ধর্ম ডেস্ক
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, 4:13 PM
নবীজি ছিলেন মানবজাতির জন্য প্রেরিত এক সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি শুধু একজন মহান ধর্মীয় নেতা ছিলেন না, বরং একজন পরম স্নেহময় পিতাও ছিলেন। তাঁর পারিবারিক ও পিতৃত্বের দিকটি প্রতিটি মুসলিম পরিবারের জন্য অনুকরণীয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে’ (সুরা আহযাব : ২১)। এই আয়াতটি আমাদের শেখায় যে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নবীজির অনুসরণ করা আমাদের জন্য অপরিহার্য। নবীজি ছিলেন একজন আদর্শ পিতা, যিনি শুধু সন্তানের দৈহিক প্রয়োজন নয়, তাদের নৈতিক, আত্মিক ও মানসিক বিকাশেও গুরুত্ব দিতেন। তিনি সন্তানদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা, ধৈর্য ও সহানুভূতি দেখিয়েছেন, নৈতিক শিক্ষা দিয়েছেন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তাঁর পিতৃত্বের মূল ভিত্তি ছিল ভালোবাসা, নৈতিকতা ও আখেরাতের কল্যাণে উদ্বুদ্ধ করা।
পুত্র ও কন্যাদের প্রতি নবীজির আচরণ : নবীজির সাতজন সন্তান ছিলেন- তিন পুত্র (কাসেম, আব্দুল্লাহ ও ইবরাহিম) এবং চার কন্যা (যয়নব, রুকাইয়া, উম্মে কুলসুম ও ফাতেমা)। পুত্ররা শৈশবেই ইন্তেকাল করেন। পুত্র ও কন্যা সবার প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল দৃষ্টান্তমূলক।
পুত্র ইবরাহিমের প্রতি ভালোবাসা : হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ইবরাহিম (রা.) যখন দুধমাতার কাছে থাকতেন, তখন নবীজি (সা.) শুধু তাঁকে দেখার জন্য মাইলের পর মাইল হেঁটে যেতেন, তাঁকে কোলে তুলে নিতেন এবং চুমু খেতেন (সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৩১৬)। ইবরাহিম (রা.) শৈশবেই ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের সময় নবীজি (সা.)-এর হৃদয়ে গভীর বেদনা সৃষ্টি হয়। তাঁর চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে থাকে। এই দৃশ্য দেখে একজন সাহাবি বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘এটি হলো রহমত।’ এরপর তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই চক্ষু অশ্রু ঝরাচ্ছে এবং হৃদয় বিগলিত হচ্ছে। তবে আমরা মুখে কেবল তাই বলব, যা আমাদের রব পছন্দ করেন। তোমার বিরহে আমরা বড়ই ব্যথিত হে ইবরাহিম!’ (বুখারি : ১৩০৩)। এটি প্রমাণ করে যে,
আল্লাহর ইচ্ছার প্রতি সমর্পণ থাকা সত্ত্বেও একজন পিতার হৃদয়ে সন্তানের জন্য কত গভীর ভালোবাসা থাকতে পারে।
কন্যাদের প্রতি মমত্ববোধ : নবীজি কন্যাদের প্রতিও সমান ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন করতেন।
যয়নব (রা.) : বদরের যুদ্ধে তাঁর স্বামী আবুল আস ইবনে রবী বন্দি হলে যয়নব (রা.) তাঁকে মুক্ত করার জন্য মুক্তিপণ হিসেবে একটি হার পাঠান, যা তাঁর মা খাদিজা (রা.) তাঁকে বিয়ের সময় দিয়েছিলেন। হারটি দেখে নবীজি (সা.)-এর মন এতটাই বিগলিত হয় যে তিনি সাহাবিদের অনুরোধ করেন যেন আবুল আসকে মুক্তি দিয়ে হারটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সাহাবিরা সানন্দে তা করেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ২৬৯২)
রুকাইয়া (রা.) : বদরের যুদ্ধের সময় রুকাইয়া (রা.) গুরুতর অসুস্থ হলে নবীজি (সা.) তাঁর স্বামী উসমান (রা.)-কে যুদ্ধে না গিয়ে স্ত্রীর সেবা করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন যে, উসমান (রা.) যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেও বদরের মুজাহিদের সমান সওয়াব পাবেন।
উম্মে কুলসুম (রা.) : তৃতীয় কন্যা উম্মে কুলসুম (রা.)-এর ইন্তেকালের পর নবী কারীম (সা.) তাঁর কবরের পাশে গিয়ে বসে থাকতেন। তাঁর চোখ থেকে তখন অবিরাম অশ্রু ঝরত। (সহিহ বুখারি, হাদিস ১২৮৫)
ফাতেমা (রা.) : নবীজি (সা.)-এর সবচেয়ে ছোট কন্যা ফাতেমা (রা.)-এর প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল সবচেয়ে বেশি। তিনি ফাতেমাকে ‘আমার দেহের অংশ’ বলে সম্বোধন করতেন এবং বলতেন যে, ফাতেমাকে যে কষ্ট দেয়, সে যেন আমাকেই কষ্ট দেয়। যখন ফাতেমা (রা.) আসতেন, তিনি দাঁড়িয়ে তাঁকে স্বাগত জানাতেন, তাঁর হাত ধরে চুমু দিতেন এবং নিজের আসনে বসাতেন।
ধর্ম ডেস্ক
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, 4:13 PM
নবীজি ছিলেন মানবজাতির জন্য প্রেরিত এক সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি শুধু একজন মহান ধর্মীয় নেতা ছিলেন না, বরং একজন পরম স্নেহময় পিতাও ছিলেন। তাঁর পারিবারিক ও পিতৃত্বের দিকটি প্রতিটি মুসলিম পরিবারের জন্য অনুকরণীয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ, তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে’ (সুরা আহযাব : ২১)। এই আয়াতটি আমাদের শেখায় যে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নবীজির অনুসরণ করা আমাদের জন্য অপরিহার্য। নবীজি ছিলেন একজন আদর্শ পিতা, যিনি শুধু সন্তানের দৈহিক প্রয়োজন নয়, তাদের নৈতিক, আত্মিক ও মানসিক বিকাশেও গুরুত্ব দিতেন। তিনি সন্তানদের প্রতি অগাধ ভালোবাসা, ধৈর্য ও সহানুভূতি দেখিয়েছেন, নৈতিক শিক্ষা দিয়েছেন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তাঁর পিতৃত্বের মূল ভিত্তি ছিল ভালোবাসা, নৈতিকতা ও আখেরাতের কল্যাণে উদ্বুদ্ধ করা।
পুত্র ও কন্যাদের প্রতি নবীজির আচরণ : নবীজির সাতজন সন্তান ছিলেন- তিন পুত্র (কাসেম, আব্দুল্লাহ ও ইবরাহিম) এবং চার কন্যা (যয়নব, রুকাইয়া, উম্মে কুলসুম ও ফাতেমা)। পুত্ররা শৈশবেই ইন্তেকাল করেন। পুত্র ও কন্যা সবার প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল দৃষ্টান্তমূলক।
পুত্র ইবরাহিমের প্রতি ভালোবাসা : হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ইবরাহিম (রা.) যখন দুধমাতার কাছে থাকতেন, তখন নবীজি (সা.) শুধু তাঁকে দেখার জন্য মাইলের পর মাইল হেঁটে যেতেন, তাঁকে কোলে তুলে নিতেন এবং চুমু খেতেন (সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৩১৬)। ইবরাহিম (রা.) শৈশবেই ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের সময় নবীজি (সা.)-এর হৃদয়ে গভীর বেদনা সৃষ্টি হয়। তাঁর চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে থাকে। এই দৃশ্য দেখে একজন সাহাবি বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘এটি হলো রহমত।’ এরপর তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই চক্ষু অশ্রু ঝরাচ্ছে এবং হৃদয় বিগলিত হচ্ছে। তবে আমরা মুখে কেবল তাই বলব, যা আমাদের রব পছন্দ করেন। তোমার বিরহে আমরা বড়ই ব্যথিত হে ইবরাহিম!’ (বুখারি : ১৩০৩)। এটি প্রমাণ করে যে,
আল্লাহর ইচ্ছার প্রতি সমর্পণ থাকা সত্ত্বেও একজন পিতার হৃদয়ে সন্তানের জন্য কত গভীর ভালোবাসা থাকতে পারে।
কন্যাদের প্রতি মমত্ববোধ : নবীজি কন্যাদের প্রতিও সমান ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন করতেন।
যয়নব (রা.) : বদরের যুদ্ধে তাঁর স্বামী আবুল আস ইবনে রবী বন্দি হলে যয়নব (রা.) তাঁকে মুক্ত করার জন্য মুক্তিপণ হিসেবে একটি হার পাঠান, যা তাঁর মা খাদিজা (রা.) তাঁকে বিয়ের সময় দিয়েছিলেন। হারটি দেখে নবীজি (সা.)-এর মন এতটাই বিগলিত হয় যে তিনি সাহাবিদের অনুরোধ করেন যেন আবুল আসকে মুক্তি দিয়ে হারটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সাহাবিরা সানন্দে তা করেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ২৬৯২)
রুকাইয়া (রা.) : বদরের যুদ্ধের সময় রুকাইয়া (রা.) গুরুতর অসুস্থ হলে নবীজি (সা.) তাঁর স্বামী উসমান (রা.)-কে যুদ্ধে না গিয়ে স্ত্রীর সেবা করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন যে, উসমান (রা.) যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেও বদরের মুজাহিদের সমান সওয়াব পাবেন।
উম্মে কুলসুম (রা.) : তৃতীয় কন্যা উম্মে কুলসুম (রা.)-এর ইন্তেকালের পর নবী কারীম (সা.) তাঁর কবরের পাশে গিয়ে বসে থাকতেন। তাঁর চোখ থেকে তখন অবিরাম অশ্রু ঝরত। (সহিহ বুখারি, হাদিস ১২৮৫)
ফাতেমা (রা.) : নবীজি (সা.)-এর সবচেয়ে ছোট কন্যা ফাতেমা (রা.)-এর প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল সবচেয়ে বেশি। তিনি ফাতেমাকে ‘আমার দেহের অংশ’ বলে সম্বোধন করতেন এবং বলতেন যে, ফাতেমাকে যে কষ্ট দেয়, সে যেন আমাকেই কষ্ট দেয়। যখন ফাতেমা (রা.) আসতেন, তিনি দাঁড়িয়ে তাঁকে স্বাগত জানাতেন, তাঁর হাত ধরে চুমু দিতেন এবং নিজের আসনে বসাতেন।