নিউজ ডেস্ক
২২ জুন, ২০২৬, 5:21 PM
জুলাই থেকে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর প্রথম ধাপে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বেশি হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের কর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ এবং সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র মতে, আগামী অর্থবছরে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি বেতন বৃদ্ধি পেতে পারেন। বিপরীতে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার অপেক্ষাকৃত কম রাখা হতে পারে।
এদিকে, বৃহস্পতিবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন পে-স্কেল আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিতে না থাকলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছেন বৈঠকে উপস্থিত এক প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যে ঘোষণা দিয়েছেন, সে অনুযায়ী তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
প্রতিমন্ত্রী জানান, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের পারিবারিক ব্যয়ের চাপ বেড়েছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রথম বছরেই কম বেতনের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি বেতন বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছেন।
তার ভাষ্য, বেতন বৃদ্ধি করলে সরকারের পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তবে সেই অনুপাতে রাজস্ব আয়ের নিশ্চয়তা নেই। ফলে আর্থিক সক্ষমতা ও মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ—উভয় বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ বেতনভোগীদের ক্ষেত্রে কম এবং নিম্ন বেতনভোগীদের ক্ষেত্রে বেশি হারে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব উঠে এসেছে।
সরকার ইতোমধ্যে আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুরুতে পরিকল্পনা ছিল নতুন ও বর্তমান বেতন কাঠামোর পার্থক্যের ৫০ শতাংশ করে পরপর দুই অর্থবছরে মূল বেতন সমন্বয় করা হবে এবং শেষ অর্থবছরে ভাতার বর্ধিত অংশ দেওয়া হবে। তবে এখন সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে।
খসড়া আলোচনায় উঠে আসা একটি প্রস্তাব অনুযায়ী, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত বেতন বৃদ্ধির ৪০ শতাংশ আগামী অর্থবছরে কার্যকর করা হতে পারে। অন্যদিকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত বৃদ্ধির ৬০ শতাংশ প্রথম বছরেই দেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ গঠন করা হয়। গত ২১ জানুয়ারি কমিশন তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেয়।
কমিশন বিভিন্ন গ্রেডে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। কর্মকর্তাদের হিসাবে, এই সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশন-২০২৫ বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করে পৃথক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ জন সচিবের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তিনটি কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সরকারের জন্য সুপারিশ প্রণয়নই এ কমিটির দায়িত্ব।
সূত্র জানায়, কমিটি ইতোমধ্যে জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছে। তবে এখনও চূড়ান্ত সুপারিশ নির্ধারণ করা হয়নি।
চূড়ান্ত সুপারিশের আগে সরকারকে সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরতে নতুন বেতন কাঠামোর একটি খসড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
কমিটির প্রাথমিক খসড়া সুপারিশে সর্বোচ্চ মূল বেতন ১২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সর্বনিম্ন বৃদ্ধির হার কত হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বর্তমানে জনপ্রশাসনে ২০টি গ্রেডে সরকারি কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তারা ৯ম গ্রেডে যোগ দেন। অন্যদিকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে বিভিন্ন শ্রেণির কর্মচারীরা নিয়োগ পেয়ে থাকেন।
গত ২ এপ্রিল জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী জানান, দেশে বর্তমানে সরকারি চাকরিতে কর্মরত আছেন ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন।
তাদের মধ্যে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন। বাকি ১২ লাখ ৬০ হাজার ১১৮ জন ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত পদে কর্মরত।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দ্বিতীয় শ্রেণিতে কর্মরত আছেন ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৫৭ জন এবং অন্যান্য শ্রেণিতে ৭ হাজার ৯৮০ জন কর্মচারী।
নিউজ ডেস্ক
২২ জুন, ২০২৬, 5:21 PM
জুলাই থেকে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর প্রথম ধাপে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বেশি হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের কর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ এবং সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র মতে, আগামী অর্থবছরে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি বেতন বৃদ্ধি পেতে পারেন। বিপরীতে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার অপেক্ষাকৃত কম রাখা হতে পারে।
এদিকে, বৃহস্পতিবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন পে-স্কেল আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিতে না থাকলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছেন বৈঠকে উপস্থিত এক প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যে ঘোষণা দিয়েছেন, সে অনুযায়ী তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
প্রতিমন্ত্রী জানান, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের পারিবারিক ব্যয়ের চাপ বেড়েছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রথম বছরেই কম বেতনের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি বেতন বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছেন।
তার ভাষ্য, বেতন বৃদ্ধি করলে সরকারের পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তবে সেই অনুপাতে রাজস্ব আয়ের নিশ্চয়তা নেই। ফলে আর্থিক সক্ষমতা ও মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ—উভয় বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ বেতনভোগীদের ক্ষেত্রে কম এবং নিম্ন বেতনভোগীদের ক্ষেত্রে বেশি হারে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব উঠে এসেছে।
সরকার ইতোমধ্যে আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুরুতে পরিকল্পনা ছিল নতুন ও বর্তমান বেতন কাঠামোর পার্থক্যের ৫০ শতাংশ করে পরপর দুই অর্থবছরে মূল বেতন সমন্বয় করা হবে এবং শেষ অর্থবছরে ভাতার বর্ধিত অংশ দেওয়া হবে। তবে এখন সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে।
খসড়া আলোচনায় উঠে আসা একটি প্রস্তাব অনুযায়ী, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত বেতন বৃদ্ধির ৪০ শতাংশ আগামী অর্থবছরে কার্যকর করা হতে পারে। অন্যদিকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত বৃদ্ধির ৬০ শতাংশ প্রথম বছরেই দেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ গঠন করা হয়। গত ২১ জানুয়ারি কমিশন তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেয়।
কমিশন বিভিন্ন গ্রেডে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। কর্মকর্তাদের হিসাবে, এই সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশন-২০২৫ বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করে পৃথক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ জন সচিবের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তিনটি কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সরকারের জন্য সুপারিশ প্রণয়নই এ কমিটির দায়িত্ব।
সূত্র জানায়, কমিটি ইতোমধ্যে জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছে। তবে এখনও চূড়ান্ত সুপারিশ নির্ধারণ করা হয়নি।
চূড়ান্ত সুপারিশের আগে সরকারকে সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরতে নতুন বেতন কাঠামোর একটি খসড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছে।
কমিটির প্রাথমিক খসড়া সুপারিশে সর্বোচ্চ মূল বেতন ১২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সর্বনিম্ন বৃদ্ধির হার কত হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বর্তমানে জনপ্রশাসনে ২০টি গ্রেডে সরকারি কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তারা ৯ম গ্রেডে যোগ দেন। অন্যদিকে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে বিভিন্ন শ্রেণির কর্মচারীরা নিয়োগ পেয়ে থাকেন।
গত ২ এপ্রিল জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী জানান, দেশে বর্তমানে সরকারি চাকরিতে কর্মরত আছেন ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন।
তাদের মধ্যে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন। বাকি ১২ লাখ ৬০ হাজার ১১৮ জন ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত পদে কর্মরত।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দ্বিতীয় শ্রেণিতে কর্মরত আছেন ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৫৭ জন এবং অন্যান্য শ্রেণিতে ৭ হাজার ৯৮০ জন কর্মচারী।