CKEditor 5 Sample
ঢাকা ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

রেলের পাকশি বিভাগীয় এস্টেট অফিসারের  বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

#
news image

বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশি বিভাগীয় এস্টেট অফিসার (ডিইও) আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে রেলের জমির লিজ বাতিল, ক্ষতিপূরণ লাইসেন্স ও লিজ গ্রহিতাদের রাজস্ব গ্রহন না করে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছেন।
জানা গেছে, রেলের এই কর্মকর্তা গত  ২০২৪ সালের ডিসেম্বর চুক্তিভিত্তিক পাকশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ডিইও) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন। এর আগে তিনি আক্কেলপুরের ইউএনও ছিলেন। তার বিরুদ্ধে রেলের জমি লিজ গ্রহনকারীদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিভিন্ন কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। লাইসেন্স নবায়ন করতে যাওয়া লিজ গ্রহিতাদের নানাভাবে হয়রানি করছেন বলেও জানা গেছে। প্রতি বছর বাংলা সনের চৈত্র-বৈশাখ দুই মাস রেলওয়ের জমি লিজের ২৭ হাজার লাইসেন্সের রাজস্ব আদায় করা হয় এবং লাইসেন্স নবায়ন (সময় বৃদ্ধি) করা হয়। এই কাজে রেলের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগে জানা গেছে, খাজনা পরিশোধের আবেদন জমা দেওয়ার পর আরিফুল একটি নির্ধারিত তারিখ দেন। নির্ধারিত সময়ে আবেদনকারী ভূমি অফিসে হাজির হয়ে রাজস্ব গ্রহনের জন্য বলা হলে তার আবেদনের ফাইল ডিইও'র দপ্তর খুঁজে পায়নি বলে তাকে জানানো হয়। এভাবেই খাজনা প্রদানকারীদের হয়রানী করা হচ্ছে। পাকশীর ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া এলাকার শাহাদাত হোসেন নামের এক ভুক্তভোগি অভিযোগ করেছেন।
তিনি অভিযোগে বলেছেন, তার লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬ মাস পূর্বেই বিত্তশালী একব্যক্তিকে টেন্ডার ছাড়া পুকুর লিজ দেওয়া হয়েছে। ডিইও আরিফুল ইসলাম একক ক্ষমতা বলে নিজের খেয়াল খুশিতে লিজ বাতিল করে তার পছন্দের ব্যক্তিকে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে টেন্ডার ছাড়াই লিজ দিয়েছেন। আবার কৃষি লাইসেন্স নিয়ে নাটোর স্টেশন সংলগ্ন রেল কর্মচারীদের স্টাফ কোয়ার্টার দখল করে রেলের কর্মকর্তা ডিনার বাণিজ্যিক ব্যবসা করছেন। একপর্যায়ে সেখানকার একটি দোকান বন্ধ করা হলেও পরে রফা দফার মাধ্যমে তা খুলে দেওয়া হয়েছে। আর এসব অনিয়মের রফাদফাকারী পাকশির সাবেক অফিস সহকারী শেখ জাবের আলীর নাম জানা গেছে। 
রেরলভবনে ভূ-সম্পত্তি বিভাগের উপপরিচালক গৌতম বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেছেন, ক্ষতিপূরণ লাইসেন্সের বিপরীতে মাফুলার পক্ষে খাজনা গ্রহনের চেকে জাবেরের সাক্ষর করা বিধির পরিপন্থী বলে জানিয়েছেন। ডিইওর দপ্তরের বিরুদ্ধে এসব ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগের প্রমান পাওয়ায় রেলকর্তৃপক্ষ গত ২০মে শেখ জাবের আলী এবং উচ্চমান অফিস সহকারী মমতাজুলকে চট্টগ্রাম বদলি অর্ডার করে রেলওয়ের মহাপরিচালক। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে উক্ত তারিখেই রাজশাহীর অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মাসুম(জিএম) ৪ জনের অপর এক বদলি অর্ডার করেন।। আর সেই আদেশে উচ্চমান সহকারি মমতাজুল হাসানকে রাজশাহী সিইওর দপ্তর,অফিস সহকারি শেখ জাবের আলীকে পাকশি থেকে লালমনিরহাট ডিইওর দপ্তর(পদ খালী নাই),একেএম রাশেদুল ইসলাম ট্রেসারকে লালমনিরহাট ডিইওর দপ্তর এবং অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিত মোল্লা ইকরামুলকে সমপদে লালমনিরহাট ডিইওর দপ্তরে বদলি করা হয়। 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাবেন ডিইও আরিফুল ইসলামের সাথে ২দিন লালমনিরহাট  তিন দিন পাকশির ডিইওর দপ্তরে ডিউটি করেন। লালমনিরহাট ডিইওর দপ্তর সূত্র বলছে এই দপ্তরে অফিস সহকারী পদখালি না থাকায় জাবের আরিফুল ইসলামের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাকশির ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম পাকশি বিভাগে সপ্তাহে তিনদিন এবং বাকি দুইদিন লালমনিরহাট ডিভিশনে অফিস করেন। জিএমের দপ্তর সূত্র বলছে ভারপ্রাপ্ত জিএম মাসুম কৌশলে জাবেরকে এই সুযোগ-সুবিধা করে দেওয়া হয়েছে। পাকশির ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ডিইওর দায়িত্ব গ্রহনের পর তিন মাসের মধ্যে ঘুষ-দুর্নীতির আলোচনায় শীর্ষে উঠে আসেন তার নাম।
আবার বিধি লঙ্ঘন করে ক্ষতিপূরণ লাইসেন্সের বিপরীতে রাজস্ব গ্রহনেরও অভিযোগ উঠেছে। লাইসেন্স নবায়নে লিজ গ্রহিতাদের নিকট থেকে ঘুষ কেলেঙ্কারির বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া, আব্দুলপুরের আলেয়া খাতুন ওরফে পাঁচি অভিযোগে বলেছেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের জলাশয় জমি বৈধভাবে ২০০৪ সালে লিজ গ্রহন করেন তিনি। নিয়মিতভাবে সরকারকে রাজস্ব প্রদান করে আসছেন। তার জমির একাংশের মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করেন মতিউর রহমান। আদালত রায় দেন ওই জমির লিজ সূত্রে প্রকৃত মালিক পাঁচি বিবি। কিন্তু পাকশির ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম আলেয়াকে নানাভাবে হয়রানি করছেন। এসব বিষয়ে জানতে পাকশির ডিইও আরিফুলের সেল ফোনে বার বার কল করা হলেও তিনি তার ফোনটি রিসিভ করেননি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৯ জুন, ২০২৫,  8:45 PM

news image

বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশি বিভাগীয় এস্টেট অফিসার (ডিইও) আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে রেলের জমির লিজ বাতিল, ক্ষতিপূরণ লাইসেন্স ও লিজ গ্রহিতাদের রাজস্ব গ্রহন না করে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছেন।
জানা গেছে, রেলের এই কর্মকর্তা গত  ২০২৪ সালের ডিসেম্বর চুক্তিভিত্তিক পাকশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (ডিইও) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন। এর আগে তিনি আক্কেলপুরের ইউএনও ছিলেন। তার বিরুদ্ধে রেলের জমি লিজ গ্রহনকারীদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিভিন্ন কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। লাইসেন্স নবায়ন করতে যাওয়া লিজ গ্রহিতাদের নানাভাবে হয়রানি করছেন বলেও জানা গেছে। প্রতি বছর বাংলা সনের চৈত্র-বৈশাখ দুই মাস রেলওয়ের জমি লিজের ২৭ হাজার লাইসেন্সের রাজস্ব আদায় করা হয় এবং লাইসেন্স নবায়ন (সময় বৃদ্ধি) করা হয়। এই কাজে রেলের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগে জানা গেছে, খাজনা পরিশোধের আবেদন জমা দেওয়ার পর আরিফুল একটি নির্ধারিত তারিখ দেন। নির্ধারিত সময়ে আবেদনকারী ভূমি অফিসে হাজির হয়ে রাজস্ব গ্রহনের জন্য বলা হলে তার আবেদনের ফাইল ডিইও'র দপ্তর খুঁজে পায়নি বলে তাকে জানানো হয়। এভাবেই খাজনা প্রদানকারীদের হয়রানী করা হচ্ছে। পাকশীর ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া এলাকার শাহাদাত হোসেন নামের এক ভুক্তভোগি অভিযোগ করেছেন।
তিনি অভিযোগে বলেছেন, তার লিজের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬ মাস পূর্বেই বিত্তশালী একব্যক্তিকে টেন্ডার ছাড়া পুকুর লিজ দেওয়া হয়েছে। ডিইও আরিফুল ইসলাম একক ক্ষমতা বলে নিজের খেয়াল খুশিতে লিজ বাতিল করে তার পছন্দের ব্যক্তিকে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে টেন্ডার ছাড়াই লিজ দিয়েছেন। আবার কৃষি লাইসেন্স নিয়ে নাটোর স্টেশন সংলগ্ন রেল কর্মচারীদের স্টাফ কোয়ার্টার দখল করে রেলের কর্মকর্তা ডিনার বাণিজ্যিক ব্যবসা করছেন। একপর্যায়ে সেখানকার একটি দোকান বন্ধ করা হলেও পরে রফা দফার মাধ্যমে তা খুলে দেওয়া হয়েছে। আর এসব অনিয়মের রফাদফাকারী পাকশির সাবেক অফিস সহকারী শেখ জাবের আলীর নাম জানা গেছে। 
রেরলভবনে ভূ-সম্পত্তি বিভাগের উপপরিচালক গৌতম বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেছেন, ক্ষতিপূরণ লাইসেন্সের বিপরীতে মাফুলার পক্ষে খাজনা গ্রহনের চেকে জাবেরের সাক্ষর করা বিধির পরিপন্থী বলে জানিয়েছেন। ডিইওর দপ্তরের বিরুদ্ধে এসব ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগের প্রমান পাওয়ায় রেলকর্তৃপক্ষ গত ২০মে শেখ জাবের আলী এবং উচ্চমান অফিস সহকারী মমতাজুলকে চট্টগ্রাম বদলি অর্ডার করে রেলওয়ের মহাপরিচালক। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে উক্ত তারিখেই রাজশাহীর অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মাসুম(জিএম) ৪ জনের অপর এক বদলি অর্ডার করেন।। আর সেই আদেশে উচ্চমান সহকারি মমতাজুল হাসানকে রাজশাহী সিইওর দপ্তর,অফিস সহকারি শেখ জাবের আলীকে পাকশি থেকে লালমনিরহাট ডিইওর দপ্তর(পদ খালী নাই),একেএম রাশেদুল ইসলাম ট্রেসারকে লালমনিরহাট ডিইওর দপ্তর এবং অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিত মোল্লা ইকরামুলকে সমপদে লালমনিরহাট ডিইওর দপ্তরে বদলি করা হয়। 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাবেন ডিইও আরিফুল ইসলামের সাথে ২দিন লালমনিরহাট  তিন দিন পাকশির ডিইওর দপ্তরে ডিউটি করেন। লালমনিরহাট ডিইওর দপ্তর সূত্র বলছে এই দপ্তরে অফিস সহকারী পদখালি না থাকায় জাবের আরিফুল ইসলামের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাকশির ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম পাকশি বিভাগে সপ্তাহে তিনদিন এবং বাকি দুইদিন লালমনিরহাট ডিভিশনে অফিস করেন। জিএমের দপ্তর সূত্র বলছে ভারপ্রাপ্ত জিএম মাসুম কৌশলে জাবেরকে এই সুযোগ-সুবিধা করে দেওয়া হয়েছে। পাকশির ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ডিইওর দায়িত্ব গ্রহনের পর তিন মাসের মধ্যে ঘুষ-দুর্নীতির আলোচনায় শীর্ষে উঠে আসেন তার নাম।
আবার বিধি লঙ্ঘন করে ক্ষতিপূরণ লাইসেন্সের বিপরীতে রাজস্ব গ্রহনেরও অভিযোগ উঠেছে। লাইসেন্স নবায়নে লিজ গ্রহিতাদের নিকট থেকে ঘুষ কেলেঙ্কারির বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া, আব্দুলপুরের আলেয়া খাতুন ওরফে পাঁচি অভিযোগে বলেছেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের জলাশয় জমি বৈধভাবে ২০০৪ সালে লিজ গ্রহন করেন তিনি। নিয়মিতভাবে সরকারকে রাজস্ব প্রদান করে আসছেন। তার জমির একাংশের মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করেন মতিউর রহমান। আদালত রায় দেন ওই জমির লিজ সূত্রে প্রকৃত মালিক পাঁচি বিবি। কিন্তু পাকশির ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম আলেয়াকে নানাভাবে হয়রানি করছেন। এসব বিষয়ে জানতে পাকশির ডিইও আরিফুলের সেল ফোনে বার বার কল করা হলেও তিনি তার ফোনটি রিসিভ করেননি।