CKEditor 5 Sample
ঢাকা ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

রাবির সাংবাদিকতা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা

#
news image

মতিহারের সবুজ চত্বর কেবল ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, এটি হাজারো প্রাণের স্পন্দনও বটে। এখানে রয়ে গেছে হাজারো সোনালী স্মৃতির ভান্ডার। কর্মজীবনের ব্যস্ততা আর সময়ের ব্যবধান ঘুচিয়ে সেই শেকড়ের টানেই শনিবার দিনভর ভিড় জমিয়েছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

 

বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন 'জার্নালিজম অ্যালামনাই ফোরাম অব রাজশাহী ইউনিভার্সিটি'র (জাফরু) আয়োজনে ও বিভাগের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয় এই মিলনমেলা।সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দেশের নানা প্রান্তে কর্মরত সাংবাদিক, গবেষক, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্পোরেট পেশাজীবীরা এদিন ফিরে আসেন নিজেদের পুরোনো ক্যাম্পাসে, নিজের বিভাগে। সকাল থেকেই বিভাগের করিডোর, বিভাগের কার্যালয় ও ক্লাসরুম ভরে ওঠে প্রাক্তনদের উপস্থিতিতে। সভাপতিসহ বিভাগের শিক্ষকেরা উপস্থিত থেকে সাবেক শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানান। 

 

 

 

আয়োজনটি শুরু হয় এক গভীর শ্রদ্ধার্ঘ্যের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিভাগের প্রয়াত দুজন শিক্ষক ও কয়েকজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।পরে দিনজুড়ে চলে স্মৃতিচারণ, আড্ডা, গান, খাওয়া-দাওয়া আর ছবি তোলা। 

 

বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও যমুনা টিভির বিশেষ প্রতিনিধি মাহফুজ মিশু বলেন, ‘অনেক বছর পর বিভাগে এসে দারুণ লাগছে। সবার সঙ্গে কথা হলো, গল্প হলো। কোনো এজেন্ডা ছাড়া শুধু আমাদের পুরোনো দিনের মানুষগুলোর সঙ্গে সময় কাটানো- এটা সত্যিই অসাধারণ। এমন আয়োজন প্রতিবছর হলেও ভালো হয়।’

 

জাফরু'র সাধারণ সম্পাদক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ), বিভাগের চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা থেকে বিশেষভাবে এসেছি এ পুনর্মিলনীতে যোগ দিতে। সারাদিন ধরে শিক্ষক–শিক্ষার্থী সবাই মিলে সময় কাটালাম। বিভাগের আনুষ্ঠানিক অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন পর এসে অনেক পরিবর্তন লক্ষ করেছেন। এমন আয়োজন বিভাগের সঙ্গে প্রাক্তনদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে।

 

জাফরুর সভাপতি আরেফিন অডেন বলেন, বিভাগের বর্তমান সভাপতি যে আন্তরিকতা নিয়ে জাফরুর এই আয়োজনে সহযোগিতা করেছেন এবং বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ যে সক্রিয়তা নিয়ে আজকের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন তাতে অনুষ্ঠানটি দারুণভাবে সফল হয়েছে। 

 

বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুল (সাজ্জাদ বকুল) বলেন, আগামী বছর ২০২৬ সালে আমাদের বিভাগ ৩৫ বছরে পা দেবে। সেই উপলক্ষে বড় আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। জাফরু আয়োজিত এই মিলনমেলা সেই উদযাপনের কাউন্টডাউনের সূচনা। আগামীকাল বিভাগের শিক্ষক ও সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে আগামী বছর বিভাগের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হবে। এরপর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। 

 

গত বছর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেবার পর থেকেই বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের বিষয়টি তার অন্যতম অগ্রাধিকার ছিল উল্লেখ করে ড. সাজ্জাদ বকুল বলেন, আইকিউএসির মাধ্যমে বিভাগের অ্যাক্রিডিটেশন প্রক্রিয়ার অন্যতম ক্রাইটেরিয়া হচ্ছে বিভাগের নিজস্ব সক্রিয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন থাকা। এই শর্ত পূরণ করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায়ও আমরা এগিয়ে থাকতে পারব।

 

তিনি বলেন, বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা সংগঠন জাফরুর পাশাপাশি বিভাগের নিজস্ব অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সাবেক শিক্ষার্থীরা সহমত পোষণ করেছেন। 

 

তিনি আরও বলেন, বিভাগের দীর্ঘ ঐতিহ্য আছে। এখানে বহু গুণী শিক্ষার্থী–শিক্ষক ছিলেন। বিভাগের অ্যালামনাই কাঠামোকে সক্রিয় করতে পারলে জাফরুর সদস্য বা এর বাইরে থাকা অন্য সাবেক শিক্ষার্থীরাও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে বিভাগের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন। এতে জাফরু তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিভাগকে উপকৃত করবে।

 

দিন শেষে মতিহারের সবুজ চত্বরে সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয় প্রথম দিনের আনুষ্ঠানিকতা। আগামীকাল রবিবার বিভাগের পক্ষ থেকে প্রথমে বর্তমান শিক্ষার্থীদের সাথে ও পরে শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় করবেন জাফরুর সদস্যরা।

রাবি প্রতিনিধি

১৬ নভেম্বর, ২০২৫,  7:29 AM

news image

মতিহারের সবুজ চত্বর কেবল ইট-পাথরের স্থাপনা নয়, এটি হাজারো প্রাণের স্পন্দনও বটে। এখানে রয়ে গেছে হাজারো সোনালী স্মৃতির ভান্ডার। কর্মজীবনের ব্যস্ততা আর সময়ের ব্যবধান ঘুচিয়ে সেই শেকড়ের টানেই শনিবার দিনভর ভিড় জমিয়েছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

 

বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন 'জার্নালিজম অ্যালামনাই ফোরাম অব রাজশাহী ইউনিভার্সিটি'র (জাফরু) আয়োজনে ও বিভাগের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয় এই মিলনমেলা।সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দেশের নানা প্রান্তে কর্মরত সাংবাদিক, গবেষক, শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্পোরেট পেশাজীবীরা এদিন ফিরে আসেন নিজেদের পুরোনো ক্যাম্পাসে, নিজের বিভাগে। সকাল থেকেই বিভাগের করিডোর, বিভাগের কার্যালয় ও ক্লাসরুম ভরে ওঠে প্রাক্তনদের উপস্থিতিতে। সভাপতিসহ বিভাগের শিক্ষকেরা উপস্থিত থেকে সাবেক শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানান। 

 

 

 

আয়োজনটি শুরু হয় এক গভীর শ্রদ্ধার্ঘ্যের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিভাগের প্রয়াত দুজন শিক্ষক ও কয়েকজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।পরে দিনজুড়ে চলে স্মৃতিচারণ, আড্ডা, গান, খাওয়া-দাওয়া আর ছবি তোলা। 

 

বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও যমুনা টিভির বিশেষ প্রতিনিধি মাহফুজ মিশু বলেন, ‘অনেক বছর পর বিভাগে এসে দারুণ লাগছে। সবার সঙ্গে কথা হলো, গল্প হলো। কোনো এজেন্ডা ছাড়া শুধু আমাদের পুরোনো দিনের মানুষগুলোর সঙ্গে সময় কাটানো- এটা সত্যিই অসাধারণ। এমন আয়োজন প্রতিবছর হলেও ভালো হয়।’

 

জাফরু'র সাধারণ সম্পাদক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ), বিভাগের চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা থেকে বিশেষভাবে এসেছি এ পুনর্মিলনীতে যোগ দিতে। সারাদিন ধরে শিক্ষক–শিক্ষার্থী সবাই মিলে সময় কাটালাম। বিভাগের আনুষ্ঠানিক অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন পর এসে অনেক পরিবর্তন লক্ষ করেছেন। এমন আয়োজন বিভাগের সঙ্গে প্রাক্তনদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে।

 

জাফরুর সভাপতি আরেফিন অডেন বলেন, বিভাগের বর্তমান সভাপতি যে আন্তরিকতা নিয়ে জাফরুর এই আয়োজনে সহযোগিতা করেছেন এবং বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ যে সক্রিয়তা নিয়ে আজকের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন তাতে অনুষ্ঠানটি দারুণভাবে সফল হয়েছে। 

 

বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হোসেন বকুল (সাজ্জাদ বকুল) বলেন, আগামী বছর ২০২৬ সালে আমাদের বিভাগ ৩৫ বছরে পা দেবে। সেই উপলক্ষে বড় আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। জাফরু আয়োজিত এই মিলনমেলা সেই উদযাপনের কাউন্টডাউনের সূচনা। আগামীকাল বিভাগের শিক্ষক ও সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে আগামী বছর বিভাগের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হবে। এরপর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। 

 

গত বছর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেবার পর থেকেই বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের বিষয়টি তার অন্যতম অগ্রাধিকার ছিল উল্লেখ করে ড. সাজ্জাদ বকুল বলেন, আইকিউএসির মাধ্যমে বিভাগের অ্যাক্রিডিটেশন প্রক্রিয়ার অন্যতম ক্রাইটেরিয়া হচ্ছে বিভাগের নিজস্ব সক্রিয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন থাকা। এই শর্ত পূরণ করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায়ও আমরা এগিয়ে থাকতে পারব।

 

তিনি বলেন, বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা সংগঠন জাফরুর পাশাপাশি বিভাগের নিজস্ব অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সাবেক শিক্ষার্থীরা সহমত পোষণ করেছেন। 

 

তিনি আরও বলেন, বিভাগের দীর্ঘ ঐতিহ্য আছে। এখানে বহু গুণী শিক্ষার্থী–শিক্ষক ছিলেন। বিভাগের অ্যালামনাই কাঠামোকে সক্রিয় করতে পারলে জাফরুর সদস্য বা এর বাইরে থাকা অন্য সাবেক শিক্ষার্থীরাও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে বিভাগের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন। এতে জাফরু তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিভাগকে উপকৃত করবে।

 

দিন শেষে মতিহারের সবুজ চত্বরে সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয় প্রথম দিনের আনুষ্ঠানিকতা। আগামীকাল রবিবার বিভাগের পক্ষ থেকে প্রথমে বর্তমান শিক্ষার্থীদের সাথে ও পরে শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় করবেন জাফরুর সদস্যরা।