নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ আগস্ট, ২০২৫, 6:23 PM
দীর্ঘমেয়াদি স্নায়ুজনিত রোগ ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের সর্বাধুনিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে রবিবার (৩১ আগস্ট) দেশের প্রথম সর্বাধুনিক রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছে।
এই উপলক্ষে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীসহ রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের কার্যক্রম বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস শাকুর। বিএমইউ’র রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম ও সহকারী প্রক্টর ডা. রিফাত রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর, বিএমইউ’র প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) ও রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্টদের মাঝে সার্টিফিকেট প্রদান করেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের বেইজমেন্টে স্থাপিত দেশের প্রথম সর্বাধুনিক রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার পরিদর্শন ও উদ্বোধন করেন।
হাসপাতালের লেকচার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরজাহান বেগম বলেন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারকে অবশ্যই টেকসই হতে হবে এবং এই সেন্টারকে যতটা সম্ভব বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে আরও তিন-চারটি জেলায় যাতে এটা ছড়িয়ে দেওয়া যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় একটি বড় হাসপাতাল। এখানে অনেক বড় কিছু হওয়ার সম্ভাবনা আমরা দেখি। এখানকার সেবা সারা দেশে ছড়িয়ে যাবে। মানুষ স্বপ্ন দেখলেই তবে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা তার বক্তব্যে রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠায় সহায়তার জন্য চীন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা যখন হাসপাতাল ভিজিট করলাম তখন দেখলাম অনেকের হাত নেই, পা নেই। অনেকের হাত-পা অকেজো হয়ে আছে। তখন তাদের উন্নত চিকিৎসার কথা ভাবলাম। আমি চীনকে বলেছিলাম—আমাদের যদি ১০-১৫টা রোবট দিতে পারেন, আমরা চিকিৎসা কার্যক্রমটা চালাতে পারতাম। কিন্তু চীন ৫৭টি রোবট দিয়েছে। এছাড়া চীনের প্রতিনিধিরা আমাদের ২৯ জনকে ট্রেনিং দিয়েছে। আমি বলেছি রোবটের মেনটেনেন্স সক্ষমতার জন্য আমাদের লোকজনকে ট্রেনিং করাতে হবে। এই সেন্টারকে সাস্টেইনেবল করতেই হবে।
তিনি তার বক্তব্যে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারটি স্থাপনে চীনের যারা যুক্ত ছিলেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীন সফর করায় তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, চীন বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তা দিয়ে আসছে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে চীন সরকার সব ধরনের সহায়তা করে যাবে। বাংলাদেশের বন্ধুদেশ হিসেবে চিকিৎসা খাতে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠায় চীন আন্তর্জাতিক মানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে। ভবিষ্যতে চীন আরও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকবে। সম্প্রতি বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি আহতদের, বিশেষ করে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসায় চীন অতি দ্রুত সহায়তা প্রদান করেছে। চীনে বাংলাদেশিরা যেন স্বল্প খরচে উন্নত চিকিৎসাসেবা পায় সেই ব্যবস্থা নিয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নেও সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তরে বা আনয়নে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাব হয়ে উঠবে। এখান থেকেই বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসমূহ দেশের সর্বত্র চিকিৎসা খাতে ছড়িয়ে যাবে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলম বলেন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আজ এটা ঐতিহাসিক দিন। রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশে এআইভিত্তিক চিকিৎসাসেবা শুরু হলো। এই সেন্টারকে ট্রেনিং অব দ্য ট্রেনার্স হিসেবে গড়ে তোলা হবে। যাদের মাধ্যমে এই সেবা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে। বিএমইউকে স্মার্ট ও এআইভিত্তিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
ভাইস চ্যান্সেলর তার বক্তব্যে এভিডেন্স বেইসড মেডিসিন, মেডিক্যাল অডিট, ইনফেকশন কন্ট্রোল সিস্টেম, ইমার্জেন্সি মেডিসিন, জেরিয়াট্রিক মেডিসিন, অটোমেশন, ই-লগ বুক, বৈকালিক শিফটে রেডিওথেরাপি চালু, কিডনি ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন, যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন।
ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান ও রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের প্রধান অধ্যাপক ডা. আব্দুস শাকুর বলেন, রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার দক্ষিণ এশিয়াতেই খুব একটা নেই বললেই চলে। এই সেন্টারে রয়েছে ৫৭টি রোবট। এর মধ্যে এআই-বেইজড রোবটের সংখ্যা ২২টি। এর মাধ্যমে নিখুঁতভাবে ফিজিওথেরাপিসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এই কেন্দ্র পরিচালনার জন্য চীনের ৭ সদস্যবিশিষ্ট বায়োমেডিক্যাল বিশেষজ্ঞ দল ইতোমধ্যে ২৯ জন দেশীয় চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। জুলাই ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে যারা আহত হয়েছেন, বিশেষ করে যাদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন, তারা এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের বিনামূল্যে এই রোবটিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এই চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম সাধারণ রোগীদের জন্যও উন্মুক্ত করা হবে। সেবার খরচ রোগীদের সামর্থ্যের মধ্যে রাখা হবে।
তিনি আরও জানান, উন্নত বিশ্বে ব্যবহৃত প্রযুক্তি অনুসরণ করে চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তায় এই সেন্টারটি প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এই সেন্টারে চীন সরকার প্রায় ৩০ কোটি টাকার অত্যাধুনিক রোবটিক যন্ত্রপাতি দিয়েছে— যা এই কেন্দ্রকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক রোবোটিক রিহ্যাব সেন্টারে পরিণত করেছে। এই রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার চালু হওয়ায় দেশের চিকিৎসা খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এটি প্রযুক্তির অগ্রগতি তো বটেই, একই সঙ্গে পক্ষাঘাত ও স্নায়ুবিক সমস্যায় ভোগা অসংখ্য মানুষের জীবনে আশার আলো হয়ে উঠবে। সেন্টারটি চালু হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য যেসব (সংশ্লিষ্ট রোগীরা) রোগী বিদেশ যান, ভবিষ্যতে তারা এখানে চিকিৎসা নিতে পারবেন। এতে দেশের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ আগস্ট, ২০২৫, 6:23 PM
দীর্ঘমেয়াদি স্নায়ুজনিত রোগ ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের সর্বাধুনিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে রবিবার (৩১ আগস্ট) দেশের প্রথম সর্বাধুনিক রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছে।
এই উপলক্ষে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীসহ রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের কার্যক্রম বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস শাকুর। বিএমইউ’র রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম ও সহকারী প্রক্টর ডা. রিফাত রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর, বিএমইউ’র প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) ও রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্টদের মাঝে সার্টিফিকেট প্রদান করেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের বেইজমেন্টে স্থাপিত দেশের প্রথম সর্বাধুনিক রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার পরিদর্শন ও উদ্বোধন করেন।
হাসপাতালের লেকচার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরজাহান বেগম বলেন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারকে অবশ্যই টেকসই হতে হবে এবং এই সেন্টারকে যতটা সম্ভব বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে আরও তিন-চারটি জেলায় যাতে এটা ছড়িয়ে দেওয়া যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় একটি বড় হাসপাতাল। এখানে অনেক বড় কিছু হওয়ার সম্ভাবনা আমরা দেখি। এখানকার সেবা সারা দেশে ছড়িয়ে যাবে। মানুষ স্বপ্ন দেখলেই তবে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা তার বক্তব্যে রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠায় সহায়তার জন্য চীন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা যখন হাসপাতাল ভিজিট করলাম তখন দেখলাম অনেকের হাত নেই, পা নেই। অনেকের হাত-পা অকেজো হয়ে আছে। তখন তাদের উন্নত চিকিৎসার কথা ভাবলাম। আমি চীনকে বলেছিলাম—আমাদের যদি ১০-১৫টা রোবট দিতে পারেন, আমরা চিকিৎসা কার্যক্রমটা চালাতে পারতাম। কিন্তু চীন ৫৭টি রোবট দিয়েছে। এছাড়া চীনের প্রতিনিধিরা আমাদের ২৯ জনকে ট্রেনিং দিয়েছে। আমি বলেছি রোবটের মেনটেনেন্স সক্ষমতার জন্য আমাদের লোকজনকে ট্রেনিং করাতে হবে। এই সেন্টারকে সাস্টেইনেবল করতেই হবে।
তিনি তার বক্তব্যে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারটি স্থাপনে চীনের যারা যুক্ত ছিলেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীন সফর করায় তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, চীন বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়নে সহায়তা দিয়ে আসছে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে চীন সরকার সব ধরনের সহায়তা করে যাবে। বাংলাদেশের বন্ধুদেশ হিসেবে চিকিৎসা খাতে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠায় চীন আন্তর্জাতিক মানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করেছে। ভবিষ্যতে চীন আরও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকবে। সম্প্রতি বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি আহতদের, বিশেষ করে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসায় চীন অতি দ্রুত সহায়তা প্রদান করেছে। চীনে বাংলাদেশিরা যেন স্বল্প খরচে উন্নত চিকিৎসাসেবা পায় সেই ব্যবস্থা নিয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নেও সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তরে বা আনয়নে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাব হয়ে উঠবে। এখান থেকেই বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসমূহ দেশের সর্বত্র চিকিৎসা খাতে ছড়িয়ে যাবে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলম বলেন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আজ এটা ঐতিহাসিক দিন। রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশে এআইভিত্তিক চিকিৎসাসেবা শুরু হলো। এই সেন্টারকে ট্রেনিং অব দ্য ট্রেনার্স হিসেবে গড়ে তোলা হবে। যাদের মাধ্যমে এই সেবা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে। বিএমইউকে স্মার্ট ও এআইভিত্তিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
ভাইস চ্যান্সেলর তার বক্তব্যে এভিডেন্স বেইসড মেডিসিন, মেডিক্যাল অডিট, ইনফেকশন কন্ট্রোল সিস্টেম, ইমার্জেন্সি মেডিসিন, জেরিয়াট্রিক মেডিসিন, অটোমেশন, ই-লগ বুক, বৈকালিক শিফটে রেডিওথেরাপি চালু, কিডনি ও লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন, যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন।
ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান ও রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের প্রধান অধ্যাপক ডা. আব্দুস শাকুর বলেন, রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার দক্ষিণ এশিয়াতেই খুব একটা নেই বললেই চলে। এই সেন্টারে রয়েছে ৫৭টি রোবট। এর মধ্যে এআই-বেইজড রোবটের সংখ্যা ২২টি। এর মাধ্যমে নিখুঁতভাবে ফিজিওথেরাপিসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এই কেন্দ্র পরিচালনার জন্য চীনের ৭ সদস্যবিশিষ্ট বায়োমেডিক্যাল বিশেষজ্ঞ দল ইতোমধ্যে ২৯ জন দেশীয় চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। জুলাই ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে যারা আহত হয়েছেন, বিশেষ করে যাদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন, তারা এখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের বিনামূল্যে এই রোবটিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এই চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম সাধারণ রোগীদের জন্যও উন্মুক্ত করা হবে। সেবার খরচ রোগীদের সামর্থ্যের মধ্যে রাখা হবে।
তিনি আরও জানান, উন্নত বিশ্বে ব্যবহৃত প্রযুক্তি অনুসরণ করে চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তায় এই সেন্টারটি প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এই সেন্টারে চীন সরকার প্রায় ৩০ কোটি টাকার অত্যাধুনিক রোবটিক যন্ত্রপাতি দিয়েছে— যা এই কেন্দ্রকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক রোবোটিক রিহ্যাব সেন্টারে পরিণত করেছে। এই রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার চালু হওয়ায় দেশের চিকিৎসা খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এটি প্রযুক্তির অগ্রগতি তো বটেই, একই সঙ্গে পক্ষাঘাত ও স্নায়ুবিক সমস্যায় ভোগা অসংখ্য মানুষের জীবনে আশার আলো হয়ে উঠবে। সেন্টারটি চালু হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য যেসব (সংশ্লিষ্ট রোগীরা) রোগী বিদেশ যান, ভবিষ্যতে তারা এখানে চিকিৎসা নিতে পারবেন। এতে দেশের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।