CKEditor 5 Sample
ঢাকা ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

রাবিতে প্রাথমিকে ‘সংগীত ও শারীরিক শিক্ষক’ পদ পুনর্বহালের দাবিতে দুই বিভাগের প্রতিবাদ কর্মসূচি 

#
news image

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা’ বিষয়ের শিক্ষক পদ পুনর্বহালের দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সংগীত এবং শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১১টায় ও বিকেল ৩ টায় পৃথক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ কর্মসূচি পালন করে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। 
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সংগীত এবং শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা “শিল্পের আলো জ্বালতে চাই, সংগীত শিক্ষক নিয়োগ চাই”, “একমুখী শিক্ষানীতি নয়, চাই সাংস্কৃতিক অভ্যুদয়”, “প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত শিক্ষক পদ পুনবর্হাল চাই”, “হেলথ ইজ ওয়েলথ”, “শারীরিক শিক্ষা মানে সুস্থ মন সুন্দর জীবন ”, “দাবী মোদের একটাই শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক চাই ” প্রভৃতি প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে।
প্রতিবাদ কর্মসূচীতে সংহতি জানিয়ে সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শায়লা তাসনীম বলেন, সংগীত পবিত্র বিষয়। সংগীত চর্চা করলে মানুষের মন পবিত্র ও নির্মল হয়।  একটা অবলা প্রানীকেও যদি সংগীত শ্রবণ করানো হয় তবে তার মধ্যে পরিবর্তন আসবে। 
সংগীতের শিক্ষক নিয়োগ বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, সংগীত শিক্ষার জন্য যখন নতুন পদ সৃষ্টি হবে জেনেছিলাম তখন ভেবেছিলাম যারা সংগীত বিভাগ থেকে পাশ করে বের হচ্ছে তাদের কর্মসন্ধান সৃষ্টি হবে কিন্তু শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের এ সুযোগটা আর থাকছেনা।

সংগীত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিন বিশ্বাস এষা বলেন, সংগীত শিক্ষা বা শারিরীক শিক্ষা শিশুদের শারিরীক বিকাশ,মননের বিকাশ, মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশের জন্য  অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাথমিকে যদি বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা যায় তাহলে শিশুরা ছোট থেকে এই ধরণের সৃজনশীলতা, মননশীলতা নিয়ে বড় হবে। 
‎তিনি আরো বলেন, আমরা উপাচার্যের মাধ্যমে শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করবো। আমাদের যুক্তিগত খাতিরে প্রাথমিকের সংগীত শিক্ষক পদ পূর্ণ নিয়োগ বহাল চাই। 

শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাত বিজয় বলেন, অনেক শিক্ষার্থীরাই আছেন যারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভয় ও দুশ্চিন্তায় ভুগে। শারীরিক শিক্ষার সাথে সম্পর্ক থাকে তারা সহজেই এই ভয় কাটিয়ে উঠতে পারবে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের এই ভয় দূর করবে কে? সেটা কি পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক, ইংরেজির শিক্ষক নাকি গণিতের শিক্ষক দূর করবেন।
উন্নত দেশগুলোতে শারীরিক শিক্ষার জন্য আলাদা সময় বরাদ্দ করা থাকে সেখানে বাংলাদেশে এমন কোনো সুযোগ দেওয়া হয়না। সুস্থ সুন্দর মনন ও আগামীর সমাজ বিনির্মাণে শারীরিক শিক্ষা অপরিহার্য। 

একই বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী সপ্না আক্তার বলেন, শারীরিক শিক্ষা ও সংগীত উভয় বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ প্রথমে স্থগিত করা হয় পরবর্তীতে বাতিল করা হয়।  শারীরিক শিক্ষা দৈনন্দিন শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটা আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে ভূমিকা পালন করে। উন্নত দেশগুলোতে শারীরিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হলেও বাংলাদেশে অবহেলা করা হয়। 
সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী অনিক মল্লিকা বলেন  “সংগীত মানুষের আত্মার খোরাক, যা মানুষের চেতনাকে বৃদ্ধি করে। অনতিবিলম্বে এই প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।”

‎উল্লেখ্য, গত রবিবার ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫’ সংশোধন করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদ বাতিল করা হয়।

‎ প্রতিনিধি,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় :

০৬ নভেম্বর, ২০২৫,  5:21 PM

news image

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা’ বিষয়ের শিক্ষক পদ পুনর্বহালের দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সংগীত এবং শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১১টায় ও বিকেল ৩ টায় পৃথক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এ কর্মসূচি পালন করে বিভাগের শিক্ষার্থীরা। 
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সংগীত এবং শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা “শিল্পের আলো জ্বালতে চাই, সংগীত শিক্ষক নিয়োগ চাই”, “একমুখী শিক্ষানীতি নয়, চাই সাংস্কৃতিক অভ্যুদয়”, “প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত শিক্ষক পদ পুনবর্হাল চাই”, “হেলথ ইজ ওয়েলথ”, “শারীরিক শিক্ষা মানে সুস্থ মন সুন্দর জীবন ”, “দাবী মোদের একটাই শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক চাই ” প্রভৃতি প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে।
প্রতিবাদ কর্মসূচীতে সংহতি জানিয়ে সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শায়লা তাসনীম বলেন, সংগীত পবিত্র বিষয়। সংগীত চর্চা করলে মানুষের মন পবিত্র ও নির্মল হয়।  একটা অবলা প্রানীকেও যদি সংগীত শ্রবণ করানো হয় তবে তার মধ্যে পরিবর্তন আসবে। 
সংগীতের শিক্ষক নিয়োগ বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, সংগীত শিক্ষার জন্য যখন নতুন পদ সৃষ্টি হবে জেনেছিলাম তখন ভেবেছিলাম যারা সংগীত বিভাগ থেকে পাশ করে বের হচ্ছে তাদের কর্মসন্ধান সৃষ্টি হবে কিন্তু শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের এ সুযোগটা আর থাকছেনা।

সংগীত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিন বিশ্বাস এষা বলেন, সংগীত শিক্ষা বা শারিরীক শিক্ষা শিশুদের শারিরীক বিকাশ,মননের বিকাশ, মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশের জন্য  অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাথমিকে যদি বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা যায় তাহলে শিশুরা ছোট থেকে এই ধরণের সৃজনশীলতা, মননশীলতা নিয়ে বড় হবে। 
‎তিনি আরো বলেন, আমরা উপাচার্যের মাধ্যমে শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করবো। আমাদের যুক্তিগত খাতিরে প্রাথমিকের সংগীত শিক্ষক পদ পূর্ণ নিয়োগ বহাল চাই। 

শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসির আরাফাত বিজয় বলেন, অনেক শিক্ষার্থীরাই আছেন যারা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভয় ও দুশ্চিন্তায় ভুগে। শারীরিক শিক্ষার সাথে সম্পর্ক থাকে তারা সহজেই এই ভয় কাটিয়ে উঠতে পারবে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের এই ভয় দূর করবে কে? সেটা কি পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক, ইংরেজির শিক্ষক নাকি গণিতের শিক্ষক দূর করবেন।
উন্নত দেশগুলোতে শারীরিক শিক্ষার জন্য আলাদা সময় বরাদ্দ করা থাকে সেখানে বাংলাদেশে এমন কোনো সুযোগ দেওয়া হয়না। সুস্থ সুন্দর মনন ও আগামীর সমাজ বিনির্মাণে শারীরিক শিক্ষা অপরিহার্য। 

একই বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী সপ্না আক্তার বলেন, শারীরিক শিক্ষা ও সংগীত উভয় বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ প্রথমে স্থগিত করা হয় পরবর্তীতে বাতিল করা হয়।  শারীরিক শিক্ষা দৈনন্দিন শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটা আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে ভূমিকা পালন করে। উন্নত দেশগুলোতে শারীরিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হলেও বাংলাদেশে অবহেলা করা হয়। 
সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী অনিক মল্লিকা বলেন  “সংগীত মানুষের আত্মার খোরাক, যা মানুষের চেতনাকে বৃদ্ধি করে। অনতিবিলম্বে এই প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।”

‎উল্লেখ্য, গত রবিবার ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫’ সংশোধন করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদ বাতিল করা হয়।