CKEditor 5 Sample
ঢাকা ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

বাংলাদেশ-পাকিস্তান: ২০ বছর পর ঢাকায় জেইসি বৈঠক

#
news image

প্রায় ২০ বছর পর আগামী ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নবম যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (জেইসি) বৈঠক। এই বৈঠকে অংশ নিতে ঢাকায় আসবেন পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী আহাদ খান চিমা। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ঘাটতি হ্রাস এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে।

নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়
বাংলাদেশি নেতৃত্ব: জেইসি বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

পাকিস্তানের সফরসূচি: পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী আহাদ খান চিমা ঢাকা সফরকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

আলোচ্য বিষয়: দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কৃষিতে সহায়তা, আর্থিক সেবা খাত, ব্যাংকিং এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হবে।

সম্পর্ক উন্নয়নে অন্তর্বর্তী সরকারের তৎপরতা
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ২০০৫ সালের পর পাকিস্তানের সঙ্গে আর কোনো জেইসি বৈঠক হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার দুই দেশের সম্পর্ক ও সহযোগিতা স্বাভাবিক করতে উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে দেশটির চার জন মন্ত্রী ঢাকা সফর করেছেন, যা সম্পর্ক উন্নয়নে এই জেইসি বৈঠকের গুরুত্ব তুলে ধরে।

সাম্প্রতিক সফর:

এপ্রিল ২০২৫: পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমনা বালুচ ঢাকা সফর করেন।

জুলাই ২০২৫: পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন রাজা নকভি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভায় যোগ দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

আগস্ট ২০২৫: পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান ঢাকা সফর করেন।

বাংলাদেশের পাল্টা সফর: পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খানের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন আগামী ২৮ অক্টোবর ইসলামাবাদ সফরে যাচ্ছেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, "আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে একটা স্বাভাবিক সম্পর্ক চাই... অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের স্বার্থ আছে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় এবং তা এগিয়ে নেওয়াতে। আমার মনে হয় আমরা সেভাবেই এগোচ্ছি।"

বাণিজ্য ঘাটতি ও নতুন সুযোগ
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জেইসি বৈঠকে বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পাকিস্তানকে অনুরোধ জানাবে।

বাংলাদেশের দাবি: শুল্কমুক্তভাবে চা, পাটজাত পণ্য, ওষুধ, তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিক-সামগ্রী ও শিল্পের কাঁচামাল আরও বেশি পরিমাণে আমদানি করার জন্য পাকিস্তানকে অনুরোধ করা হবে।

বাণিজ্যিক কাঠামো: বৈঠকে নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশন প্রতিষ্ঠা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নতুন খাত সংযোজন, শুল্ক ও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা হবে।

করাচি বন্দর ব্যবহার: পাকিস্তানের করাচি বন্দর ব্যবহার করে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়টি বৈঠকে চূড়ান্ত হতে পারে।

বাণিজ্যের চিত্র: বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। ২০২৩ সালে পাকিস্তান বাংলাদেশে ৬৫০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে, বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে রফতানি হয়েছে মাত্র ৬৩ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।

নতুন আমদানি খাত: অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে। বাংলাদেশের জন্য পাকিস্তান থেকে পাথর ও খনিজসম্পদ আমদানির সুযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী গত এপ্রিলে ঢাকা সফরে এসে বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প ও নির্মাণসামগ্রী আমদানিকে আকর্ষণীয় খাত হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি ত্রিপক্ষীয় বাণিজ্য উদ্যোগে (আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়া) একসঙ্গে কাজ করারও মন্তব্য করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ অক্টোবর, ২০২৫,  2:49 PM

news image

প্রায় ২০ বছর পর আগামী ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নবম যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (জেইসি) বৈঠক। এই বৈঠকে অংশ নিতে ঢাকায় আসবেন পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী আহাদ খান চিমা। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ঘাটতি হ্রাস এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে।

নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়
বাংলাদেশি নেতৃত্ব: জেইসি বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

পাকিস্তানের সফরসূচি: পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী আহাদ খান চিমা ঢাকা সফরকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

আলোচ্য বিষয়: দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কৃষিতে সহায়তা, আর্থিক সেবা খাত, ব্যাংকিং এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হবে।

সম্পর্ক উন্নয়নে অন্তর্বর্তী সরকারের তৎপরতা
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ২০০৫ সালের পর পাকিস্তানের সঙ্গে আর কোনো জেইসি বৈঠক হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার দুই দেশের সম্পর্ক ও সহযোগিতা স্বাভাবিক করতে উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে দেশটির চার জন মন্ত্রী ঢাকা সফর করেছেন, যা সম্পর্ক উন্নয়নে এই জেইসি বৈঠকের গুরুত্ব তুলে ধরে।

সাম্প্রতিক সফর:

এপ্রিল ২০২৫: পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমনা বালুচ ঢাকা সফর করেন।

জুলাই ২০২৫: পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন রাজা নকভি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সভায় যোগ দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

আগস্ট ২০২৫: পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান ঢাকা সফর করেন।

বাংলাদেশের পাল্টা সফর: পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খানের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন আগামী ২৮ অক্টোবর ইসলামাবাদ সফরে যাচ্ছেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, "আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে একটা স্বাভাবিক সম্পর্ক চাই... অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের স্বার্থ আছে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় এবং তা এগিয়ে নেওয়াতে। আমার মনে হয় আমরা সেভাবেই এগোচ্ছি।"

বাণিজ্য ঘাটতি ও নতুন সুযোগ
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জেইসি বৈঠকে বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে পাকিস্তানকে অনুরোধ জানাবে।

বাংলাদেশের দাবি: শুল্কমুক্তভাবে চা, পাটজাত পণ্য, ওষুধ, তৈরি পোশাক, ইলেকট্রনিক-সামগ্রী ও শিল্পের কাঁচামাল আরও বেশি পরিমাণে আমদানি করার জন্য পাকিস্তানকে অনুরোধ করা হবে।

বাণিজ্যিক কাঠামো: বৈঠকে নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশন প্রতিষ্ঠা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নতুন খাত সংযোজন, শুল্ক ও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা হবে।

করাচি বন্দর ব্যবহার: পাকিস্তানের করাচি বন্দর ব্যবহার করে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর বিষয়টি বৈঠকে চূড়ান্ত হতে পারে।

বাণিজ্যের চিত্র: বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। ২০২৩ সালে পাকিস্তান বাংলাদেশে ৬৫০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে, বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে রফতানি হয়েছে মাত্র ৬৩ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।

নতুন আমদানি খাত: অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে। বাংলাদেশের জন্য পাকিস্তান থেকে পাথর ও খনিজসম্পদ আমদানির সুযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী গত এপ্রিলে ঢাকা সফরে এসে বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প ও নির্মাণসামগ্রী আমদানিকে আকর্ষণীয় খাত হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি ত্রিপক্ষীয় বাণিজ্য উদ্যোগে (আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়া) একসঙ্গে কাজ করারও মন্তব্য করেন।