CKEditor 5 Sample
ঢাকা ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

নির্বাচন ছাড়া অন্য কিছুতে বিশ্বাস করে না বিএনপি: মির্জা ফখরুল

#
news image

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন যে, বিএনপি নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো কিছুতে বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে একটা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতে যাওয়া এবং আমরা নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো কিছুতে বিশ্বাস করি না।” তিনি মনে করেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হচ্ছে একটি দ্রুত নির্বাচন।

বুধবার (৬ আগস্ট) গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টার জুলাই ও নির্বাচনী ঘোষণার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিএনপি।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের ওপর আস্থা: বাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, যারা হতাশ হয়েছে, তারা সারাজীবন হতাশ থাকে। তবে বিএনপি আশা করে যে, তারা একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে পরিষ্কার করবে। তিনি আরও বলেন, “নিশ্চয়ই এখন পর্যন্ত যতগুলো কাজ করে এসেছেন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস, তাতে প্রমাণ করেছেন, ভবিষ্যতেও তিনি নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অবাধ করার জন্য এমন কিছু করবেন না, যেটা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।”

জুলাই আন্দোলন ও বিএনপির ভূমিকা

মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে দেশের মানুষ এক "ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট সরকারের" বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকার পরিকল্পিতভাবে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে তিনটি নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। তিনি বলেন, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সব নির্যাতনমূলক পন্থা বেছে নেওয়া হয়েছিল এবং রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা হয়েছিল।

তিনি উল্লেখ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে। বিএনপির ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, খালেদা জিয়ার সাজা ও কারাবাস, এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা ও সাজা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, মানুষের সেই আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের মাধ্যমে, যার ফলে হাসিনা সরকার "পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।" এই অভ্যুত্থানের ফলে মানুষের মনে এক নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের আশা সৃষ্টি হয়।

জুলাই ঘোষণাপত্রকে বিএনপির স্বাগত

মির্জা ফখরুল জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে রাষ্ট্র ব্যবস্থা সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রফেসর ইউনূস ৫ আগস্ট জুলাই ঘোষণাপত্র ঘোষণা করেন।

বিএনপি এই ঘোষণাপত্রকে স্বাগত জানায় এবং বিশ্বাস করে যে, এর মাধ্যমে একটি "নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে" রূপান্তরের কাজ শুরু হবে। এটি একটি সাম্য, মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে "সত্যিকারের প্রগতিশীল সমৃদ্ধ বাংলাদেশ" নির্মাণের সুযোগ তৈরি করবে। বিএনপি এই সংগ্রামে অংশ নেওয়া সকল রাজনৈতিক দল, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক এবং জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ আগস্ট, ২০২৫,  2:51 PM

news image

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন যে, বিএনপি নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো কিছুতে বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে একটা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতে যাওয়া এবং আমরা নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো কিছুতে বিশ্বাস করি না।” তিনি মনে করেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হচ্ছে একটি দ্রুত নির্বাচন।

বুধবার (৬ আগস্ট) গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টার জুলাই ও নির্বাচনী ঘোষণার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিএনপি।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের ওপর আস্থা: বাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, যারা হতাশ হয়েছে, তারা সারাজীবন হতাশ থাকে। তবে বিএনপি আশা করে যে, তারা একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে পরিষ্কার করবে। তিনি আরও বলেন, “নিশ্চয়ই এখন পর্যন্ত যতগুলো কাজ করে এসেছেন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস, তাতে প্রমাণ করেছেন, ভবিষ্যতেও তিনি নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অবাধ করার জন্য এমন কিছু করবেন না, যেটা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।”

জুলাই আন্দোলন ও বিএনপির ভূমিকা

মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে দেশের মানুষ এক "ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট সরকারের" বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকার পরিকল্পিতভাবে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে তিনটি নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। তিনি বলেন, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সব নির্যাতনমূলক পন্থা বেছে নেওয়া হয়েছিল এবং রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা হয়েছিল।

তিনি উল্লেখ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে। বিএনপির ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, খালেদা জিয়ার সাজা ও কারাবাস, এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা ও সাজা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, মানুষের সেই আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের মাধ্যমে, যার ফলে হাসিনা সরকার "পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।" এই অভ্যুত্থানের ফলে মানুষের মনে এক নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের আশা সৃষ্টি হয়।

জুলাই ঘোষণাপত্রকে বিএনপির স্বাগত

মির্জা ফখরুল জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে রাষ্ট্র ব্যবস্থা সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রফেসর ইউনূস ৫ আগস্ট জুলাই ঘোষণাপত্র ঘোষণা করেন।

বিএনপি এই ঘোষণাপত্রকে স্বাগত জানায় এবং বিশ্বাস করে যে, এর মাধ্যমে একটি "নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে" রূপান্তরের কাজ শুরু হবে। এটি একটি সাম্য, মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে "সত্যিকারের প্রগতিশীল সমৃদ্ধ বাংলাদেশ" নির্মাণের সুযোগ তৈরি করবে। বিএনপি এই সংগ্রামে অংশ নেওয়া সকল রাজনৈতিক দল, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক এবং জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছে।