আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২২ অক্টোবর, ২০২৫, 6:55 PM
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের বিখ্যাত ল্যুভর জাদুঘর থেকে থেকে চুরি হওয়া গহনাগুলোর মূল্য ১০২ মিলিয়ন ডলার। সরকারি কৌসুঁলি লর বেকু এই অর্থমূল্যের কথা জানিয়েছেন। দিনের আলোয় সংঘটিত এই চুরির ঘটনায় বিতর্কের মুখে পড়েছে ফরাসি সরকার।
মঙ্গলবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেকু বলেন, এই ক্ষতি শুধু অর্থনৈতিক নয়; বরং এটি ইতিহাসেরও অপূরণীয় ক্ষতি। ল্যুভর জাদুঘরের কিউরেটর এই ক্ষতির পরিমাণ ৮৮ মিলিয়ন ইউরো (১০২ মিলিয়ন ডলার) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
চুরি হওয়া আটটি গহনার মধ্যে ছিল উনবিংশ শতকের প্রথম দিকের রানি মেরি-আমেলি ও রানি হর্টেন্সের ব্যবহৃত টায়ারা ও কানের দুল। তবে সম্রাজ্ঞী ইউজেনির মুকুটটি জাদুঘরের বাইরে পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে পালানোর সময় চোরেরা এটি ফেলে গেছে।
জানা গেছে, চারজন মুখোশধারী চোর ক্রেন ব্যবহার করে জাদুঘরের অ্যাপোলো গ্যালারির একটি জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। ফ্রান্সের রাজকীয় গহনাগুলোর সংগ্রহশালা হিসেবে পরিচিত ওই গ্যালারি থেকে তারা সাত মিনিটের মধ্যে গহনা নিয়ে পালিয়ে যায় মোটরসাইকেলে।
এ ঘটনায় জাদুঘরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বুধবার জাদুঘরের পরিচালক লরেন্স দে কার ফরাসি সিনেটের সংস্কৃতি কমিটির সামনে হাজির হবেন। এর আগে তিনি চলতি বছরের জানুয়ারিতে সংস্কৃতি মন্ত্রী রাশিদা দাতিকে সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, জাদুঘরের ভবনের অবকাঠামোগত জীর্ণতা উদ্বেগজনক এবং জরুরি সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।
সম্প্রতি ফ্রান্সের বিভিন্ন জাদুঘরে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটছে। গত মাসে প্যারিসের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম থেকে ১৫ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের স্বর্ণখণ্ড চুরি হয়। ওই ঘটনায় এক ২৪ বছর বয়সী চীনা নারীকে বার্সেলোনায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি প্রায় এক কেজি গলানো স্বর্ণের টুকরো বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। একই মাসে মধ্য ফ্রান্সের লিমোজ শহরের একটি জাদুঘর থেকেও দুটি থালা ও একটি ফুলদানি চুরি হয়। যেগুলোর মূল্য ছিল ৭ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ল্যুভর জাদুঘরে নিরাপত্তা সংস্কারের কাজে ধারাবাহিক বিলম্ব ঘটেছে। অডিট রিপোর্টে বলা হয়েছে, জাদুঘরের কেবল এক-চতুর্থাংশে ভিডিও নজরদারি রয়েছে।
শ্রমিক সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়লেও নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা কমানো হয়েছে। জাদুঘরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৮ দশমিক ৯ মিলিয়ন মানুষ এবং গত বছর ৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন মানুষ ল্যুভর পরিদর্শন করেছেন।
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই জাদুঘরের প্রবেশমূল্যও ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বাড়তে যাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দর্শনার্থীদের জন্য টিকিটের মূল্য ২২ ইউরো থেকে বাড়িয়ে ৩০ ইউরো নির্ধারণের পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র: আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২২ অক্টোবর, ২০২৫, 6:55 PM
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের বিখ্যাত ল্যুভর জাদুঘর থেকে থেকে চুরি হওয়া গহনাগুলোর মূল্য ১০২ মিলিয়ন ডলার। সরকারি কৌসুঁলি লর বেকু এই অর্থমূল্যের কথা জানিয়েছেন। দিনের আলোয় সংঘটিত এই চুরির ঘটনায় বিতর্কের মুখে পড়েছে ফরাসি সরকার।
মঙ্গলবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেকু বলেন, এই ক্ষতি শুধু অর্থনৈতিক নয়; বরং এটি ইতিহাসেরও অপূরণীয় ক্ষতি। ল্যুভর জাদুঘরের কিউরেটর এই ক্ষতির পরিমাণ ৮৮ মিলিয়ন ইউরো (১০২ মিলিয়ন ডলার) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
চুরি হওয়া আটটি গহনার মধ্যে ছিল উনবিংশ শতকের প্রথম দিকের রানি মেরি-আমেলি ও রানি হর্টেন্সের ব্যবহৃত টায়ারা ও কানের দুল। তবে সম্রাজ্ঞী ইউজেনির মুকুটটি জাদুঘরের বাইরে পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে পালানোর সময় চোরেরা এটি ফেলে গেছে।
জানা গেছে, চারজন মুখোশধারী চোর ক্রেন ব্যবহার করে জাদুঘরের অ্যাপোলো গ্যালারির একটি জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। ফ্রান্সের রাজকীয় গহনাগুলোর সংগ্রহশালা হিসেবে পরিচিত ওই গ্যালারি থেকে তারা সাত মিনিটের মধ্যে গহনা নিয়ে পালিয়ে যায় মোটরসাইকেলে।
এ ঘটনায় জাদুঘরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বুধবার জাদুঘরের পরিচালক লরেন্স দে কার ফরাসি সিনেটের সংস্কৃতি কমিটির সামনে হাজির হবেন। এর আগে তিনি চলতি বছরের জানুয়ারিতে সংস্কৃতি মন্ত্রী রাশিদা দাতিকে সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, জাদুঘরের ভবনের অবকাঠামোগত জীর্ণতা উদ্বেগজনক এবং জরুরি সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।
সম্প্রতি ফ্রান্সের বিভিন্ন জাদুঘরে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটছে। গত মাসে প্যারিসের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম থেকে ১৫ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের স্বর্ণখণ্ড চুরি হয়। ওই ঘটনায় এক ২৪ বছর বয়সী চীনা নারীকে বার্সেলোনায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি প্রায় এক কেজি গলানো স্বর্ণের টুকরো বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। একই মাসে মধ্য ফ্রান্সের লিমোজ শহরের একটি জাদুঘর থেকেও দুটি থালা ও একটি ফুলদানি চুরি হয়। যেগুলোর মূল্য ছিল ৭ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ল্যুভর জাদুঘরে নিরাপত্তা সংস্কারের কাজে ধারাবাহিক বিলম্ব ঘটেছে। অডিট রিপোর্টে বলা হয়েছে, জাদুঘরের কেবল এক-চতুর্থাংশে ভিডিও নজরদারি রয়েছে।
শ্রমিক সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে, দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়লেও নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা কমানো হয়েছে। জাদুঘরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৮ দশমিক ৯ মিলিয়ন মানুষ এবং গত বছর ৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন মানুষ ল্যুভর পরিদর্শন করেছেন।
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় এই জাদুঘরের প্রবেশমূল্যও ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বাড়তে যাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দর্শনার্থীদের জন্য টিকিটের মূল্য ২২ ইউরো থেকে বাড়িয়ে ৩০ ইউরো নির্ধারণের পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ। সূত্র: আল জাজিরা