চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
১৫ অক্টোবর, ২০২৫, 6:03 PM
উপমহাদেশের প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক সাধক হযরত গাউসুল আযম শাহসুফি সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভাণ্ডারী (ক.)-এর ১৬০তম খোশরোজ শরীফ চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে তিন দিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)-এর চেয়ারম্যান ও দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন হযরত শাহ সুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী (মা.জি.আ.) বলেছেন, তাসাউফের আলোকেই এমন একটি সমাজ গঠন করা সম্ভব, যেখানে হিংসা নেই, বিদ্বেষ নেই—আছে শুধু মানবতা, ভালোবাসা ও নিরাপত্তাবোধ। মঙ্গলবার, খোশরোজ শরীফের শেষ দিনে আখেরি মোনাজাতের পূর্বে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে মাইজভাণ্ডার দরবার প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে 'নারায়ে তাকবীরুআল্লাহু আকবার', 'নারায়ে রিসালাতু ইয়া রাসুলাল্লাহ (দঃ)' ও 'আল্লাহু আল্লাহু' ধ্বনিতে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত লাখো ভক্ত আধ্যাত্মিক পরিবেশে আত্মনিবেদনে মগ্ন হন।
শাহ সুফি সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, হাজার বছরের ধর্মীয় সহনশীলতা ও সম্প্রীতির যে ঐতিহ্য নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে, তার ভিত্তি রচনা করেছেন আউলিয়ায়ে কেরাম। তিনি মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের মাশায়েখগণকে তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে মানুষের আত্মিক উন্নয়ন ও সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করার জন্য স্মরণ করে বলেন, যতদিন এ তাসাউফের দর্শন টিকে থাকবে, ততদিন সমাজে শান্তি থাকবে এবং উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিতে পারবে না।
তিনি এই মাহফিলকে কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি “আধ্যাত্মিক আন্দোলন” হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাঁর মতে, এ দরবারে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে এক আত্মিক বন্ধনে আবদ্ধ হন, যেখানে শুধু ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও মানবতার বাণী উচ্চারিত হয়।
খোশরোজ শরীফের শেষ দিনে আখেরি মোনাজাতে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা, হেদায়েত ও শান্তির আকুতি জানানো হয়। একই সাথে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর মঙ্গল কামনার পাশাপাশি ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও মুক্তি কামনা করা হয়। দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন হযরত শাহ সুফি সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী (মা.জি.আ.) মোনাজাত পরিচালনা করেন, এসময় লাখো কণ্ঠে উচ্চারিত হয় "আমীন আমীন" ধ্বনি।
আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়াসহ বিভিন্ন সংগঠনের ব্যবস্থাপনায় কর্মসূচির মধ্যে ছিল খতমে কোরআন, খতমে গাউসিয়া, রওজায় গিলাফ ছড়ানো, ফ্রি চিকিৎসা সেবা, ছেমা কাওয়ালী, ওয়াজ-মিলাদ মাহফিল এবং তবারক বিতরণ।
মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মইনীয়া যুব ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা শাহজাদা সৈয়দ মেহবুবে মইনুদ্দীন (মা.জি.আ.), সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ মাশুক এ মইনুদ্দীন এবং আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার সাধারণ সম্পাদক খলিফা শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান মাইজভাণ্ডারী। মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় এই মাহফিলে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নেতৃবৃন্দ, দেশবরেণ্য পীর-মাশায়েখ ও আলেম-ওলামাগণও উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম প্রতিবেদক
১৫ অক্টোবর, ২০২৫, 6:03 PM
উপমহাদেশের প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক সাধক হযরত গাউসুল আযম শাহসুফি সৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাভাণ্ডারী (ক.)-এর ১৬০তম খোশরোজ শরীফ চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে তিন দিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি)-এর চেয়ারম্যান ও দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন হযরত শাহ সুফি সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী (মা.জি.আ.) বলেছেন, তাসাউফের আলোকেই এমন একটি সমাজ গঠন করা সম্ভব, যেখানে হিংসা নেই, বিদ্বেষ নেই—আছে শুধু মানবতা, ভালোবাসা ও নিরাপত্তাবোধ। মঙ্গলবার, খোশরোজ শরীফের শেষ দিনে আখেরি মোনাজাতের পূর্বে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে মাইজভাণ্ডার দরবার প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে 'নারায়ে তাকবীরুআল্লাহু আকবার', 'নারায়ে রিসালাতু ইয়া রাসুলাল্লাহ (দঃ)' ও 'আল্লাহু আল্লাহু' ধ্বনিতে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত লাখো ভক্ত আধ্যাত্মিক পরিবেশে আত্মনিবেদনে মগ্ন হন।
শাহ সুফি সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, হাজার বছরের ধর্মীয় সহনশীলতা ও সম্প্রীতির যে ঐতিহ্য নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে, তার ভিত্তি রচনা করেছেন আউলিয়ায়ে কেরাম। তিনি মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের মাশায়েখগণকে তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে মানুষের আত্মিক উন্নয়ন ও সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করার জন্য স্মরণ করে বলেন, যতদিন এ তাসাউফের দর্শন টিকে থাকবে, ততদিন সমাজে শান্তি থাকবে এবং উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিতে পারবে না।
তিনি এই মাহফিলকে কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি “আধ্যাত্মিক আন্দোলন” হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাঁর মতে, এ দরবারে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে এক আত্মিক বন্ধনে আবদ্ধ হন, যেখানে শুধু ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও মানবতার বাণী উচ্চারিত হয়।
খোশরোজ শরীফের শেষ দিনে আখেরি মোনাজাতে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা, হেদায়েত ও শান্তির আকুতি জানানো হয়। একই সাথে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর মঙ্গল কামনার পাশাপাশি ফিলিস্তিনসহ বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও মুক্তি কামনা করা হয়। দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন হযরত শাহ সুফি সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী (মা.জি.আ.) মোনাজাত পরিচালনা করেন, এসময় লাখো কণ্ঠে উচ্চারিত হয় "আমীন আমীন" ধ্বনি।
আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়াসহ বিভিন্ন সংগঠনের ব্যবস্থাপনায় কর্মসূচির মধ্যে ছিল খতমে কোরআন, খতমে গাউসিয়া, রওজায় গিলাফ ছড়ানো, ফ্রি চিকিৎসা সেবা, ছেমা কাওয়ালী, ওয়াজ-মিলাদ মাহফিল এবং তবারক বিতরণ।
মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মইনীয়া যুব ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা শাহজাদা সৈয়দ মেহবুবে মইনুদ্দীন (মা.জি.আ.), সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ মাশুক এ মইনুদ্দীন এবং আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার সাধারণ সম্পাদক খলিফা শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান মাইজভাণ্ডারী। মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় এই মাহফিলে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নেতৃবৃন্দ, দেশবরেণ্য পীর-মাশায়েখ ও আলেম-ওলামাগণও উপস্থিত ছিলেন।