ইউসুফ আলী বাচ্চু
২৯ অক্টোবর, ২০২৫, 4:24 PM
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের ধোঁয়াশা বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন লন্ডনে অবস্থানরত এই শীর্ষ নেতার দেশে ফেরার বিষয়টি তাঁর দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য বড় প্রত্যাশা হলেও, আইনি জটিলতা ও নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে তাঁর সময়সূচি এখনও অনিশ্চিত।
এদিকে কয়েক দফায় এই নেতার দেশে ফেরা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য এসেছে তার দলের নেতাকর্মীর মুখ থেকে। সর্বশেষ গত শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই দেশে ফিরবেন। তারেক রহমানের দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট তারিখ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খুব শিগগির নির্ধারিত তারিখটি সবাই জানতে পারবেন। আশা করি নভেম্বরের মধ্যেই তিনি ফিরবেন।’
জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমান কোন আসন থেকে প্রার্থী হতে পারেন এমন প্রশ্নে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন এটি তিনি নিজেই সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। কোন আসন থেকে প্রার্থী হবেন, তা পরে নির্ধারিত হবে। বাংলাদেশের যেকোনো আসন থেকেই তিনি নির্বাচন করতে পারেন।’
এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না। আমরা অবশ্যই চাই তিনি অংশগ্রহণ করুন।’
দলীয় সূত্র মতে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক মামলা এখনও পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি; কিছু মামলা স্থগিত থাকলেও কয়েকটি সচল রয়েছে। এই আইনগত দিকটিই দেশে ফেরার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশে ফেরার আগে তাঁর নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে বিএনপি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে। এছাড়াও, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার কারণেও তিনি তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না।
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি যখন সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও কৌশলগত প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন তারেক রহমানের দেশে ফেরা দলের জন্য বড় রাজনৈতিক বার্তা হতে পারে। সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে তারেক রহমান নিজেই তার প্রত্যাবর্তনের বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি দেশে ফিরব, ইনশাল্লাহ তবে সময়টা হতে হবে দেশের মানুষের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।’
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের উপস্থিতি বিএনপির আন্দোলন, নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং নেতৃত্বের কাঠামোতে নতুন গতি আনতে পারে।সবমিলিয়ে, আইনি প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সময়োপযোগিতা— সবকিছু বিবেচনা করেই বিএনপি তাঁর প্রত্যাবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, নির্বাচনের আগেই তাঁকে দেশে ফিরতে দেখা যাবে।
এর আগে তারেক রহমান ঢাকায় ফেরার পর কোথায় থাকবেন, সেই বাড়ির প্রস্তুতির খবরও হচ্ছে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে তিনি কবে দেশে ফিরবেন আর ৫ই আগস্ট সরকার পতনের পর ১৪ বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কেন তার দেশে ফেরা হলোনা?
২০২৪ সালের পাঁচই আগস্ট পট পরিবর্তনের পর দ্রুততার সাথে তারেক রহমান প্রায় সকল মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।
এছাড়া ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলাসহ আরো যেসব মামলায় সাজা হয়েছিল আদালতের রায়ে তার সবগুলো থেকেই তিনি খালাস পেয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে এই মুহূর্তে তারেক রহমানের দেশে ফিরতে কোনও ধরনের বাঁধা নেই। আইনি এবং রাজনৈতিক সকল বাধা দূর হলেও দীর্ঘ প্রায় সতের বছর দেশের বাইরে থাকা তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন, এ বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ বা পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।
দলীয় সূত্র এবং তার ঘনিষ্ঠরা জানাচ্ছেন, তারেক রহমান দেশে ফিরেই আগামী নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেবেন। সেই হিসেবে ২০২৫ সালের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশের ফিরবেন, এমন ধারণাই দেওয়া হচ্ছে।
তারেক রহমানের একজন উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলছেন, কোনো সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি, তবে নির্বাচনের আগে তিনি দেশে আসবেন। এ ব্যাপারে তারেক রহমান নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি খুব দ্রুতই ইনশাআল্লাহ নির্বাচন হবে আগামী বছর রমজানের আগে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসে। সুতরাং অবশ্যই তার আগে তিনি ফেরত আসবেন। যথোপযুক্ত আইনি এবং রাজনৈতিক পরিবেশ যখন সৃষ্টি হবে, যেটা বাংলাদেশের জন্য ভাল, সবার জন্য ভাল উনি অবশ্যই নির্বাচনের আগে সেই সময়টাতে আমাদের মাঝে উপস্থিত হবেন।’
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের ১৪ মাস পেরিয়েছে। এতদিনেও কেন তারেক রহমান দেশে ফিরছেন না, সেটি নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ দেশে ফেরার ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে মামলা এবং সাজা নিয়ে আইনগত যে সমস্যা ছিল, সেটি দূর হয়েছে। পাঁচই অগাস্টের পর থেকেই রাজনৈতিকভাবেও সমগ্র বাংলাদেশে বিএনপির আধিপত্য দৃশ্যমান।
বিএনপির রাজনীতিতে তারেক রহমানই এখন প্রধান নেতা। আগামী নির্বাচনে তার নেতৃত্বেই দলটি নির্বাচন করবে এবং ধারণা করা হচ্ছে দল ক্ষমতায় এলে তিনিই হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।
২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা আসার পর তারেক রহমান গ্রেপ্তার হন এবং ২০০৮ সালে তিনি লন্ডনে যান। পরে সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা প্রয়াত মওদুদ আহমদ তাঁর ‘কারাগারে কেমন ছিলাম (২০০৭-২০০৮)’ বইতে লিখেছেন, “এমনও হতে পারে তিনি (খালেদা জিয়া) জেনারেলদের সাথে এই সমঝোতা করেছিলেন যে, তারেক রহমান আপাতত নিজেকে রাজনীতিতে জড়াবেন না এবং এ মর্মে তারেক রহমান কোনো সম্মতিপত্রে স্বাক্ষরও দিয়ে থাকতে পারেন।’
এ ব্যপারে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, এক এগারোর সরকারের সময় তারেক রহমান বিদেশে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। যে সময় তিনি (তারেক রহমান) গিয়েছিলেন সেসময়তো তাকে জোর করে পাঠানো হয়েছিল। আর চিকিৎসাও একটা লক্ষ্য ছিল।’
তিনি বলেন, ‘আমি বলবো তাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে খালেদা জিয়ার ওপর একটা প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছিল ওই সময়ের সেনা নেতৃত্ব। সেই সেনা নেতৃত্বতো এখন নাই। সুতরাং সেই সমস্যাটা আমি আর দেখি না। তারপরেও একটা আশঙ্কা থাকতে পারে। কারণ আমাদের দেশের রাজনীতিটা হচ্ছে প্রতিহিংসাপরায়ণতায় ভরা। তার প্রতি যে আচরণ সে সময় করা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো ইনভলব ছিল। তারা হয়তো ভাবতে পারে তারেক ফিরে এলে তিনি যদি প্রতিশোধ নেন। তো এরকম একটা চিন্তা থাকতে পারে। কারণ আমাদের রাজনীতিতে এটা হরদম চলছে।’
তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে বিএনপির সিনিয়ার কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে পর্যায় চলছে তাতে তো একটু নিরাপত্তাহীনতা থেকেই যায়। তবে খুব শিঘ্রই আমাদের নেতা দেশে ফিরবেন এবং দলের হাল ধরবেন।
তারেক রহমানের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে আসে গত ২৭ মে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদকে গ্রেপ্তারের পর। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অস্থিতিশীলতার মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছিল তারা।
ইউসুফ আলী বাচ্চু
২৯ অক্টোবর, ২০২৫, 4:24 PM
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের ধোঁয়াশা বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন লন্ডনে অবস্থানরত এই শীর্ষ নেতার দেশে ফেরার বিষয়টি তাঁর দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য বড় প্রত্যাশা হলেও, আইনি জটিলতা ও নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে তাঁর সময়সূচি এখনও অনিশ্চিত।
এদিকে কয়েক দফায় এই নেতার দেশে ফেরা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য এসেছে তার দলের নেতাকর্মীর মুখ থেকে। সর্বশেষ গত শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই দেশে ফিরবেন। তারেক রহমানের দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট তারিখ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খুব শিগগির নির্ধারিত তারিখটি সবাই জানতে পারবেন। আশা করি নভেম্বরের মধ্যেই তিনি ফিরবেন।’
জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমান কোন আসন থেকে প্রার্থী হতে পারেন এমন প্রশ্নে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন এটি তিনি নিজেই সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। কোন আসন থেকে প্রার্থী হবেন, তা পরে নির্ধারিত হবে। বাংলাদেশের যেকোনো আসন থেকেই তিনি নির্বাচন করতে পারেন।’
এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নিজের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না। আমরা অবশ্যই চাই তিনি অংশগ্রহণ করুন।’
দলীয় সূত্র মতে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক মামলা এখনও পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি; কিছু মামলা স্থগিত থাকলেও কয়েকটি সচল রয়েছে। এই আইনগত দিকটিই দেশে ফেরার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশে ফেরার আগে তাঁর নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে বিএনপি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে। এছাড়াও, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার কারণেও তিনি তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না।
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি যখন সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও কৌশলগত প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন তারেক রহমানের দেশে ফেরা দলের জন্য বড় রাজনৈতিক বার্তা হতে পারে। সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে তারেক রহমান নিজেই তার প্রত্যাবর্তনের বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি দেশে ফিরব, ইনশাল্লাহ তবে সময়টা হতে হবে দেশের মানুষের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।’
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের উপস্থিতি বিএনপির আন্দোলন, নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং নেতৃত্বের কাঠামোতে নতুন গতি আনতে পারে।সবমিলিয়ে, আইনি প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সময়োপযোগিতা— সবকিছু বিবেচনা করেই বিএনপি তাঁর প্রত্যাবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, নির্বাচনের আগেই তাঁকে দেশে ফিরতে দেখা যাবে।
এর আগে তারেক রহমান ঢাকায় ফেরার পর কোথায় থাকবেন, সেই বাড়ির প্রস্তুতির খবরও হচ্ছে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে তিনি কবে দেশে ফিরবেন আর ৫ই আগস্ট সরকার পতনের পর ১৪ বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কেন তার দেশে ফেরা হলোনা?
২০২৪ সালের পাঁচই আগস্ট পট পরিবর্তনের পর দ্রুততার সাথে তারেক রহমান প্রায় সকল মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।
এছাড়া ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলাসহ আরো যেসব মামলায় সাজা হয়েছিল আদালতের রায়ে তার সবগুলো থেকেই তিনি খালাস পেয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে এই মুহূর্তে তারেক রহমানের দেশে ফিরতে কোনও ধরনের বাঁধা নেই। আইনি এবং রাজনৈতিক সকল বাধা দূর হলেও দীর্ঘ প্রায় সতের বছর দেশের বাইরে থাকা তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন, এ বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ বা পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।
দলীয় সূত্র এবং তার ঘনিষ্ঠরা জানাচ্ছেন, তারেক রহমান দেশে ফিরেই আগামী নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেবেন। সেই হিসেবে ২০২৫ সালের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশের ফিরবেন, এমন ধারণাই দেওয়া হচ্ছে।
তারেক রহমানের একজন উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলছেন, কোনো সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি, তবে নির্বাচনের আগে তিনি দেশে আসবেন। এ ব্যাপারে তারেক রহমান নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি খুব দ্রুতই ইনশাআল্লাহ নির্বাচন হবে আগামী বছর রমজানের আগে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসে। সুতরাং অবশ্যই তার আগে তিনি ফেরত আসবেন। যথোপযুক্ত আইনি এবং রাজনৈতিক পরিবেশ যখন সৃষ্টি হবে, যেটা বাংলাদেশের জন্য ভাল, সবার জন্য ভাল উনি অবশ্যই নির্বাচনের আগে সেই সময়টাতে আমাদের মাঝে উপস্থিত হবেন।’
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের ১৪ মাস পেরিয়েছে। এতদিনেও কেন তারেক রহমান দেশে ফিরছেন না, সেটি নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ দেশে ফেরার ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে মামলা এবং সাজা নিয়ে আইনগত যে সমস্যা ছিল, সেটি দূর হয়েছে। পাঁচই অগাস্টের পর থেকেই রাজনৈতিকভাবেও সমগ্র বাংলাদেশে বিএনপির আধিপত্য দৃশ্যমান।
বিএনপির রাজনীতিতে তারেক রহমানই এখন প্রধান নেতা। আগামী নির্বাচনে তার নেতৃত্বেই দলটি নির্বাচন করবে এবং ধারণা করা হচ্ছে দল ক্ষমতায় এলে তিনিই হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।
২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা আসার পর তারেক রহমান গ্রেপ্তার হন এবং ২০০৮ সালে তিনি লন্ডনে যান। পরে সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা প্রয়াত মওদুদ আহমদ তাঁর ‘কারাগারে কেমন ছিলাম (২০০৭-২০০৮)’ বইতে লিখেছেন, “এমনও হতে পারে তিনি (খালেদা জিয়া) জেনারেলদের সাথে এই সমঝোতা করেছিলেন যে, তারেক রহমান আপাতত নিজেকে রাজনীতিতে জড়াবেন না এবং এ মর্মে তারেক রহমান কোনো সম্মতিপত্রে স্বাক্ষরও দিয়ে থাকতে পারেন।’
এ ব্যপারে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, এক এগারোর সরকারের সময় তারেক রহমান বিদেশে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। যে সময় তিনি (তারেক রহমান) গিয়েছিলেন সেসময়তো তাকে জোর করে পাঠানো হয়েছিল। আর চিকিৎসাও একটা লক্ষ্য ছিল।’
তিনি বলেন, ‘আমি বলবো তাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে খালেদা জিয়ার ওপর একটা প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছিল ওই সময়ের সেনা নেতৃত্ব। সেই সেনা নেতৃত্বতো এখন নাই। সুতরাং সেই সমস্যাটা আমি আর দেখি না। তারপরেও একটা আশঙ্কা থাকতে পারে। কারণ আমাদের দেশের রাজনীতিটা হচ্ছে প্রতিহিংসাপরায়ণতায় ভরা। তার প্রতি যে আচরণ সে সময় করা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো ইনভলব ছিল। তারা হয়তো ভাবতে পারে তারেক ফিরে এলে তিনি যদি প্রতিশোধ নেন। তো এরকম একটা চিন্তা থাকতে পারে। কারণ আমাদের রাজনীতিতে এটা হরদম চলছে।’
তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে বিএনপির সিনিয়ার কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে পর্যায় চলছে তাতে তো একটু নিরাপত্তাহীনতা থেকেই যায়। তবে খুব শিঘ্রই আমাদের নেতা দেশে ফিরবেন এবং দলের হাল ধরবেন।
তারেক রহমানের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে আসে গত ২৭ মে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদকে গ্রেপ্তারের পর। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অস্থিতিশীলতার মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছিল তারা।