ধর্ম ডেস্ক
০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, 7:12 PM
মহান আল্লাহ নিজের একটি পরিচয় দিয়েছেন ‘আল-খালিক’ শব্দে। পবিত্র কুরআনের অনেক জায়গায় তিনি এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন। ‘আল-খালিক’ শব্দের অর্থ সৃষ্টিকর্তা। তিনি তাঁর প্রজ্ঞা অনুসারে মহাবিশ্ব ও মহাজগৎ সৃষ্টি করেছেন, আকৃতি ও প্রাণ দান করেছেন। ‘আল-খালিক’ বলা হয় ওই সত্তাকে, যিনি সবকিছু শূন্য থেকে তৈরি করেন, তারপর তাদের গতিশীলতার বৈশিষ্ট্য এবং অন্যান্য গুণাবলি প্রদান করেন। তিনি যা চান, সেটা তাঁর ঐশ্বরিক জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা অনুসারে নিখুঁতভাবে সৃষ্টি করেন। সৃষ্টিকর্তা হতে পারেন একমাত্র আল্লাহ, বাকি সবকিছুই তাঁর সৃষ্টি। সবকিছুর ওপর তাঁর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
খালিক সবকিছু শূন্যতা থেকে সৃষ্টি করেন এবং অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে নিয়ে আসেন। আর মানুষ কেবল বিভিন্ন উপাদানকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর করে কোনো কিছু নির্মাণ করে। উদাহরণস্বরূপ, মানুষ চেয়ার বানানোর জন্য গাছ থেকে কাঠ সংগ্রহ করে। সেই কাঠের সঙ্গে অন্যান্য জিনিস একত্রিত করে চেয়ার বানিয়ে ফেলে। মানুষ কখনো শূন্য থেকে কিছু তৈরি করতে পারে না এবং পারবেও না। মানুষের আছে সীমাবদ্ধতা।
মানুষ কখনোই গভীর, জটিল, সুন্দরের মতো একটি অংশও তৈরি করতে পারবে না। যদি রাতের আকাশের দিকে তাকান, তা হলে প্রতিটি ক্ষুদ্র আলোর বিন্দুর দিকে খেয়াল করুন, এগুলোর প্রতিটিই আল্লাহর সৃষ্ট কোনো ছায়াপথে অনেক দূরে অবস্থিত একটি বিশাল নক্ষত্র। সেই নক্ষত্রের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট একটা গ্রহের ওপর আমরা বসবাস করছি, মহাকাশে ভেসে বেড়াচ্ছি এবং এটিই একমাত্র গ্রহ যা মানুষের জন্য বাসযোগ্য। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, ‘আসমানগুলো ও জমিনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের পরিবর্তনে নিদর্শনাবলি রয়েছে বোধশক্তি সম্পন্ন লোকদের জন্য’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৯০)। আপনি কি নিজেকে বোধগম্য ব্যক্তি বা ‘উলুল আলবাব’ বলে মনে করেন?
মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে সামান্য নোংরা তরল থেকে। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি শুক্রবিন্দুকে পরিণত করি রক্তপিণ্ডে, অতঃপর রক্তপিণ্ডকে পরিণত করি গোশতপিণ্ডে এবং গোশতপিণ্ডকে পরিণত করি অস্থিপিঞ্জরে। অতঃপর অস্থিপিঞ্জরকে ঢেকে দিই গোশত দ্বারা, অবশেষে ওকে গড়ে তুলি অন্য এক সৃষ্টিরূপে; অতএব সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কত মহান’ (সুরা মুমিনুন : ১৪)। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রায় ২০ থেকে ১০০ ট্রিলিয়ন মানব কোষ থাকে। কীভাবে একজন ব্যক্তিকে সামান্য নোংরা তরল থেকে সৃষ্টি করা যেতে পারে এবং এই ট্রিলিয়ন কোষের ভেতরে কীভাবে মানুষের তথ্য জমা থাকে, একটু সময় নিয়ে চিন্তা করি। এগুলো আমাদের জন্য নিদর্শন।
পৃথিবীতে এমন অনেক কিছু আছে যা আমরা পর্যবেক্ষণ করতে পারি না, যেমন সমুদ্রের গভীরতা, যা আমরা কেবল সাবমেরিন এবং বিশেষ সরঞ্জামের কারণে জানতে পারি, তাও খুবই সামান্য। যখন আমরা সমুদ্রের গভীরে বিভিন্ন প্রাণী, গাছপালা, গিরিপথ, পাহাড়-পর্বত সম্পর্কে জানতে পারি, তখন আমাদের বিস্ময় বৃদ্ধি পায় এবং মনে হয় আমরা যতবেশি শিখি, ততবেশি আমরা বুঝতে পারি যে কিছুই জানি না। আমাদের দেহ, আমাদের সন্তান, আমাদের পরিবেশ, আকাশ থেকে সমুদ্র, জীববিজ্ঞান, রসায়ন, ন্যানো প্রযুক্তি পর্যন্ত সর্বত্র আল্লাহর সৃষ্টিকে উপলব্ধি করতে হলে, সৃষ্টির আরও গভীরে প্রবেশ করতে হলে আল-খালিক নামটি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি ভীষণ ব্যস্ত জীবন কাটাচ্ছেন। বিভিন্ন সমস্যা আপনার জীবনে। আপনার মনকে শান্ত করার চেষ্টা করুন, সমস্যাগুলো ভুলে যান। বাইরে বের হয়ে হাঁটুন, একটি গাছের পাতা তুলে নিন অথবা একটি পাখি দেখুন। মনকে প্রতিদিন আল্লাহর সৃষ্টির কিছু না কিছু সত্যিকার অর্থে উপলব্ধি করার জন্য সময় দিন। ইসলাম এবং তাওহিদের (একত্ববাদ) গুরুত্বের সঙ্গে যুক্ত থাকার একটি দুর্দান্ত উপায় হলো যে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া উপাসনার যোগ্য আর কিছুই নেই এবং সেই সত্যের লক্ষণ যে পৃথিবীতে আমাদের চারপাশে রয়েছে, সেটা বুঝতে পারব ইনশাআল্লাহ।
এই নামের মাধ্যমে কীভাবে বেঁচে থাকা যায়?
আল-খালিকের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করুন। আপনার যা চাওয়ার, সব আল-খালিকের কাছে চান। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেরই আল্লাহর কাছে তার চাহিদা চাও, এমনকি যদি তোমার জুতার ফিতা ছিঁড়ে যায়, কারণ আল্লাহ যদি তা সহজ না করেন, তা হলে তা কখনোই সম্ভব হবে না’ (তিরমিজি)। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে মুমিনদের উচিত তাদের প্রতিটি ছোটখাটো প্রয়োজন আল্লাহর কাছে চাওয়া, এমনকি জুতার ফিতা ছিঁড়ে যাওয়ার মতো সাধারণ বিষয়েও। এর মানে হচ্ছে আমরা যেন আল্লাহর কাছে অতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়ও চাইতে কার্পণ্য না করি, সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখি, আল্লাহর ক্ষমতাকে স্বীকার করি। আপনার ভাগ্যে যা আছে, সেটা কোনো বদনজর, জাদু বা পৃথিবীর কোনো শক্তি ঠেকাতে পারবে না। ফেরাউন তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল মুসা (আ.)-কে ধ্বংস করতে, কিন্তু খালিক যখন কিছু সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নেয় তখন তা হবেই! তাই আপনার সব চাহিদা এবং
ইচ্ছা তাঁর কাছে চান।
সৃষ্টিকে ভয় করবেন না, কেবল স্রষ্টাকে ভয় করুন। মানুষের মতামত, দারিদ্র্য, ব্যর্থতা ইত্যাদিকে ভয় করা বন্ধ করুন এবং খালিককে খুশি করার দিকে মনোনিবেশ করুন। তিনি আপনার প্রয়োজন মেটাতে যথেষ্ট হবেন। আমাদের সমস্যা হলো আমরা প্রায়শই মানুষকে খুশি করার চেষ্টা করি এবং আল্লাহকে রাগান্বিত করি, যেমন অন্যের কাছে ভালো হওয়ার জন্য গিবত করি। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে যদিও তা মানুষের কাছে অসন্তুষ্ট হয়, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং মানুষকে তার প্রতি সন্তুষ্ট করেন। যে ব্যক্তি মানুষের সন্তুষ্টি কামনা করে যদি তা আল্লাহর কাছে অসন্তুষ্টির কারণ হয়, আল্লাহ তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন এবং মানুষকে তার প্রতি অসন্তুষ্ট করেন।’ (ইবনে হিব্বান, তিরমিজি)
একটি নতুন অভ্যাস গড়ে তুলুন। দিনে বা রাতে, প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচ মিনিট বসে থাকুন এবং আপনার চারপাশে তাকান, প্রকৃতির দিকে তাকান, খালিককে স্মরণ করুন। পৃথিবীর সব সৌন্দর্য অনুভব করার মুহূর্তে আপনি আল-খালিকের কাছে হবেন বিনয়ী এবং কৃতজ্ঞ। খালিক বলেন, ‘তিনি সৃষ্টি করেছেন স্তরে স্তরে সাত আকাশ। দয়াময় আল্লাহর সৃষ্টিতে তুমি কোনো খুঁত দেখতে পাবে না; আবার তাকিয়ে দেখো, কোনো ত্রুটি দেখতে পাচ্ছ কি?’ (সুরা মুলক, আয়াত : ৩)। তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিস্তৃত করেছি জমিনকে এবং তাতে স্থাপন করেছি পর্বতমালা। আর তাতে উদগত করেছি নয়ন প্রীতিকর সব প্রকার উদ্ভিদ। আল্লাহর অনুরাগী প্রত্যেক বান্দার জন্য জ্ঞান ও উপদেশস্বরূপ’ (সুরা কাফ, আয়াত : ৭-৮)। আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং অন্যান্য বস্তুর দর্শন ও সেগুলোর প্রকৃতত্ব সম্পর্কে জানা হলো এমন লোকদের জন্য জ্ঞান, উপদেশ এবং শিক্ষার উপকরণস্বরূপ, যারা আল্লাহ অভিমুখী।
মহান আল্লাহ আমাদের জন্য চারপাশে যে নিদর্শন রেখেছেন তা যেন সত্যিকার অর্থে বুঝতে ও উপলব্ধি করতে পারি, আমরা যেন তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হই এবং সত্যিকার অর্থে তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা, প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।
ধর্ম ডেস্ক
০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, 7:12 PM
মহান আল্লাহ নিজের একটি পরিচয় দিয়েছেন ‘আল-খালিক’ শব্দে। পবিত্র কুরআনের অনেক জায়গায় তিনি এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন। ‘আল-খালিক’ শব্দের অর্থ সৃষ্টিকর্তা। তিনি তাঁর প্রজ্ঞা অনুসারে মহাবিশ্ব ও মহাজগৎ সৃষ্টি করেছেন, আকৃতি ও প্রাণ দান করেছেন। ‘আল-খালিক’ বলা হয় ওই সত্তাকে, যিনি সবকিছু শূন্য থেকে তৈরি করেন, তারপর তাদের গতিশীলতার বৈশিষ্ট্য এবং অন্যান্য গুণাবলি প্রদান করেন। তিনি যা চান, সেটা তাঁর ঐশ্বরিক জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা অনুসারে নিখুঁতভাবে সৃষ্টি করেন। সৃষ্টিকর্তা হতে পারেন একমাত্র আল্লাহ, বাকি সবকিছুই তাঁর সৃষ্টি। সবকিছুর ওপর তাঁর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
খালিক সবকিছু শূন্যতা থেকে সৃষ্টি করেন এবং অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে নিয়ে আসেন। আর মানুষ কেবল বিভিন্ন উপাদানকে এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তর করে কোনো কিছু নির্মাণ করে। উদাহরণস্বরূপ, মানুষ চেয়ার বানানোর জন্য গাছ থেকে কাঠ সংগ্রহ করে। সেই কাঠের সঙ্গে অন্যান্য জিনিস একত্রিত করে চেয়ার বানিয়ে ফেলে। মানুষ কখনো শূন্য থেকে কিছু তৈরি করতে পারে না এবং পারবেও না। মানুষের আছে সীমাবদ্ধতা।
মানুষ কখনোই গভীর, জটিল, সুন্দরের মতো একটি অংশও তৈরি করতে পারবে না। যদি রাতের আকাশের দিকে তাকান, তা হলে প্রতিটি ক্ষুদ্র আলোর বিন্দুর দিকে খেয়াল করুন, এগুলোর প্রতিটিই আল্লাহর সৃষ্ট কোনো ছায়াপথে অনেক দূরে অবস্থিত একটি বিশাল নক্ষত্র। সেই নক্ষত্রের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট একটা গ্রহের ওপর আমরা বসবাস করছি, মহাকাশে ভেসে বেড়াচ্ছি এবং এটিই একমাত্র গ্রহ যা মানুষের জন্য বাসযোগ্য। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, ‘আসমানগুলো ও জমিনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের পরিবর্তনে নিদর্শনাবলি রয়েছে বোধশক্তি সম্পন্ন লোকদের জন্য’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৯০)। আপনি কি নিজেকে বোধগম্য ব্যক্তি বা ‘উলুল আলবাব’ বলে মনে করেন?
মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে সামান্য নোংরা তরল থেকে। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি শুক্রবিন্দুকে পরিণত করি রক্তপিণ্ডে, অতঃপর রক্তপিণ্ডকে পরিণত করি গোশতপিণ্ডে এবং গোশতপিণ্ডকে পরিণত করি অস্থিপিঞ্জরে। অতঃপর অস্থিপিঞ্জরকে ঢেকে দিই গোশত দ্বারা, অবশেষে ওকে গড়ে তুলি অন্য এক সৃষ্টিরূপে; অতএব সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কত মহান’ (সুরা মুমিনুন : ১৪)। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে প্রায় ২০ থেকে ১০০ ট্রিলিয়ন মানব কোষ থাকে। কীভাবে একজন ব্যক্তিকে সামান্য নোংরা তরল থেকে সৃষ্টি করা যেতে পারে এবং এই ট্রিলিয়ন কোষের ভেতরে কীভাবে মানুষের তথ্য জমা থাকে, একটু সময় নিয়ে চিন্তা করি। এগুলো আমাদের জন্য নিদর্শন।
পৃথিবীতে এমন অনেক কিছু আছে যা আমরা পর্যবেক্ষণ করতে পারি না, যেমন সমুদ্রের গভীরতা, যা আমরা কেবল সাবমেরিন এবং বিশেষ সরঞ্জামের কারণে জানতে পারি, তাও খুবই সামান্য। যখন আমরা সমুদ্রের গভীরে বিভিন্ন প্রাণী, গাছপালা, গিরিপথ, পাহাড়-পর্বত সম্পর্কে জানতে পারি, তখন আমাদের বিস্ময় বৃদ্ধি পায় এবং মনে হয় আমরা যতবেশি শিখি, ততবেশি আমরা বুঝতে পারি যে কিছুই জানি না। আমাদের দেহ, আমাদের সন্তান, আমাদের পরিবেশ, আকাশ থেকে সমুদ্র, জীববিজ্ঞান, রসায়ন, ন্যানো প্রযুক্তি পর্যন্ত সর্বত্র আল্লাহর সৃষ্টিকে উপলব্ধি করতে হলে, সৃষ্টির আরও গভীরে প্রবেশ করতে হলে আল-খালিক নামটি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি ভীষণ ব্যস্ত জীবন কাটাচ্ছেন। বিভিন্ন সমস্যা আপনার জীবনে। আপনার মনকে শান্ত করার চেষ্টা করুন, সমস্যাগুলো ভুলে যান। বাইরে বের হয়ে হাঁটুন, একটি গাছের পাতা তুলে নিন অথবা একটি পাখি দেখুন। মনকে প্রতিদিন আল্লাহর সৃষ্টির কিছু না কিছু সত্যিকার অর্থে উপলব্ধি করার জন্য সময় দিন। ইসলাম এবং তাওহিদের (একত্ববাদ) গুরুত্বের সঙ্গে যুক্ত থাকার একটি দুর্দান্ত উপায় হলো যে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া উপাসনার যোগ্য আর কিছুই নেই এবং সেই সত্যের লক্ষণ যে পৃথিবীতে আমাদের চারপাশে রয়েছে, সেটা বুঝতে পারব ইনশাআল্লাহ।
এই নামের মাধ্যমে কীভাবে বেঁচে থাকা যায়?
আল-খালিকের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করুন। আপনার যা চাওয়ার, সব আল-খালিকের কাছে চান। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেরই আল্লাহর কাছে তার চাহিদা চাও, এমনকি যদি তোমার জুতার ফিতা ছিঁড়ে যায়, কারণ আল্লাহ যদি তা সহজ না করেন, তা হলে তা কখনোই সম্ভব হবে না’ (তিরমিজি)। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে মুমিনদের উচিত তাদের প্রতিটি ছোটখাটো প্রয়োজন আল্লাহর কাছে চাওয়া, এমনকি জুতার ফিতা ছিঁড়ে যাওয়ার মতো সাধারণ বিষয়েও। এর মানে হচ্ছে আমরা যেন আল্লাহর কাছে অতি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়ও চাইতে কার্পণ্য না করি, সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখি, আল্লাহর ক্ষমতাকে স্বীকার করি। আপনার ভাগ্যে যা আছে, সেটা কোনো বদনজর, জাদু বা পৃথিবীর কোনো শক্তি ঠেকাতে পারবে না। ফেরাউন তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল মুসা (আ.)-কে ধ্বংস করতে, কিন্তু খালিক যখন কিছু সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নেয় তখন তা হবেই! তাই আপনার সব চাহিদা এবং
ইচ্ছা তাঁর কাছে চান।
সৃষ্টিকে ভয় করবেন না, কেবল স্রষ্টাকে ভয় করুন। মানুষের মতামত, দারিদ্র্য, ব্যর্থতা ইত্যাদিকে ভয় করা বন্ধ করুন এবং খালিককে খুশি করার দিকে মনোনিবেশ করুন। তিনি আপনার প্রয়োজন মেটাতে যথেষ্ট হবেন। আমাদের সমস্যা হলো আমরা প্রায়শই মানুষকে খুশি করার চেষ্টা করি এবং আল্লাহকে রাগান্বিত করি, যেমন অন্যের কাছে ভালো হওয়ার জন্য গিবত করি। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে যদিও তা মানুষের কাছে অসন্তুষ্ট হয়, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং মানুষকে তার প্রতি সন্তুষ্ট করেন। যে ব্যক্তি মানুষের সন্তুষ্টি কামনা করে যদি তা আল্লাহর কাছে অসন্তুষ্টির কারণ হয়, আল্লাহ তার প্রতি অসন্তুষ্ট হন এবং মানুষকে তার প্রতি অসন্তুষ্ট করেন।’ (ইবনে হিব্বান, তিরমিজি)
একটি নতুন অভ্যাস গড়ে তুলুন। দিনে বা রাতে, প্রতিদিন কমপক্ষে পাঁচ মিনিট বসে থাকুন এবং আপনার চারপাশে তাকান, প্রকৃতির দিকে তাকান, খালিককে স্মরণ করুন। পৃথিবীর সব সৌন্দর্য অনুভব করার মুহূর্তে আপনি আল-খালিকের কাছে হবেন বিনয়ী এবং কৃতজ্ঞ। খালিক বলেন, ‘তিনি সৃষ্টি করেছেন স্তরে স্তরে সাত আকাশ। দয়াময় আল্লাহর সৃষ্টিতে তুমি কোনো খুঁত দেখতে পাবে না; আবার তাকিয়ে দেখো, কোনো ত্রুটি দেখতে পাচ্ছ কি?’ (সুরা মুলক, আয়াত : ৩)। তিনি আরও বলেন, ‘আমি বিস্তৃত করেছি জমিনকে এবং তাতে স্থাপন করেছি পর্বতমালা। আর তাতে উদগত করেছি নয়ন প্রীতিকর সব প্রকার উদ্ভিদ। আল্লাহর অনুরাগী প্রত্যেক বান্দার জন্য জ্ঞান ও উপদেশস্বরূপ’ (সুরা কাফ, আয়াত : ৭-৮)। আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং অন্যান্য বস্তুর দর্শন ও সেগুলোর প্রকৃতত্ব সম্পর্কে জানা হলো এমন লোকদের জন্য জ্ঞান, উপদেশ এবং শিক্ষার উপকরণস্বরূপ, যারা আল্লাহ অভিমুখী।
মহান আল্লাহ আমাদের জন্য চারপাশে যে নিদর্শন রেখেছেন তা যেন সত্যিকার অর্থে বুঝতে ও উপলব্ধি করতে পারি, আমরা যেন তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হই এবং সত্যিকার অর্থে তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা, প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।