CKEditor 5 Sample
ঢাকা ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

সুস্থ রাজনীতির ধারাই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে

#
news image

বাংলাদেশে নির্বাচন ঘিরে ফের ঘনীভূত হচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখন একদিকে নাগরিক অসন্তোষ, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিভক্তির কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়েছে।
গত বছর শিক্ষার্থীদের সহিংস আন্দোলনের পর দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে যান। এরপর নতুন সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়নে ধীরগতি, ক্রমবর্ধমান গণবিক্ষোভ এবং জাতীয় ঐক্যের নানা আহ্বান সত্ত্বেও রাজনৈতিক বিভাজন দিন দিন গভীর হচ্ছে।
শেখ হাসিনার পতনের পর ড. ইউনূস ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। সাত সদস্যের ন্যাশনাল কনসেন্সাস কমিশন (এনসিসি) গঠিত হয়েছে, যার দায়িত্ব হলো ছয়টি আলাদা সংস্কার প্যানেলের সুপারিশের ভিত্তিতে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করা।
কমিশনের তথ্যমতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মতো কিছু বিষয়ে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের সম্মতি মিলেছে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রধান প্রধান শহরে সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক ও রাজনৈতিক কর্মীদের লাগাতার বিক্ষোভে জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উৎকণ্ঠা। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, দ্রুত রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে দলটি ভবিষ্যতের যেকোনো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার হারিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত দেশের নির্বাচনব্যবস্থায় অংশগ্রহণমূলক নীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা বলতে সাধারণত কোনো দেশে বা সমাজে ক্ষমতার পালাবদল, রাজনৈতিক সংকট, অথবা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বোঝায়। এর ফলে রাজনৈতিক ব্যবস্থা, সরকার এবং জনগণের মধ্যে স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হয়।
রাজনৈতিক অস্থিরতা একটি জটিল বিষয় এবং এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। এর ফলে জীবনহানি, সম্পদহানি, অর্থনৈতিক সংকট, এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। এই কারণে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা খুবই জরুরি।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই বংশীয় ক্ষমতার রাজনীতি এবং স্বজনপ্রীতির দ্বারা চিহ্নিত। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে সহিংসতা ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি হলে অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতার পালাবদল বিচিত্র কিছু নয়। এমনটি ঘটলে গণতন্ত্র বিপন্ন হবে, যা কারও কাম্য নয়। রাজনৈতিক প্রশ্নে ব্যাপকভাবে বিভাজিত এদেশটিতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে কেবল সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এবং দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারের রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাছাড়া সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাত ও রপ্তানিমুখী শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে এসব শিল্পের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার শ্রমিকের ভাগ্যও হয়ে পড়বে অনিশ্চিত। সবচেয়ে বড় কথা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম না হলে বিনিয়োগ ও উন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসবে না। দলগুলো যদি প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধপরায়ণতার রাজনীতি পরিহার করে পরস্পরের প্রতি সহনশীল হয়, তাহলে দেশের উন্নয়ন আরও বেগবান হবে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেসব শক্তি বর্তমানে সক্রিয় তারা মোটামুটি সমমানের এবং অনেক ক্ষেত্রেই পরস্পরবিরোধী। আগে শেখ হাসিনার ভয়ে বা দাপটে এরা সব একসাথে ছিল তাই কিছু বোঝা যেত না। কিন্তু এখন এরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত। সবাই চায় বাংলাদেশ তার মত চলুক। তারা প্রত্যেকেই নিজেদের যতটুকু নিয়ন্ত্রণ আছে তার প্রয়োগ করছে। ফলে প্রতিনিয়তই দ্বন্দ্ব-সংঘাত, পরস্পর বিরোধীতা দেখা যাচ্ছে। যেমন যেই এলাকার পুলিশের নিয়ন্ত্রণ জামায়াতের হাতে সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা জুতার মালা উপহার পাচ্ছে আবার অন্য জায়গায় গার্ড অব অনার পাচ্ছে। পুলিশ-প্রশাসনের চেইন অব কমান্ড অনেক ক্ষেত্রেই কাজ করছে না। এক সচিব বিএনপির তো আরেক সচিব জামায়াতের। সবাই চেষ্টা করছে নিজের জোর দেখানোর।
বিএনপি মূলত এন্টি আওয়ামী লীগ দল। সেকুলার আওয়ামী লীগের বিপক্ষে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শের যত লোক আছে তারা এতদিন "আওয়ামী বিরোধী" - এই কমন পয়েন্টে বিএনপির সাথে ছিল। এখন যেহেতু আওয়ামী লীগ নেই তাই এন্টি আওয়ামী লীগ সেন্টিমেন্ট দিয়ে বিএনপি আর তাদের ধরে রাখতে পারছে না। ফলে একদিকে যেমন বিএনপির শক্তি হ্রাস পেয়েছে আবার অন্যদিকে দীর্ঘ সময় ধরে একসাথে থাকা ছোট শক্তির এসব দলের বিরুদ্ধে বিএনপি তেমন কিছু বলতে বা করতেও পারছে না। বললেই সে দ্বিচারিতার অভিযোগে ধরা খাবে এবং বিএনপির অনেক হাঁড়ির খবরও বের হয়ে যাবে। তাই বিএনপির হাতে বেশী ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ দমনে তাদের পক্ষে খুব কঠোর অবস্থানে যাওয়া সম্ভব না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা যার হাতে যতটুকু ক্ষমতা আছে তার সবটুকু দিয়েই অসহযোগীতা করবে।
রাজনীতি ব্যবসায় পরিণত হলে সবচেয়ে বড় যে দুঃখজনক ঘটনাটা ঘটে সেটা হলো- সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার শোষণ বেড়ে যায়, মানুষ শুধু বঞ্চিতই হতে থাকে। রাজনীতি নিয়ে ব্যবসা করা যাবে না। রাজনীতি হলো নীতির রাজা। সবচেয়ে ভাল লোকটিই রাজনীতি করবে, কিন্তু আজ কি ভাল লোকেরা রাজনিতিতে আসছে? বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আসছে না। কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন বা রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন, এমন দেখা যাচ্ছে। এটিকে "রাজনৈতিক উদ্যোক্তা" হিসেবেও চিহ্নিত করা যায়, যেখানে ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেন। কিছু ব্যবসায়ী রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত হয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন, বা দলের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ জাতীয় সংসদে বলেছিলেন, বর্তমান সংসদে মোট সংসদ-সদস্যদের মধ্যে রাজনীতিবিদ আছেন মাত্র ৫ শতাংশ, ব্যবসায়ী ৬১ শতাংশ এবং বাকিরা অন্য পেশার। আর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণায়ও একই ফল দেখানো হয়েছিল-একাদশ জাতীয় সংসদে আছে ৬১ শতাংশ ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ মাত্র ৫ শতাংশ এবং বাকি ৩৪ শতাংশের মধ্যে আইনজীবী ১৩ শতাংশ ও অন্যান্য পেশার ২১ শতাংশ। প্রথম সংসদে ১৮ শতাংশ ছিল ব্যবসায়ী। তাহলে বলাই যায়, রাজনীতি রাজনীতিকদের হাতে নেই।দেশপ্রেমিক, ত্যাগী, নির্লোভ ও সৎ রাজনীতিকদের কাছে রাজনীতিকে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।
বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর দেশের অবস্থা এমন হয়েছিল, মনে হচ্ছিলো অন্য একটি দল ক্ষমতায় এসে গেছে এবং সেভাবেই তারা তাদের আচারন করছিল।এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশে প্রতিহিংসার রাজনীতি চলে এটা আমরা সবাই জানি, রাজনৈতিক ব্যক্তিগণ প্রায় সবাই (দুই একজন ছাড়া) দেশের জন্য রাজনীতি করেন না, তারা রাজনীতি করেন, নিজের জন্য- দলের জন্য। এ দেশের আর একটা বৈশিষ্ট হচ্ছে, কোন দল ক্ষমতায় গেলে বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের দমন, পীড়ন নির্যাতন করা। জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পর উচিত সবার জন্য সমান ভাবে কাজ করা, কোন নিদ্রিস্ত দল বা ব্যক্তির জন্য নয়।
আমাদের দেশের রাজনীতির আর একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, ক্ষমতায় রাজনৈতিক দলের পরিবর্তন হলে, বিগত সরকারের সবকিছু পরিবর্তন করার চেষ্টা করা হয় এমন কি ইতিহাসও। এটা মোটেও কাম্য নয়, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। কোন সরকার কোন কাজ অর্ধেক করে রেখে গেলে পরবর্তী সরকার তা সম্পূর্ণ করবেন।
দেশের পরিবারতন্ত্র রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। রাজনীতি হলো সকল নীতির রাজা, রাজনীতিতে দুর্নীতির কোন আশ্রয় নেই। যারা রাজনীতি করবে তাদের দুর্নীতি করার কোন সুযোগ নেই। দুর্নীতি করলে তারা আর রাজনীতি করতে পারবে না। রাজনীতিতে এখন দুর্নীতি বিরাজ করছে, রাজনীতিতে এখন অস্থিরতা বিরাজ করছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা দুর্নীতির বিকাশে সহায়ক হতে পারে, কারণ অস্থির পরিস্থিতিতে সাধারণত আইনের শাসন দুর্বল হয়ে যায় এবং দুর্নীতিবাজরা ধরা পড়ার ভয় ছাড়াই কাজ করার সুযোগ পায়। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা হ্রাস করে, যা দুর্নীতিকে আরও সহজ করে তোলে।
এছাড়াও, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে, যা দুর্নীতিকে আরও উৎসাহিত করে। অর্থনৈতিক সংকটের সময়, মানুষজন তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য যেকোনো উপায় অবলম্বন করতে পারে, যা দুর্নীতির পথকে প্রশস্ত করে।
অতএব, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দুর্নীতি একে অপরের সাথে সম্পর্কিত এবং একটি অন্যটিকে প্রভাবিত করে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, অগণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতার পালাবদল এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা লাভের তীব্র আকাঙ্খা দুর্নীতি বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের জন্য নির্বাচনে বিপুল পরিমাল অর্থ অবৈধভাবে ব্যয়ের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করে নির্বাচিত হওয়ার পর ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যয় উঠাতে থাকে। এছাড়া ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতিবাজরা ব্যাপকভাবে দুর্নীতি করে থাকে।
সমকালীন বিশ্বে একটি রাষ্ট্র যখন ব্যার্থ রাষ্ট্র হিসাবে পরিণত হয় তার মধ্যে অন্যতম সে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি । যে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ যত সুস্থ-সমৃদ্ধ সে দেশ উন্নয়নের উর্দ্ধমুখী গতিতে প্রবল বেঁগে ছুটে চলে । তা আমরা উন্নয়নশীল রাষ্ট্র গুলোর দিকে তাকালে নিঃসন্দেহে দেখতে পাই । বলতে গেলে বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর একটি উন্নয়নশীল দেশ । দেশটি উন্নয়নশীল হওয়া সত্ত্বেও অভ্যন্তরিন সমস্যার কারণে উন্নয়ন বার বার হুচট খাচ্ছে । বিশেষত এর জন্য দায়ি আমাদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি । অসুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চার কারণে দেশের অর্থনীতি থেকে শুরু করে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি-শিক্ষা-দীক্ষা সব দিক দিয়ে দেশের উন্নয়ন বার বার ব্যাহত হচ্ছে ।
বাংলাদেশ এখন এক অনিশ্চিত রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে নির্বাচন, সংস্কার ও দলীয় বিভাজনের মতো বহুস্তরীয় সংকটের সমাধান ছাড়া স্থিতিশীলতা অর্জন অসম্ভব।
সুস্থ রাজনীতির ধারাই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। সুস্থ রাজনীতিতে পারস্পরিক সমপ্রীতি ও সহমর্মিতা আবশ্যক। রাজনৈতিক পক্ষ-প্রতিপক্ষ আছে, মতের ও পথের ভিন্নতাও আছে কিন্তু তাই বলে প্রতিপক্ষকে সবকিছু চাপিয়ে দেয়া কখনোই সঠিক নয়। আমাদের সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে, দেশকে নিয়ে যেতে হবে উন্নয়নের দিকে সমৃদ্ধির পথে।

মোঃ সাহিদুল ইসলাম

০৮ আগস্ট, ২০২৫,  6:56 PM

news image

বাংলাদেশে নির্বাচন ঘিরে ফের ঘনীভূত হচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখন একদিকে নাগরিক অসন্তোষ, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিভক্তির কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়েছে।
গত বছর শিক্ষার্থীদের সহিংস আন্দোলনের পর দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে যান। এরপর নতুন সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়নে ধীরগতি, ক্রমবর্ধমান গণবিক্ষোভ এবং জাতীয় ঐক্যের নানা আহ্বান সত্ত্বেও রাজনৈতিক বিভাজন দিন দিন গভীর হচ্ছে।
শেখ হাসিনার পতনের পর ড. ইউনূস ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। সাত সদস্যের ন্যাশনাল কনসেন্সাস কমিশন (এনসিসি) গঠিত হয়েছে, যার দায়িত্ব হলো ছয়টি আলাদা সংস্কার প্যানেলের সুপারিশের ভিত্তিতে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করা।
কমিশনের তথ্যমতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মতো কিছু বিষয়ে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের সম্মতি মিলেছে।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রধান প্রধান শহরে সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক ও রাজনৈতিক কর্মীদের লাগাতার বিক্ষোভে জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উৎকণ্ঠা। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, দ্রুত রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে দলটি ভবিষ্যতের যেকোনো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার হারিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত দেশের নির্বাচনব্যবস্থায় অংশগ্রহণমূলক নীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা বলতে সাধারণত কোনো দেশে বা সমাজে ক্ষমতার পালাবদল, রাজনৈতিক সংকট, অথবা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বোঝায়। এর ফলে রাজনৈতিক ব্যবস্থা, সরকার এবং জনগণের মধ্যে স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হয়।
রাজনৈতিক অস্থিরতা একটি জটিল বিষয় এবং এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। এর ফলে জীবনহানি, সম্পদহানি, অর্থনৈতিক সংকট, এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। এই কারণে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা খুবই জরুরি।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই বংশীয় ক্ষমতার রাজনীতি এবং স্বজনপ্রীতির দ্বারা চিহ্নিত। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে সহিংসতা ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি হলে অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতার পালাবদল বিচিত্র কিছু নয়। এমনটি ঘটলে গণতন্ত্র বিপন্ন হবে, যা কারও কাম্য নয়। রাজনৈতিক প্রশ্নে ব্যাপকভাবে বিভাজিত এদেশটিতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে কেবল সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এবং দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারের রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাছাড়া সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাত ও রপ্তানিমুখী শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে এসব শিল্পের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার শ্রমিকের ভাগ্যও হয়ে পড়বে অনিশ্চিত। সবচেয়ে বড় কথা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম না হলে বিনিয়োগ ও উন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসবে না। দলগুলো যদি প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধপরায়ণতার রাজনীতি পরিহার করে পরস্পরের প্রতি সহনশীল হয়, তাহলে দেশের উন্নয়ন আরও বেগবান হবে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেসব শক্তি বর্তমানে সক্রিয় তারা মোটামুটি সমমানের এবং অনেক ক্ষেত্রেই পরস্পরবিরোধী। আগে শেখ হাসিনার ভয়ে বা দাপটে এরা সব একসাথে ছিল তাই কিছু বোঝা যেত না। কিন্তু এখন এরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্ত। সবাই চায় বাংলাদেশ তার মত চলুক। তারা প্রত্যেকেই নিজেদের যতটুকু নিয়ন্ত্রণ আছে তার প্রয়োগ করছে। ফলে প্রতিনিয়তই দ্বন্দ্ব-সংঘাত, পরস্পর বিরোধীতা দেখা যাচ্ছে। যেমন যেই এলাকার পুলিশের নিয়ন্ত্রণ জামায়াতের হাতে সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা জুতার মালা উপহার পাচ্ছে আবার অন্য জায়গায় গার্ড অব অনার পাচ্ছে। পুলিশ-প্রশাসনের চেইন অব কমান্ড অনেক ক্ষেত্রেই কাজ করছে না। এক সচিব বিএনপির তো আরেক সচিব জামায়াতের। সবাই চেষ্টা করছে নিজের জোর দেখানোর।
বিএনপি মূলত এন্টি আওয়ামী লীগ দল। সেকুলার আওয়ামী লীগের বিপক্ষে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শের যত লোক আছে তারা এতদিন "আওয়ামী বিরোধী" - এই কমন পয়েন্টে বিএনপির সাথে ছিল। এখন যেহেতু আওয়ামী লীগ নেই তাই এন্টি আওয়ামী লীগ সেন্টিমেন্ট দিয়ে বিএনপি আর তাদের ধরে রাখতে পারছে না। ফলে একদিকে যেমন বিএনপির শক্তি হ্রাস পেয়েছে আবার অন্যদিকে দীর্ঘ সময় ধরে একসাথে থাকা ছোট শক্তির এসব দলের বিরুদ্ধে বিএনপি তেমন কিছু বলতে বা করতেও পারছে না। বললেই সে দ্বিচারিতার অভিযোগে ধরা খাবে এবং বিএনপির অনেক হাঁড়ির খবরও বের হয়ে যাবে। তাই বিএনপির হাতে বেশী ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ দমনে তাদের পক্ষে খুব কঠোর অবস্থানে যাওয়া সম্ভব না। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা যার হাতে যতটুকু ক্ষমতা আছে তার সবটুকু দিয়েই অসহযোগীতা করবে।
রাজনীতি ব্যবসায় পরিণত হলে সবচেয়ে বড় যে দুঃখজনক ঘটনাটা ঘটে সেটা হলো- সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার শোষণ বেড়ে যায়, মানুষ শুধু বঞ্চিতই হতে থাকে। রাজনীতি নিয়ে ব্যবসা করা যাবে না। রাজনীতি হলো নীতির রাজা। সবচেয়ে ভাল লোকটিই রাজনীতি করবে, কিন্তু আজ কি ভাল লোকেরা রাজনিতিতে আসছে? বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আসছে না। কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন বা রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন, এমন দেখা যাচ্ছে। এটিকে "রাজনৈতিক উদ্যোক্তা" হিসেবেও চিহ্নিত করা যায়, যেখানে ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেন। কিছু ব্যবসায়ী রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত হয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন, বা দলের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ জাতীয় সংসদে বলেছিলেন, বর্তমান সংসদে মোট সংসদ-সদস্যদের মধ্যে রাজনীতিবিদ আছেন মাত্র ৫ শতাংশ, ব্যবসায়ী ৬১ শতাংশ এবং বাকিরা অন্য পেশার। আর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) গবেষণায়ও একই ফল দেখানো হয়েছিল-একাদশ জাতীয় সংসদে আছে ৬১ শতাংশ ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ মাত্র ৫ শতাংশ এবং বাকি ৩৪ শতাংশের মধ্যে আইনজীবী ১৩ শতাংশ ও অন্যান্য পেশার ২১ শতাংশ। প্রথম সংসদে ১৮ শতাংশ ছিল ব্যবসায়ী। তাহলে বলাই যায়, রাজনীতি রাজনীতিকদের হাতে নেই।দেশপ্রেমিক, ত্যাগী, নির্লোভ ও সৎ রাজনীতিকদের কাছে রাজনীতিকে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।
বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর দেশের অবস্থা এমন হয়েছিল, মনে হচ্ছিলো অন্য একটি দল ক্ষমতায় এসে গেছে এবং সেভাবেই তারা তাদের আচারন করছিল।এখন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশে প্রতিহিংসার রাজনীতি চলে এটা আমরা সবাই জানি, রাজনৈতিক ব্যক্তিগণ প্রায় সবাই (দুই একজন ছাড়া) দেশের জন্য রাজনীতি করেন না, তারা রাজনীতি করেন, নিজের জন্য- দলের জন্য। এ দেশের আর একটা বৈশিষ্ট হচ্ছে, কোন দল ক্ষমতায় গেলে বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের দমন, পীড়ন নির্যাতন করা। জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার পর উচিত সবার জন্য সমান ভাবে কাজ করা, কোন নিদ্রিস্ত দল বা ব্যক্তির জন্য নয়।
আমাদের দেশের রাজনীতির আর একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, ক্ষমতায় রাজনৈতিক দলের পরিবর্তন হলে, বিগত সরকারের সবকিছু পরিবর্তন করার চেষ্টা করা হয় এমন কি ইতিহাসও। এটা মোটেও কাম্য নয়, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। কোন সরকার কোন কাজ অর্ধেক করে রেখে গেলে পরবর্তী সরকার তা সম্পূর্ণ করবেন।
দেশের পরিবারতন্ত্র রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। রাজনীতি হলো সকল নীতির রাজা, রাজনীতিতে দুর্নীতির কোন আশ্রয় নেই। যারা রাজনীতি করবে তাদের দুর্নীতি করার কোন সুযোগ নেই। দুর্নীতি করলে তারা আর রাজনীতি করতে পারবে না। রাজনীতিতে এখন দুর্নীতি বিরাজ করছে, রাজনীতিতে এখন অস্থিরতা বিরাজ করছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা দুর্নীতির বিকাশে সহায়ক হতে পারে, কারণ অস্থির পরিস্থিতিতে সাধারণত আইনের শাসন দুর্বল হয়ে যায় এবং দুর্নীতিবাজরা ধরা পড়ার ভয় ছাড়াই কাজ করার সুযোগ পায়। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা হ্রাস করে, যা দুর্নীতিকে আরও সহজ করে তোলে।
এছাড়াও, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে, যা দুর্নীতিকে আরও উৎসাহিত করে। অর্থনৈতিক সংকটের সময়, মানুষজন তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য যেকোনো উপায় অবলম্বন করতে পারে, যা দুর্নীতির পথকে প্রশস্ত করে।
অতএব, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দুর্নীতি একে অপরের সাথে সম্পর্কিত এবং একটি অন্যটিকে প্রভাবিত করে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসনের অভাবে দুর্নীতি বৃদ্ধি পায়।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, অগণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতার পালাবদল এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা লাভের তীব্র আকাঙ্খা দুর্নীতি বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের জন্য নির্বাচনে বিপুল পরিমাল অর্থ অবৈধভাবে ব্যয়ের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করে নির্বাচিত হওয়ার পর ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যয় উঠাতে থাকে। এছাড়া ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতিবাজরা ব্যাপকভাবে দুর্নীতি করে থাকে।
সমকালীন বিশ্বে একটি রাষ্ট্র যখন ব্যার্থ রাষ্ট্র হিসাবে পরিণত হয় তার মধ্যে অন্যতম সে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি । যে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ যত সুস্থ-সমৃদ্ধ সে দেশ উন্নয়নের উর্দ্ধমুখী গতিতে প্রবল বেঁগে ছুটে চলে । তা আমরা উন্নয়নশীল রাষ্ট্র গুলোর দিকে তাকালে নিঃসন্দেহে দেখতে পাই । বলতে গেলে বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর একটি উন্নয়নশীল দেশ । দেশটি উন্নয়নশীল হওয়া সত্ত্বেও অভ্যন্তরিন সমস্যার কারণে উন্নয়ন বার বার হুচট খাচ্ছে । বিশেষত এর জন্য দায়ি আমাদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি । অসুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চার কারণে দেশের অর্থনীতি থেকে শুরু করে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি-শিক্ষা-দীক্ষা সব দিক দিয়ে দেশের উন্নয়ন বার বার ব্যাহত হচ্ছে ।
বাংলাদেশ এখন এক অনিশ্চিত রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে নির্বাচন, সংস্কার ও দলীয় বিভাজনের মতো বহুস্তরীয় সংকটের সমাধান ছাড়া স্থিতিশীলতা অর্জন অসম্ভব।
সুস্থ রাজনীতির ধারাই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। সুস্থ রাজনীতিতে পারস্পরিক সমপ্রীতি ও সহমর্মিতা আবশ্যক। রাজনৈতিক পক্ষ-প্রতিপক্ষ আছে, মতের ও পথের ভিন্নতাও আছে কিন্তু তাই বলে প্রতিপক্ষকে সবকিছু চাপিয়ে দেয়া কখনোই সঠিক নয়। আমাদের সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে, দেশকে নিয়ে যেতে হবে উন্নয়নের দিকে সমৃদ্ধির পথে।