CKEditor 5 Sample
ঢাকা ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

রাজনৈতিক নয়, চাই বাস্তব ধর্মী শিক্ষা পদ্ধতি

#
news image

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপস্তুক বোর্ড বা এনসিটিবি’র তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর দেশে শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন এসেছে সাতবার। প্রতিটি সরকারই শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং কাঠামোগত উন্নয়নের জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা কমিশন গঠন একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। তবে প্রায়শই এই কমিশনগুলোর সুপারিশগুলো সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি, মূলত রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা, এবং বাজেট সংকটের কারণে।

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড অর্থাৎ যে জাতি যত শিক্ষিত সে দেশ ততো শক্তিশালী। আবার শুধু শিক্ষিত হলেই হবে না, আমাদের হতে হবে সুশিক্ষিত। বিগত কয়েক বছর ধরে দেখছি, শিক্ষা ব্যবস্থায় বার বার পরিবর্তন হচ্ছে। আওয়ামী সরকারের আমলে শিক্ষানীতিতে পরিবর্তন হয়েছে। এখন আবার পরিবর্তন হচ্ছে, হয়তো পরবর্তী সরকার আবার পরিবর্তন করবে। শিক্ষানীতিতে পরিবর্তন আসবে এটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া কিন্তু সেটা হওয়া উচিত যুগোপযোগী ও বাস্তবধর্মী।  কোন রাজনৈতিক মতাদার্শ বাস্তাবায়নের জন্য নয়।

 বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় গঠিত শিক্ষা কমিশনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন (১৯৭২)। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিফলিত করে শিক্ষার সার্বিক আধুনিকায়নের লক্ষ্যে কাজ করে। বিশেষভাবে, প্রাথমিক শিক্ষাকে ৮ বছর করার প্রস্তাব এবং শিক্ষাব্যবস্থায় গ্রেডিং পদ্ধতির প্রচলনের সুপারিশ করা হয়। তবে, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এই সুপারিশগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

এরপর, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে ১৯৭৭ সালে শরীফ শিক্ষা কমিশন গঠন করে। এই কমিশনের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা। যদিও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছিল, অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কমিশনের অনেক সুপারিশই বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তীতে, সামরিক শাসনামলে ১৯৮১ সালে মফিজউদ্দিন শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়, যেখানে ধর্মীয় শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবুও, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় শিক্ষার মানোন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

ফলে, এই কমিশনের অনেক সুপারিশও কার্যকর হয়নি। শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদে, ১৯৯৭ সালে শামসুল হক শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশনের সুপারিশগুলো পুনঃপর্যালোচনা করে শিক্ষার মান উন্নয়ন করা। কিন্তু, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে এই সুপারিশগুলোও সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হতে পারেনি। অন্যদিকে, বিএনপি সরকারের সময়, ২০০৩ সালে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মিঞা শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়, যার মাধ্যমে শিক্ষার আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ৮৮০টি সুপারিশ করা হয়। তবে, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে এই কমিশনের অনেক সুপারিশ কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে, শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মেয়াদে, ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণীত হয়, যা পূর্ববর্তী শিক্ষানীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা চালায়। প্রাথমিক শিক্ষাকে ৮ বছর এবং নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও, বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। ২০২১ সালের জাতীয় শিক্ষাক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ধারাবাহিক মূল্যায়নের প্রস্তাবনা ছিল, তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এভাবে, প্রতিটি শিক্ষা কমিশন গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ দিলেও, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট, এবং প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তনের সাথে শিক্ষা কমিশন গঠনের সম্পর্ক সরাসরি রাজনৈতিক ক্ষমতা ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার সাথে গভীরভাবে সংযুক্ত। যখনই নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে, তারা শিক্ষাব্যবস্থাকে তাদের রাজনৈতিক দর্শন, আদর্শ এবং নীতির প্রতিফলন ঘটানোর একটি প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। এই প্রক্রিয়ায়, শিক্ষাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ শিক্ষা একটি দেশের জনগণের মানসিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ, এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং, শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক শক্তি তাদের আদর্শকে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে।

এছাড়া, প্রত্যেক নতুন সরকার মনে করে যে পূর্ববর্তী সরকারের শিক্ষানীতিতে কিছু সীমাবদ্ধতা বা অসম্পূর্ণতা ছিল, যা তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে যথাযথ বা কার্যকর নয়। উদাহরণস্বরূপ, তারা ধারণা করে যে পূর্ববর্তী সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় যে দুর্বলতা রেখে গেছে, তা তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও দেশের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এজন্যই নতুন সরকারগুলো প্রায়শই নতুন শিক্ষা কমিশন গঠন করে, যার মাধ্যমে নতুন নীতির প্রবর্তন এবং শিক্ষাব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টা করে। এর মধ্যে পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষাক্রম এবং মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা উল্লেখযোগ্য।

বিশেষত, পাঠ্যপুস্তক এবং শিক্ষাক্রমের ক্ষেত্রে নতুন সরকার প্রায়শই তাদের রাজনৈতিক আদর্শ প্রচার করার প্রবণতা দেখায়। তারা পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে দলীয় ইতিহাস, রাজনৈতিক নেতাদের অবদান, এবং তাদের আদর্শিক মতবাদ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো নির্দিষ্ট সরকারের রাজনৈতিক দল বা নেতার অবদানকে বিশেষভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত করার চেষ্টা করা হয়। এটি সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান সমস্যাগুলো হল- শিক্ষার সুযোগের অভাব, শিক্ষকদের অপ্রতুলতা ও দুর্বল প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রমের আধুনিকীকরণ ও মানোন্নয়ন, পরীক্ষার চাপ, এবং শিক্ষাব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। এসকল সমস্যা সমাধানে শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, এবং শিক্ষায় রাজনৈতিক প্রভাব কমানো প্রয়োজন।

শিক্ষার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ শিক্ষা কমিশন গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কমিশন সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে শিক্ষার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। সরকার পরিবর্তন হলেও যেন সাথে সাথে শিক্ষায় পরিবর্তন যেন না আসে। আর যদি পরিবর্তন প্রয়োজন হয় সেটা যেন রাজনৈতিক কারনে না হয়ে দেশের চাহিদার কারনে হয়।

আমরা এবার ২০২৫ সালের এস এস সি পরীক্ষার ফলাফলে দেখেছি, পাশের হার কমেছে, জিপিএ ৫ এর সংখ্যাও কমেছে। কারন হিসাবে যেটা জানা গেছে যে, এবার সহানুভুতির নাম্বার ছিল না। তাছাড়া পরিক্ষায় শিক্ষার্থীরা কোন রকম  অসৎ উপায় অবলম্বন করতে পারে নাই। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার পাশের হার কম। তাতে কোন অসুভিধা নাই, শিক্ষার্থীরা প্রকৃত লেখাপড়া করে ফলাফল করবে, এটাই হওয়া উচিত। আবার এটাও দেখলাম, যারা এস এস সি পরীক্ষার ফেল করেছে তারা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ করেছে। শিক্ষার কতটা অধঃপতন হয়েছে, ফেল করার পর আবার পাশের জন্য মিছিল করে!

শিক্ষার  অধঃপতনের আর একটা নমুনা আমি দেখতে পেলাম,আর সেটা হলো এবার ২৪ এর জুলাই আন্দোলনের পর অনেক শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হ্যাঁ, আমি ধরে নিলাম সেই শিক্ষক হয়তো কোন অন্যায় করেছে, তাই বলে ছাত্ররা শিক্ষককে মারবে? যথাযথ কত্রিপক্ষ সে অন্যায়ের বিচার করবে। এটা সত্য আগের দিনের শিক্ষকেরা যে মর্যাদা পেতেন, শিক্ষার্থীরা যেভাবে শিক্ষককে সম্মান করতো এখন আর সেভাবে সম্মান করে না। অবশ্য এর কিছু কারণও আছে। যাহোক, দক্ষ মানব সম্পদ গড়তে আমাদের দক্ষ কারিগর দরকার। আর এই দক্ষ মানুষ গড়ার কারিগর হচ্ছেন আমাদের শিক্ষকগন, শিক্ষকদের সঠিক মূল্যায়ন করতে হবে। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা দিতে হবে। অন্যান্য যে কোন দেশের তুলনায় আমাদের দেশে শিক্ষকদের মর্যাদা ও বেতন কম। যার কারনে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আসতে চায় না। মেধাবীদের এ পেশায় নিয়ে আসতে হবে, ভাল মানুষ গড়তে হবে। তাহলেই আমরা একটা ভাল দেশ পাবো।

স্বাধীনতার পর থেকে একাধিকবার শিক্ষাপদ্ধতি পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু কোনোটিরই কার্যকর সুফল মেলেনি। এ অবস্থার উত্তরণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। সরকার প্রথমে জেএসসি, পিএসসি চালু করলো পরে আবার সেটি বাদ দিলো। আবার এবার নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হলো। শিক্ষার্থীদের নিয়ে এত এক্সপেরিমেন্ট কেন চালানো হচ্ছে? এক দশক আগে ২০১২ সালে শিক্ষাক্রমে পরির্বতন আনা হয়েছিলো। তখন এমসিকিউ বাদ দিয়ে সৃজনশীল যুক্ত হয়েছিল।সৃজনশীল  যে কারনে করা হয়েছিল তা হলো শিক্ষার্থীরা যেন মুখস্থ বিদ্যা পরিহার করে সৃজনশীল (নিজে নিজে বানিয়ে) কোন কিছু করতে পারে। কিন্তু সেটাতে কাঙ্ক্ষিত ফল এলো না,সৃজনশীল এর গাইড বেরিয়ে গেল। ২০১২ সালের পর ২০২৩ সালে যখন নতুন কারিকুলাম শুরু হয়েছিল এখন সেটাও পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন কারিকুলামে মূল্যায়ন পদ্ধতি ছিল ভিন্ন, তখন ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ ও বৃত্ত দিয়ে মূল্যায়ন করা হতো। এ পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা দেখা দিয়েছিল। অভিভাবকেরা রাস্তায় মিছিল পর্যন্ত করেছে। যাহোক, সেটা এখন আর নাই, আবার আমরা পুরান পদ্ধতিতে ফিরে এসেছি।

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মুখোমুখি। শুধুমাত্র জিপিএ ৫ এর সংখ্যা বাড়ানোর বদলে, আমাদের দরকার বাস্তব দক্ষতা ও জ্ঞান সম্পন্ন মানব সম্পদ তৈরি করা। এর মাধ্যমেই আমরা একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।

শিক্ষা ব্যবস্থার এই সংস্কার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। এটি সফল করতে সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্প খাত এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। আমরা যদি আজ থেকেই এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করি, তাহলে আগামী দশকে বাংলাদেশ একটি জ্ঞান-ভিত্তিক, প্রযুক্তি-নির্ভর ও উদ্ভাবনী অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে।

বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতা বিকাশের উপর জোর দিয়ে শিক্ষাক্রম পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোকে সুযোগে পরিণত করে, আমরা একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি যা শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করবে। এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে, আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।

লেখকঃ বার্তা সম্পাদক, দি ডেইলি এক্সপ্রেস

মো, সাহিদুল ইসলাম

০৩ আগস্ট, ২০২৫,  6:12 PM

news image
মো, সাহিদুল ইসলাম

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপস্তুক বোর্ড বা এনসিটিবি’র তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর দেশে শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন এসেছে সাতবার। প্রতিটি সরকারই শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং কাঠামোগত উন্নয়নের জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা কমিশন গঠন একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। তবে প্রায়শই এই কমিশনগুলোর সুপারিশগুলো সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি, মূলত রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা, এবং বাজেট সংকটের কারণে।

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড অর্থাৎ যে জাতি যত শিক্ষিত সে দেশ ততো শক্তিশালী। আবার শুধু শিক্ষিত হলেই হবে না, আমাদের হতে হবে সুশিক্ষিত। বিগত কয়েক বছর ধরে দেখছি, শিক্ষা ব্যবস্থায় বার বার পরিবর্তন হচ্ছে। আওয়ামী সরকারের আমলে শিক্ষানীতিতে পরিবর্তন হয়েছে। এখন আবার পরিবর্তন হচ্ছে, হয়তো পরবর্তী সরকার আবার পরিবর্তন করবে। শিক্ষানীতিতে পরিবর্তন আসবে এটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া কিন্তু সেটা হওয়া উচিত যুগোপযোগী ও বাস্তবধর্মী।  কোন রাজনৈতিক মতাদার্শ বাস্তাবায়নের জন্য নয়।

 বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় গঠিত শিক্ষা কমিশনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন (১৯৭২)। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিফলিত করে শিক্ষার সার্বিক আধুনিকায়নের লক্ষ্যে কাজ করে। বিশেষভাবে, প্রাথমিক শিক্ষাকে ৮ বছর করার প্রস্তাব এবং শিক্ষাব্যবস্থায় গ্রেডিং পদ্ধতির প্রচলনের সুপারিশ করা হয়। তবে, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এই সুপারিশগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

এরপর, ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে ১৯৭৭ সালে শরীফ শিক্ষা কমিশন গঠন করে। এই কমিশনের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা। যদিও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছিল, অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কমিশনের অনেক সুপারিশই বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তীতে, সামরিক শাসনামলে ১৯৮১ সালে মফিজউদ্দিন শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়, যেখানে ধর্মীয় শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবুও, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় শিক্ষার মানোন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

ফলে, এই কমিশনের অনেক সুপারিশও কার্যকর হয়নি। শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদে, ১৯৯৭ সালে শামসুল হক শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশনের সুপারিশগুলো পুনঃপর্যালোচনা করে শিক্ষার মান উন্নয়ন করা। কিন্তু, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে এই সুপারিশগুলোও সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হতে পারেনি। অন্যদিকে, বিএনপি সরকারের সময়, ২০০৩ সালে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মিঞা শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়, যার মাধ্যমে শিক্ষার আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ৮৮০টি সুপারিশ করা হয়। তবে, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে এই কমিশনের অনেক সুপারিশ কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে, শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মেয়াদে, ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণীত হয়, যা পূর্ববর্তী শিক্ষানীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা চালায়। প্রাথমিক শিক্ষাকে ৮ বছর এবং নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও, বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। ২০২১ সালের জাতীয় শিক্ষাক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ধারাবাহিক মূল্যায়নের প্রস্তাবনা ছিল, তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এভাবে, প্রতিটি শিক্ষা কমিশন গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ দিলেও, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট, এবং প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তনের সাথে শিক্ষা কমিশন গঠনের সম্পর্ক সরাসরি রাজনৈতিক ক্ষমতা ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার সাথে গভীরভাবে সংযুক্ত। যখনই নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে, তারা শিক্ষাব্যবস্থাকে তাদের রাজনৈতিক দর্শন, আদর্শ এবং নীতির প্রতিফলন ঘটানোর একটি প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। এই প্রক্রিয়ায়, শিক্ষাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ শিক্ষা একটি দেশের জনগণের মানসিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ, এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুতরাং, শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক শক্তি তাদের আদর্শকে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করে।

এছাড়া, প্রত্যেক নতুন সরকার মনে করে যে পূর্ববর্তী সরকারের শিক্ষানীতিতে কিছু সীমাবদ্ধতা বা অসম্পূর্ণতা ছিল, যা তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে যথাযথ বা কার্যকর নয়। উদাহরণস্বরূপ, তারা ধারণা করে যে পূর্ববর্তী সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় যে দুর্বলতা রেখে গেছে, তা তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও দেশের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এজন্যই নতুন সরকারগুলো প্রায়শই নতুন শিক্ষা কমিশন গঠন করে, যার মাধ্যমে নতুন নীতির প্রবর্তন এবং শিক্ষাব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টা করে। এর মধ্যে পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষাক্রম এবং মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা উল্লেখযোগ্য।

বিশেষত, পাঠ্যপুস্তক এবং শিক্ষাক্রমের ক্ষেত্রে নতুন সরকার প্রায়শই তাদের রাজনৈতিক আদর্শ প্রচার করার প্রবণতা দেখায়। তারা পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে দলীয় ইতিহাস, রাজনৈতিক নেতাদের অবদান, এবং তাদের আদর্শিক মতবাদ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো নির্দিষ্ট সরকারের রাজনৈতিক দল বা নেতার অবদানকে বিশেষভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত করার চেষ্টা করা হয়। এটি সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রধান সমস্যাগুলো হল- শিক্ষার সুযোগের অভাব, শিক্ষকদের অপ্রতুলতা ও দুর্বল প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রমের আধুনিকীকরণ ও মানোন্নয়ন, পরীক্ষার চাপ, এবং শিক্ষাব্যবস্থায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। এসকল সমস্যা সমাধানে শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, এবং শিক্ষায় রাজনৈতিক প্রভাব কমানো প্রয়োজন।

শিক্ষার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ শিক্ষা কমিশন গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কমিশন সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে শিক্ষার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে। সরকার পরিবর্তন হলেও যেন সাথে সাথে শিক্ষায় পরিবর্তন যেন না আসে। আর যদি পরিবর্তন প্রয়োজন হয় সেটা যেন রাজনৈতিক কারনে না হয়ে দেশের চাহিদার কারনে হয়।

আমরা এবার ২০২৫ সালের এস এস সি পরীক্ষার ফলাফলে দেখেছি, পাশের হার কমেছে, জিপিএ ৫ এর সংখ্যাও কমেছে। কারন হিসাবে যেটা জানা গেছে যে, এবার সহানুভুতির নাম্বার ছিল না। তাছাড়া পরিক্ষায় শিক্ষার্থীরা কোন রকম  অসৎ উপায় অবলম্বন করতে পারে নাই। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার পাশের হার কম। তাতে কোন অসুভিধা নাই, শিক্ষার্থীরা প্রকৃত লেখাপড়া করে ফলাফল করবে, এটাই হওয়া উচিত। আবার এটাও দেখলাম, যারা এস এস সি পরীক্ষার ফেল করেছে তারা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সামনে বিক্ষোভ করেছে। শিক্ষার কতটা অধঃপতন হয়েছে, ফেল করার পর আবার পাশের জন্য মিছিল করে!

শিক্ষার  অধঃপতনের আর একটা নমুনা আমি দেখতে পেলাম,আর সেটা হলো এবার ২৪ এর জুলাই আন্দোলনের পর অনেক শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হ্যাঁ, আমি ধরে নিলাম সেই শিক্ষক হয়তো কোন অন্যায় করেছে, তাই বলে ছাত্ররা শিক্ষককে মারবে? যথাযথ কত্রিপক্ষ সে অন্যায়ের বিচার করবে। এটা সত্য আগের দিনের শিক্ষকেরা যে মর্যাদা পেতেন, শিক্ষার্থীরা যেভাবে শিক্ষককে সম্মান করতো এখন আর সেভাবে সম্মান করে না। অবশ্য এর কিছু কারণও আছে। যাহোক, দক্ষ মানব সম্পদ গড়তে আমাদের দক্ষ কারিগর দরকার। আর এই দক্ষ মানুষ গড়ার কারিগর হচ্ছেন আমাদের শিক্ষকগন, শিক্ষকদের সঠিক মূল্যায়ন করতে হবে। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা দিতে হবে। অন্যান্য যে কোন দেশের তুলনায় আমাদের দেশে শিক্ষকদের মর্যাদা ও বেতন কম। যার কারনে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আসতে চায় না। মেধাবীদের এ পেশায় নিয়ে আসতে হবে, ভাল মানুষ গড়তে হবে। তাহলেই আমরা একটা ভাল দেশ পাবো।

স্বাধীনতার পর থেকে একাধিকবার শিক্ষাপদ্ধতি পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু কোনোটিরই কার্যকর সুফল মেলেনি। এ অবস্থার উত্তরণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। সরকার প্রথমে জেএসসি, পিএসসি চালু করলো পরে আবার সেটি বাদ দিলো। আবার এবার নতুন শিক্ষাক্রম চালু করা হলো। শিক্ষার্থীদের নিয়ে এত এক্সপেরিমেন্ট কেন চালানো হচ্ছে? এক দশক আগে ২০১২ সালে শিক্ষাক্রমে পরির্বতন আনা হয়েছিলো। তখন এমসিকিউ বাদ দিয়ে সৃজনশীল যুক্ত হয়েছিল।সৃজনশীল  যে কারনে করা হয়েছিল তা হলো শিক্ষার্থীরা যেন মুখস্থ বিদ্যা পরিহার করে সৃজনশীল (নিজে নিজে বানিয়ে) কোন কিছু করতে পারে। কিন্তু সেটাতে কাঙ্ক্ষিত ফল এলো না,সৃজনশীল এর গাইড বেরিয়ে গেল। ২০১২ সালের পর ২০২৩ সালে যখন নতুন কারিকুলাম শুরু হয়েছিল এখন সেটাও পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন কারিকুলামে মূল্যায়ন পদ্ধতি ছিল ভিন্ন, তখন ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ ও বৃত্ত দিয়ে মূল্যায়ন করা হতো। এ পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহলে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা দেখা দিয়েছিল। অভিভাবকেরা রাস্তায় মিছিল পর্যন্ত করেছে। যাহোক, সেটা এখন আর নাই, আবার আমরা পুরান পদ্ধতিতে ফিরে এসেছি।

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মুখোমুখি। শুধুমাত্র জিপিএ ৫ এর সংখ্যা বাড়ানোর বদলে, আমাদের দরকার বাস্তব দক্ষতা ও জ্ঞান সম্পন্ন মানব সম্পদ তৈরি করা। এর মাধ্যমেই আমরা একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।

শিক্ষা ব্যবস্থার এই সংস্কার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। এটি সফল করতে সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিল্প খাত এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। আমরা যদি আজ থেকেই এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করি, তাহলে আগামী দশকে বাংলাদেশ একটি জ্ঞান-ভিত্তিক, প্রযুক্তি-নির্ভর ও উদ্ভাবনী অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে।

বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতা বিকাশের উপর জোর দিয়ে শিক্ষাক্রম পুনর্গঠন করা প্রয়োজন। বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোকে সুযোগে পরিণত করে, আমরা একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি যা শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করবে। এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে, আমাদের সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।

লেখকঃ বার্তা সম্পাদক, দি ডেইলি এক্সপ্রেস