নিউজ ডেস্ক
২৯ মার্চ, ২০২৬, 3:59 PM
লিবিয়া থেকে নৌকায় করে গ্রিসে যাওয়ার সময় পথ হারিয়ে সাগরে ভাসতে ভাসতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে অভিবাসনপ্রত্যাশী সুনামগঞ্জের ১২ যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। মারা যাওয়া যুবকদের স্বজনরা এ তথ্য জানিয়েছেন। ওই ১২ যুবকের মধ্যে জেলার দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুরের ৫ জন ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ জন রয়েছেন।
এদিকে ১৮ যুবক অনাহারে মারা যাওয়ার পর তাদের সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া কিশোরগঞ্জের এক যুবক। তার একটি ভিডিও শনিবার সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ওই যুবকের নাম জানা যায়নি। ভিডিওতে ওই যুবককে বলতে শোনা যায়, লিবিয়া থেকে সাগরপথে তারা ৪৩ জন রওনা হয়েছিলেন। তাদের বড় বোটের কথা বলে ছোট হাওয়াই বোটে তুলে দেওয়া হয়। বোটে পাঁচজন সুদানের নাগরিক ও ৩৮ বাংলাদেশি ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৮ জন মারা গেছেন, যাদের বাড়ি সুনামগঞ্জ-সিলেটে। মারা যাওয়া যুবকদের লাশ দুদিন বোটে রাখা হয়েছিল। পরে লাশ পচে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় সাগরে ফেলা দেওয়া হয়।
মারা যাওয়া যুবকরা হলেন দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩২), মৃত ইসলাম উদ্দীনের ছেলে মো. সাহান এহিয়া (২২), আব্দুল গণির ছেলে মো. সাজিদুর রহমান (২৬), রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৪০), জগদল ইউনিয়নের বাসুরী গ্রামের সালিকুর রহমানের ছেলে সুহানুর রহমান (২২)। সাহান এহিয়া সাগরে মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন তার ভাতিজা মো. মুক্তাদির আহমদ।
এ ছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. তায়েব মিয়া (২৪)। তার স্বজনদের ধারণা, তিনিও সাগরে মারা গেছেন। কারণ, অন্যদের সঙ্গে তিনিও ছিলেন।
জগন্নাথপুর উপজেলার মারা যাওয়া যুবকরা হলেন পাইলগাঁও গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান (৩৫), টিয়ারগাঁও গ্রামের আখলুছ মিয়ার ছেলে শায়ক মিয়া (২০), ইছগাঁও গ্রামের মো. আলী (২৩), বাউরি গ্রামের মো. সোহানুর রহমান (২৫) এবং জগন্নাথপুর পৌরসভাধীন কবিরপুর গ্রামের মো. নাঈম (২৬)। এই তালিকায় রয়েছেন, দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নের কবিরনগর গ্রামের ফয়েজুর রহমানের ছেলে অভ্র ফাহিম (২০)। ফাহিম সাগরে মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন এনামুল কবির মুন্না নামের তার এক মামা।
এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এএফপি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় একটি রাবারের নৌকায় সমুদ্রে ভাসছিলেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। আমরা নানাভাবে বিষয়টি জেনেছি, খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, দিরাইয়ের চার যুবক লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে সাগরে মারা গেছেন।
এ ঘটনায় গ্রিস কর্তৃপক্ষ দুই দক্ষিণ সুদানি যুবককে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের পাচারকারী বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
নিউজ ডেস্ক
২৯ মার্চ, ২০২৬, 3:59 PM
লিবিয়া থেকে নৌকায় করে গ্রিসে যাওয়ার সময় পথ হারিয়ে সাগরে ভাসতে ভাসতে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে অভিবাসনপ্রত্যাশী সুনামগঞ্জের ১২ যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। মারা যাওয়া যুবকদের স্বজনরা এ তথ্য জানিয়েছেন। ওই ১২ যুবকের মধ্যে জেলার দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুরের ৫ জন ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ জন রয়েছেন।
এদিকে ১৮ যুবক অনাহারে মারা যাওয়ার পর তাদের সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া কিশোরগঞ্জের এক যুবক। তার একটি ভিডিও শনিবার সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ওই যুবকের নাম জানা যায়নি। ভিডিওতে ওই যুবককে বলতে শোনা যায়, লিবিয়া থেকে সাগরপথে তারা ৪৩ জন রওনা হয়েছিলেন। তাদের বড় বোটের কথা বলে ছোট হাওয়াই বোটে তুলে দেওয়া হয়। বোটে পাঁচজন সুদানের নাগরিক ও ৩৮ বাংলাদেশি ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৮ জন মারা গেছেন, যাদের বাড়ি সুনামগঞ্জ-সিলেটে। মারা যাওয়া যুবকদের লাশ দুদিন বোটে রাখা হয়েছিল। পরে লাশ পচে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় সাগরে ফেলা দেওয়া হয়।
মারা যাওয়া যুবকরা হলেন দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩২), মৃত ইসলাম উদ্দীনের ছেলে মো. সাহান এহিয়া (২২), আব্দুল গণির ছেলে মো. সাজিদুর রহমান (২৬), রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৪০), জগদল ইউনিয়নের বাসুরী গ্রামের সালিকুর রহমানের ছেলে সুহানুর রহমান (২২)। সাহান এহিয়া সাগরে মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন তার ভাতিজা মো. মুক্তাদির আহমদ।
এ ছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. তায়েব মিয়া (২৪)। তার স্বজনদের ধারণা, তিনিও সাগরে মারা গেছেন। কারণ, অন্যদের সঙ্গে তিনিও ছিলেন।
জগন্নাথপুর উপজেলার মারা যাওয়া যুবকরা হলেন পাইলগাঁও গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান (৩৫), টিয়ারগাঁও গ্রামের আখলুছ মিয়ার ছেলে শায়ক মিয়া (২০), ইছগাঁও গ্রামের মো. আলী (২৩), বাউরি গ্রামের মো. সোহানুর রহমান (২৫) এবং জগন্নাথপুর পৌরসভাধীন কবিরপুর গ্রামের মো. নাঈম (২৬)। এই তালিকায় রয়েছেন, দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নের কবিরনগর গ্রামের ফয়েজুর রহমানের ছেলে অভ্র ফাহিম (২০)। ফাহিম সাগরে মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন এনামুল কবির মুন্না নামের তার এক মামা।
এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এএফপি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় একটি রাবারের নৌকায় সমুদ্রে ভাসছিলেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। আমরা নানাভাবে বিষয়টি জেনেছি, খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, দিরাইয়ের চার যুবক লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে সাগরে মারা গেছেন।
এ ঘটনায় গ্রিস কর্তৃপক্ষ দুই দক্ষিণ সুদানি যুবককে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের পাচারকারী বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।