CKEditor 5 Sample
ঢাকা ১৮ মার্চ, ২০২৬

৪৬৫ বছরের পুরানো ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদ

#
news image

মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন নওগাঁ মান্দা উপজেলার ঐতিহাসিক কুসুম্বা শাহী মসজিদ। প্রায় ৪৬৫ বছরের এই ঐতিহাসিক পুরাকীর্তির পুরোটাই কালো পাথরে মোড়ানো। মসজিদের দেওয়াল, মিনার ও গম্বুজে রয়েছে নকশা খোদাই করা। মুসলিম স্থাপত্যের অপরূপ সৌন্দর্যের এই শাহী মসজিদটি মুসল্লিদের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত আকৃষ্ট করে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের। কুসুম্বা মসজিদ দেখতে প্রতিনিয়ত দেশি-বিদেশি পর্যটকরা ছুটে আসেন। বাংলাদেশের পাঁচ টাকার কাগজের নোটে মুদ্রিত ঐতিহাসিক মসজিদটিকে ঘিরে পর্যটনশিল্পের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

মসজিদটির উত্তর-দক্ষিণ দিকে রয়েছে ৭৭ বিঘার বিশাল দিঘি। এটি লম্বায় প্রায় ১২০০ ফুট ও চওড়ায় প্রায় ৯০০ ফুট। গ্রামবাসী ও মুসল্লিদের খাবার পানি, গোসল এবং অজুর প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই দিঘি খনন করা হয়েছিল। কুসুম্বা মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে ৫৮ ফুট লম্বা, ৫২ ফুট চওড়া। মসজিদের চারদিকের দেওয়াল ৬ ফুট পুরু। তার ওপর বাইরের অংশ কালো পাথর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। মসজিদের সামনের অংশে রয়েছে তিনটি দরজা। আকারে দুটি বড়, অন্যটি অপেক্ষাকৃত ছোট। দরজাগুলো খিলানযুক্ত মেহরাব আকৃতির। মসজিদের চার কোনায় রয়েছে চারটি মিনার। মিনারগুলো মসজিদের দেওয়াল পর্যন্ত উঁচু ও আট কোনাকার। ছাদের ওপর রয়েছে ছয়টি গম্বুজ। যা দুটি সারিতে তৈরি।

কুসুম্বা মসজিদ দ্বিতীয় সারির গম্বুজগুলো আকৃতির দিক দিয়ে কিছুটা ছোট। ১৮৯৭ সালের এক ভূমিকম্পে তিনটি গম্বুজ নষ্ট হয়েছিল। পরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মসজিদটি সংস্কার করে। মসজিদের ভেতর দুটি পিলার রয়েছে। উত্তর দিকের মেহরাবের সামনে পাথরের পিলারের ওপর তৈরি করা হয়েছিল একটি দোতলা ঘর। এই ঘরটিকে বলা হতো জেনানা গ্যালারি বা নারীদের নামাজের ঘর। এখানে মহিলারা নামাজ পড়তেন।

মসজিদের সম্মুখভাগে রয়েছে খোলা প্রাঙ্গণ ও পাথর বসানো সিঁড়ি, যা দিঘিতে গিয়ে নেমেছে। মসজিদের প্রবেশপথের একটু দূরে বাক্স আকৃতির এক খণ্ড কালো পাথর দেখা যায়। এটিকে অনেকে কবর বলে মনে করেন। উপজেলা প্রসাশন কয়েক বছর আগে মহিলাদের দিঘীতে নামার জন্য আলাদা ঘাট তৈরি করে দিয়েছে।

মসজিদের মিহরাবে রয়েছে বিচিত্র ফুল, লতাপাতা, ঝুলন্ত শিকল ও মনোরম সব শিল্পকর্মের ছাপ। কুসুম্বা মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে ৫৮ ফুট লম্বা, চওড়া ৫২ ফুট। ছাদের ওপর রয়েছে গোলাকৃতির মোট ছয়টি গম্বুজ। এদিকে মসজিদের ভেতরে প্রবেশের আগেই নজরে আসে মসজিদ চত্বরে রাখা বাক্স আকৃতির একটি বড় কালো পাথর। কথিত আছে, এক কৃষক হালচাষের সময় তার জমিতে এই পাথরটি দেখতে পেয়েছিলেন। বিশেষ এই পাথরটি লাঙলের ফলার আঘাতে কিছুটা ভেঙে যায়। ওই সময় পাথরটি জমি থেকে তুলে এনে রাস্তার পাশে রাখা হয়েছিল। উদ্ধার পাথরের গায়ে তোগড়া হরফে আরবি লিপি রয়েছে।

রয়েছে নারী পুরুষের জন্য আলাদা ওজুর জায়গা। মসজিদের এরিয়া জুড়ে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা, মসজিদে আগত দর্শণার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দর্শণার্থী আকৃষ্ট করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানামুখী উদ্যোগ। রাত্রি যাবনের জন্য তৈরি করা হয়েছে রেস্ট হাউজ ।

সহজেই গুগলে সার্চ করে আপনিও করে ঘুরে আসতে পারে নওগাঁ মান্দা উপজেলার ঐতিহাসিক শহী কুসুম্বা মসজিদ থেকে।

নিউজ ডেস্ক

১৬ মার্চ, ২০২৬,  11:31 AM

news image
সংগৃহীত

মুসলিম স্থাপত্যের এক অপূর্ব নিদর্শন নওগাঁ মান্দা উপজেলার ঐতিহাসিক কুসুম্বা শাহী মসজিদ। প্রায় ৪৬৫ বছরের এই ঐতিহাসিক পুরাকীর্তির পুরোটাই কালো পাথরে মোড়ানো। মসজিদের দেওয়াল, মিনার ও গম্বুজে রয়েছে নকশা খোদাই করা। মুসলিম স্থাপত্যের অপরূপ সৌন্দর্যের এই শাহী মসজিদটি মুসল্লিদের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত আকৃষ্ট করে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের। কুসুম্বা মসজিদ দেখতে প্রতিনিয়ত দেশি-বিদেশি পর্যটকরা ছুটে আসেন। বাংলাদেশের পাঁচ টাকার কাগজের নোটে মুদ্রিত ঐতিহাসিক মসজিদটিকে ঘিরে পর্যটনশিল্পের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

মসজিদটির উত্তর-দক্ষিণ দিকে রয়েছে ৭৭ বিঘার বিশাল দিঘি। এটি লম্বায় প্রায় ১২০০ ফুট ও চওড়ায় প্রায় ৯০০ ফুট। গ্রামবাসী ও মুসল্লিদের খাবার পানি, গোসল এবং অজুর প্রয়োজন মেটানোর জন্য এই দিঘি খনন করা হয়েছিল। কুসুম্বা মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে ৫৮ ফুট লম্বা, ৫২ ফুট চওড়া। মসজিদের চারদিকের দেওয়াল ৬ ফুট পুরু। তার ওপর বাইরের অংশ কালো পাথর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। মসজিদের সামনের অংশে রয়েছে তিনটি দরজা। আকারে দুটি বড়, অন্যটি অপেক্ষাকৃত ছোট। দরজাগুলো খিলানযুক্ত মেহরাব আকৃতির। মসজিদের চার কোনায় রয়েছে চারটি মিনার। মিনারগুলো মসজিদের দেওয়াল পর্যন্ত উঁচু ও আট কোনাকার। ছাদের ওপর রয়েছে ছয়টি গম্বুজ। যা দুটি সারিতে তৈরি।

কুসুম্বা মসজিদ দ্বিতীয় সারির গম্বুজগুলো আকৃতির দিক দিয়ে কিছুটা ছোট। ১৮৯৭ সালের এক ভূমিকম্পে তিনটি গম্বুজ নষ্ট হয়েছিল। পরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মসজিদটি সংস্কার করে। মসজিদের ভেতর দুটি পিলার রয়েছে। উত্তর দিকের মেহরাবের সামনে পাথরের পিলারের ওপর তৈরি করা হয়েছিল একটি দোতলা ঘর। এই ঘরটিকে বলা হতো জেনানা গ্যালারি বা নারীদের নামাজের ঘর। এখানে মহিলারা নামাজ পড়তেন।

মসজিদের সম্মুখভাগে রয়েছে খোলা প্রাঙ্গণ ও পাথর বসানো সিঁড়ি, যা দিঘিতে গিয়ে নেমেছে। মসজিদের প্রবেশপথের একটু দূরে বাক্স আকৃতির এক খণ্ড কালো পাথর দেখা যায়। এটিকে অনেকে কবর বলে মনে করেন। উপজেলা প্রসাশন কয়েক বছর আগে মহিলাদের দিঘীতে নামার জন্য আলাদা ঘাট তৈরি করে দিয়েছে।

মসজিদের মিহরাবে রয়েছে বিচিত্র ফুল, লতাপাতা, ঝুলন্ত শিকল ও মনোরম সব শিল্পকর্মের ছাপ। কুসুম্বা মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে ৫৮ ফুট লম্বা, চওড়া ৫২ ফুট। ছাদের ওপর রয়েছে গোলাকৃতির মোট ছয়টি গম্বুজ। এদিকে মসজিদের ভেতরে প্রবেশের আগেই নজরে আসে মসজিদ চত্বরে রাখা বাক্স আকৃতির একটি বড় কালো পাথর। কথিত আছে, এক কৃষক হালচাষের সময় তার জমিতে এই পাথরটি দেখতে পেয়েছিলেন। বিশেষ এই পাথরটি লাঙলের ফলার আঘাতে কিছুটা ভেঙে যায়। ওই সময় পাথরটি জমি থেকে তুলে এনে রাস্তার পাশে রাখা হয়েছিল। উদ্ধার পাথরের গায়ে তোগড়া হরফে আরবি লিপি রয়েছে।

রয়েছে নারী পুরুষের জন্য আলাদা ওজুর জায়গা। মসজিদের এরিয়া জুড়ে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা, মসজিদে আগত দর্শণার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দর্শণার্থী আকৃষ্ট করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানামুখী উদ্যোগ। রাত্রি যাবনের জন্য তৈরি করা হয়েছে রেস্ট হাউজ ।

সহজেই গুগলে সার্চ করে আপনিও করে ঘুরে আসতে পারে নওগাঁ মান্দা উপজেলার ঐতিহাসিক শহী কুসুম্বা মসজিদ থেকে।