CKEditor 5 Sample
ঢাকা ০৮ মার্চ, ২০২৬
শিরোনামঃ
টাইটেল ঢাকা-৯ এর ‘ঘরের মেয়ে’ তাসনিম জারা, কিন্তু ভোটার ঢাকা-১১? ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের অধিকারহরণের অপকৌশল রুখতে হবে কুৎসা রটিয়ে ও ধাপ্পা দিয়ে জনগণের ভোট নেওয়া যায় না : মির্জা আব্বাস কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ 'জাহাজপোড়া ক্যাসেল' রিসোর্ট’র শুভ উদ্বোধন করলেন ডিআইজি ২২তম জাতীয় সিনিয়র ও জুনিয়র তায়কোয়ানডো সিনিয়রে আনসার ও জুনিয়রে বিকেএসপি চ্যাম্পিয়ন নড়াইল জেলা সমিতি রাজশাহীর নতুন সভাপতি দীপু, সম্পাদক তাজ মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসকে সামাজিকভাবে প্রতিহত করতে হবে: মির্জা আব্বাস ধর্ম ও বিকাশ দিয়ে ভোট কেনা আচরণবিধির লঙ্ঘন নয়? প্রশ্ন রিজভীর ন্যায়, ইনসাফ ও জবাবদিহিতার বাংলাদেশ গড়তে চাই.....ডা. শফিকুর রহমান পরাজিত শক্তির সহযোগীরাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’র বিরোধী

স্বজনদের আহাজারিতে বার্ন ইনস্টিটিউট কাঁপছে 

#
news image

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহতদের স্বজনদের আহাজারিতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। সোমবার রাত থেকেই হাজার হাজার মানুষ প্রিয়জনের খোঁজে এবং তাদের শেষ অবস্থা জানতে হাসপাতালে ভিড় করছেন। সন্তানের এমন পরিণতি কিছুতেই মানতে পারছেন না স্বজনহারা মানুষগুলো। কেউ হাসপাতালের দেয়ালে মাথা ঠেকিয়ে, কেউবা সন্তানের স্কুলড্রেস ধরে চিৎকার করে কাঁদছেন। বার্ন ইউনিটের মেঝেতে কেউ কেউ হাউমাউ করে কাঁদছেন, কেউ আবার হতবিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদের কারো মুখের দিকেই তাকানো যাচ্ছিল না।
হতাহতের সর্বশেষ তথ্য:
মঙ্গলবার দুপুরে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ অধিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। এই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ১৬৫ জন ভর্তি আছেন।
আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন হাসপাতালে নিহত ও আহতদের সংখ্যা তুলে ধরে বলা হয়েছে: কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল: আহত ৮ জন, নিহত নেই। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট: আহত ৪৬ জন, নিহত ১০ জন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: আহত ৩ জন, নিহত ১ জন। সিএমএইচ-ঢাকা: আহত ২৮ জন, নিহত ১৬ জন। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল: আহত ৩ জন, নিহত নেই। লুবনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টার, উত্তরা: আহত ১৩ জন, নিহত ২ জন। উত্তরা আধুনিক হাসপাতাল: আহত ৬০ জন, নিহত ১ জন। উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল: আহত ১ জন, নিহত নেই। শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: আহত ১ জন। ইউনাইটেড হাসপাতাল: আহত ২ জন, নিহত ১ জন।
এর আগে সকালে প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ২৭ জন নিহত হওয়ার তথ্য জানান। এর মধ্যে ২৫ জনই শিশু বলে জানান তিনি।

বার্ন ইউনিটের ভয়াবহ চিত্র:
মর্মান্তিক এই হৃদয়বিদারক দৃশ্যে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টায় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের বাইরে স্বেচ্ছাসেবক, টিভি চ্যানেলসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মী এবং পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ভিড় করছিলেন। হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়, নার্স, চিকিৎসকদেরও ব্যস্ত দেখা যায়। সামনের রাস্তায় শত শত উৎসুক জনতার ভিড়। এর মধ্যেই সাইরেন বাজিয়ে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স জরুরি বিভাগের সামনে এসে দাঁড়াচ্ছিল। জরুরি বিভাগে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল স্ট্রেচার ও ট্রলি। অ্যাম্বুলেন্সের দরজা খুলে রোগীকে দ্রুত ভেতরে নেওয়া হচ্ছিল। রোগীর স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। অনেক স্বজন তাদের রোগীকে কোথায় কোন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে, সেটি খুঁজে না পেয়ে চিৎকার করে কাঁদছিলেন। স্বজনদের কান্না, আহাজারি ও রোগীদের ঝলসে যাওয়া শরীরের যন্ত্রণার চিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে পুরো বার্ন ইউনিট প্রাঙ্গণ।
বার্ন ইউনিটের চার তলার আইসিইউর (নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র) বাইরে অপেক্ষা করছিলেন ১০-১২ জন স্বজন। কেউ কেউ মেঝেতে বসে কাঁদছেন, কেউ আবার হতবিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেখানে ফাহাদ নিয়ন নামের একজন স্বজন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ভাগনি মেহরিনের স্কুলড্রেস ধরে কাঁদছিলেন। তাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে এক নারী নিজেও কাঁদতে থাকেন। নিয়ন আহাজারি করে বলছিলেন, ‘মেহরিন খুব নিষ্পাপ। ও সারাদিন পড়াশোনা করে। ওর দুই হাত ও মুখ পুড়ে গেছে।’
তাদের পাশেই হাউমাউ করে কাঁদছিলেন পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া মেয়ে নুরে জান্নাতের মা ইয়াসমিন আক্তার। জান্নাতের কপাল পুড়ে গেছে, ঝলসে গেছে মুখমণ্ডল, মাথা ফেটে গেছে এবং পিঠও পুড়ে গেছে। ইয়াসমিন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার মেয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেছে। মেয়ে বলে যে মা, আমার সব জ্বলে গেছে।’ তার পাশেই নাসিমা বেগম নামের অন্য নারী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘এমন দশা কেমনে হইছেরে। কত মায়ের বুক খালি হইছেরে। আমার রোহান যন্ত্রণায় কাতরাইতাছে।’ নাসিমা বেগমের সপ্তম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে রবিউল হাসান রোহানের শরীর পুড়ে গেছে বলে তিনি জানান।
চিকিৎসাধীন ও নিহত শিশুদের তালিকা:
হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ওয়ার্ডের বাইরে থেকে দেখা গেছে, ছোট্ট জীবন ও দেহ বিধ্বংসী আগুনে পোড়া যন্ত্রণার সঙ্গে লড়তে পারছে না দগ্ধ শিশুরা। তাদের প্রত্যেকের বয়স ৮ থেকে ১৩ বছর। এসব শিশুর মধ্যে প্রায় অধিকাংশের জীবন চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে ভর্তি রয়েছে ৪৮ জন, যাদের মধ্যে মঙ্গলবার তিনজনকে নতুন করে ভর্তি করা হয়েছে। আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন ৫ জন, এদের মধ্যে ৩ জনকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি ২০ জন। মোট ভর্তির মধ্যে এখনও অন্তত ২৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে দায়িত্বরত চিকিৎসক জানিয়েছেন।
সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সরেজমিন বার্ন ইউনিটে ঘুরে দেখা গেছে, স্বজনরা হাসপাতালের ওয়ার্ড থেকে আইসিইউ জুড়ে ছোটাছুটি করছেন। তারা কখনো বারান্দায়, কখনো কাঁচের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে উঁকি দিচ্ছেন, দগ্ধ সবচেয়ে প্রিয়জন কেমন আছে তা দেখার জন্য। হাসপাতাল চত্বর ঘিরে শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন। কেউ আর্তনাদ করছেন, কেউ রক্ত দিতে ব্যাকুল হয়ে উঠছেন। কেউ কেউ নির্ধারিত বুথে রক্ত দান করছেন। আবার কেউ ভেতরে ঢোকার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। তাদের অনেকের আত্মীয়-স্বজন দগ্ধ হয়েছেন। কিন্তু দগ্ধ শিশুদের সুচিকিৎসায় যাতে ইনফেকশন না ছড়ায়, সেজন্য স্বজনদের প্রবেশে কড়া নিরাপত্তা গড়ে তোলা হয়েছে।
সোমবার থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালে ১০ জন মারা গেছেন। ৮-১৪ বছর বয়সী এসব শিশু-কিশোরদের মধ্যে রয়েছে তানভীর, আফরান, ফায়াজ, এ বি শামীম, সায়ান ইউসুফ, এরিকসন, আরিয়ান ও নাজিম। বাকি দুজন হলেন শিক্ষক মাহরিন চৌধুরী (৪৬) ও মাসুকা (৩৭)।
সর্বশেষ তথ্যমতে, বার্ন ইউনিটে চিকিৎসার জন্য ৫১ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে এসে মারা গিয়েছেন দু’জন: জুনায়েদ (৯) ও তানভীর (১৪)। ভর্তি রোগীরা হলেন: আসিফ (১২), মাহতাব (১৪), শামীম (১৪), আয়াত (১০), মুনতাহা (১০), রোহান (১৪), আবিদুর রহমান (১০), নাফিজ (৯), রফি বড়ুয়া (১০), সায়মা (৯), অয়ন (১৪), আবিদ (৯), সায়েম ইউসুফ (১৪), মেহেনুর (১২), আয়মান (১০), জায়রা (১৩), ইমন (১৭), আশরাফ (৩৭), ইউশা (১৯), পায়েল (১২), আলবেরা (১০), তাসমিয়া (১৫), মাহিয়া (১৪), ফাইয়াজ (১৪)। আইসিইউতে আছেন: মাসুমা (৩৮), মাহাতা (১৪), কাব্য (১৩), নিলয় (১৪), লরিন, জাকির (৫৫), লিমন (১৭), সায়রা (১০), রাইয়া (১১), ইদ্রিস (১৫), জায়মা (১৩), সাইবা (৯), রাইসা (১১), সামিয়া (১৪), মাহিন, নাফিস, মাসুকা (৩০), তৌফিক, নিশি (২৮), নুসরাত (১২), আরিয়ান-১, আরিয়ান-২ (১২), বাপ্পি (১০), মাসুম, এরিকসন। দগ্ধদের বেশির ভাগের বয়সই ১০ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে।
গুরুতর আহত ও দগ্ধ ১০ জনকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এদের বেশির ভাগেরই শরীরের ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত দগ্ধ হয়েছে। যাদের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে তারা হলেন: মাসুকা (৩৭), বাপ্পী সরকার (৯), মাহতাব (১৪), নাফিজ (৯), শামীম (১৪), শায়ান ইউসুফ (১৪), সায়মা (১০), মাহিয়া (১৫), আফরান (১৪) এবং মাইলস্টোন স্কুলের কো-অর্ডিনেটর মাহরিন চৌধুরী (৪২)। এরিকসন ও মেহরিনের শরীরের শতভাগ দগ্ধ হয়েছে। দু’জনের দগ্ধ হয়েছে ৮০ শতাংশ করে: ১৩ বছর বয়সী নাজিয়া ও মাহতাব। ৬২ শতাংশ দগ্ধ হন ১৫ বছর বয়সী মাকিন। ৬০ শতাংশ করে দগ্ধ হন আয়ান ও মাসুমা। অন্যদের মধ্যে তাসনিয়ার ৩৫ শতাংশ, আরিয়ানের ৫৫ শতাংশ, আশরাফুল ইসলামের ১৫ শতাংশ, রোহানের ৫০ শতাংশ, শ্রেয়ার ৫ শতাংশ, কাব্য ২০ শতাংশ, ইউশার ৬ শতাংশ ও রূপী বড়ুয়ার ৬ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। এছাড়া তাসমিয়া ৫ শতাংশ, জায়ানা ৮ শতাংশ, সাইবা ৮ শতাংশ, পায়েল ১০ শতাংশ, আবীরের ২০ শতাংশ, কাফি আহমেদের ১০ শতাংশ, মুনতাহার ৫ শতাংশ, আলবিনার ৫ শতাংশ ও নিলয়ের শরীরের ১৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। নওরিন ও মাসুকা নামের দু’জনের বয়স কিংবা দগ্ধ হওয়ার পরিমাণ জানা যায়নি।
চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা ও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি:
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, সোমবার দিবাগত রাত ২টা ২০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এরিকসনের মৃত্যু হয়, তার শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটে আয়ানের মৃত্যু হয়, তার শরীরে ৯৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল। নাজিয়ারও রাতে মৃত্যু হয়, তার শরীরে ৯০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। শায়ান ইউসুফের শরীরে ৯৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল। ভোর ৫টার দিকে বাপ্পির মৃত্যু হয়েছে, তার শরীরে ৪০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। শিক্ষিকা মাসুকারও মৃত্যু হয় রাতে, তার শরীর ৮৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল।
হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তিকৃত সবাই আশঙ্কাজনক। হাসপাতাল বারান্দা জুড়ে স্বজনদের আর্তনাদে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠছে। কেউ দুহাতে মুখ ঢেকে বসে রয়েছেন। পানি গড়িয়ে নামছে দুচোখ দিয়ে। কেউ ব্যান্ডেজ করা শিশুকে কোলে নিয়ে কেঁদে চলেছেন অঝোরে। কেউ আর্তনাদ করছেন শিশুর রক্তমাখা ব্যাগ, টিফিন বাক্স আঁকড়ে। কে, কাকে সান্ত্বনা দেবেন? চিকিৎসক, নার্স, মিডিয়াকর্মী ছাড়াও অচেনা লোকজনও একসঙ্গে এত শিশুর দগ্ধ শরীর দেখে, লাশ দেখে ক্লান্ত ও শোকে স্তব্ধ।
গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকে সকালেও শিশুদের মৃতদেহ আগলে ধরে আর্তনাদ চলছিল হাসপাতালে। হাসপাতালে যাওয়ার পরেও অনেকেই কান্না থামাতে পারছিলেন না এবং তাদের ক্ষোভের তীর ছিল জীবন নিরাপত্তার প্রশ্নে। তারা বলছিলেন, “সন্তানরা কি স্কুলেও নিরাপদ নন? ফুল ফোটার আগেই কুঁড়ি ঝরে গেল। কোনো মূল্যেই এই ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়। যারা এখনো বাঁচার জন্য লড়ছেন, তারা জানে না বাঁচা-মরা কাকে বলে।” হাসপাতালের বেডে বেডে সারিবদ্ধ করে রাখা হয়েছে ব্যান্ডেজ ঘেরা শিশুদের। এমন পরিস্থিতিতে একটু পর পর দগ্ধ শিশুদের লাশ জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে বের করা হচ্ছিল।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ডা. নাসির উদ্দিন বলেছেন, “মঙ্গলবারেও সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন ২২ থেকে ২৩ জন। এদের মধ্যে ৯-১০ বছরের ফুটফুটে শিশুও রয়েছে। চিকিৎসক থেকে নার্স, হাসপাতালের কর্মী সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টায় সেবা দিচ্ছেন। মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বিশ্বমানের সাপোর্টও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু দগ্ধদের অবস্থা এতই ভয়াবহ যে, অনেককেই বাঁচানো সম্ভব হবে না। অনেকেই শতভাগ পোড়া শরীর নিয়ে ভর্তি আছেন, যাদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা বেশি।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ জুলাই, ২০২৫,  4:48 PM

news image

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় হতাহতদের স্বজনদের আহাজারিতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। সোমবার রাত থেকেই হাজার হাজার মানুষ প্রিয়জনের খোঁজে এবং তাদের শেষ অবস্থা জানতে হাসপাতালে ভিড় করছেন। সন্তানের এমন পরিণতি কিছুতেই মানতে পারছেন না স্বজনহারা মানুষগুলো। কেউ হাসপাতালের দেয়ালে মাথা ঠেকিয়ে, কেউবা সন্তানের স্কুলড্রেস ধরে চিৎকার করে কাঁদছেন। বার্ন ইউনিটের মেঝেতে কেউ কেউ হাউমাউ করে কাঁদছেন, কেউ আবার হতবিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদের কারো মুখের দিকেই তাকানো যাচ্ছিল না।
হতাহতের সর্বশেষ তথ্য:
মঙ্গলবার দুপুরে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ অধিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। এই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ১৬৫ জন ভর্তি আছেন।
আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন হাসপাতালে নিহত ও আহতদের সংখ্যা তুলে ধরে বলা হয়েছে: কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল: আহত ৮ জন, নিহত নেই। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট: আহত ৪৬ জন, নিহত ১০ জন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: আহত ৩ জন, নিহত ১ জন। সিএমএইচ-ঢাকা: আহত ২৮ জন, নিহত ১৬ জন। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল: আহত ৩ জন, নিহত নেই। লুবনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টার, উত্তরা: আহত ১৩ জন, নিহত ২ জন। উত্তরা আধুনিক হাসপাতাল: আহত ৬০ জন, নিহত ১ জন। উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল: আহত ১ জন, নিহত নেই। শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: আহত ১ জন। ইউনাইটেড হাসপাতাল: আহত ২ জন, নিহত ১ জন।
এর আগে সকালে প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ২৭ জন নিহত হওয়ার তথ্য জানান। এর মধ্যে ২৫ জনই শিশু বলে জানান তিনি।

বার্ন ইউনিটের ভয়াবহ চিত্র:
মর্মান্তিক এই হৃদয়বিদারক দৃশ্যে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টায় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের বাইরে স্বেচ্ছাসেবক, টিভি চ্যানেলসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মী এবং পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ভিড় করছিলেন। হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়, নার্স, চিকিৎসকদেরও ব্যস্ত দেখা যায়। সামনের রাস্তায় শত শত উৎসুক জনতার ভিড়। এর মধ্যেই সাইরেন বাজিয়ে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স জরুরি বিভাগের সামনে এসে দাঁড়াচ্ছিল। জরুরি বিভাগে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল স্ট্রেচার ও ট্রলি। অ্যাম্বুলেন্সের দরজা খুলে রোগীকে দ্রুত ভেতরে নেওয়া হচ্ছিল। রোগীর স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। অনেক স্বজন তাদের রোগীকে কোথায় কোন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে, সেটি খুঁজে না পেয়ে চিৎকার করে কাঁদছিলেন। স্বজনদের কান্না, আহাজারি ও রোগীদের ঝলসে যাওয়া শরীরের যন্ত্রণার চিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে পুরো বার্ন ইউনিট প্রাঙ্গণ।
বার্ন ইউনিটের চার তলার আইসিইউর (নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র) বাইরে অপেক্ষা করছিলেন ১০-১২ জন স্বজন। কেউ কেউ মেঝেতে বসে কাঁদছেন, কেউ আবার হতবিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেখানে ফাহাদ নিয়ন নামের একজন স্বজন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ভাগনি মেহরিনের স্কুলড্রেস ধরে কাঁদছিলেন। তাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে এক নারী নিজেও কাঁদতে থাকেন। নিয়ন আহাজারি করে বলছিলেন, ‘মেহরিন খুব নিষ্পাপ। ও সারাদিন পড়াশোনা করে। ওর দুই হাত ও মুখ পুড়ে গেছে।’
তাদের পাশেই হাউমাউ করে কাঁদছিলেন পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া মেয়ে নুরে জান্নাতের মা ইয়াসমিন আক্তার। জান্নাতের কপাল পুড়ে গেছে, ঝলসে গেছে মুখমণ্ডল, মাথা ফেটে গেছে এবং পিঠও পুড়ে গেছে। ইয়াসমিন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার মেয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেছে। মেয়ে বলে যে মা, আমার সব জ্বলে গেছে।’ তার পাশেই নাসিমা বেগম নামের অন্য নারী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘এমন দশা কেমনে হইছেরে। কত মায়ের বুক খালি হইছেরে। আমার রোহান যন্ত্রণায় কাতরাইতাছে।’ নাসিমা বেগমের সপ্তম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে রবিউল হাসান রোহানের শরীর পুড়ে গেছে বলে তিনি জানান।
চিকিৎসাধীন ও নিহত শিশুদের তালিকা:
হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ওয়ার্ডের বাইরে থেকে দেখা গেছে, ছোট্ট জীবন ও দেহ বিধ্বংসী আগুনে পোড়া যন্ত্রণার সঙ্গে লড়তে পারছে না দগ্ধ শিশুরা। তাদের প্রত্যেকের বয়স ৮ থেকে ১৩ বছর। এসব শিশুর মধ্যে প্রায় অধিকাংশের জীবন চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে ভর্তি রয়েছে ৪৮ জন, যাদের মধ্যে মঙ্গলবার তিনজনকে নতুন করে ভর্তি করা হয়েছে। আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন ৫ জন, এদের মধ্যে ৩ জনকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি ২০ জন। মোট ভর্তির মধ্যে এখনও অন্তত ২৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে দায়িত্বরত চিকিৎসক জানিয়েছেন।
সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সরেজমিন বার্ন ইউনিটে ঘুরে দেখা গেছে, স্বজনরা হাসপাতালের ওয়ার্ড থেকে আইসিইউ জুড়ে ছোটাছুটি করছেন। তারা কখনো বারান্দায়, কখনো কাঁচের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে উঁকি দিচ্ছেন, দগ্ধ সবচেয়ে প্রিয়জন কেমন আছে তা দেখার জন্য। হাসপাতাল চত্বর ঘিরে শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন। কেউ আর্তনাদ করছেন, কেউ রক্ত দিতে ব্যাকুল হয়ে উঠছেন। কেউ কেউ নির্ধারিত বুথে রক্ত দান করছেন। আবার কেউ ভেতরে ঢোকার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। তাদের অনেকের আত্মীয়-স্বজন দগ্ধ হয়েছেন। কিন্তু দগ্ধ শিশুদের সুচিকিৎসায় যাতে ইনফেকশন না ছড়ায়, সেজন্য স্বজনদের প্রবেশে কড়া নিরাপত্তা গড়ে তোলা হয়েছে।
সোমবার থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত হাসপাতালে ১০ জন মারা গেছেন। ৮-১৪ বছর বয়সী এসব শিশু-কিশোরদের মধ্যে রয়েছে তানভীর, আফরান, ফায়াজ, এ বি শামীম, সায়ান ইউসুফ, এরিকসন, আরিয়ান ও নাজিম। বাকি দুজন হলেন শিক্ষক মাহরিন চৌধুরী (৪৬) ও মাসুকা (৩৭)।
সর্বশেষ তথ্যমতে, বার্ন ইউনিটে চিকিৎসার জন্য ৫১ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে এসে মারা গিয়েছেন দু’জন: জুনায়েদ (৯) ও তানভীর (১৪)। ভর্তি রোগীরা হলেন: আসিফ (১২), মাহতাব (১৪), শামীম (১৪), আয়াত (১০), মুনতাহা (১০), রোহান (১৪), আবিদুর রহমান (১০), নাফিজ (৯), রফি বড়ুয়া (১০), সায়মা (৯), অয়ন (১৪), আবিদ (৯), সায়েম ইউসুফ (১৪), মেহেনুর (১২), আয়মান (১০), জায়রা (১৩), ইমন (১৭), আশরাফ (৩৭), ইউশা (১৯), পায়েল (১২), আলবেরা (১০), তাসমিয়া (১৫), মাহিয়া (১৪), ফাইয়াজ (১৪)। আইসিইউতে আছেন: মাসুমা (৩৮), মাহাতা (১৪), কাব্য (১৩), নিলয় (১৪), লরিন, জাকির (৫৫), লিমন (১৭), সায়রা (১০), রাইয়া (১১), ইদ্রিস (১৫), জায়মা (১৩), সাইবা (৯), রাইসা (১১), সামিয়া (১৪), মাহিন, নাফিস, মাসুকা (৩০), তৌফিক, নিশি (২৮), নুসরাত (১২), আরিয়ান-১, আরিয়ান-২ (১২), বাপ্পি (১০), মাসুম, এরিকসন। দগ্ধদের বেশির ভাগের বয়সই ১০ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে।
গুরুতর আহত ও দগ্ধ ১০ জনকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এদের বেশির ভাগেরই শরীরের ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত দগ্ধ হয়েছে। যাদের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে তারা হলেন: মাসুকা (৩৭), বাপ্পী সরকার (৯), মাহতাব (১৪), নাফিজ (৯), শামীম (১৪), শায়ান ইউসুফ (১৪), সায়মা (১০), মাহিয়া (১৫), আফরান (১৪) এবং মাইলস্টোন স্কুলের কো-অর্ডিনেটর মাহরিন চৌধুরী (৪২)। এরিকসন ও মেহরিনের শরীরের শতভাগ দগ্ধ হয়েছে। দু’জনের দগ্ধ হয়েছে ৮০ শতাংশ করে: ১৩ বছর বয়সী নাজিয়া ও মাহতাব। ৬২ শতাংশ দগ্ধ হন ১৫ বছর বয়সী মাকিন। ৬০ শতাংশ করে দগ্ধ হন আয়ান ও মাসুমা। অন্যদের মধ্যে তাসনিয়ার ৩৫ শতাংশ, আরিয়ানের ৫৫ শতাংশ, আশরাফুল ইসলামের ১৫ শতাংশ, রোহানের ৫০ শতাংশ, শ্রেয়ার ৫ শতাংশ, কাব্য ২০ শতাংশ, ইউশার ৬ শতাংশ ও রূপী বড়ুয়ার ৬ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। এছাড়া তাসমিয়া ৫ শতাংশ, জায়ানা ৮ শতাংশ, সাইবা ৮ শতাংশ, পায়েল ১০ শতাংশ, আবীরের ২০ শতাংশ, কাফি আহমেদের ১০ শতাংশ, মুনতাহার ৫ শতাংশ, আলবিনার ৫ শতাংশ ও নিলয়ের শরীরের ১৮ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। নওরিন ও মাসুকা নামের দু’জনের বয়স কিংবা দগ্ধ হওয়ার পরিমাণ জানা যায়নি।
চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা ও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি:
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান জানান, সোমবার দিবাগত রাত ২টা ২০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এরিকসনের মৃত্যু হয়, তার শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটে আয়ানের মৃত্যু হয়, তার শরীরে ৯৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল। নাজিয়ারও রাতে মৃত্যু হয়, তার শরীরে ৯০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। শায়ান ইউসুফের শরীরে ৯৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল। ভোর ৫টার দিকে বাপ্পির মৃত্যু হয়েছে, তার শরীরে ৪০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। শিক্ষিকা মাসুকারও মৃত্যু হয় রাতে, তার শরীর ৮৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল।
হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তিকৃত সবাই আশঙ্কাজনক। হাসপাতাল বারান্দা জুড়ে স্বজনদের আর্তনাদে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠছে। কেউ দুহাতে মুখ ঢেকে বসে রয়েছেন। পানি গড়িয়ে নামছে দুচোখ দিয়ে। কেউ ব্যান্ডেজ করা শিশুকে কোলে নিয়ে কেঁদে চলেছেন অঝোরে। কেউ আর্তনাদ করছেন শিশুর রক্তমাখা ব্যাগ, টিফিন বাক্স আঁকড়ে। কে, কাকে সান্ত্বনা দেবেন? চিকিৎসক, নার্স, মিডিয়াকর্মী ছাড়াও অচেনা লোকজনও একসঙ্গে এত শিশুর দগ্ধ শরীর দেখে, লাশ দেখে ক্লান্ত ও শোকে স্তব্ধ।
গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকে সকালেও শিশুদের মৃতদেহ আগলে ধরে আর্তনাদ চলছিল হাসপাতালে। হাসপাতালে যাওয়ার পরেও অনেকেই কান্না থামাতে পারছিলেন না এবং তাদের ক্ষোভের তীর ছিল জীবন নিরাপত্তার প্রশ্নে। তারা বলছিলেন, “সন্তানরা কি স্কুলেও নিরাপদ নন? ফুল ফোটার আগেই কুঁড়ি ঝরে গেল। কোনো মূল্যেই এই ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়। যারা এখনো বাঁচার জন্য লড়ছেন, তারা জানে না বাঁচা-মরা কাকে বলে।” হাসপাতালের বেডে বেডে সারিবদ্ধ করে রাখা হয়েছে ব্যান্ডেজ ঘেরা শিশুদের। এমন পরিস্থিতিতে একটু পর পর দগ্ধ শিশুদের লাশ জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে বের করা হচ্ছিল।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ডা. নাসির উদ্দিন বলেছেন, “মঙ্গলবারেও সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন ২২ থেকে ২৩ জন। এদের মধ্যে ৯-১০ বছরের ফুটফুটে শিশুও রয়েছে। চিকিৎসক থেকে নার্স, হাসপাতালের কর্মী সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টায় সেবা দিচ্ছেন। মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বিশ্বমানের সাপোর্টও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু দগ্ধদের অবস্থা এতই ভয়াবহ যে, অনেককেই বাঁচানো সম্ভব হবে না। অনেকেই শতভাগ পোড়া শরীর নিয়ে ভর্তি আছেন, যাদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা বেশি।”