আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৫ নভেম্বর, ২০২৫, 4:38 PM
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন নুরীন নিয়াজি, পাঞ্জাবের পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) ড. উসমান আনোয়ারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছেন। গত সপ্তাহে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের বাইরে পিটিআইয়ের প্রতিবাদকারীদের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ আনেন তিনি। কারাগারের বাইরে পিটিআই সদস্যদের সঙ্গে অবস্থান নিয়েছিলেন ইমরানের বোনেরাও। আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি না দেওয়ায়, কারাগারের বাইরে পিটিআই সদস্যদের সঙ্গে অবস্থান প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন তারা। পিটিআইয়ের দাবি, ইমরান খানের বোন আলিমা খান, ড. উজমা খান এবং নুরীন তখন কারাগারের বাইরে ‘শান্তিপূর্ণভাবে বসে ছিলেন। পুলিশ হঠাৎই তাদের ওপর হামলা চালায়।
দলের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায় যে কর্মীরা, আলিমা ও উজমা নুরীনকে ঘিরে আছেন। তাদেরকে তখন স্পষ্টতই আতঙ্কিত দেখাচ্ছিলেন। আলিমা বলেন, “ওই নারী পুলিশরা তাকে রাস্তায় টেনে নিয়ে যাচ্ছিল।” এসময় নুরীনের হাত কাঁপছিল।
সোমবার এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে পিটিআই জানায় যে নুরীন শান্তিপূর্ণ নাগরিকদের ওপর নৃশংস হামলা ও বেআইনি আটক-এর বিষয়ে পাঞ্জাব আইজির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছেন।
দলটি ওই দুই পাতার চিঠিও শেয়ার করেছে, যেখানে নুরীন ঘটনাকে গভীরভাবে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই সহিংসতা ছিল নৃশংস ও পরিকল্পিত এবং কোনও উসকানি ছাড়াই সংঘটিত হয়েছে।
তার মতে, তিনি ও তার বোনেরা কয়েক সপ্তাহ ধরে কোনও যুক্তিসংগত কারণ ছাড়াই ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ফলে তারা ইমরানের অবস্থার বিষয়ে উদ্বেগ থেকে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ করেন। তিনি আরও জানান, তাদের সঙ্গে খাইবার পাখতুনখোয়া মন্ত্রিসভার সদস্যরা, আইনজীবী এবং দলের কর্মীরাও ছিলেন।
তিনি বলেন, “আমরা রাস্তায় অবরোধ সৃষ্টি করিনি কিংবা জনসাধারণের চলাচলে বাধা দিইনি, কোনও বেআইনি কাজও করিনি।”
তিনি বলেন, ‘তবুও, কোনও সতর্কতা বা উসকানি ছাড়াই, এলাকার স্ট্রিটলাইটগুলো হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা সচেতনভাবে পুরো স্থানটিকে অন্ধকারে ঢেকে দেয়। এরপর পাঞ্জাব পুলিশের সদস্যদের দ্বারা একটি নৃশংস ও পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়।’
তিনি বলেন, “৭১ বছর বয়সে আমাকে চুল ধরে টেনে ওঠানো হয়, সহিংসভাবে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং রাস্তাজুড়ে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়, যার ফলে দৃশ্যমান আঘাতপ্রাপ্ত হই।”
তিনি বলেন, পুলিশের এই আচরণ গত তিন বছর ধরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে শক্তি ব্যবহারের বৃহত্তর ও উদ্বেগজনক ধারার অংশ যা উদ্বেগজনক দায়হীনতার পরিচায়ক।
নুরীন পাঞ্জাব পুলিশের আচরণকে ‘শুধু অযৌক্তিক নয়, সম্পূর্ণ অপরাধমূলক, বেআইনি, নৈতিকভাবে নিন্দনীয় এবং একটি গণতান্ত্রিক সমাজে কোনও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মৌলিক দায়িত্বের সরাসরি বিপরীত’ বলে উল্লেখ করেন।
এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং যারা অনুমোদন দিয়েছে বা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে— এমন সব পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তিনি পাঞ্জাব আইজিকে আহ্বান জানিয়েছেন।
২০ নভেম্বর পাকিস্তান মানবাধিকার কমিশন (এইচআরসিপি)ও উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং পিটিআই প্রতিবাদকারীদের ওপর সম্ভাব্য দুর্ব্যবহারের বিষয়ে তদন্তের আহ্বান জানায়।
এক্সে দেওয়া পোস্টে এইচআরসিপি জানায়, ইমরানের বোনদের হেনস্তা করা হয়েছে এমন প্রতিবেদনে তারা উদ্বিগ্ন। বন্দিদের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের অধিকার ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে সুরক্ষিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে পোস্টে।
সূত্র: ডন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৫ নভেম্বর, ২০২৫, 4:38 PM
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন নুরীন নিয়াজি, পাঞ্জাবের পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) ড. উসমান আনোয়ারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছেন। গত সপ্তাহে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের বাইরে পিটিআইয়ের প্রতিবাদকারীদের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ আনেন তিনি। কারাগারের বাইরে পিটিআই সদস্যদের সঙ্গে অবস্থান নিয়েছিলেন ইমরানের বোনেরাও। আদিয়ালা কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি না দেওয়ায়, কারাগারের বাইরে পিটিআই সদস্যদের সঙ্গে অবস্থান প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন তারা। পিটিআইয়ের দাবি, ইমরান খানের বোন আলিমা খান, ড. উজমা খান এবং নুরীন তখন কারাগারের বাইরে ‘শান্তিপূর্ণভাবে বসে ছিলেন। পুলিশ হঠাৎই তাদের ওপর হামলা চালায়।
দলের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায় যে কর্মীরা, আলিমা ও উজমা নুরীনকে ঘিরে আছেন। তাদেরকে তখন স্পষ্টতই আতঙ্কিত দেখাচ্ছিলেন। আলিমা বলেন, “ওই নারী পুলিশরা তাকে রাস্তায় টেনে নিয়ে যাচ্ছিল।” এসময় নুরীনের হাত কাঁপছিল।
সোমবার এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে পিটিআই জানায় যে নুরীন শান্তিপূর্ণ নাগরিকদের ওপর নৃশংস হামলা ও বেআইনি আটক-এর বিষয়ে পাঞ্জাব আইজির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছেন।
দলটি ওই দুই পাতার চিঠিও শেয়ার করেছে, যেখানে নুরীন ঘটনাকে গভীরভাবে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই সহিংসতা ছিল নৃশংস ও পরিকল্পিত এবং কোনও উসকানি ছাড়াই সংঘটিত হয়েছে।
তার মতে, তিনি ও তার বোনেরা কয়েক সপ্তাহ ধরে কোনও যুক্তিসংগত কারণ ছাড়াই ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ফলে তারা ইমরানের অবস্থার বিষয়ে উদ্বেগ থেকে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ করেন। তিনি আরও জানান, তাদের সঙ্গে খাইবার পাখতুনখোয়া মন্ত্রিসভার সদস্যরা, আইনজীবী এবং দলের কর্মীরাও ছিলেন।
তিনি বলেন, “আমরা রাস্তায় অবরোধ সৃষ্টি করিনি কিংবা জনসাধারণের চলাচলে বাধা দিইনি, কোনও বেআইনি কাজও করিনি।”
তিনি বলেন, ‘তবুও, কোনও সতর্কতা বা উসকানি ছাড়াই, এলাকার স্ট্রিটলাইটগুলো হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা সচেতনভাবে পুরো স্থানটিকে অন্ধকারে ঢেকে দেয়। এরপর পাঞ্জাব পুলিশের সদস্যদের দ্বারা একটি নৃশংস ও পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়।’
তিনি বলেন, “৭১ বছর বয়সে আমাকে চুল ধরে টেনে ওঠানো হয়, সহিংসভাবে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং রাস্তাজুড়ে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়, যার ফলে দৃশ্যমান আঘাতপ্রাপ্ত হই।”
তিনি বলেন, পুলিশের এই আচরণ গত তিন বছর ধরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে শক্তি ব্যবহারের বৃহত্তর ও উদ্বেগজনক ধারার অংশ যা উদ্বেগজনক দায়হীনতার পরিচায়ক।
নুরীন পাঞ্জাব পুলিশের আচরণকে ‘শুধু অযৌক্তিক নয়, সম্পূর্ণ অপরাধমূলক, বেআইনি, নৈতিকভাবে নিন্দনীয় এবং একটি গণতান্ত্রিক সমাজে কোনও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মৌলিক দায়িত্বের সরাসরি বিপরীত’ বলে উল্লেখ করেন।
এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং যারা অনুমোদন দিয়েছে বা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে— এমন সব পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তিনি পাঞ্জাব আইজিকে আহ্বান জানিয়েছেন।
২০ নভেম্বর পাকিস্তান মানবাধিকার কমিশন (এইচআরসিপি)ও উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং পিটিআই প্রতিবাদকারীদের ওপর সম্ভাব্য দুর্ব্যবহারের বিষয়ে তদন্তের আহ্বান জানায়।
এক্সে দেওয়া পোস্টে এইচআরসিপি জানায়, ইমরানের বোনদের হেনস্তা করা হয়েছে এমন প্রতিবেদনে তারা উদ্বিগ্ন। বন্দিদের পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের অধিকার ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে সুরক্ষিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে পোস্টে।
সূত্র: ডন