CKEditor 5 Sample
ঢাকা ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

ডিএনসিসি চালু করলো ডেঙ্গু ড্যাশবোর্ড ও এআই চ্যাটবট

#
news image


ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা ও নগরবাসীকে রিয়েল-টাইম তথ্য সরবরাহের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ডিএনসিসি তাদের ওয়েবসাইটে “ডিএনসিসি ডেঙ্গু ওয়াচ” নামক একটি অত্যাধুনিক ডেঙ্গু ড্যাশবোর্ড চালু করেছে, যা বাংলাদেশে প্রথম। ইউএনডিপি এবং ডিএনসিসি'র যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ডিএনসিসি ইনোভেশন ল্যাব এই ড্যাশবোর্ডটি তৈরি করেছে। ড্যাশবোর্ড চালুর ফলে নাগরিকরা এখন তাদের ওয়ার্ড এবং এলাকার ডেঙ্গু ঝুঁকির মাত্রা সম্পর্কে সরাসরি অবহিত হতে পারছেন।
ড্যাশবোর্ডে কী আছে?
এই উন্মুক্ত ডেঙ্গু তথ্যভান্ডারটি ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করে উপস্থাপন করে—রোগীর সংখ্যা ও ঝুঁকির মাত্রা।
তথ্যের বিভাগ    মূল সূচকসমূহ    তথ্যের হালনাগাদ
পরিসংখ্যানের সারসংক্ষেপ    ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি, চলতি বছরের মোট আক্রান্ত, মাস ও সাপ্তাহিক প্রবণতা (আক্রান্ত ও মৃত্যু)।    দৈনিক
মশা ও লার্ভা সূচক    প্রাপ্তবয়স্ক মশার সংখ্যা (ট্র্যাপ থেকে), ব্রেটো সূচক (Breteau Index), কন্টেইনার সূচক (Container Index), হাউস সূচক (House Index)।    সাপ্তাহিক
ডেঙ্গু ঝুঁকি মানচিত্র    ওয়ার্ড ভিত্তিক ঝুঁকির মাত্রা (০-১০০%) এক্সপোজার ও ভালনারেবিলিটি সূচক দ্বারা নির্ধারিত।    সাপ্তাহিক

Export to Sheets
১. ডেঙ্গু ঝুঁকি মানচিত্র ও র‍্যাংকিং

ড্যাশবোর্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ডেঙ্গু ঝুঁকি মানচিত্র, যা ওয়ার্ড ভিত্তিক ঝুঁকির মাত্রা চিত্রায়িত করে।

ঝুঁকি সূচক তৈরি: রোগীর সংখ্যা, মশার সংখ্যা, লার্ভা সূচক (Exposure) এবং মৃত্যুর সংখ্যা ও জনসংখ্যার ঘনত্ব (Vulnerability) এই দুটি সূচকের ওজনভিত্তিক গড় (Weighted Average) হিসাব করে ০ থেকে ১০০% এর মধ্যে একটি সমন্বিত ঝুঁকি সূচক (Composite Risk Index) তৈরি করা হয়।

ঝুঁকির স্তর: এই সূচকের ভিত্তিতে ঝুঁকিকে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়—নিম্ন ঝুঁকি (০%-৩৩%, সবুজ), মধ্যম ঝুঁকি (৩৪%-৬৬%, হলুদ), এবং উচ্চ ঝুঁকি (৬৭%-১০০%, লাল)।

স্বচ্ছতা: মানচিত্রের পাশাপাশি ওয়ার্ডগুলোর ঝুঁকি সূচকের ভিত্তিতে র‍্যাংকিংও দেখানো হয়, যা নাগরিকদের তাদের এলাকার ঝুঁকি সহজে বুঝতে সাহায্য করে।

২. পূর্বাভাসমূলক সুবিধা

ডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে:

ব্রেটো সূচক বাড়লে সাধারণত ৪ থেকে ৫ সপ্তাহ পর হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

প্রাপ্তবয়স্ক মশার সংখ্যা বাড়লে সাধারণত ১ থেকে ২ সপ্তাহ পর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

ডিএনসিসির কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, এই পূর্বাভাসমূলক ক্ষমতা এখন দ্রুত ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করছে।

নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা
ড্যাশবোর্ডে নাগরিক সুবিধার জন্য আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যুক্ত করা হয়েছে:

মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সময়সূচি: এলাকা ভিত্তিক মশক নিধনের সময়সূচী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ফোন নম্বর।

হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা: এলাকাভিত্তিক হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা।

এআই (AI) ভিত্তিক ডেঙ্গু চ্যাটবট চালু
নাগরিকদের আরও সহজে তথ্য পাওয়ার জন্য ড্যাশবোর্ডের পাশাপাশি এআই (AI) ভিত্তিক ডিএনসিসি ডেঙ্গু চ্যাটবট চালু করা হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ০১৩৪১৮৩১৮৮৮-এ মেসেজিংয়ের মাধ্যমে নাগরিকরা ডেঙ্গু সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নের উত্তর পাবেন।

তথ্যের উৎস: রোগী ও মৃত্যুর তথ্য আসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS) থেকে, এবং মশা ও লার্ভা সূচকের তথ্য আসে ডিএনসিসি-জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত Mosquito Surveillance Program থেকে।

ড্যাশবোর্ডটি উন্মুক্ত হওয়ায় সাধারণ নাগরিকরা এখন তাদের এলাকার পরিস্থিতি এক নজরে জানতে পারছেন, যা একদিকে তথ্যের স্বচ্ছতা বাড়িয়েছে, অন্যদিকে নাগরিকদের নিজেদের এলাকায় সতর্ক থাকতে সাহায্য করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ অক্টোবর, ২০২৫,  3:45 PM

news image


ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা ও নগরবাসীকে রিয়েল-টাইম তথ্য সরবরাহের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ডিএনসিসি তাদের ওয়েবসাইটে “ডিএনসিসি ডেঙ্গু ওয়াচ” নামক একটি অত্যাধুনিক ডেঙ্গু ড্যাশবোর্ড চালু করেছে, যা বাংলাদেশে প্রথম। ইউএনডিপি এবং ডিএনসিসি'র যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ডিএনসিসি ইনোভেশন ল্যাব এই ড্যাশবোর্ডটি তৈরি করেছে। ড্যাশবোর্ড চালুর ফলে নাগরিকরা এখন তাদের ওয়ার্ড এবং এলাকার ডেঙ্গু ঝুঁকির মাত্রা সম্পর্কে সরাসরি অবহিত হতে পারছেন।
ড্যাশবোর্ডে কী আছে?
এই উন্মুক্ত ডেঙ্গু তথ্যভান্ডারটি ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করে উপস্থাপন করে—রোগীর সংখ্যা ও ঝুঁকির মাত্রা।
তথ্যের বিভাগ    মূল সূচকসমূহ    তথ্যের হালনাগাদ
পরিসংখ্যানের সারসংক্ষেপ    ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি, চলতি বছরের মোট আক্রান্ত, মাস ও সাপ্তাহিক প্রবণতা (আক্রান্ত ও মৃত্যু)।    দৈনিক
মশা ও লার্ভা সূচক    প্রাপ্তবয়স্ক মশার সংখ্যা (ট্র্যাপ থেকে), ব্রেটো সূচক (Breteau Index), কন্টেইনার সূচক (Container Index), হাউস সূচক (House Index)।    সাপ্তাহিক
ডেঙ্গু ঝুঁকি মানচিত্র    ওয়ার্ড ভিত্তিক ঝুঁকির মাত্রা (০-১০০%) এক্সপোজার ও ভালনারেবিলিটি সূচক দ্বারা নির্ধারিত।    সাপ্তাহিক

Export to Sheets
১. ডেঙ্গু ঝুঁকি মানচিত্র ও র‍্যাংকিং

ড্যাশবোর্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ডেঙ্গু ঝুঁকি মানচিত্র, যা ওয়ার্ড ভিত্তিক ঝুঁকির মাত্রা চিত্রায়িত করে।

ঝুঁকি সূচক তৈরি: রোগীর সংখ্যা, মশার সংখ্যা, লার্ভা সূচক (Exposure) এবং মৃত্যুর সংখ্যা ও জনসংখ্যার ঘনত্ব (Vulnerability) এই দুটি সূচকের ওজনভিত্তিক গড় (Weighted Average) হিসাব করে ০ থেকে ১০০% এর মধ্যে একটি সমন্বিত ঝুঁকি সূচক (Composite Risk Index) তৈরি করা হয়।

ঝুঁকির স্তর: এই সূচকের ভিত্তিতে ঝুঁকিকে তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়—নিম্ন ঝুঁকি (০%-৩৩%, সবুজ), মধ্যম ঝুঁকি (৩৪%-৬৬%, হলুদ), এবং উচ্চ ঝুঁকি (৬৭%-১০০%, লাল)।

স্বচ্ছতা: মানচিত্রের পাশাপাশি ওয়ার্ডগুলোর ঝুঁকি সূচকের ভিত্তিতে র‍্যাংকিংও দেখানো হয়, যা নাগরিকদের তাদের এলাকার ঝুঁকি সহজে বুঝতে সাহায্য করে।

২. পূর্বাভাসমূলক সুবিধা

ডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে:

ব্রেটো সূচক বাড়লে সাধারণত ৪ থেকে ৫ সপ্তাহ পর হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

প্রাপ্তবয়স্ক মশার সংখ্যা বাড়লে সাধারণত ১ থেকে ২ সপ্তাহ পর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

ডিএনসিসির কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, এই পূর্বাভাসমূলক ক্ষমতা এখন দ্রুত ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করছে।

নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা
ড্যাশবোর্ডে নাগরিক সুবিধার জন্য আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যুক্ত করা হয়েছে:

মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সময়সূচি: এলাকা ভিত্তিক মশক নিধনের সময়সূচী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ফোন নম্বর।

হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা: এলাকাভিত্তিক হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা।

এআই (AI) ভিত্তিক ডেঙ্গু চ্যাটবট চালু
নাগরিকদের আরও সহজে তথ্য পাওয়ার জন্য ড্যাশবোর্ডের পাশাপাশি এআই (AI) ভিত্তিক ডিএনসিসি ডেঙ্গু চ্যাটবট চালু করা হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ০১৩৪১৮৩১৮৮৮-এ মেসেজিংয়ের মাধ্যমে নাগরিকরা ডেঙ্গু সংক্রান্ত যেকোনো প্রশ্নের উত্তর পাবেন।

তথ্যের উৎস: রোগী ও মৃত্যুর তথ্য আসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS) থেকে, এবং মশা ও লার্ভা সূচকের তথ্য আসে ডিএনসিসি-জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত Mosquito Surveillance Program থেকে।

ড্যাশবোর্ডটি উন্মুক্ত হওয়ায় সাধারণ নাগরিকরা এখন তাদের এলাকার পরিস্থিতি এক নজরে জানতে পারছেন, যা একদিকে তথ্যের স্বচ্ছতা বাড়িয়েছে, অন্যদিকে নাগরিকদের নিজেদের এলাকায় সতর্ক থাকতে সাহায্য করছে।