CKEditor 5 Sample
ঢাকা ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

লোটাস কামালের পার্টনার প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান ডা. আরিফ ঘিরে সমালোচনা

#
news image

# নেতিবাচক খবরে শঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা
#   ব্যাংকখাতে শেয়ার মূল্যে সর্বোচ্চ অবদমন
#   ডিএসইতে ৬.৯০ টাকায় শেয়ার লেনদেন

প্রিমিয়ার ব্যাংকের সদ্য নিয়োগ পাওয়া চেয়ারম্যান ডা. আরিফকে নিয়ে ব্যাংকিং খাতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সদ্য পদচ্যুত চেয়ারম্যান ডা. ইকবালের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ব্যবসায়িক পার্টনার তিনি। একই সঙ্গে সাবেক অর্থমন্ত্রী লোটাস কামালের প্রিয়ভাজন। জনশক্তি রপ্তানি জগতে তাদের সঙ্গে বেশ সখ্যতা। সে কারণে সৌদি আরবে ভিসা ট্রেডিংয়ের জনক বলা হয় ডা. আরিফকে।

প্রিমিয়ার ব্যাংকের তাকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হাজার কোটি টাকার আমানত নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেননা ভিসা কেনাবেচা কেলেঙ্কারি সঙ্গে জড়িত হয়ে সৌদি আরবে নিষিদ্ধ বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী লোটাস কামালের প্রিয়ভাজন। এমন অনেক নেতিবাচক মন্তব্য ঘিরে বিনিয়োগকারী ও গ্রাহকের বিশ্বাসে চিড় ধরেছে। 

পুঁজিবাজারে ২০০৭ সালে তালিকাভুক্ত ব্যাংকটি। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন নেতিবাচক খবরে শেয়ারপ্রতি দরের অভিহিত মূল্যও ধরে রাখতে পারেনি। ব্যাংকখাতে গত এক বছরে শেয়ারের মূল্য সর্বোচ্চ অবদমন হয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়েছে ৬.৯০ টাকায়। গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ দরছিল ১৪.৭০ টাকা। ভালো ব্যবসা করতে না পারায় গত বছরে বিনিয়োগকারীদের কোন লভ্যাংশ দেয়নি। তার মধ্যে নেতিবাচক খবরে শঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা।

বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বেসরকারি প্রিমিয়ার ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ১৯ আগস্ট ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দীর্ঘ ২৫ বছর চেয়ারম্যানের পদে ছিলেন ডা. এইচবিএম ইকবাল। তার বিরুদ্ধে রয়েছে অর্থ আত্মসাৎ এবং স্বজনপ্রীতির মতো গুরুতর সব অভিযোগ। ডা. ইকবাল ছিলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য।

পুরনো চেয়ারম্যানকে সরিয়ে নতুন আনা হয়েছে ডা. আরিফুর রহমানকে। তিনি সাবেক চেয়ারম্যান ডা. ইকবালের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং ব্যবসায়িক পার্টনার। আশির দশকে শুধু বিমান ভাড়া ও টুকিটাকি সামান্য খরচ দিয়ে চাকরি নিয়ে সৌদি আরবে যেতেন বাংলাদেশের কর্মীরা। এতে কর্মীর খরচ পড়তো ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। এমনকি চাকরিপ্রাপ্ত কর্মীদের বিমান ভাড়াও দিতো নিয়োগকারী অনেক প্রতিষ্ঠান।

নব্বই দশকের শুরুরে দিকে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন বাংলাদেশের নাগরিক ডাক্তার আরিফুর রহমান। প্রত্যেক কর্মী নিয়োগের অনুমতিপত্র টাকার বিনিময়ে কিনে নেন ডাক্তার আরিফ। কর্মী নিয়োগের এই অনুমতিপত্রই মূলত সৌদি আরবের ভিসা।

সেই ভিসা কিনে ডা. আরিফ বিক্রি করেন আ হ ম মোস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামালের কাছে। পরে সেই জাল ছড়িয়ে পড়ে সৌদি আরবে এবং বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানিকারকদের মাঝে। পরে সৌদি আরব যেতে প্রত্যেক কর্মীর খরচ বেড়ে দাঁড়ায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা।

একইসঙ্গে বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বৈত নাগরিক ডা. আরিফ। কয়েক বছর আগে সৌদি সরকার এনিয়ে তদন্ত শুরু করে। সৌদি আরবের দুর্নীতি দমন সংস্থা ‘নাজহা’ ২০২২ সালে বাংলাদেশের চারজন জনশক্তি রপ্তানিকারকের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেই চারজনের মধ্যে আশরাফ নামে একজনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় বাংলাদেশি ৭৫ কোটি টাকার সমান ২৪ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল। 

ঘটনায় সৌদি আদালত আশরাফসহ চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়। একইসঙ্গে আরিফুর রহমানকে সৌদি আরবে নিষিদ্ধ করা হয়। আশরাফ এখনও সৌদি কারাগারে বন্দী। তাদের বিজনেস পার্টনার ডা. আরিফুর রহমান এখন প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান। তাই সমালোচনা তীব্র হয়ে উঠেছে।

ইউসুফ আলী বাচ্চু

০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫,  11:51 PM

news image

# নেতিবাচক খবরে শঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা
#   ব্যাংকখাতে শেয়ার মূল্যে সর্বোচ্চ অবদমন
#   ডিএসইতে ৬.৯০ টাকায় শেয়ার লেনদেন

প্রিমিয়ার ব্যাংকের সদ্য নিয়োগ পাওয়া চেয়ারম্যান ডা. আরিফকে নিয়ে ব্যাংকিং খাতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সদ্য পদচ্যুত চেয়ারম্যান ডা. ইকবালের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ব্যবসায়িক পার্টনার তিনি। একই সঙ্গে সাবেক অর্থমন্ত্রী লোটাস কামালের প্রিয়ভাজন। জনশক্তি রপ্তানি জগতে তাদের সঙ্গে বেশ সখ্যতা। সে কারণে সৌদি আরবে ভিসা ট্রেডিংয়ের জনক বলা হয় ডা. আরিফকে।

প্রিমিয়ার ব্যাংকের তাকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হাজার কোটি টাকার আমানত নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেননা ভিসা কেনাবেচা কেলেঙ্কারি সঙ্গে জড়িত হয়ে সৌদি আরবে নিষিদ্ধ বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী লোটাস কামালের প্রিয়ভাজন। এমন অনেক নেতিবাচক মন্তব্য ঘিরে বিনিয়োগকারী ও গ্রাহকের বিশ্বাসে চিড় ধরেছে। 

পুঁজিবাজারে ২০০৭ সালে তালিকাভুক্ত ব্যাংকটি। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন নেতিবাচক খবরে শেয়ারপ্রতি দরের অভিহিত মূল্যও ধরে রাখতে পারেনি। ব্যাংকখাতে গত এক বছরে শেয়ারের মূল্য সর্বোচ্চ অবদমন হয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়েছে ৬.৯০ টাকায়। গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ দরছিল ১৪.৭০ টাকা। ভালো ব্যবসা করতে না পারায় গত বছরে বিনিয়োগকারীদের কোন লভ্যাংশ দেয়নি। তার মধ্যে নেতিবাচক খবরে শঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা।

বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বেসরকারি প্রিমিয়ার ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ১৯ আগস্ট ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দীর্ঘ ২৫ বছর চেয়ারম্যানের পদে ছিলেন ডা. এইচবিএম ইকবাল। তার বিরুদ্ধে রয়েছে অর্থ আত্মসাৎ এবং স্বজনপ্রীতির মতো গুরুতর সব অভিযোগ। ডা. ইকবাল ছিলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য।

পুরনো চেয়ারম্যানকে সরিয়ে নতুন আনা হয়েছে ডা. আরিফুর রহমানকে। তিনি সাবেক চেয়ারম্যান ডা. ইকবালের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং ব্যবসায়িক পার্টনার। আশির দশকে শুধু বিমান ভাড়া ও টুকিটাকি সামান্য খরচ দিয়ে চাকরি নিয়ে সৌদি আরবে যেতেন বাংলাদেশের কর্মীরা। এতে কর্মীর খরচ পড়তো ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। এমনকি চাকরিপ্রাপ্ত কর্মীদের বিমান ভাড়াও দিতো নিয়োগকারী অনেক প্রতিষ্ঠান।

নব্বই দশকের শুরুরে দিকে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মানব সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন বাংলাদেশের নাগরিক ডাক্তার আরিফুর রহমান। প্রত্যেক কর্মী নিয়োগের অনুমতিপত্র টাকার বিনিময়ে কিনে নেন ডাক্তার আরিফ। কর্মী নিয়োগের এই অনুমতিপত্রই মূলত সৌদি আরবের ভিসা।

সেই ভিসা কিনে ডা. আরিফ বিক্রি করেন আ হ ম মোস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামালের কাছে। পরে সেই জাল ছড়িয়ে পড়ে সৌদি আরবে এবং বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানিকারকদের মাঝে। পরে সৌদি আরব যেতে প্রত্যেক কর্মীর খরচ বেড়ে দাঁড়ায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা।

একইসঙ্গে বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বৈত নাগরিক ডা. আরিফ। কয়েক বছর আগে সৌদি সরকার এনিয়ে তদন্ত শুরু করে। সৌদি আরবের দুর্নীতি দমন সংস্থা ‘নাজহা’ ২০২২ সালে বাংলাদেশের চারজন জনশক্তি রপ্তানিকারকের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেই চারজনের মধ্যে আশরাফ নামে একজনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় বাংলাদেশি ৭৫ কোটি টাকার সমান ২৪ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল। 

ঘটনায় সৌদি আদালত আশরাফসহ চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়। একইসঙ্গে আরিফুর রহমানকে সৌদি আরবে নিষিদ্ধ করা হয়। আশরাফ এখনও সৌদি কারাগারে বন্দী। তাদের বিজনেস পার্টনার ডা. আরিফুর রহমান এখন প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান। তাই সমালোচনা তীব্র হয়ে উঠেছে।