CKEditor 5 Sample
ঢাকা ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

হঠাৎ সবজিরসহ বাজারে মূল্যবৃদ্ধি 

#
news image

সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে গেছে। বেগুন, শসা, কাঁকরোল, শজনে ডাঁটা, কাঁচা মরিচের কেজি সেঞ্চুরি অর্থাৎ ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। কাঁচা পেঁপের দামও বেড়ে গেছে। ক্রেতারা বলছেন, কী এমন হলো যে সবজির বাজারে আগুন লেগে গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, বর্ষায় সবজির ফলন কমে গেছে। এ জন্য দাম বেশি। ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে।

এখনো বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে চাল। নাগালের বাইরে চলে গেছে ইলিশ মাছ। কেজি ২৪০০ টাকার কমে মিলছে না। আজ রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে হঠাৎ সবজির দাম বেড়ে গেছে। আগের সপ্তাহে বেগুন কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল তা ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় ঠেকেছে। টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, ৫০ থেকে ৬০ টাকার করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকার কমে মিলছে না।

৬০ টাকার পটোল, ঝিঙে, ধুন্দুল, ঢ্যাঁড়শ ৮০ টাকায় ঠেকেছে। শসা ৫০ থেকে ১০০, কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ৭০ টাকার কচুমুখি ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, ৬০ টাকার কাঁকরোল ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, শজনে ডাঁটা ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়, ৩০ থেকে ৪০ টাকার কাঁচা পেঁপে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সব ধরনের শাকের দামও বেড়ে গেছে। পুঁইশাকের আঁটি ৪০ টাকায় ঠেকেছে। তবে আগের মতো লেবুর হালি ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টাউন হল বাজারের সবজি বিক্রেতা সবুজ মিয়া  বলেন, ‘সবজির দাম বাড়ার কারণ হচ্ছে বর্ষাকাল। সরবরাহ কেমে গেছে। এ সময় সুলতানা বেগম নামে এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এমন কী হলো যে বাজারে আগুন লেগে গেছে। চালের দামও বেড়ে গেছে। দেখার কেউ নেই।’ হাতিরপুল বাজারের মো. রফিকও  বলেন, ‘সবজির সরবরাহ কম। তাই দাম বাড়তি।’ বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, ২০ থেকে ২৫ টাকার আলুর কেজি ৩০ টাকায় ঠেকেছে।

তবে আগের মতোই পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, দেশি আদা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, আমদানি করা আদা ১৮০ থেকে ২০০, দেশি রসুন ১৪০ থেকে ১৬০, আমদানি করা রসুন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। বিভিন্ন বাজারে গতকাল ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়। মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের ব্রয়লার হাউসের স্বত্বাধিকারী শিবলী মাহমুদসহ অন্য বাজারের খুচরা বিক্রেতারা  বলেন, ‘ঈদের পর মুরগির চাহিদা কমে গেছে। তবে আগের মতোই দেশি মুরগি ৬৫০ থেকে ৬৮০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০, খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি ও ডিম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা ডজনে বিক্রি হচ্ছে।

বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও বাজারে নদীর মাছের সরবরাহ কম। বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে। কাজলি, ট্যাংরা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১২০০ টাকার কমে মেলে না। তবে আকারভেদে চাষের রুই, কাতলা মাছের কেজি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০, চিংড়ি ৫০০ থেকে ৮০০, তেলাপিয়া ও পাঙাশ ২২০ এবং কাঁচকি মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মৌসুম শুরু হলেও বাজারে ইলিশ অতি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। দাম একেবারে নাগালের বাইরে চলে গেছে। ওজনে ১ কেজি হলে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশও ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। জাতীয় মাছটি একেবারে মধ্যবিত্তের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

হাতিরপুল বাজারের মাছ বিক্রেতা করিম শেখ  বলেন, ‘মৌসুম শুরু হয়েছে। তবে নদীতে আগের মতো ইলিশ পাওয়া যায় না। এ জন্য দাম বেশি। বোরো ধান উঠার শুরুতে চালের দাম কিছুটা কমলেও ঈদের পর মিনিকেট ও আটাশ চালের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যায়। মনজুর, রশিদ, সাগরসহ অন্যান্য কোম্পানির মিনিকেট চালের দাম বেড়ে ৮০ টাকায় কেজি ঠেকেছে। ডায়মন্ড, হরিণ, মোজাম্মেল কোম্পানির চাল আরও বেশি দামে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আটাশ চালের দামও বেড়ে ৬২ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মোটা চাল আগের মতোই ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটে শওকত রাইস স্টোরের মো. শওকত আলীসহ অন্য খুচরা চাল বিক্রেতারা বলেন, ‘ঈদের পর মিলমালিকরা চিকন চালের দাম বস্তায় ৩০০ টাকা বাড়িয়েছেন। এ জন্য আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ জুলাই, ২০২৫,  6:52 PM

news image

সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে গেছে। বেগুন, শসা, কাঁকরোল, শজনে ডাঁটা, কাঁচা মরিচের কেজি সেঞ্চুরি অর্থাৎ ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। কাঁচা পেঁপের দামও বেড়ে গেছে। ক্রেতারা বলছেন, কী এমন হলো যে সবজির বাজারে আগুন লেগে গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, বর্ষায় সবজির ফলন কমে গেছে। এ জন্য দাম বেশি। ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে।

এখনো বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে চাল। নাগালের বাইরে চলে গেছে ইলিশ মাছ। কেজি ২৪০০ টাকার কমে মিলছে না। আজ রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে হঠাৎ সবজির দাম বেড়ে গেছে। আগের সপ্তাহে বেগুন কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল তা ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় ঠেকেছে। টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, ৫০ থেকে ৬০ টাকার করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকার কমে মিলছে না।

৬০ টাকার পটোল, ঝিঙে, ধুন্দুল, ঢ্যাঁড়শ ৮০ টাকায় ঠেকেছে। শসা ৫০ থেকে ১০০, কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ৭০ টাকার কচুমুখি ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, ৬০ টাকার কাঁকরোল ৮০ থেকে ১০০ টাকায়, শজনে ডাঁটা ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়, ৩০ থেকে ৪০ টাকার কাঁচা পেঁপে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সব ধরনের শাকের দামও বেড়ে গেছে। পুঁইশাকের আঁটি ৪০ টাকায় ঠেকেছে। তবে আগের মতো লেবুর হালি ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টাউন হল বাজারের সবজি বিক্রেতা সবুজ মিয়া  বলেন, ‘সবজির দাম বাড়ার কারণ হচ্ছে বর্ষাকাল। সরবরাহ কেমে গেছে। এ সময় সুলতানা বেগম নামে এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এমন কী হলো যে বাজারে আগুন লেগে গেছে। চালের দামও বেড়ে গেছে। দেখার কেউ নেই।’ হাতিরপুল বাজারের মো. রফিকও  বলেন, ‘সবজির সরবরাহ কম। তাই দাম বাড়তি।’ বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, ২০ থেকে ২৫ টাকার আলুর কেজি ৩০ টাকায় ঠেকেছে।

তবে আগের মতোই পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, দেশি আদা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, আমদানি করা আদা ১৮০ থেকে ২০০, দেশি রসুন ১৪০ থেকে ১৬০, আমদানি করা রসুন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। বিভিন্ন বাজারে গতকাল ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়। মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের ব্রয়লার হাউসের স্বত্বাধিকারী শিবলী মাহমুদসহ অন্য বাজারের খুচরা বিক্রেতারা  বলেন, ‘ঈদের পর মুরগির চাহিদা কমে গেছে। তবে আগের মতোই দেশি মুরগি ৬৫০ থেকে ৬৮০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০, খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি ও ডিম ১২০ থেকে ১৩০ টাকা ডজনে বিক্রি হচ্ছে।

বর্ষা মৌসুম শুরু হলেও বাজারে নদীর মাছের সরবরাহ কম। বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে। কাজলি, ট্যাংরা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১২০০ টাকার কমে মেলে না। তবে আকারভেদে চাষের রুই, কাতলা মাছের কেজি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০, চিংড়ি ৫০০ থেকে ৮০০, তেলাপিয়া ও পাঙাশ ২২০ এবং কাঁচকি মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মৌসুম শুরু হলেও বাজারে ইলিশ অতি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। দাম একেবারে নাগালের বাইরে চলে গেছে। ওজনে ১ কেজি হলে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা, ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশও ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। জাতীয় মাছটি একেবারে মধ্যবিত্তের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

হাতিরপুল বাজারের মাছ বিক্রেতা করিম শেখ  বলেন, ‘মৌসুম শুরু হয়েছে। তবে নদীতে আগের মতো ইলিশ পাওয়া যায় না। এ জন্য দাম বেশি। বোরো ধান উঠার শুরুতে চালের দাম কিছুটা কমলেও ঈদের পর মিনিকেট ও আটাশ চালের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যায়। মনজুর, রশিদ, সাগরসহ অন্যান্য কোম্পানির মিনিকেট চালের দাম বেড়ে ৮০ টাকায় কেজি ঠেকেছে। ডায়মন্ড, হরিণ, মোজাম্মেল কোম্পানির চাল আরও বেশি দামে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আটাশ চালের দামও বেড়ে ৬২ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মোটা চাল আগের মতোই ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটে শওকত রাইস স্টোরের মো. শওকত আলীসহ অন্য খুচরা চাল বিক্রেতারা বলেন, ‘ঈদের পর মিলমালিকরা চিকন চালের দাম বস্তায় ৩০০ টাকা বাড়িয়েছেন। এ জন্য আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।