২-১৮০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৭০-৭৫ টাকা হয়েছে।
মাছ: তেলাপিয়া ২২০-৩০০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২৫০ টাকা এবং রুই ৩৫০-৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারের এমন পরিস্থিতিতে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ক্রেতারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
খিলক্ষেত বাজারের ক্রেতা আবদুল মজিদ শাহরিয়ার বলেন, "গত চার মাস ধরে অতিরিক্ত দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে। এত বেশি দামের কারণে যেখানে এক কেজি কিনতাম, এখন সেখানে আধা কেজি কিনতে হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতাদের সবারই একই অবস্থা।"
কারওয়ান বাজারের ক্রেতা নাইম হাসান বাজার মনিটরিংয়ের উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "চার মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও সবজির দাম বাড়তি। অসাধু চক্রের সদস্যরা অদৃশ্য থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।"
অন্যদিকে, খুচরা বিক্রেতারা তাদের অসহায়ত্বের কথা জানান। বাড্ডার সবজি বিক্রেতা দেলওয়ার বলেন, "আমরা আড়তের মাধ্যমে সবজি কিনি। তারা জোট বেঁধে একটি নির্দিষ্ট দাম নির্ধারণ করে রাখে। ক্রেতারা আমাদের ওপর ক্ষোভ দেখান, কিন্তু আসলে দামের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নেই।"
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের বাজার মনিটরিং দুর্বল হয়ে পড়ায় এই 'অদৃশ্য সিন্ডিকেট' দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। পাইকারি ও খুচরা দামের বিশাল ব্যবধান কমাতে না পারলে নিত্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। সবজি বিক্রেতা রহমত আলম জানান, বৃষ্টির কারণে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সবজির দাম বাড়ছে। তবে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
ইউসুফ আলী বাচ্চু
১০ অক্টোবর, ২০২৫, 6:57 PM
টানা বৃষ্টিপাত ও দুর্বল বাজার মনিটরিং ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে সক্রিয় 'অদৃশ্য সিন্ডিকেট'-এর কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে সবজির আকাশছোঁয়া দাম এবং তার প্রভাবে ডিম ও মাংসের মূল্যবৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জীবনযাত্রায় তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, বাজার অস্থিরতা এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর খিলক্ষেতসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির চড়া দাম দেখা যায়।
বৃষ্টিতে সবজিখেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং 'মৌসুম শেষ হওয়ার' অজুহাতে সবজির দাম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা দরে।
সবজির দাম বাড়ার কারণে ডিমের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে ডিমের দামও বেড়েছে। এছাড়া অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও চড়া।
ডিম ও মুরগি: এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা ও সোনালি মুরগি ২৮০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডাল: মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়, যা গত বছর ছিল ৯০-১০০ টাকা। মোটা দানার ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়।
তেল ও পেঁয়াজ: টিসিবি'র তথ্যমতে, খোলা সয়াবিন তেল লিটারে ২ টাকা বেড়ে ১৭২-১৮০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৭০-৭৫ টাকা হয়েছে।
মাছ: তেলাপিয়া ২২০-৩০০ টাকা, পাঙাশ ১৮০-২৫০ টাকা এবং রুই ৩৫০-৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারের এমন পরিস্থিতিতে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ক্রেতারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
খিলক্ষেত বাজারের ক্রেতা আবদুল মজিদ শাহরিয়ার বলেন, "গত চার মাস ধরে অতিরিক্ত দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে। এত বেশি দামের কারণে যেখানে এক কেজি কিনতাম, এখন সেখানে আধা কেজি কিনতে হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতাদের সবারই একই অবস্থা।"
কারওয়ান বাজারের ক্রেতা নাইম হাসান বাজার মনিটরিংয়ের উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "চার মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও সবজির দাম বাড়তি। অসাধু চক্রের সদস্যরা অদৃশ্য থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।"
অন্যদিকে, খুচরা বিক্রেতারা তাদের অসহায়ত্বের কথা জানান। বাড্ডার সবজি বিক্রেতা দেলওয়ার বলেন, "আমরা আড়তের মাধ্যমে সবজি কিনি। তারা জোট বেঁধে একটি নির্দিষ্ট দাম নির্ধারণ করে রাখে। ক্রেতারা আমাদের ওপর ক্ষোভ দেখান, কিন্তু আসলে দামের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নেই।"
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের বাজার মনিটরিং দুর্বল হয়ে পড়ায় এই 'অদৃশ্য সিন্ডিকেট' দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। পাইকারি ও খুচরা দামের বিশাল ব্যবধান কমাতে না পারলে নিত্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। সবজি বিক্রেতা রহমত আলম জানান, বৃষ্টির কারণে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সবজির দাম বাড়ছে। তবে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।