CKEditor 5 Sample
ঢাকা ২৩ জুন, ২০২৬

মেসি-এমবাপেদের ভিড়ে মাঝমাঠে দ্যুতি ছাড়চ্ছেন তারা

#
news image

বিশ্বকাপের এক সপ্তাহের বেশি সময়ে নিজ দেশের হয়ে মাঠে নেমেছেন মেসি-রোনালদো থেকে হালের এমবাপ্পে-হালান্ডরা। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো উপভোগের পাশাপাশি সমর্থকদের নজর থাকে তারকাদের পারফরম্যান্সের দিকে।

এদের মধ্যে বিশ্বকাপের মঞ্চে ঝড় তোলেন ফরাসি সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পে। সেনেগালের বিপক্ষে করেছেন দুর্দান্ত দুই গোল। নিজের মাত্র তৃতীয় বিশ্বকাপেই ১৪ গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে যাওয়ার দৌড়ে আছেন তিনি।

অন্যদিকে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপ খেলতে আসা নরওয়ের হয়ে করেছেন জোড়া গোল করেছেন আর্লিং হালান্ডও। তবে হালান্ড-এমবাপ্পেদের তারুণ্যের দাপটকে উড়িয়ে নিজের আধিপত্য ধরে রেখেছেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিকসহ আলজেরিয়ার বিপক্ষে এক ম্যাচেই উল্টেপাল্টে ফেলেছেন রেকর্ড বইয়ের অনেক পাতা। ছেড়ে কথা বলেননি ইংল্যান্ডের সেরা ফরওয়ার্ড ও দলটির অধিনায়ক হ্যারি কেইনও। হাইভোল্টেজ ম্যাচে তার জোড়া গোলে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের নাটকীয় জয় পেয়েছে থ্রি-লায়ন্স।

তবে এখন পর্যন্ত আসরে সবচেয়ে আকর্ষণীয় গল্পটি মাঝমাঠেই দেখা যাচ্ছে। দেশের হয়ে তিন ফুটবলার সবচেয়ে বড় মঞ্চে এসেই যেন নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন। জার্মানির ফেলিক্স নেমেচা, আইভরি কোস্টের ক্রিস্ট উলাই এবং মরক্কোর আইয়ুব বুয়াদ্দি প্রত্যেকেই সম্পূর্ণ ভিন্ন উপায়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছেন। একই সঙ্গে দর্শকদের কাছে নিজেদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।

ফেলিক্স নেমেচা: গোল করার যন্ত্র

বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে ফেলিক্স নেমেচা সবসময়ই জার্মানির পরবর্তী পরিপূর্ণ মিডফিল্ডার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। বিশ্বকাপই হয়তো সেই রূপান্তরকে বাস্তবে পরিণত করতে চলেছে। কুরাকাওয়ের বিপক্ষে জার্মানির বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম গোলটি করেন তিনি। এছাড়াও আইভরি কোস্টের বিপক্ষে আরেকটি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখানোর পর, নেমেচাকে হঠাৎ করেই জুলিয়ান নাগেলসম্যানের কাছে অপরিহার্য মনে হচ্ছে।

৬ ফুট ৩ ইঞ্চি লম্বা হয়েও তিনি প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহতের পাশাপাশি মাঝমাঠ দিয়ে এগিয়ে যেতে পারেন এবং মারাত্মক সঠিক সময়ে পেনাল্টি এরিয়ার ভেতরে প্রবেশ করতে পারেন। দলের প্রয়োজনে কখনও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে কখনও দ্বিতীয় স্ট্রাইকারের ভূমিকাও পালন করছেন। আগামীতে ইউরোপের সেরা ক্লাবগুলোর অন্যতম লক্ষ্য হতে পারেন ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলার।

আইয়ুব বুয়াদ্দি: নিয়ন্ত্রক

মরক্কো হয়তো বিশেষ কিছু খুঁজে পেয়েছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের প্রথ ম্যাচে ১৮ বছর বয়সী আইয়ুব বুয়াদ্দি এমন একজনের মতো স্থিরতা নিয়ে খেলেছেন, যাতে মনে হতে পারে তার কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। লিলের এই মিডফিল্ডার ৯০ শতাংশের বেশি নির্ভুল পাস দিয়েছেন। ক্রমাগত পাসের জন্য পথ তৈরি করে দিয়েছেন এবং বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া সত্ত্বেও চাপমুক্ত ছিলেন। বুয়াদ্দি সরব বা বিস্ফোরক নন, কিন্তু তিনি সহজভাবে খেলা নিয়ন্ত্রণ করেন।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি শীর্ষস্থানীয় দল এমন ফুটবলারদের খোঁজে যারা খেলার অনিশ্চয়তা দূর করে এবং সবকিছু সুরক্ষিত রাখে। বুয়াদ্দি দৃঢ়ভাবে সেই শ্রেণীতেই পড়েন। তিনি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে নিজের অবস্থানের পাশাপাশি অনায়াসে বলের দখল রাখেন এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ শুরুতেই থামিয়ে দিতে পারেন। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই, ইউরোপের সবচেয়ে বড় ক্লাবগুলো ইতোমধ্যেই তাকে ঘিরে ধরেছে। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই, তাকে দেখে মনে হচ্ছে ফুটবলের আগামী দশকের জন্য তৈরি একজন ফুটবলা।

ক্রিস্ট উলাই: দ্য মেট্রোনোম

এই তিনজনের মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে কম পরিচিত নামটিই সবচেয়ে বড় চমক সৃষ্টি করেছে। আইভরি কোস্ট শেষ পর্যন্ত জার্মানির কাছে ২-১ গোলে হেরে গেলেও, উলাইয়ের পারফরম্যান্স থেকে বোঝা যায় কেন আফ্রিকান ফুটবলের অনেকেই তাকে নিয়ে এত উত্তেজিত।

এই মিডফিল্ডার বারবার দলকে চাপ থেকে বের করে এনেছেন এবং নিজের বয়সের তুলনায় অনেক বেশি শান্ত ও পরিপক্কতার সঙ্গে আক্রমণ এগিয়ে নিয়ে গেছেন। প্রতিটি সেরা মিডফিল্ডে একজন সমস্যা সমাধানকারী খেলোয়াড় প্রয়োজন। উলাইকে তেমনই একজন বলে মনে হচ্ছে।

চাপের মুখে বল নিয়ন্ত্রণে রাখা, ভিড়ের মধ্যে দিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এবং বলের দখল পুরোপুরি নিজের কাছে না রেখেই খেলার গতি নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা রয়েছে। আধুনিক ফুটবল সবসময় সেইসব ফুটবলারদের পুরস্কৃত করেছে, যারা এই তিনটি কাজই করতে পারে। উলাই ইতোমধ্যেই তা করে দেখিয়েছেন। এখন পর্যন্ত এই তিন মিডফিল্ডার তিনটি ভিন্ন রূপের মাধ্যমে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছন। তাদের কেউই সুপারস্টার হিসেবে পরিচিতি নিয়ে টুর্নামেন্টে আসেননি। দুটি ম্যাচ পরেই সেই ধারণা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বিশ্বকাপ বরাবরই ফুটবলের সেরা আবিষ্কারের যন্ত্র।

নিউজ ডেস্ক

২২ জুন, ২০২৬,  5:29 PM

news image
ইন্টারনেট

বিশ্বকাপের এক সপ্তাহের বেশি সময়ে নিজ দেশের হয়ে মাঠে নেমেছেন মেসি-রোনালদো থেকে হালের এমবাপ্পে-হালান্ডরা। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো উপভোগের পাশাপাশি সমর্থকদের নজর থাকে তারকাদের পারফরম্যান্সের দিকে।

এদের মধ্যে বিশ্বকাপের মঞ্চে ঝড় তোলেন ফরাসি সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পে। সেনেগালের বিপক্ষে করেছেন দুর্দান্ত দুই গোল। নিজের মাত্র তৃতীয় বিশ্বকাপেই ১৪ গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে যাওয়ার দৌড়ে আছেন তিনি।

অন্যদিকে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপ খেলতে আসা নরওয়ের হয়ে করেছেন জোড়া গোল করেছেন আর্লিং হালান্ডও। তবে হালান্ড-এমবাপ্পেদের তারুণ্যের দাপটকে উড়িয়ে নিজের আধিপত্য ধরে রেখেছেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। সবচেয়ে বেশি বয়সে বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিকসহ আলজেরিয়ার বিপক্ষে এক ম্যাচেই উল্টেপাল্টে ফেলেছেন রেকর্ড বইয়ের অনেক পাতা। ছেড়ে কথা বলেননি ইংল্যান্ডের সেরা ফরওয়ার্ড ও দলটির অধিনায়ক হ্যারি কেইনও। হাইভোল্টেজ ম্যাচে তার জোড়া গোলে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের নাটকীয় জয় পেয়েছে থ্রি-লায়ন্স।

তবে এখন পর্যন্ত আসরে সবচেয়ে আকর্ষণীয় গল্পটি মাঝমাঠেই দেখা যাচ্ছে। দেশের হয়ে তিন ফুটবলার সবচেয়ে বড় মঞ্চে এসেই যেন নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন। জার্মানির ফেলিক্স নেমেচা, আইভরি কোস্টের ক্রিস্ট উলাই এবং মরক্কোর আইয়ুব বুয়াদ্দি প্রত্যেকেই সম্পূর্ণ ভিন্ন উপায়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছেন। একই সঙ্গে দর্শকদের কাছে নিজেদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন।

ফেলিক্স নেমেচা: গোল করার যন্ত্র

বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে ফেলিক্স নেমেচা সবসময়ই জার্মানির পরবর্তী পরিপূর্ণ মিডফিল্ডার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। বিশ্বকাপই হয়তো সেই রূপান্তরকে বাস্তবে পরিণত করতে চলেছে। কুরাকাওয়ের বিপক্ষে জার্মানির বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম গোলটি করেন তিনি। এছাড়াও আইভরি কোস্টের বিপক্ষে আরেকটি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখানোর পর, নেমেচাকে হঠাৎ করেই জুলিয়ান নাগেলসম্যানের কাছে অপরিহার্য মনে হচ্ছে।

৬ ফুট ৩ ইঞ্চি লম্বা হয়েও তিনি প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহতের পাশাপাশি মাঝমাঠ দিয়ে এগিয়ে যেতে পারেন এবং মারাত্মক সঠিক সময়ে পেনাল্টি এরিয়ার ভেতরে প্রবেশ করতে পারেন। দলের প্রয়োজনে কখনও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে কখনও দ্বিতীয় স্ট্রাইকারের ভূমিকাও পালন করছেন। আগামীতে ইউরোপের সেরা ক্লাবগুলোর অন্যতম লক্ষ্য হতে পারেন ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলার।

আইয়ুব বুয়াদ্দি: নিয়ন্ত্রক

মরক্কো হয়তো বিশেষ কিছু খুঁজে পেয়েছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের প্রথ ম্যাচে ১৮ বছর বয়সী আইয়ুব বুয়াদ্দি এমন একজনের মতো স্থিরতা নিয়ে খেলেছেন, যাতে মনে হতে পারে তার কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। লিলের এই মিডফিল্ডার ৯০ শতাংশের বেশি নির্ভুল পাস দিয়েছেন। ক্রমাগত পাসের জন্য পথ তৈরি করে দিয়েছেন এবং বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া সত্ত্বেও চাপমুক্ত ছিলেন। বুয়াদ্দি সরব বা বিস্ফোরক নন, কিন্তু তিনি সহজভাবে খেলা নিয়ন্ত্রণ করেন।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি শীর্ষস্থানীয় দল এমন ফুটবলারদের খোঁজে যারা খেলার অনিশ্চয়তা দূর করে এবং সবকিছু সুরক্ষিত রাখে। বুয়াদ্দি দৃঢ়ভাবে সেই শ্রেণীতেই পড়েন। তিনি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে নিজের অবস্থানের পাশাপাশি অনায়াসে বলের দখল রাখেন এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ শুরুতেই থামিয়ে দিতে পারেন। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই, ইউরোপের সবচেয়ে বড় ক্লাবগুলো ইতোমধ্যেই তাকে ঘিরে ধরেছে। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই, তাকে দেখে মনে হচ্ছে ফুটবলের আগামী দশকের জন্য তৈরি একজন ফুটবলা।

ক্রিস্ট উলাই: দ্য মেট্রোনোম

এই তিনজনের মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে কম পরিচিত নামটিই সবচেয়ে বড় চমক সৃষ্টি করেছে। আইভরি কোস্ট শেষ পর্যন্ত জার্মানির কাছে ২-১ গোলে হেরে গেলেও, উলাইয়ের পারফরম্যান্স থেকে বোঝা যায় কেন আফ্রিকান ফুটবলের অনেকেই তাকে নিয়ে এত উত্তেজিত।

এই মিডফিল্ডার বারবার দলকে চাপ থেকে বের করে এনেছেন এবং নিজের বয়সের তুলনায় অনেক বেশি শান্ত ও পরিপক্কতার সঙ্গে আক্রমণ এগিয়ে নিয়ে গেছেন। প্রতিটি সেরা মিডফিল্ডে একজন সমস্যা সমাধানকারী খেলোয়াড় প্রয়োজন। উলাইকে তেমনই একজন বলে মনে হচ্ছে।

চাপের মুখে বল নিয়ন্ত্রণে রাখা, ভিড়ের মধ্যে দিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়া এবং বলের দখল পুরোপুরি নিজের কাছে না রেখেই খেলার গতি নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা রয়েছে। আধুনিক ফুটবল সবসময় সেইসব ফুটবলারদের পুরস্কৃত করেছে, যারা এই তিনটি কাজই করতে পারে। উলাই ইতোমধ্যেই তা করে দেখিয়েছেন। এখন পর্যন্ত এই তিন মিডফিল্ডার তিনটি ভিন্ন রূপের মাধ্যমে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছন। তাদের কেউই সুপারস্টার হিসেবে পরিচিতি নিয়ে টুর্নামেন্টে আসেননি। দুটি ম্যাচ পরেই সেই ধারণা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। বিশ্বকাপ বরাবরই ফুটবলের সেরা আবিষ্কারের যন্ত্র।