CKEditor 5 Sample
ঢাকা ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

অস্তিত্ব সংকটে ইরানের ধর্মীয় শাসকেরা?

#
news image

ইরানের ধর্মীয় শাসকেরা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে অন্যতম সবচেয়ে গুরুতর সংকটে পড়েছে। দেশের ভেতরে বাড়তে থাকা অসন্তোষ এবং স্থবির পারমাণবিক চুক্তির কারণে দেশটি আরও বেশি বিচ্ছিন্ন ও বিভক্ত হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ শনিবার ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেছে। কারণ তেহরান ও ইউরোপীয় শক্তি- ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে শেষ মুহূর্তের আলোচনাও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দশকের পর দশক ধরে চলা অচলাবস্থার সর্বশেষ অধ্যায় সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে।  
পশ্চিমাদের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ার পর, ইরানের চারজন কর্মকর্তা ও দুইজন অভ্যন্তরীণ সূত্র ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ইরানের অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা আরও তীব্র হবে এবং তা জনরোষকে উসকে দেবে।
তারা আরও বলেছেন, পশ্চিমাদের দাবিতে রাজি হলে শাসকগোষ্ঠী ভেঙে পড়তে পারে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সেই বিপ্লবী বিশ্বাস-পশ্চিমা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করা; যা তেহরানের অনমনীয় অবস্থানকে সংজ্ঞায়িত করে, তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এক কর্মকর্তা বলেন, ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠী এখন চরম দোটানায় আটকে গেছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। আমাদের জনগণ আর অর্থনৈতিক চাপ বা নতুন কোনও যুদ্ধ সামলাতে পারবে না।
দ্বিতীয় এক কর্মকর্তা জানান, এমন পরিস্থিতিতে তেহরানে উদ্বেগ বাড়ছে যে, পশ্চিমাদের সঙ্গে পারমাণবিক কূটনীতি ব্যর্থ হলে ইসরায়েল আবারও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে।
জুনে টানা ১২ দিনের যুদ্ধে তেহরান হতবাক হয়েছিল। ওই সময় ইসরায়েল বিমান হামলা এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। অথচ এর একদিন আগে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ষষ্ঠ দফা আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুনরায় শুরু করলে, তারা আবারও আঘাত হানতে দ্বিধা করবে না।
সাবেক আইনপ্রণেতা গোলামালি জাফরজাদে ইমেনাবাদি বৃহস্পতিবার ইরানি গণমাধ্যমকে বলেন,  ইসরায়েলের আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বর্তমান দৃঢ় সমর্থনের কারণে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট বড়।  
ইরানি কর্তৃপক্ষ বলেছে, নতুন নিষেধাজ্ঞা তাদের আরও কঠোর পারমাণবিক অবস্থানের দিকে ঠেলে দেবে। তবে ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কা তাদের সামনে কৌশলগত সুযোগ সীমিত করে ফেলেছে।
এক সাবেক সংস্কারপন্থি উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, তেহরান কঠোর পদক্ষেপ নেবে। কারণ ইরানের শাসকগোষ্ঠীর ভেতরে বিভাজন বাড়ছে—কেউ চাইছে কঠোর অবস্থান নিতে। আবার কেউ প্রতিরোধ করছে আশঙ্কায় যে এতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ভেঙে পড়তে পারে।

ফেব্রুয়ারি থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আর সামরিক হুমকিসহ ‘সর্বোচ্চ চাপ’ অভিযান পুনরায় শুরু করেছেন। এই পরিস্থিতিতে তেহরানের কিছু সিদ্ধান্তগ্রহণকারী মনে করছেন যে, কোনো ঝুঁকি নেয়া বা যুক্তরাষ্ট্রকে অতিরিক্ত সুবিধা না দিয়ে, বর্তমান অবস্থাকে ধরে রাখা—অর্থাৎ যুদ্ধ না করা, নতুন কোনো চুক্তি না করা এবং আলোচনাকে চালিয়ে যাওয়া—এটাই তাদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ এবং বাস্তবসম্মত কৌশল।
নতুন জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়বে। এতে ইরান যেসব দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা করত, এবং যেগুলো আগে একতরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেছিল, তাদের সঙ্গে বাণিজ্যও আরও সীমিত হয়ে যাবে।
জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে ইরানের তেল, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে সীমাবদ্ধতা, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণে নিষেধাজ্ঞা, পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কিত কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা, বিশ্বব্যাপী সম্পদ জব্দ ও ইরানি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা।
তেহরানের চ্যালেঞ্জ আরও জটিল করে তুলেছে জনগণের বাড়তে থাকা ক্ষোভ। এই ক্ষোভের মূল কারণ হলো দেশের অর্থনৈতিক সংকটের অবনতির ফলে মানুষের জীবনে কষ্ট ও অশান্তি বৃদ্ধি পাওয়া।
অনেক ইরানি চিন্তিত যে জাতিসংঘের নতুন নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে দেবে। কারণ দেশটি ইতিমধ্যেই বহু বছরের নিষেধাজ্ঞা এবং খারাপ প্রশাসনের কারণে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
৩৬ বছর বয়সী দুই সন্তানের জননী শিমা ফোনে তেহরান থেকে রয়টার্সকে বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। আরও নিষেধাজ্ঞা মানে আরও অর্থনৈতিক চাপ। আমরা কীভাবে বাঁচব?”

ধর্মীয় নেতাদের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। কারণ দেশের অর্থনৈতিক সমস্যা এবং জনগণের রোষের কারণে সাধারণ মানুষ বড় ধরনের বিক্ষোভ করতে পারে। এই বিক্ষোভ শুধু দেশের ভিতরে সমস্যা সৃষ্টি করবে না, বরং আন্তর্জাতিকভাবে ইরানের মর্যাদা ও অবস্থানও আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
ইরানের সরকারি মুদ্রাস্ফীতির হার প্রায় ৪০ শতাংশ। তবে কেউ কেউ বলছে তা ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। রিয়ালের পতন ও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানি গণমাধ্যমে খাদ্যের দাম, বাসস্থান ও ইউটিলিটি খরচের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির খবর এসেছে।
চীন ইরানের প্রধান তেল ক্রেতা এবং এমন কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি যারা এখনও ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করছে। যদিও ২০১৮ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরমাণু চুক্তি পরিত্যাগ করার পর নিষেধাজ্ঞা আবার চালু হয়, কিন্তু চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ইরানকে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিকভাবে টিকিয়ে রেখেছে। তবে এখন জাতিসংঘের পুনর্বহালকৃত নিষেধাজ্ঞার কারণে এই রপ্তানি টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫,  7:49 PM

news image

ইরানের ধর্মীয় শাসকেরা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে অন্যতম সবচেয়ে গুরুতর সংকটে পড়েছে। দেশের ভেতরে বাড়তে থাকা অসন্তোষ এবং স্থবির পারমাণবিক চুক্তির কারণে দেশটি আরও বেশি বিচ্ছিন্ন ও বিভক্ত হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ শনিবার ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেছে। কারণ তেহরান ও ইউরোপীয় শক্তি- ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে শেষ মুহূর্তের আলোচনাও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দশকের পর দশক ধরে চলা অচলাবস্থার সর্বশেষ অধ্যায় সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে।  
পশ্চিমাদের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ার পর, ইরানের চারজন কর্মকর্তা ও দুইজন অভ্যন্তরীণ সূত্র ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, ইরানের অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা আরও তীব্র হবে এবং তা জনরোষকে উসকে দেবে।
তারা আরও বলেছেন, পশ্চিমাদের দাবিতে রাজি হলে শাসকগোষ্ঠী ভেঙে পড়তে পারে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সেই বিপ্লবী বিশ্বাস-পশ্চিমা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করা; যা তেহরানের অনমনীয় অবস্থানকে সংজ্ঞায়িত করে, তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এক কর্মকর্তা বলেন, ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠী এখন চরম দোটানায় আটকে গেছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অস্তিত্ব হুমকির মুখে। আমাদের জনগণ আর অর্থনৈতিক চাপ বা নতুন কোনও যুদ্ধ সামলাতে পারবে না।
দ্বিতীয় এক কর্মকর্তা জানান, এমন পরিস্থিতিতে তেহরানে উদ্বেগ বাড়ছে যে, পশ্চিমাদের সঙ্গে পারমাণবিক কূটনীতি ব্যর্থ হলে ইসরায়েল আবারও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে।
জুনে টানা ১২ দিনের যুদ্ধে তেহরান হতবাক হয়েছিল। ওই সময় ইসরায়েল বিমান হামলা এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। অথচ এর একদিন আগে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ষষ্ঠ দফা আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুনরায় শুরু করলে, তারা আবারও আঘাত হানতে দ্বিধা করবে না।
সাবেক আইনপ্রণেতা গোলামালি জাফরজাদে ইমেনাবাদি বৃহস্পতিবার ইরানি গণমাধ্যমকে বলেন,  ইসরায়েলের আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বর্তমান দৃঢ় সমর্থনের কারণে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট বড়।  
ইরানি কর্তৃপক্ষ বলেছে, নতুন নিষেধাজ্ঞা তাদের আরও কঠোর পারমাণবিক অবস্থানের দিকে ঠেলে দেবে। তবে ইসরায়েলি হামলার আশঙ্কা তাদের সামনে কৌশলগত সুযোগ সীমিত করে ফেলেছে।
এক সাবেক সংস্কারপন্থি উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, তেহরান কঠোর পদক্ষেপ নেবে। কারণ ইরানের শাসকগোষ্ঠীর ভেতরে বিভাজন বাড়ছে—কেউ চাইছে কঠোর অবস্থান নিতে। আবার কেউ প্রতিরোধ করছে আশঙ্কায় যে এতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ভেঙে পড়তে পারে।

ফেব্রুয়ারি থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আর সামরিক হুমকিসহ ‘সর্বোচ্চ চাপ’ অভিযান পুনরায় শুরু করেছেন। এই পরিস্থিতিতে তেহরানের কিছু সিদ্ধান্তগ্রহণকারী মনে করছেন যে, কোনো ঝুঁকি নেয়া বা যুক্তরাষ্ট্রকে অতিরিক্ত সুবিধা না দিয়ে, বর্তমান অবস্থাকে ধরে রাখা—অর্থাৎ যুদ্ধ না করা, নতুন কোনো চুক্তি না করা এবং আলোচনাকে চালিয়ে যাওয়া—এটাই তাদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ এবং বাস্তবসম্মত কৌশল।
নতুন জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়বে। এতে ইরান যেসব দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা করত, এবং যেগুলো আগে একতরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেছিল, তাদের সঙ্গে বাণিজ্যও আরও সীমিত হয়ে যাবে।
জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে ইরানের তেল, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে সীমাবদ্ধতা, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণে নিষেধাজ্ঞা, পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কিত কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা, বিশ্বব্যাপী সম্পদ জব্দ ও ইরানি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা।
তেহরানের চ্যালেঞ্জ আরও জটিল করে তুলেছে জনগণের বাড়তে থাকা ক্ষোভ। এই ক্ষোভের মূল কারণ হলো দেশের অর্থনৈতিক সংকটের অবনতির ফলে মানুষের জীবনে কষ্ট ও অশান্তি বৃদ্ধি পাওয়া।
অনেক ইরানি চিন্তিত যে জাতিসংঘের নতুন নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে দেবে। কারণ দেশটি ইতিমধ্যেই বহু বছরের নিষেধাজ্ঞা এবং খারাপ প্রশাসনের কারণে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
৩৬ বছর বয়সী দুই সন্তানের জননী শিমা ফোনে তেহরান থেকে রয়টার্সকে বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। আরও নিষেধাজ্ঞা মানে আরও অর্থনৈতিক চাপ। আমরা কীভাবে বাঁচব?”

ধর্মীয় নেতাদের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। কারণ দেশের অর্থনৈতিক সমস্যা এবং জনগণের রোষের কারণে সাধারণ মানুষ বড় ধরনের বিক্ষোভ করতে পারে। এই বিক্ষোভ শুধু দেশের ভিতরে সমস্যা সৃষ্টি করবে না, বরং আন্তর্জাতিকভাবে ইরানের মর্যাদা ও অবস্থানও আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
ইরানের সরকারি মুদ্রাস্ফীতির হার প্রায় ৪০ শতাংশ। তবে কেউ কেউ বলছে তা ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। রিয়ালের পতন ও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানি গণমাধ্যমে খাদ্যের দাম, বাসস্থান ও ইউটিলিটি খরচের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির খবর এসেছে।
চীন ইরানের প্রধান তেল ক্রেতা এবং এমন কয়েকটি দেশের মধ্যে একটি যারা এখনও ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করছে। যদিও ২০১৮ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরমাণু চুক্তি পরিত্যাগ করার পর নিষেধাজ্ঞা আবার চালু হয়, কিন্তু চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ইরানকে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিকভাবে টিকিয়ে রেখেছে। তবে এখন জাতিসংঘের পুনর্বহালকৃত নিষেধাজ্ঞার কারণে এই রপ্তানি টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স