নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ অক্টোবর, ২০২৫, 7:17 PM
বিশ্ব শোভন কর্ম দিবস-২০২৫ উপলক্ষে বাংলাদেশের নারী ও কন্যা শিশুর জন্য নিরাপদ ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সরব হলো জেন্ডার প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ (Gender Platform Bangladesh)। আজ সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে প্ল্যাটফর্মটি আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুসমর্থন সহ শ্রম আইন সংশোধন ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিলস নির্বাহী পরিচালক ও শ্রম সংস্কার কমিশন-২০২৪ এর প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ, অ্যাডভোকেট মোঃ নাসিম, সবুজের অভিযান ফাউন্ডেশন এর মাহমুদা বেগম এবং আওয়াজ ফাউন্ডেশন এর নাজমা আক্তার বক্তব্য রাখেন।
নারী নির্যাতনের উদ্বেগজনক চিত্র
জেন্ডার প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যদিও সরকার আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুসমর্থন এবং “কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন, ২০২৪”-এর খসড়া আইন পাশের উদ্যোগ নিয়েছে, তবুও নারী ও কন্যা শিশুর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনা বেড়েই চলেছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ৯ (নয়) মাসে মোট ৫৭৬ জন ধর্ষণের শিকার হন, যার মধ্যে ২৯৫ জনের বয়স ১৮ বছর বা তার কম।
বিলস (BILS) এর সংবাদপত্র জরিপ অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ২৬ জন নারী কর্মী হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হন এবং এ সময় ১৩টি গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
প্লাটফর্মের সদস্য সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর পরিচালক নাজমা ইয়াসমীন লিখিত বক্তব্যে জানান, যথাযথ আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ নিশ্চিত করা ছাড়া এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
গবেষণায় প্রমাণিত প্রতিকারমূলক কৌশল
তৈরি পোশাক খাতের অভিযোগ কমিটির কার্যকারিতা নিয়ে বিলস পরিচালিত একটি গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, নিম্নলিখিত উদ্যোগগুলো কর্মস্থলে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখে:
কারখানার কর্মী ও মিড লেভেল ম্যানেজমেন্ট এর জন্য লিঙ্গ-ভিত্তিক হয়রানি ও সহিংসতা বিষয়ক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ।
কারখানায় 'শূণ্য সহনশীল হয়রানি নীতি' প্রবর্তন।
ট্রেড ইউনিয়নের মতামতের গুরুত্ব দিয়ে অভিযোগ কমিটির সদস্য নির্বাচন।
কমিটির সদস্যদের মাধ্যমে নিয়োগকারী ও কর্মীদের কাউন্সিলিং ব্যবস্থা।
সরকারের কাছে জেন্ডার প্ল্যাটফর্মের সুনির্দিষ্ট দাবি
জেন্ডার প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সংবাদ সম্মেলন থেকে নারী ও কন্যা শিশুর শোভন কর্মপরিবেশ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে আটটি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেছে:
১. আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুসমর্থন: কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি নিরসন বিষয়ক আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুসমর্থনের চলমান কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
২. যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন দ্রুত চূড়ান্তকরণ: “কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন”টি দ্রুত চূড়ান্ত করে গেজেট ঘোষণা করা।
৩. উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন: যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০০৯ সালের উচ্চ আদালতের নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন এবং সরকারি উদ্যোগে একটি তদারকি কমিটি গঠন করা।
৪. দ্রুত বিচার ও আইন সংশোধন: যৌন হয়রানি প্রতিরোধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিচার নিষ্পত্তি করা ও বৈষম্যমূলক আইন সংশোধন করা।
৫. শ্রম বিধিমালা সংশোধন: বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ এর সংশোধনীতে উল্লেখিত নারীর প্রতি আচরণ সংক্রান্ত নতুন বিধি ৩৬১ক এবং অভিযোগ কমিটি গঠন প্রক্রিয়া উচ্চ আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে করা।
৬. সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন: নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন ও শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত সুপারিশসমূহের দ্রুত বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া।
৭. নারী বান্ধব কর্মপরিবেশ: নারী বান্ধব ও বৈষম্যহীন শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশসমূহের দ্রুত বাস্তবায়ন করা।
৮. বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রকাশ: দুই কমিশনের সুপারিশসমূহ পর্যালোচনা করে অতিদ্রুত বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রকাশ করা।
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ অক্টোবর, ২০২৫, 7:17 PM
বিশ্ব শোভন কর্ম দিবস-২০২৫ উপলক্ষে বাংলাদেশের নারী ও কন্যা শিশুর জন্য নিরাপদ ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সরব হলো জেন্ডার প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ (Gender Platform Bangladesh)। আজ সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে প্ল্যাটফর্মটি আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুসমর্থন সহ শ্রম আইন সংশোধন ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিলস নির্বাহী পরিচালক ও শ্রম সংস্কার কমিশন-২০২৪ এর প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ, অ্যাডভোকেট মোঃ নাসিম, সবুজের অভিযান ফাউন্ডেশন এর মাহমুদা বেগম এবং আওয়াজ ফাউন্ডেশন এর নাজমা আক্তার বক্তব্য রাখেন।
নারী নির্যাতনের উদ্বেগজনক চিত্র
জেন্ডার প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যদিও সরকার আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুসমর্থন এবং “কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন, ২০২৪”-এর খসড়া আইন পাশের উদ্যোগ নিয়েছে, তবুও নারী ও কন্যা শিশুর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনা বেড়েই চলেছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ৯ (নয়) মাসে মোট ৫৭৬ জন ধর্ষণের শিকার হন, যার মধ্যে ২৯৫ জনের বয়স ১৮ বছর বা তার কম।
বিলস (BILS) এর সংবাদপত্র জরিপ অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ২৬ জন নারী কর্মী হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হন এবং এ সময় ১৩টি গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
প্লাটফর্মের সদস্য সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর পরিচালক নাজমা ইয়াসমীন লিখিত বক্তব্যে জানান, যথাযথ আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ নিশ্চিত করা ছাড়া এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
গবেষণায় প্রমাণিত প্রতিকারমূলক কৌশল
তৈরি পোশাক খাতের অভিযোগ কমিটির কার্যকারিতা নিয়ে বিলস পরিচালিত একটি গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, নিম্নলিখিত উদ্যোগগুলো কর্মস্থলে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখে:
কারখানার কর্মী ও মিড লেভেল ম্যানেজমেন্ট এর জন্য লিঙ্গ-ভিত্তিক হয়রানি ও সহিংসতা বিষয়ক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ।
কারখানায় 'শূণ্য সহনশীল হয়রানি নীতি' প্রবর্তন।
ট্রেড ইউনিয়নের মতামতের গুরুত্ব দিয়ে অভিযোগ কমিটির সদস্য নির্বাচন।
কমিটির সদস্যদের মাধ্যমে নিয়োগকারী ও কর্মীদের কাউন্সিলিং ব্যবস্থা।
সরকারের কাছে জেন্ডার প্ল্যাটফর্মের সুনির্দিষ্ট দাবি
জেন্ডার প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সংবাদ সম্মেলন থেকে নারী ও কন্যা শিশুর শোভন কর্মপরিবেশ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে আটটি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেছে:
১. আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুসমর্থন: কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি নিরসন বিষয়ক আইএলও কনভেনশন ১৯০ অনুসমর্থনের চলমান কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
২. যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন দ্রুত চূড়ান্তকরণ: “কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন”টি দ্রুত চূড়ান্ত করে গেজেট ঘোষণা করা।
৩. উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন: যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০০৯ সালের উচ্চ আদালতের নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন এবং সরকারি উদ্যোগে একটি তদারকি কমিটি গঠন করা।
৪. দ্রুত বিচার ও আইন সংশোধন: যৌন হয়রানি প্রতিরোধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিচার নিষ্পত্তি করা ও বৈষম্যমূলক আইন সংশোধন করা।
৫. শ্রম বিধিমালা সংশোধন: বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ এর সংশোধনীতে উল্লেখিত নারীর প্রতি আচরণ সংক্রান্ত নতুন বিধি ৩৬১ক এবং অভিযোগ কমিটি গঠন প্রক্রিয়া উচ্চ আদালতের নির্দেশনার ভিত্তিতে করা।
৬. সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন: নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন ও শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত সুপারিশসমূহের দ্রুত বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া।
৭. নারী বান্ধব কর্মপরিবেশ: নারী বান্ধব ও বৈষম্যহীন শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশসমূহের দ্রুত বাস্তবায়ন করা।
৮. বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রকাশ: দুই কমিশনের সুপারিশসমূহ পর্যালোচনা করে অতিদ্রুত বাস্তবায়নের রূপরেখা প্রকাশ করা।