CKEditor 5 Sample
ঢাকা ২২ জুলাই, ২০২৬
শিরোনামঃ
জিয়া পরিষদের নামে জনতা ব্যাংকে ‘ভুয়া’ কমিটি ঘোষণা! জনতা ব্যাংকে ‘আরসি’ জটিলতা, পদবি বাদ দেওয়ার নামে কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ! প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রীর সাক্ষাৎ এক ম্যাচ বাকি থাকতে ব্রাজিল শিবিরে আতঙ্ক শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে আগ্রহী সিঙ্গাপুরের এসএটিএস মঙ্গলবার রাজধানীতে ১১ দলের সমাবেশ সৌদি বধের রাতে ধূলিসাৎ মেসির ১৮ বছরের অহংকার, ইয়ামালের পাশে এখন শুধুই পেলে বিশ্ববাজারে দ্রুত কমছে তেলের দাম রোনালদোকে বল দেওয়ার বাড়তি চাপ নেই, বললেন কনসেইসাও যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকার জেরে ১০ মার্কিন সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা চীনের

এনসিপি কি বিএনপিতে বিলীন হয়ে যাবে?

#
news image

নবীন রাজনৈতিক দল এনসিপি বিএনপির জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় কনফার্ম । এমনকি বিএনপি কতটি আসন এনসিপিকে ছেড়ে দিবে তা নিয়েও মোটামুটি সমাঝোতা হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে । অন্যদিকে প্রধান ইসলামিক দল জামায়াতের থেকে বেশি আসন পেয়েও নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে জামায়াতের চেয়ে বিএনপি বেশি ভূমিকা রাখবে বলে বিএনপির দিকেই ছুটছে বিপ্লবোত্তর দলটি ।
বিএনপি থেকে এনসিপি আসন চেয়েছে ৩০ টি । বিএনপি ঢাকার চারটি আসনসহ এনসিপিকে ১৫ টি আসন ছাড়তে ছেয়েছে । তবে বিএনপি শেষমেশ এনসিপিকে ২০ টি আসন ছাড়বে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে এমনটা শোনা যায় । অন্যদিকে এনসিপিও চাচ্ছে দরকষাকষি করে যদি ২৫ টি আসন নেয়া যায় ।
তবে এসব আসনে যে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে না এমনটা নিশ্চয়তা নেই । বিএনপি কিছু আসনে নিশ্চয়তা দিতে পারলেও সব আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকানোর সক্ষমতাও নেই । যেসব নেতাকর্মী দীর্ঘকাল আন্দোলন করেছে, বিগত রেজিমের অধিকাংশ সময় জেল-জুলুমে ছিল তারা খুব সহজেই মাঠ ছেড়ে দিবে ভাববার কারণ নেই। সে ক্ষেত্রে এনসিপি আদতে ১৫/২০ বা ২৫ যে কয়টি আসনই বিএনপি থেকে ছাড় পায় না কেনো তাদের জিতে আসা সহজ হবে না । এছাড়া এনসিপি বিএনপির আসন ছাড়ার পরেও আরো অন্তত ১০০ আসনে প্রার্থী দিবে বলে শোনা যায় । তারা ৫০/১০০ ভোট যাই পাক না কেনো । বিএনপিরও তাতে তেমন আপত্তি নাই ।
অন্যদিকে এনসিপি যদি জামাতের জোটে যায় সেক্ষেত্রে তাদের ডিমান্ড হচ্ছে ৫০ টি আসনে ছাড় । জামাত এনসিপিকে ২৫/৩০ টি আসন ছেড়ে দিত । এই জোটের সুবিধা ছিল যেসব আসন ছাড় দিবে সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকত না । তবে এনসিপি মনে করে, বিএনপি তাদের কয়েকটি আসনে বিজয় নিয়ে আসতে পারলেও জামাত সেটা পারবে না বা তাদের সে সক্ষমতা নেই । মূলত এনসিপি ভোটের মাঠে তাদের সক্ষমতা ও সাংগঠনিক অবস্থা জানে । তাদের দলের মূল যে ৪/৫ জনকে সংসদে যেতে হবে তাদের নির্বাচনী আসন নিয়ে চিন্তিত। কেননা সেসব নির্দিষ্ট আসনে জাময়াতের বিজয় ছিনিয়ে আনার সক্ষমতা নেই বলে মনে করে । তাই এসব আসনে আরো অধিক আস্থার জন্য বিএনপির দিকেই ঝুকছে এনসিপি । অন্তত এই ৪/৫ টি আসন তারা পাবে বলে তাদের বিশ্বাস । তবে এসব সবকিছুই দেখা যাবে ভোটের মাঠে । বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে পারে কিনা বা জামাতের প্রার্থী কতটা শক্তিশালী ।
এর বাইরেও নির্বাচনী মাঠে আরেকটি খেল সব সময় থাকে । বিশেষ করে ১৯৯১-২০০৮ নির্বাচনে দেখা গেছে মনোনয়ন না পেয়ে দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিজে বিদ্রোহী প্রার্থী না হলেও ভিন্ন দলের প্রার্থীকে নিজের সমর্থক গোষ্ঠীর সমর্থন । হয়ত এটা সবক্ষেত্রে দেখা যায় না কিন্তু ফলাফলে এমনটা হয়ে আসে ।
এনসিপিকে আবার জাতীয় পার্টির মত গত ১৫ বছরের রাজনৈতিক হিসাব কষলেও হবে না । জাপাকে আম্লীগ আসন ছেড়ে দিত ২২-৩০ টি । এরপরেও বিনা ভোটের নির্বাচনে সব আসনে জাপা জিতে আসতে পারতো না । যেসব আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকতো সেখানে কখনোই সম্ভব ছিল না । শুধুমাত্র আম্লীগের বিরোধীদল করার জন্য ফিক্সড যে কয়টি এমপি দরকার হত সে কয়টি ফিক্সড করে নিয়ে আসতো তারা । এরপরেও ২০১৮ নির্বাচনে জাপাকে আওমীলীগের ছেড়ে দেয়া আসন থেকে জাপাকে নির্বাচনের আগমুহূর্তে ২টি আসনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিতে দেখা গেছে । এরমধ্যে একজন সিটিং এমপি ছিলেন । আওমী বিদ্রোহীদের সঙ্গে অ-স্ত্রের সামনে রাতের আধারে টাকায় আসন ছেড়ে এলাকা ছেড়ে দেন তিনি ।
এনসিপি বিপ্লবে বিজয়ীদের দ্বারা সৃষ্টি একটি রাজনৈতিক দল । যাদের সম্মুখ সাড়ির নেতারাই হছিনাকে উৎখাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন । তাদের বিল্পবোত্তর সম্ভাবনা ছিল অপার । কিন্তু তাদের নেতাদের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে খুব দ্রুতই ছন্দপতন হয় । যে কারণে বিদ্যমান রাজনৈতিক দল বিএনপি-জামাতের বাইরে দেশের মানুষ ছত্রদের উপর সম্ভাবনা দেখলেও তা বেশিদিন টিকেনি । হয়ত এই বাস্তবতা ভেবেই এনসিপি টিকে থাকার লড়াই করছে । এখন দেখা যাক এই টিকে থাকার লড়াইয়ে আসলে এনসিপি বিএনপিতে বিলীন হয়ে যায় নাকি সাম্যবাদীর দিলিপ বড়ুয়া বা জেপির মঞ্জুর মত ওয়ান ম্যান পার্টি হয়ে টিকে থাকে ।

মুস্তাফিজুর রহমান

২৮ অক্টোবর, ২০২৫,  6:43 PM

news image

নবীন রাজনৈতিক দল এনসিপি বিএনপির জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় কনফার্ম । এমনকি বিএনপি কতটি আসন এনসিপিকে ছেড়ে দিবে তা নিয়েও মোটামুটি সমাঝোতা হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে । অন্যদিকে প্রধান ইসলামিক দল জামায়াতের থেকে বেশি আসন পেয়েও নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে জামায়াতের চেয়ে বিএনপি বেশি ভূমিকা রাখবে বলে বিএনপির দিকেই ছুটছে বিপ্লবোত্তর দলটি ।
বিএনপি থেকে এনসিপি আসন চেয়েছে ৩০ টি । বিএনপি ঢাকার চারটি আসনসহ এনসিপিকে ১৫ টি আসন ছাড়তে ছেয়েছে । তবে বিএনপি শেষমেশ এনসিপিকে ২০ টি আসন ছাড়বে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে এমনটা শোনা যায় । অন্যদিকে এনসিপিও চাচ্ছে দরকষাকষি করে যদি ২৫ টি আসন নেয়া যায় ।
তবে এসব আসনে যে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে না এমনটা নিশ্চয়তা নেই । বিএনপি কিছু আসনে নিশ্চয়তা দিতে পারলেও সব আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকানোর সক্ষমতাও নেই । যেসব নেতাকর্মী দীর্ঘকাল আন্দোলন করেছে, বিগত রেজিমের অধিকাংশ সময় জেল-জুলুমে ছিল তারা খুব সহজেই মাঠ ছেড়ে দিবে ভাববার কারণ নেই। সে ক্ষেত্রে এনসিপি আদতে ১৫/২০ বা ২৫ যে কয়টি আসনই বিএনপি থেকে ছাড় পায় না কেনো তাদের জিতে আসা সহজ হবে না । এছাড়া এনসিপি বিএনপির আসন ছাড়ার পরেও আরো অন্তত ১০০ আসনে প্রার্থী দিবে বলে শোনা যায় । তারা ৫০/১০০ ভোট যাই পাক না কেনো । বিএনপিরও তাতে তেমন আপত্তি নাই ।
অন্যদিকে এনসিপি যদি জামাতের জোটে যায় সেক্ষেত্রে তাদের ডিমান্ড হচ্ছে ৫০ টি আসনে ছাড় । জামাত এনসিপিকে ২৫/৩০ টি আসন ছেড়ে দিত । এই জোটের সুবিধা ছিল যেসব আসন ছাড় দিবে সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকত না । তবে এনসিপি মনে করে, বিএনপি তাদের কয়েকটি আসনে বিজয় নিয়ে আসতে পারলেও জামাত সেটা পারবে না বা তাদের সে সক্ষমতা নেই । মূলত এনসিপি ভোটের মাঠে তাদের সক্ষমতা ও সাংগঠনিক অবস্থা জানে । তাদের দলের মূল যে ৪/৫ জনকে সংসদে যেতে হবে তাদের নির্বাচনী আসন নিয়ে চিন্তিত। কেননা সেসব নির্দিষ্ট আসনে জাময়াতের বিজয় ছিনিয়ে আনার সক্ষমতা নেই বলে মনে করে । তাই এসব আসনে আরো অধিক আস্থার জন্য বিএনপির দিকেই ঝুকছে এনসিপি । অন্তত এই ৪/৫ টি আসন তারা পাবে বলে তাদের বিশ্বাস । তবে এসব সবকিছুই দেখা যাবে ভোটের মাঠে । বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে পারে কিনা বা জামাতের প্রার্থী কতটা শক্তিশালী ।
এর বাইরেও নির্বাচনী মাঠে আরেকটি খেল সব সময় থাকে । বিশেষ করে ১৯৯১-২০০৮ নির্বাচনে দেখা গেছে মনোনয়ন না পেয়ে দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিজে বিদ্রোহী প্রার্থী না হলেও ভিন্ন দলের প্রার্থীকে নিজের সমর্থক গোষ্ঠীর সমর্থন । হয়ত এটা সবক্ষেত্রে দেখা যায় না কিন্তু ফলাফলে এমনটা হয়ে আসে ।
এনসিপিকে আবার জাতীয় পার্টির মত গত ১৫ বছরের রাজনৈতিক হিসাব কষলেও হবে না । জাপাকে আম্লীগ আসন ছেড়ে দিত ২২-৩০ টি । এরপরেও বিনা ভোটের নির্বাচনে সব আসনে জাপা জিতে আসতে পারতো না । যেসব আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকতো সেখানে কখনোই সম্ভব ছিল না । শুধুমাত্র আম্লীগের বিরোধীদল করার জন্য ফিক্সড যে কয়টি এমপি দরকার হত সে কয়টি ফিক্সড করে নিয়ে আসতো তারা । এরপরেও ২০১৮ নির্বাচনে জাপাকে আওমীলীগের ছেড়ে দেয়া আসন থেকে জাপাকে নির্বাচনের আগমুহূর্তে ২টি আসনে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিতে দেখা গেছে । এরমধ্যে একজন সিটিং এমপি ছিলেন । আওমী বিদ্রোহীদের সঙ্গে অ-স্ত্রের সামনে রাতের আধারে টাকায় আসন ছেড়ে এলাকা ছেড়ে দেন তিনি ।
এনসিপি বিপ্লবে বিজয়ীদের দ্বারা সৃষ্টি একটি রাজনৈতিক দল । যাদের সম্মুখ সাড়ির নেতারাই হছিনাকে উৎখাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন । তাদের বিল্পবোত্তর সম্ভাবনা ছিল অপার । কিন্তু তাদের নেতাদের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে খুব দ্রুতই ছন্দপতন হয় । যে কারণে বিদ্যমান রাজনৈতিক দল বিএনপি-জামাতের বাইরে দেশের মানুষ ছত্রদের উপর সম্ভাবনা দেখলেও তা বেশিদিন টিকেনি । হয়ত এই বাস্তবতা ভেবেই এনসিপি টিকে থাকার লড়াই করছে । এখন দেখা যাক এই টিকে থাকার লড়াইয়ে আসলে এনসিপি বিএনপিতে বিলীন হয়ে যায় নাকি সাম্যবাদীর দিলিপ বড়ুয়া বা জেপির মঞ্জুর মত ওয়ান ম্যান পার্টি হয়ে টিকে থাকে ।