CKEditor 5 Sample
ঢাকা ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে জাতীয় পার্টির বৈঠক: 'দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ দৃশ্যমান নয়'

#
news image

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন মিসেস বাইবা জারিনা-এর সঙ্গে বৈঠক করেছে জাতীয় পার্টির (জাপা) একটি প্রতিনিধিদল।

বুধবার সকালে রাজধানীর গুলশান-২ এ অবস্থিত ইইউ কার্যালয়ে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী (সকাল ১০:৩০ থেকে দুপুর ১২:২০) এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

জাতীয় পার্টির মূল বার্তা: লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই
বৈঠকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ইইউ প্রতিনিধিদলকে জানান, সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বললেও বাস্তবে দেশে এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দৃশ্যমান নয়।

মিথ্যা মামলা: তিনি অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের ঘটনাবলীর পর জাতীয় পার্টির অসংখ্য নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে, যা এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি।

বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা: দলের অনেক নেতার বিরুদ্ধে বিদেশ যাত্রায় অযথা নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যা একজন নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন।

শর্ত: তিনি স্পষ্ট জানান, নির্বাচনের আগে এসব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা না তুললে জাতীয় পার্টি কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশ নেবে না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে জাপার অবস্থান
বৈঠকে ইইউ নেতারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের বিষয়ে জাতীয় পার্টির মতামত জানতে চান। দলের মহাসচিব, সাবেক মন্ত্রী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন:

"মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল হওয়ায় আমরা স্বাগত জানাই। তবে এটি কার্যকর হবে চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ফলে বর্তমান সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে কিনা—এ নিয়ে আমাদের গভীর সন্দেহ রয়েছে।"

হাওলাদার আরও উল্লেখ করেন, মিথ্যা মামলায় সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপুসহ অসংখ্য নেতাকে বন্দি করা হয়েছে এবং নির্বাচন মাত্র আড়াই মাস বাকি থাকলেও সরকার মামলা প্রত্যাহারের কোনো বাস্তব উদ্যোগ নেয়নি।

নির্বাচন কমিশনেও সংশয়
বৈঠক শেষে জাপার চেয়ারম্যানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত ও প্রেসিডিয়াম সদস্য মাসরুর মাওলা গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতিনিধিদলের প্রধান জানতে চেয়েছিলেন জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা। উত্তরে চেয়ারম্যান জানান, জাতীয় পার্টি নির্বাচনমুখী হলেও বর্তমানে দেশে নির্বাচনোপযোগী পরিবেশ নেই এবং 'মব কালচার' চলছে।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে যে সংলাপ করেছে, সেখানেও জাতীয় পার্টিকে আমন্ত্রণ জানায়নি। এতে তাদের সংশয় হয় যে, সরকার বা নির্বাচন কমিশন আদৌ চায় কিনা জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নিক।

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ নভেম্বর, ২০২৫,  4:19 PM

news image

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন মিসেস বাইবা জারিনা-এর সঙ্গে বৈঠক করেছে জাতীয় পার্টির (জাপা) একটি প্রতিনিধিদল।

বুধবার সকালে রাজধানীর গুলশান-২ এ অবস্থিত ইইউ কার্যালয়ে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী (সকাল ১০:৩০ থেকে দুপুর ১২:২০) এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

জাতীয় পার্টির মূল বার্তা: লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই
বৈঠকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ইইউ প্রতিনিধিদলকে জানান, সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা বললেও বাস্তবে দেশে এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দৃশ্যমান নয়।

মিথ্যা মামলা: তিনি অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের ঘটনাবলীর পর জাতীয় পার্টির অসংখ্য নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হয়েছে, যা এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি।

বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা: দলের অনেক নেতার বিরুদ্ধে বিদেশ যাত্রায় অযথা নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যা একজন নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন।

শর্ত: তিনি স্পষ্ট জানান, নির্বাচনের আগে এসব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও বিদেশযাত্রার নিষেধাজ্ঞা না তুললে জাতীয় পার্টি কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশ নেবে না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে জাপার অবস্থান
বৈঠকে ইইউ নেতারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের বিষয়ে জাতীয় পার্টির মতামত জানতে চান। দলের মহাসচিব, সাবেক মন্ত্রী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন:

"মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল হওয়ায় আমরা স্বাগত জানাই। তবে এটি কার্যকর হবে চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ফলে বর্তমান সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে কিনা—এ নিয়ে আমাদের গভীর সন্দেহ রয়েছে।"

হাওলাদার আরও উল্লেখ করেন, মিথ্যা মামলায় সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপুসহ অসংখ্য নেতাকে বন্দি করা হয়েছে এবং নির্বাচন মাত্র আড়াই মাস বাকি থাকলেও সরকার মামলা প্রত্যাহারের কোনো বাস্তব উদ্যোগ নেয়নি।

নির্বাচন কমিশনেও সংশয়
বৈঠক শেষে জাপার চেয়ারম্যানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত ও প্রেসিডিয়াম সদস্য মাসরুর মাওলা গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতিনিধিদলের প্রধান জানতে চেয়েছিলেন জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা। উত্তরে চেয়ারম্যান জানান, জাতীয় পার্টি নির্বাচনমুখী হলেও বর্তমানে দেশে নির্বাচনোপযোগী পরিবেশ নেই এবং 'মব কালচার' চলছে।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে যে সংলাপ করেছে, সেখানেও জাতীয় পার্টিকে আমন্ত্রণ জানায়নি। এতে তাদের সংশয় হয় যে, সরকার বা নির্বাচন কমিশন আদৌ চায় কিনা জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নিক।