CKEditor 5 Sample
ঢাকা ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

বিআরটিএ'র সেই ক্যাশিয়ার এখন শতকোটি টাকার মালিক

#
news image

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সাবেক ক্যাশিয়ার সরদার মাহবুবুর রহমান এখন শতকোটি টাকার মালিক বলে অভিযোগ উঠেছে। চাকরির শুরুতে তার বেতন ছিল মাত্র দেড় হাজার টাকা, অথচ বর্তমানে তার বিপুল পরিমাণ সম্পদ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তার সহকর্মীরা ও পরিচিতজনেরা বলছেন, এই বিশাল সম্পত্তির সঙ্গে তার বৈধ আয়ের কোনো সঙ্গতি নেই।

চাকরি জীবনের সংক্ষিপ্ত চিত্র
সরদার মাহবুবুর রহমান ১৯৯২ সালে বিআরটিএ-তে ক্যাশিয়ার হিসেবে যোগ দেন। এরপর ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে ২০২৩ সালে তিনি উপ-পরিচালক (অর্থ) হন, বর্তমানে উপ-পরিচালক (এমপ্লয়মেন্ট) পদে কর্মরত। তার বর্তমান বেতন প্রায় ৭০ হাজার টাকা। হিসাব অনুযায়ী, তার সারা জীবনের চাকরি থেকে মোট আয় প্রায় ৯৫ লাখ টাকা। অথচ তার নামে রাজধানীতে একাধিক বহুতল ভবন, ফ্ল্যাট এবং গোপালগঞ্জে ১৪ তলা ভবনসহ বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে।

বিশাল সম্পত্তির বিবরণ
ঢাকায় ভবন ও ফ্ল্যাট: রাজধানীর ঢাকা উদ্যানে তার নামে একটি আটতলা ভবন রয়েছে। এটি ৭-৮ বছর আগে নির্মিত হলেও, তিনি সেখানে কখনো বসবাস করেননি। এছাড়া, মিরপুরের উত্তর টোলারবাগে একটি ছয়তলা ভবনের ৩/এ ফ্ল্যাটের মালিক তিনি। এরপর তিনি উত্তরা এবং ধানমন্ডির ফ্ল্যাটে বসবাস করেছেন বলে জানা গেছে।

গোপালগঞ্জে ১৪ তলা ভবন: গোপালগঞ্জ শহরের থানাপাড়ায় ২০১৪ সালে ৬৫ লাখ টাকায় তার স্ত্রীর নামে সাড়ে ৬ শতাংশ জমি কেনা হয়। সেখানে ১৪ তলা ফাউন্ডেশনের একটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, যার ৯ তলার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এই ভবনের মালিক সরদার মাহবুবুর রহমান।

তার পরিচিতজনেরা বলছেন, একজন কৃষকের সন্তান হিসেবে তার পৈতৃক সম্পত্তি কেবল কৃষি জমি, যা এখনও অক্ষত। শ্বশুরবাড়ি থেকেও তিনি কোনো আর্থিক সুবিধা পাননি। এমতাবস্থায়, তার এই বিপুল সম্পত্তির উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও কমিশন বাণিজ্য
সূত্রমতে, উপ-পরিচালক (অর্থ) পদে থাকাকালীন সরদার মাহবুবুর রহমান বিআরটিএ'র বিভিন্ন জেলা ও সার্কেল অফিসের জন্য বার্ষিক বাজেট বরাদ্দ নির্ধারণ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বাজেট বাড়িয়ে সংশ্লিষ্ট সার্কেল থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন নিতেন। এছাড়া, বেসরকারি ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের বিল পাসের জন্য তিনি ঘুষ গ্রহণ করতেন।

টিআইবি'র বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেছেন, একজন সরকারি কর্মচারীর পক্ষে বৈধ আয়ে এত বিপুল সম্পদ অর্জন করা সম্ভব নয়। তিনি যোগসাজশমূলক দুর্নীতির মাধ্যমে ক্ষমতা ব্যবহার করে সম্পদ গড়েছেন বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, তাকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং তার সম্পদের হিসাব নিয়ে যথাযথ প্রক্রিয়া সাপেক্ষে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

এ বিষয়ে সরদার মাহবুবুর রহমান বলেন, তার যা সম্পদ রয়েছে, তা সবই তার আয় থেকে অর্জিত এবং সরকারি ট্যাক্স ফাইলে এর বিবরণ রয়েছে।

ইউসুফ আলী বাচ্চু

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫,  3:34 PM

news image

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সাবেক ক্যাশিয়ার সরদার মাহবুবুর রহমান এখন শতকোটি টাকার মালিক বলে অভিযোগ উঠেছে। চাকরির শুরুতে তার বেতন ছিল মাত্র দেড় হাজার টাকা, অথচ বর্তমানে তার বিপুল পরিমাণ সম্পদ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তার সহকর্মীরা ও পরিচিতজনেরা বলছেন, এই বিশাল সম্পত্তির সঙ্গে তার বৈধ আয়ের কোনো সঙ্গতি নেই।

চাকরি জীবনের সংক্ষিপ্ত চিত্র
সরদার মাহবুবুর রহমান ১৯৯২ সালে বিআরটিএ-তে ক্যাশিয়ার হিসেবে যোগ দেন। এরপর ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে ২০২৩ সালে তিনি উপ-পরিচালক (অর্থ) হন, বর্তমানে উপ-পরিচালক (এমপ্লয়মেন্ট) পদে কর্মরত। তার বর্তমান বেতন প্রায় ৭০ হাজার টাকা। হিসাব অনুযায়ী, তার সারা জীবনের চাকরি থেকে মোট আয় প্রায় ৯৫ লাখ টাকা। অথচ তার নামে রাজধানীতে একাধিক বহুতল ভবন, ফ্ল্যাট এবং গোপালগঞ্জে ১৪ তলা ভবনসহ বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে।

বিশাল সম্পত্তির বিবরণ
ঢাকায় ভবন ও ফ্ল্যাট: রাজধানীর ঢাকা উদ্যানে তার নামে একটি আটতলা ভবন রয়েছে। এটি ৭-৮ বছর আগে নির্মিত হলেও, তিনি সেখানে কখনো বসবাস করেননি। এছাড়া, মিরপুরের উত্তর টোলারবাগে একটি ছয়তলা ভবনের ৩/এ ফ্ল্যাটের মালিক তিনি। এরপর তিনি উত্তরা এবং ধানমন্ডির ফ্ল্যাটে বসবাস করেছেন বলে জানা গেছে।

গোপালগঞ্জে ১৪ তলা ভবন: গোপালগঞ্জ শহরের থানাপাড়ায় ২০১৪ সালে ৬৫ লাখ টাকায় তার স্ত্রীর নামে সাড়ে ৬ শতাংশ জমি কেনা হয়। সেখানে ১৪ তলা ফাউন্ডেশনের একটি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, যার ৯ তলার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এই ভবনের মালিক সরদার মাহবুবুর রহমান।

তার পরিচিতজনেরা বলছেন, একজন কৃষকের সন্তান হিসেবে তার পৈতৃক সম্পত্তি কেবল কৃষি জমি, যা এখনও অক্ষত। শ্বশুরবাড়ি থেকেও তিনি কোনো আর্থিক সুবিধা পাননি। এমতাবস্থায়, তার এই বিপুল সম্পত্তির উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও কমিশন বাণিজ্য
সূত্রমতে, উপ-পরিচালক (অর্থ) পদে থাকাকালীন সরদার মাহবুবুর রহমান বিআরটিএ'র বিভিন্ন জেলা ও সার্কেল অফিসের জন্য বার্ষিক বাজেট বরাদ্দ নির্ধারণ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বাজেট বাড়িয়ে সংশ্লিষ্ট সার্কেল থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন নিতেন। এছাড়া, বেসরকারি ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের বিল পাসের জন্য তিনি ঘুষ গ্রহণ করতেন।

টিআইবি'র বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রতিক্রিয়া
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেছেন, একজন সরকারি কর্মচারীর পক্ষে বৈধ আয়ে এত বিপুল সম্পদ অর্জন করা সম্ভব নয়। তিনি যোগসাজশমূলক দুর্নীতির মাধ্যমে ক্ষমতা ব্যবহার করে সম্পদ গড়েছেন বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, তাকে অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং তার সম্পদের হিসাব নিয়ে যথাযথ প্রক্রিয়া সাপেক্ষে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

এ বিষয়ে সরদার মাহবুবুর রহমান বলেন, তার যা সম্পদ রয়েছে, তা সবই তার আয় থেকে অর্জিত এবং সরকারি ট্যাক্স ফাইলে এর বিবরণ রয়েছে।