নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ জানুয়ারি, ২০২৬, 6:46 PM
প্রতি বছরই শীত আসলেই চোখে পড়ে ছিন্নমূল, অসহায় মানুষের হাড় কাঁপানো কষ্ট। তীব্র শীতে ছিন্নমূল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কষ্টে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও মানবিক ব্যক্তিরা শীতবস্ত্র (কম্বল, চাদর, সোয়েটার) নিয়ে পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তারা রেললাইন, বস্তি, বাসস্ট্যান্ড ও গ্রামগঞ্জে অসহায়দের মাঝে উষ্ণতা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। যা কনকনে ঠান্ডায় প্রাণ বাঁচানোর নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশব্যাপী এমন অসহায় দুঃস্থ ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন সমাজের কিছু মানব দরদি মানুষ ও বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এইসব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা রাতভর রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে একযোগে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ কার্যক্রমে পরিচালনা করে মানবিকতার পরিচয় দিচ্ছে।
উম্মাহ হেল্প ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ সম্পন্ন: রাজধানীর হাজারীবাগে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে উম্মাহ হেল্প ফাউন্ডেশন। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় হাজারীবাগের ঝাউচর এলাকায় এ কর্মসুচি পালিত হয়। আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইমাম সমিতির সভাপতি শায়খ হাফেজ মাওলানা লুৎফর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হাজারীবাগ দক্ষিণ থানার আমির জনাব আখতারুল আলম সোহেল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উম্মাহ হেল্প ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট কলামিস্ট ও দেশ টিভির ইসলামী জীবন ও জিজ্ঞাসা অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মুহাম্মাদ আবদুল কাহহার সিদ্দিকী। সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, উম্মাহ হেল্প ফাউন্ডেশন অলাভজনক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। ইয়াতিম, মিসকিন, অসহায়, দরিদ্র, বিধবা, শারীরিকভাবে কাজ করতে অক্ষম ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই আমাদের পথচলা। আমাদের সামান্য উপহার আপনারা সাদরে গ্রহণ করবেন। আপনাদের কষ্টগুলো আমরা বুঝতে পারি কিন্তু আমাদের পর্যাপ্ত সামার্থ নেই। আপনারা দুয়া করবেন। উম্মাহ হেল্প কার্যক্রমে যারা টাকা দিয়ে শ্রম দিয়ে সহায়তা করছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সেই সাথে তিনি সমাজের সব শ্রেণী ও পেশার বিত্তবান দানশীল মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
গাবতলীতে অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ বিজিবির: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ঢাকা ব্যাটালিয়নের (৫ বিজিবি) উদ্যোগে রাজধানীর ঢাকার গাবতলীর কাঁচাবাজার এলাকায় ৩০০ জন অসহায় ও শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা ব্যাটালিয়নের (৫বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল তৈমুর হাসান খাঁন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। এ সময় ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর আফিক হাসান এবং সহকারী পরিচালক দেলোয়ার হোসেনসহ বিজিবির বিভিন্ন পদবির সৈনিকরা উপস্থিত ছিলেন। শীতবস্ত্র বিতরণকালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান খাঁন বলেন, বিজিবি সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব সময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।
ঘুমন্ত মানুষদের গায়ে শীতবস্ত্র দিলেন নতুনধারা: গভীর রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতে ঘুমন্ত মানুষদের গায়ে শীতবস্ত্র জড়িয়ে দিলেন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১০ টা থেকে শুক্রবার সকাল ৭ টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাতে শীতবস্ত্র প্রদান করা হয়। দলীয় অর্থায়নে এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, যুগ্ম মহাসচিব ওয়াজেদ রানাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এসময় মোমিন মেহেদী বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র সারাদেশে সমাজসেবকদের সমাজসেবা চললেও সব লোক দেখানোর জন্য। কিন্তু তারুণ্যের রাজনৈতিকধারা নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি বরাবরই জনবান্ধব রাজনীতি করেছে, লোক দেখানোর জন্য নয়। আর একারণেই আমরা ঘুমন্ত মানুষদের গায়ে জড়িয়ে দিচ্ছি শীতবস্ত্র। এভাবে বাংলাদেশের সকল মানুষের মাঝে শুধু শীতবস্ত্র নয়; সকল রকম নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করবার জন্য নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে কাজ করছে। নীতি আদর্শ ত্যাগ করে স্বাধীনতা বিরোধী-দুর্নীতিবাজদের সাথে মিলেমিশে সাধারণ মানুষের রক্ত চুষবার লক্ষে যারা রাজনীতি করছে, ছাত্র-যুবকে বোকা বানিয়ে জোট করছে, তাদেরকে সকল প্রক্রিয়াকে না বলে লোভ-মোহহীন দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য নিবেদিত থাকতে বদ্ধ পরিকর নতুনধারার প্রতিটি নেতাকর্মী। এসময় নতুনধারার নেতৃবৃন্দ ভাসমান-শীতার্তদের মাঝে রাষ্ট্রিয়ভাবে শীতবস্ত্র বিতরণসহ ভাসমান মানুষদের পুর্নবাসিত করারও আহবান জানান।
সাড়ে ৫ হাজার কম্বল কেনার নির্দেশ ডিএনসিসির: রাজধানীর উত্তর অংশে বসবাসরত শীতার্ত ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য ৫ হাজার ৪০০ পিস কম্বল কেনার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এ লক্ষ্যে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের (আনিক) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার ডিএনসিসি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। এর আগে ডিএনসিসির প্রধান ভাণ্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান এ বিষয়ে একটি অফিস আদেশ জারি করেন। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিএনসিসি প্রশাসকের নির্দেশনায় শীতার্ত ও দরিদ্র মানুষের মাঝে অতিদ্রুত কম্বল বিতরণের জন্য ‘আরএফকিউ’ পদ্ধতিতে এবং ছক মোতাবেক ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। ৪ হাজার ৪০০টি কম্বল কেনার জন্য আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা এই বিতরণ কার্যক্রম সমন্বয় করবেন।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, সংস্থাটি মোট ৫ হাজার ৪০০ পিস কম্বল বিতরণ করবে। এর মধ্যে অঞ্চল ১-এ ২০০টি, অঞ্চল ২ এ ৮০০টি, অঞ্চল ৩ এ ১০০০টি, অঞ্চল ৪-এ ৭০০টি, অঞ্চল ৫-এ ৯০০টি, অঞ্চল ৬ ও ৭-এ ৪০০টি করে, অঞ্চল ৮ ও ৯-এ ৩০০টি করে এবং অঞ্চল ১০-এ ৪০০টি কম্বল বিতরণ করবে ডিএনসিসি।
এেিদক, রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে শীতার্তদের পাশে দাড়িঁয়ে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে পরিচিত হচ্ছে সমাজের বিশিষ্ট্যজনেরা। ফরিদপুরে তরুণ স্বেচ্ছাসেবক ও মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে সুপরিচিত রাজেন্দ্র কলেজের সাবেক ভিপি প্রার্থী মো: খাইরুল ইসলাম রোমান আবারও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসনীয় উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। টানা তৃতীয় বারের মতো হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে তিনি শীতার্ত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। চলমান তীব্র শীতকে সামনে রেখে ফরিদপুরের বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা ও অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন এই তরুণ সমাজকর্মী। শীতের কষ্টে জর্জরিত মানুষদের মুখে একটুখানি হাসি ফোটাতেই তাঁর এই নিরলস প্রচেষ্টা। মো: খাইরুল ইসলাম রোমান জানান, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি বিশ্বাস করেন, সামর্থ্য অনুযায়ী একে অপরের পাশে দাঁড়ালেই সমাজে মানবিকতা ও ভালোবাসার বন্ধন আরও দৃঢ় হবে। তাঁর এই মহতী উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা নিঃসন্দেহে অনুসরণীয়।
সৈয়দপুরে গভীর রাতে শীতার্তদের দ্বারে দ্বারে ইউএনও: উত্তরের জনপদ নীলফামারীর সৈয়দপুরে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে শীতার্ত মানুষের পাশে উষ্ণতার পরশ নিয়ে হাজির হয়েছেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সৈয়দপুর দুর্গামন্দির সংলগ্ন এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের মাঝে নিজ হাতে কম্বল বিতরণ করেন তিনি। কনকনে শীত উপেক্ষা করে গভীর রাতে প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার উপহার শীতবস্ত্র নিয়ে ইউএনও: কমলগঞ্জ উপজেলায় হাড়কাঁপানো শীতে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা প্রশাসন। প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল থেকে প্রাপ্ত কম্বল নিয়ে রাতের আঁধারে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শীতার্তদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে যাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আসাদুজ্জামান। পৌষের তীব্র শীতে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, বিশেষ করে চা-বাগান অধ্যুষিত ও দুর্গম এলাকার দরিদ্র মানুষ যখন খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই আশীর্বাদ হয়ে হাজির হন ইউএনও। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, তীব্র শীতে সাধারণ মানুষের কষ্ট অনুভব করেই রাতের আঁধারে এই ঝটিকা অভিযান। মূলত প্রকৃত অসহায় মানুষ যারা লোকলজ্জার ভয়ে দিনের বেলা হাত পাততে পারেন না এবং যারা রাস্তাঘাটে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান, তাদের জন্যই আমাদের এই প্রয়াস। প্রধান উপদেষ্টার এই উপহার পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি শীতার্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
দরিদ্র পরিবারের শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ: শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দরিদ্র পরিবারের অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে একটু উষ্ণতা প্রদানের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কোন ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে নিজে ঘুরে ঘুরে দুস্থ ও অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক মো. রাজিব হোসেন। কম্বল বিতরণকালে অসহায় মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের শীতকালীন দুর্ভোগের কথা শোনেন তিনি।
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ জানুয়ারি, ২০২৬, 6:46 PM
প্রতি বছরই শীত আসলেই চোখে পড়ে ছিন্নমূল, অসহায় মানুষের হাড় কাঁপানো কষ্ট। তীব্র শীতে ছিন্নমূল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কষ্টে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও মানবিক ব্যক্তিরা শীতবস্ত্র (কম্বল, চাদর, সোয়েটার) নিয়ে পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তারা রেললাইন, বস্তি, বাসস্ট্যান্ড ও গ্রামগঞ্জে অসহায়দের মাঝে উষ্ণতা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। যা কনকনে ঠান্ডায় প্রাণ বাঁচানোর নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশব্যাপী এমন অসহায় দুঃস্থ ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন সমাজের কিছু মানব দরদি মানুষ ও বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এইসব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা রাতভর রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে একযোগে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ কার্যক্রমে পরিচালনা করে মানবিকতার পরিচয় দিচ্ছে।
উম্মাহ হেল্প ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ সম্পন্ন: রাজধানীর হাজারীবাগে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে উম্মাহ হেল্প ফাউন্ডেশন। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় হাজারীবাগের ঝাউচর এলাকায় এ কর্মসুচি পালিত হয়। আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইমাম সমিতির সভাপতি শায়খ হাফেজ মাওলানা লুৎফর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হাজারীবাগ দক্ষিণ থানার আমির জনাব আখতারুল আলম সোহেল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উম্মাহ হেল্প ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট কলামিস্ট ও দেশ টিভির ইসলামী জীবন ও জিজ্ঞাসা অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মুহাম্মাদ আবদুল কাহহার সিদ্দিকী। সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, উম্মাহ হেল্প ফাউন্ডেশন অলাভজনক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। ইয়াতিম, মিসকিন, অসহায়, দরিদ্র, বিধবা, শারীরিকভাবে কাজ করতে অক্ষম ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই আমাদের পথচলা। আমাদের সামান্য উপহার আপনারা সাদরে গ্রহণ করবেন। আপনাদের কষ্টগুলো আমরা বুঝতে পারি কিন্তু আমাদের পর্যাপ্ত সামার্থ নেই। আপনারা দুয়া করবেন। উম্মাহ হেল্প কার্যক্রমে যারা টাকা দিয়ে শ্রম দিয়ে সহায়তা করছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সেই সাথে তিনি সমাজের সব শ্রেণী ও পেশার বিত্তবান দানশীল মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
গাবতলীতে অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ বিজিবির: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ঢাকা ব্যাটালিয়নের (৫ বিজিবি) উদ্যোগে রাজধানীর ঢাকার গাবতলীর কাঁচাবাজার এলাকায় ৩০০ জন অসহায় ও শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা ব্যাটালিয়নের (৫বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল তৈমুর হাসান খাঁন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। এ সময় ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর আফিক হাসান এবং সহকারী পরিচালক দেলোয়ার হোসেনসহ বিজিবির বিভিন্ন পদবির সৈনিকরা উপস্থিত ছিলেন। শীতবস্ত্র বিতরণকালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান খাঁন বলেন, বিজিবি সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব সময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।
ঘুমন্ত মানুষদের গায়ে শীতবস্ত্র দিলেন নতুনধারা: গভীর রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতে ঘুমন্ত মানুষদের গায়ে শীতবস্ত্র জড়িয়ে দিলেন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১০ টা থেকে শুক্রবার সকাল ৭ টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাতে শীতবস্ত্র প্রদান করা হয়। দলীয় অর্থায়নে এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, যুগ্ম মহাসচিব ওয়াজেদ রানাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এসময় মোমিন মেহেদী বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র সারাদেশে সমাজসেবকদের সমাজসেবা চললেও সব লোক দেখানোর জন্য। কিন্তু তারুণ্যের রাজনৈতিকধারা নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি বরাবরই জনবান্ধব রাজনীতি করেছে, লোক দেখানোর জন্য নয়। আর একারণেই আমরা ঘুমন্ত মানুষদের গায়ে জড়িয়ে দিচ্ছি শীতবস্ত্র। এভাবে বাংলাদেশের সকল মানুষের মাঝে শুধু শীতবস্ত্র নয়; সকল রকম নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করবার জন্য নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে কাজ করছে। নীতি আদর্শ ত্যাগ করে স্বাধীনতা বিরোধী-দুর্নীতিবাজদের সাথে মিলেমিশে সাধারণ মানুষের রক্ত চুষবার লক্ষে যারা রাজনীতি করছে, ছাত্র-যুবকে বোকা বানিয়ে জোট করছে, তাদেরকে সকল প্রক্রিয়াকে না বলে লোভ-মোহহীন দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য নিবেদিত থাকতে বদ্ধ পরিকর নতুনধারার প্রতিটি নেতাকর্মী। এসময় নতুনধারার নেতৃবৃন্দ ভাসমান-শীতার্তদের মাঝে রাষ্ট্রিয়ভাবে শীতবস্ত্র বিতরণসহ ভাসমান মানুষদের পুর্নবাসিত করারও আহবান জানান।
সাড়ে ৫ হাজার কম্বল কেনার নির্দেশ ডিএনসিসির: রাজধানীর উত্তর অংশে বসবাসরত শীতার্ত ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য ৫ হাজার ৪০০ পিস কম্বল কেনার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এ লক্ষ্যে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের (আনিক) প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার ডিএনসিসি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। এর আগে ডিএনসিসির প্রধান ভাণ্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান এ বিষয়ে একটি অফিস আদেশ জারি করেন। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিএনসিসি প্রশাসকের নির্দেশনায় শীতার্ত ও দরিদ্র মানুষের মাঝে অতিদ্রুত কম্বল বিতরণের জন্য ‘আরএফকিউ’ পদ্ধতিতে এবং ছক মোতাবেক ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। ৪ হাজার ৪০০টি কম্বল কেনার জন্য আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা এই বিতরণ কার্যক্রম সমন্বয় করবেন।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, সংস্থাটি মোট ৫ হাজার ৪০০ পিস কম্বল বিতরণ করবে। এর মধ্যে অঞ্চল ১-এ ২০০টি, অঞ্চল ২ এ ৮০০টি, অঞ্চল ৩ এ ১০০০টি, অঞ্চল ৪-এ ৭০০টি, অঞ্চল ৫-এ ৯০০টি, অঞ্চল ৬ ও ৭-এ ৪০০টি করে, অঞ্চল ৮ ও ৯-এ ৩০০টি করে এবং অঞ্চল ১০-এ ৪০০টি কম্বল বিতরণ করবে ডিএনসিসি।
এেিদক, রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে শীতার্তদের পাশে দাড়িঁয়ে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে পরিচিত হচ্ছে সমাজের বিশিষ্ট্যজনেরা। ফরিদপুরে তরুণ স্বেচ্ছাসেবক ও মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে সুপরিচিত রাজেন্দ্র কলেজের সাবেক ভিপি প্রার্থী মো: খাইরুল ইসলাম রোমান আবারও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসনীয় উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। টানা তৃতীয় বারের মতো হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যে তিনি শীতার্ত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। চলমান তীব্র শীতকে সামনে রেখে ফরিদপুরের বিভিন্ন মাদ্রাসা, এতিমখানা ও অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন এই তরুণ সমাজকর্মী। শীতের কষ্টে জর্জরিত মানুষদের মুখে একটুখানি হাসি ফোটাতেই তাঁর এই নিরলস প্রচেষ্টা। মো: খাইরুল ইসলাম রোমান জানান, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি বিশ্বাস করেন, সামর্থ্য অনুযায়ী একে অপরের পাশে দাঁড়ালেই সমাজে মানবিকতা ও ভালোবাসার বন্ধন আরও দৃঢ় হবে। তাঁর এই মহতী উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা নিঃসন্দেহে অনুসরণীয়।
সৈয়দপুরে গভীর রাতে শীতার্তদের দ্বারে দ্বারে ইউএনও: উত্তরের জনপদ নীলফামারীর সৈয়দপুরে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে শীতার্ত মানুষের পাশে উষ্ণতার পরশ নিয়ে হাজির হয়েছেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সৈয়দপুর দুর্গামন্দির সংলগ্ন এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের মাঝে নিজ হাতে কম্বল বিতরণ করেন তিনি। কনকনে শীত উপেক্ষা করে গভীর রাতে প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার উপহার শীতবস্ত্র নিয়ে ইউএনও: কমলগঞ্জ উপজেলায় হাড়কাঁপানো শীতে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা প্রশাসন। প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল থেকে প্রাপ্ত কম্বল নিয়ে রাতের আঁধারে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শীতার্তদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে যাচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আসাদুজ্জামান। পৌষের তীব্র শীতে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, বিশেষ করে চা-বাগান অধ্যুষিত ও দুর্গম এলাকার দরিদ্র মানুষ যখন খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই আশীর্বাদ হয়ে হাজির হন ইউএনও। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, তীব্র শীতে সাধারণ মানুষের কষ্ট অনুভব করেই রাতের আঁধারে এই ঝটিকা অভিযান। মূলত প্রকৃত অসহায় মানুষ যারা লোকলজ্জার ভয়ে দিনের বেলা হাত পাততে পারেন না এবং যারা রাস্তাঘাটে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান, তাদের জন্যই আমাদের এই প্রয়াস। প্রধান উপদেষ্টার এই উপহার পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি শীতার্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
দরিদ্র পরিবারের শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ: শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দরিদ্র পরিবারের অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে একটু উষ্ণতা প্রদানের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেবে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কোন ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে নিজে ঘুরে ঘুরে দুস্থ ও অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসক মো. রাজিব হোসেন। কম্বল বিতরণকালে অসহায় মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের শীতকালীন দুর্ভোগের কথা শোনেন তিনি।