CKEditor 5 Sample
ঢাকা ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

ভারতের অবস্থানে বিপাকে আওয়ামী লীগ

#
news image

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রির সাম্প্রতিক বক্তব্য আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে গভীর হতাশা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে কোনো ইতিবাচক বক্তব্য না পাওয়া এবং নেতা-কর্মীদের ধরপাকড় সংক্রান্ত পরিসংখ্যান উদ্বেগের কারণ হয়েছে।
গত ৬ অক্টোবর নয়াদিল্লির সাউথ ব্লকে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব)-এর সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বাংলাদেশের নির্বাচন ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
নির্বাচন নিয়ে ভারতের ‘অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ’ অবস্থান:
ডিকাব সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে বিক্রম মিশ্রি বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে ভারতের অবস্থানকে অত্যন্ত সতর্ক, সাদামাটা এবং একইসঙ্গে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে তুলে ধরেন।
অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন: বিক্রম মিশ্রি বাংলাদেশে সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে ‘অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের’ প্রতি ভারতের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের: তবে একটি বড় দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হলে তা অংশগ্রহণমূলক হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মিশ্রি স্পষ্ট করে দেন যে, “বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার মধ্যে আমি যেতে চাই না।” তিনি বলেন, নির্বাচন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে কীভাবে দেখা হবে, সে বিষয়ে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ, জনগণ ও সুশীল সমাজকেই নিজেদের মূল্যায়ন করতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব: তিনি সতর্ক করে বলেন, এই নির্বাচন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো শুধু বর্তমানের ওপর নয়, বরং “মধ্য থেকে দীর্ঘ মেয়াদেও এর প্রভাব থাকবে।” মিশ্রি সাফ জানিয়ে দেন যে, জনগণের রায় নিয়ে যে সরকারই আসুক, ভারতের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই; বাংলাদেশের মানুষই এ বিষয় নির্ধারণ করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিশ্রির এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট ভারত এখন নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের ওপর ছেড়ে দিয়েছে এবং কোনো একক দলের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিতে চাইছে না।
ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এর প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিক্রম মিশ্রি বাংলাদেশের আইনের প্রতি সুস্পষ্ট সম্মান দেখান।
তিনি বলেন, “এটা বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়া। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনা ও মতবিনিময় প্রয়োজন। আমরা এসব বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই মুহূর্তে এ বিষয়ে আর কিছু বলা গঠনমূলক হবে বলে আমি মনে করছি না।”
আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা এমন পরিস্থিতিতে ভারতের কাছ থেকে তাদের সাবেক সভাপতির ব্যাপারে শক্ত ইতিবাচক ভূমিকা আশা করলেও, মিশ্রির এই সতর্ক ও নীরব অবস্থান তাদের মধ্যে হতাশা ও হতবাক হওয়ার সৃষ্টি করেছে। তারা মনে করছেন, তাদের প্রতি ভারতের ‘বদ্ধমূল ধারণা’ পাল্টে গেছে।
এছাড়া ভারতের অবস্থানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশার পাশাপাশি আরও বড় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবের পর প্রায় ৪৫ হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। এই দলে আমলা, পুলিশ ও সামরিক কর্মকর্তাসহ অন্যান্য পদস্থ কর্তাব্যক্তিও রয়েছেন। এক হিসেবে, ৭৩৪ জন বাংলাদেশির বিস্তারিত তথ্য ভারতের একটি সংস্থা সংরক্ষণ করেছে।

কারাগারের পরিসংখ্যান: সম্প্রতি ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের কারাগারে থাকা বিদেশি বন্দিদের মধ্যে ৮৯ শতাংশই বাংলাদেশি নাগরিক, যাদের বেশিরভাগই পশ্চিমবঙ্গে আটক। যদিও এই হিসাব জুলাই বিপ্লবের পরের নয়, তবু এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশে অবস্থানরত নেতা-কর্মী ও তাদের পরিবারবর্গকে আতঙ্কিত করেছে। তাদের ধারণা ছিল, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী হলে ভারত সরকার আটক বা গ্রেপ্তার করবে না।
সাম্প্রতিক ধরপাকড়: চলতি বছরের মার্চে নয়াদিল্লিতে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে অন্তত ২৪ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। এই ঘটনা ভারতে পালিয়ে থাকা নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, বাংলাদেশের নির্বাচন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়ে ভারতের সর্বশেষ অবস্থান ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের জন্য আরও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সম্প্রতি ভারতে বেসরকারি মোড়কে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বৈঠকে যে বার্তা দেওয়া হয়েছে—”এই মুহূর্তে কোনো প্ররোচনায় পা না দিয়ে ভারতের উচিত হবে বাংলাদেশের নির্বাচনে কী ফলাফল হয়, সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করা” তা আওয়ামী লীগের জন্য নেতিবাচক সংকেত বহন করছে।

ইউসুফ আলী বাচ্চু

০৯ অক্টোবর, ২০২৫,  4:36 PM

news image

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রির সাম্প্রতিক বক্তব্য আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে গভীর হতাশা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে কোনো ইতিবাচক বক্তব্য না পাওয়া এবং নেতা-কর্মীদের ধরপাকড় সংক্রান্ত পরিসংখ্যান উদ্বেগের কারণ হয়েছে।
গত ৬ অক্টোবর নয়াদিল্লির সাউথ ব্লকে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব)-এর সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বাংলাদেশের নির্বাচন ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
নির্বাচন নিয়ে ভারতের ‘অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ’ অবস্থান:
ডিকাব সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে বিক্রম মিশ্রি বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে ভারতের অবস্থানকে অত্যন্ত সতর্ক, সাদামাটা এবং একইসঙ্গে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে তুলে ধরেন।
অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন: বিক্রম মিশ্রি বাংলাদেশে সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে ‘অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের’ প্রতি ভারতের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের: তবে একটি বড় দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হলে তা অংশগ্রহণমূলক হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মিশ্রি স্পষ্ট করে দেন যে, “বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার মধ্যে আমি যেতে চাই না।” তিনি বলেন, নির্বাচন অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে কীভাবে দেখা হবে, সে বিষয়ে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ, জনগণ ও সুশীল সমাজকেই নিজেদের মূল্যায়ন করতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব: তিনি সতর্ক করে বলেন, এই নির্বাচন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো শুধু বর্তমানের ওপর নয়, বরং “মধ্য থেকে দীর্ঘ মেয়াদেও এর প্রভাব থাকবে।” মিশ্রি সাফ জানিয়ে দেন যে, জনগণের রায় নিয়ে যে সরকারই আসুক, ভারতের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই; বাংলাদেশের মানুষই এ বিষয় নির্ধারণ করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিশ্রির এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট ভারত এখন নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের ওপর ছেড়ে দিয়েছে এবং কোনো একক দলের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিতে চাইছে না।
ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এর প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিক্রম মিশ্রি বাংলাদেশের আইনের প্রতি সুস্পষ্ট সম্মান দেখান।
তিনি বলেন, “এটা বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়া। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনা ও মতবিনিময় প্রয়োজন। আমরা এসব বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই মুহূর্তে এ বিষয়ে আর কিছু বলা গঠনমূলক হবে বলে আমি মনে করছি না।”
আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা এমন পরিস্থিতিতে ভারতের কাছ থেকে তাদের সাবেক সভাপতির ব্যাপারে শক্ত ইতিবাচক ভূমিকা আশা করলেও, মিশ্রির এই সতর্ক ও নীরব অবস্থান তাদের মধ্যে হতাশা ও হতবাক হওয়ার সৃষ্টি করেছে। তারা মনে করছেন, তাদের প্রতি ভারতের ‘বদ্ধমূল ধারণা’ পাল্টে গেছে।
এছাড়া ভারতের অবস্থানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশার পাশাপাশি আরও বড় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবের পর প্রায় ৪৫ হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। এই দলে আমলা, পুলিশ ও সামরিক কর্মকর্তাসহ অন্যান্য পদস্থ কর্তাব্যক্তিও রয়েছেন। এক হিসেবে, ৭৩৪ জন বাংলাদেশির বিস্তারিত তথ্য ভারতের একটি সংস্থা সংরক্ষণ করেছে।

কারাগারের পরিসংখ্যান: সম্প্রতি ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের কারাগারে থাকা বিদেশি বন্দিদের মধ্যে ৮৯ শতাংশই বাংলাদেশি নাগরিক, যাদের বেশিরভাগই পশ্চিমবঙ্গে আটক। যদিও এই হিসাব জুলাই বিপ্লবের পরের নয়, তবু এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশে অবস্থানরত নেতা-কর্মী ও তাদের পরিবারবর্গকে আতঙ্কিত করেছে। তাদের ধারণা ছিল, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী হলে ভারত সরকার আটক বা গ্রেপ্তার করবে না।
সাম্প্রতিক ধরপাকড়: চলতি বছরের মার্চে নয়াদিল্লিতে অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে অন্তত ২৪ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। এই ঘটনা ভারতে পালিয়ে থাকা নেতা-কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, বাংলাদেশের নির্বাচন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়ে ভারতের সর্বশেষ অবস্থান ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের জন্য আরও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সম্প্রতি ভারতে বেসরকারি মোড়কে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বৈঠকে যে বার্তা দেওয়া হয়েছে—”এই মুহূর্তে কোনো প্ররোচনায় পা না দিয়ে ভারতের উচিত হবে বাংলাদেশের নির্বাচনে কী ফলাফল হয়, সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করা” তা আওয়ামী লীগের জন্য নেতিবাচক সংকেত বহন করছে।