তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
২৪ জুলাই, ২০২৫, 3:45 PM
ফেসবুক পেজ তৈরি করা সহজ, কিন্তু এটিকে জনপ্রিয় করে তোলা কঠিন হতে পারে। রাতারাতি লাইক বা ফলোয়ার বাড়বে না, এর জন্য চাই ধৈর্য ও কিছু কৌশল। এখানে আপনার ফেসবুক পেজকে জনপ্রিয় করার ১০টি কার্যকরী টিপস দেওয়া হলো:
ফেসবুক পেজের নাম ও ইউআরএল এমনভাবে দিন যেন ব্যবহারকারীরা সহজে খুঁজে পান। যদি পরিচিত ব্র্যান্ড হয়, তবে সেই নামেই পেজ খুলুন। অন্যথায়, যতটা সম্ভব সহজ ও সাধারণ নাম ব্যবহার করুন। পেজের ডেসক্রিপশন, স্লোগান, ঠিকানা, খোলা থাকার সময়, ওয়েবসাইট, ফোন নম্বর এবং লোকেশনসহ সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন। একটি অ্যানিমেটেড বা ভিডিও কভার যোগ করতে পারলে তা আরও আকর্ষণীয় হবে। প্রতিটি ছবি আপলোডের সময় সুন্দর বর্ণনা লিখতে ভুলবেন না এবং সবচেয়ে আকর্ষণীয় পোস্টটিকে 'পিন' করে রাখুন।
শুধুমাত্র নিজের পেজে লাইক-কমেন্টের আশায় বসে না থেকে, পেজের প্রোফাইল থেকে অন্য পেজের ভালো পোস্টগুলোতে লাইক ও গঠনমূলক মন্তব্য করুন। এক শব্দে বা এলোমেলো কিছু লিখে আপনার পেজের নাম দেখানোর চেষ্টা করবেন না, এতে কেউ আগ্রহী হবে না। পেজের অর্গানিক গ্রোথ বাড়াতে শুরুতে আপনার পেজ যেন 'সবার বন্ধু' হিসেবে থাকে।
যদি আপনার পেজ ব্যবসা-সংক্রান্ত হয়, তবে অবশ্যই উপরের দিকের বারে উপযুক্ত বাটন রাখবেন। কারও ক্ষেত্রে এটি 'সেন্ড মেসেজ' হতে পারে, আবার কারও বেলায় 'সাইন-আপ'। পেজের 'শপ' সেকশনে পর্যাপ্ত পণ্য থাকলে 'শপ নাও' বাটনও যোগ করতে পারেন। তবে সাধারণত 'সেন্ড মেসেজ' বা 'কল' বাটনের ব্যবহারই বেশি কার্যকর।
পেজের ফ্যান-ফলোয়ার বাড়তে শুরু করলে তাদের সবাইকে এক ছাদের নিচে নিয়ে আসার চেষ্টা করুন। তাদের মতামত বা পোস্ট শেয়ার করার জন্য একটি আলাদা গ্রুপ তৈরি করতে পারেন। এই গ্রুপের কারণেও আপনার পেজের অর্গানিক লাইক বাড়তে পারে।
সাধারণ ভিডিও বা পোস্টের চেয়ে ফেসবুক লাইভ ভিডিওতে প্রায় ১০ গুণ বেশি 'রিচ' পাওয়া যায়। তাই আপনার পেজের সঙ্গে মানানসই কোনো আইডিয়া পেলে সেটি লাইভ করার চেষ্টা করুন। ফেসবুক এখনও লাইভ ভিডিওগুলোকে তাদের নিউজ ফিডে সবার উপরে রাখার চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে আপনি কোনো পণ্য বা সেবার ডেমো অথবা মজার কোনো টিউটোরিয়াল দেখাতে পারেন।
একটি আদর্শ অর্গানিক ফেসবুক পোস্টের দৈর্ঘ্য হলো ৪০-৮০টি অক্ষর (ইংরেজিতে, স্পেসসহ)। অল্প কথায় বেশি তথ্য দিতে পারলে ফেসবুক সেটার 'রিচ' বাড়িয়ে দেয়।
পেজের এনগেজমেন্ট বাড়াতে উল্টোপাল্টা খবর বা ভুল তথ্য পোস্ট করতে যাবেন না। ভুয়া তথ্য নিয়ে ফেসবুক এখন বেশ সতর্ক। ভুল তথ্যের 'রিপোর্ট' পেলে আপনার পেজ 'লাল তালিকা'য় চলে যেতে পারে।
আপনার গ্রাহক বা পেজের অনুসারীদের অভ্যাস বা রুটিন বুঝে নিন। সেই অনুযায়ী পোস্ট করার সময় বেছে নিন। একেক ধরনের পেজে ব্যবহারকারীদের এনগেজমেন্টের সময় একেক রকম হয়। যেমন, খাবার ডেলিভারি সংক্রান্ত পেজ হলে সকাল বা বিকেলের সময় পোস্ট করুন, মধ্যরাতে নয়।
আপনার বিজনেস পেজে ইনবক্স করার সঙ্গে সঙ্গেই যেন ক্রেতারা কোনো তথ্য পায়, সে জন্য অটোমেটিক রিপ্লাইয়ের ব্যবস্থা রাখুন। পেজের সেটিংস-এ গিয়ে বামপাশের 'মেসেজিং' অপশনে যান। এরপর 'রেসপন্স অ্যাসিসট্যান্ট' সিলেক্ট করে 'সেন্ড ইনস্ট্যান্ট রিপ্লাইস' সিলেক্ট করুন। 'চেঞ্জ'-এ ক্লিক করে নিজের মতো করে বার্তাটি লিখুন। আপনার ক্রেতা বা গ্রাহক যদি শুধু এ দেশীয় হয়, তবে অভ্যর্থনার বার্তা বাংলাতেই লিখুন। সবশেষে 'সেভ' করুন।
আপনার যদি আলাদা ওয়েবসাইট থাকে, তবে সেই সাইটের ফেসবুক পেজের জন্য 'ফেসবুক পিক্সেল' অপশনটি ব্যবহার করুন। এর জন্য কিছুটা আইটি জ্ঞান থাকা চাই। পিক্সেল বলতে এখানে একটি ছোট কোডকে বোঝানো হচ্ছে, যা আপনার ওয়েবসাইটে থাকবে। ওই কোডের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করা গ্রাহকদের তথ্য পাবে ফেসবুক। সেই অনুযায়ী আপনি 'টার্গেট অডিয়েন্স' ঠিক করতে পারবেন। অর্থাৎ, যারা আপনার ওয়েবসাইটে মাঝে মাঝে ঢুঁ মারে, তারাই আপনার ফেসবুকের পোস্ট যেন বেশি বেশি দেখতে পায়, সেটার বন্দোবস্ত করে ফেসবুক পিক্সেল।
এই টিপসগুলো মেনে চললে আপনার ফেসবুক পেজকে জনপ্রিয় করা সহজ হবে বলে আশা করি। আপনার কি অন্য কোনো টিপস জানার আগ্রহ আছে?
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
২৪ জুলাই, ২০২৫, 3:45 PM
ফেসবুক পেজ তৈরি করা সহজ, কিন্তু এটিকে জনপ্রিয় করে তোলা কঠিন হতে পারে। রাতারাতি লাইক বা ফলোয়ার বাড়বে না, এর জন্য চাই ধৈর্য ও কিছু কৌশল। এখানে আপনার ফেসবুক পেজকে জনপ্রিয় করার ১০টি কার্যকরী টিপস দেওয়া হলো:
ফেসবুক পেজের নাম ও ইউআরএল এমনভাবে দিন যেন ব্যবহারকারীরা সহজে খুঁজে পান। যদি পরিচিত ব্র্যান্ড হয়, তবে সেই নামেই পেজ খুলুন। অন্যথায়, যতটা সম্ভব সহজ ও সাধারণ নাম ব্যবহার করুন। পেজের ডেসক্রিপশন, স্লোগান, ঠিকানা, খোলা থাকার সময়, ওয়েবসাইট, ফোন নম্বর এবং লোকেশনসহ সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন। একটি অ্যানিমেটেড বা ভিডিও কভার যোগ করতে পারলে তা আরও আকর্ষণীয় হবে। প্রতিটি ছবি আপলোডের সময় সুন্দর বর্ণনা লিখতে ভুলবেন না এবং সবচেয়ে আকর্ষণীয় পোস্টটিকে 'পিন' করে রাখুন।
শুধুমাত্র নিজের পেজে লাইক-কমেন্টের আশায় বসে না থেকে, পেজের প্রোফাইল থেকে অন্য পেজের ভালো পোস্টগুলোতে লাইক ও গঠনমূলক মন্তব্য করুন। এক শব্দে বা এলোমেলো কিছু লিখে আপনার পেজের নাম দেখানোর চেষ্টা করবেন না, এতে কেউ আগ্রহী হবে না। পেজের অর্গানিক গ্রোথ বাড়াতে শুরুতে আপনার পেজ যেন 'সবার বন্ধু' হিসেবে থাকে।
যদি আপনার পেজ ব্যবসা-সংক্রান্ত হয়, তবে অবশ্যই উপরের দিকের বারে উপযুক্ত বাটন রাখবেন। কারও ক্ষেত্রে এটি 'সেন্ড মেসেজ' হতে পারে, আবার কারও বেলায় 'সাইন-আপ'। পেজের 'শপ' সেকশনে পর্যাপ্ত পণ্য থাকলে 'শপ নাও' বাটনও যোগ করতে পারেন। তবে সাধারণত 'সেন্ড মেসেজ' বা 'কল' বাটনের ব্যবহারই বেশি কার্যকর।
পেজের ফ্যান-ফলোয়ার বাড়তে শুরু করলে তাদের সবাইকে এক ছাদের নিচে নিয়ে আসার চেষ্টা করুন। তাদের মতামত বা পোস্ট শেয়ার করার জন্য একটি আলাদা গ্রুপ তৈরি করতে পারেন। এই গ্রুপের কারণেও আপনার পেজের অর্গানিক লাইক বাড়তে পারে।
সাধারণ ভিডিও বা পোস্টের চেয়ে ফেসবুক লাইভ ভিডিওতে প্রায় ১০ গুণ বেশি 'রিচ' পাওয়া যায়। তাই আপনার পেজের সঙ্গে মানানসই কোনো আইডিয়া পেলে সেটি লাইভ করার চেষ্টা করুন। ফেসবুক এখনও লাইভ ভিডিওগুলোকে তাদের নিউজ ফিডে সবার উপরে রাখার চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে আপনি কোনো পণ্য বা সেবার ডেমো অথবা মজার কোনো টিউটোরিয়াল দেখাতে পারেন।
একটি আদর্শ অর্গানিক ফেসবুক পোস্টের দৈর্ঘ্য হলো ৪০-৮০টি অক্ষর (ইংরেজিতে, স্পেসসহ)। অল্প কথায় বেশি তথ্য দিতে পারলে ফেসবুক সেটার 'রিচ' বাড়িয়ে দেয়।
পেজের এনগেজমেন্ট বাড়াতে উল্টোপাল্টা খবর বা ভুল তথ্য পোস্ট করতে যাবেন না। ভুয়া তথ্য নিয়ে ফেসবুক এখন বেশ সতর্ক। ভুল তথ্যের 'রিপোর্ট' পেলে আপনার পেজ 'লাল তালিকা'য় চলে যেতে পারে।
আপনার গ্রাহক বা পেজের অনুসারীদের অভ্যাস বা রুটিন বুঝে নিন। সেই অনুযায়ী পোস্ট করার সময় বেছে নিন। একেক ধরনের পেজে ব্যবহারকারীদের এনগেজমেন্টের সময় একেক রকম হয়। যেমন, খাবার ডেলিভারি সংক্রান্ত পেজ হলে সকাল বা বিকেলের সময় পোস্ট করুন, মধ্যরাতে নয়।
আপনার বিজনেস পেজে ইনবক্স করার সঙ্গে সঙ্গেই যেন ক্রেতারা কোনো তথ্য পায়, সে জন্য অটোমেটিক রিপ্লাইয়ের ব্যবস্থা রাখুন। পেজের সেটিংস-এ গিয়ে বামপাশের 'মেসেজিং' অপশনে যান। এরপর 'রেসপন্স অ্যাসিসট্যান্ট' সিলেক্ট করে 'সেন্ড ইনস্ট্যান্ট রিপ্লাইস' সিলেক্ট করুন। 'চেঞ্জ'-এ ক্লিক করে নিজের মতো করে বার্তাটি লিখুন। আপনার ক্রেতা বা গ্রাহক যদি শুধু এ দেশীয় হয়, তবে অভ্যর্থনার বার্তা বাংলাতেই লিখুন। সবশেষে 'সেভ' করুন।
আপনার যদি আলাদা ওয়েবসাইট থাকে, তবে সেই সাইটের ফেসবুক পেজের জন্য 'ফেসবুক পিক্সেল' অপশনটি ব্যবহার করুন। এর জন্য কিছুটা আইটি জ্ঞান থাকা চাই। পিক্সেল বলতে এখানে একটি ছোট কোডকে বোঝানো হচ্ছে, যা আপনার ওয়েবসাইটে থাকবে। ওই কোডের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করা গ্রাহকদের তথ্য পাবে ফেসবুক। সেই অনুযায়ী আপনি 'টার্গেট অডিয়েন্স' ঠিক করতে পারবেন। অর্থাৎ, যারা আপনার ওয়েবসাইটে মাঝে মাঝে ঢুঁ মারে, তারাই আপনার ফেসবুকের পোস্ট যেন বেশি বেশি দেখতে পায়, সেটার বন্দোবস্ত করে ফেসবুক পিক্সেল।
এই টিপসগুলো মেনে চললে আপনার ফেসবুক পেজকে জনপ্রিয় করা সহজ হবে বলে আশা করি। আপনার কি অন্য কোনো টিপস জানার আগ্রহ আছে?