CKEditor 5 Sample
ঢাকা ১৮ মে, ২০২৬

৪০ লাখের দেশ ক্রোয়েশিয়া কিন্তু ফুটবলে অবিশ্বাস্য শক্তি

#
news image

বিশ্ব ফুটবলে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে যেসব দল, তাদের মধ্যে সম্ভবত ক্রোয়েশিয়াই শীর্ষে থাকবে। জনসংখ্যা মাত্র ৪০ লাখের কাছাকাছি। তবু বিশ্বকাপের মঞ্চে বারবার নিজেদের প্রমাণ করেছে তারা। শুধু অংশ নেওয়ার জন্য নয়, ট্রফির খুব কাছাকাছি পৌঁছে নিজেদের পরিচিত করেছে ক্রোয়েশিয়া।

গত শতকের শেষ বিশ্বকাপ হয় ১৯৯৮ সালে। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে প্রথম অংশ নিয়েই সবাইকে চমকে দিয়েছিল দলটি। সেই আসরে তৃতীয় হয়েছিল ক্রোয়াটরা। ডেভর সুকার জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট। তারপর দীর্ঘ অপেক্ষা। 

অবশেষে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে বদলে যায় গল্প। অবিশ্বাস্য এক যাত্রা শেষে ফাইনালে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। মাঝমাঠে তখন এক জাদুকরের রাজত্ব। তার নাম লুকা মডরিচ। রাশিয়ায় তার পায়ের ছোঁয়ায় বদলে গিয়েছিল ম্যাচের গতি। ক্রোয়েশিয়া শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের কাছে হারলেও বিশ্বজুড়ে সম্মান কুড়িয়েছিল। সেই বছর ব্যালন ডি’অরও জয় করেন মডরিচ।

 জনসংখ্যাচার বছর পর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও নিজেদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখে ক্রোয়েশিয়া। সেমিফাইনাল খেলে দলটি। অর্জন করে তৃতীয় স্থান। সামনে আরেকটি বিশ্বকাপ। অনেকেই ভাবছিলেন, হয়তো ক্রোয়েশিয়ার সময় শেষ। কিন্তু বাছাইপর্বে দারুণ ফুটবল খেলেছে দলটি। আট ম্যাচে সাত জয়। ২৬ গোল। 

সবচেয়ে বড় আশার দিক, এখনো মডরিচ আছেন দারুণ ফর্মে। ৪০ বছর বয়সেও তিনি দলের প্রাণ। সম্প্রতি চোটে পড়ে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে তাকে। তবু কোচ জ্লাৎকো দালিচ বিশ্বাস করেন, বিশ্বকাপের আগেই ফিরবেন তার অধিনায়ক।

ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি মাঝমাঠ। মডরিচ ছাড়া আছেন ম্যানসিটি তারকা মাতেও কোভাচিচ ও আটলান্টার মারকো প্যাসালিচের মতো অভিজ্ঞরা। বল দখলে রাখতে তারা দারুণ দক্ষ। চাপের ম্যাচেও মাথা ঠান্ডা রাখে। এ জায়গাতেই অন্য দলগুলোর চেয়ে আলাদা ক্রোয়েশিয়া। রক্ষণভাগেও আছে শক্ত দেয়াল। 

বিশেষ করে ম্যানসিটি তারকা জোসকো গ্যাভার্ডিওল এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে বিবেচিত। তার গতি আর ট্যাকল ক্রোয়েশিয়াকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেয়। গোলবারের নিচে আছেন ডমিনিক লিভাকোভিচ। 

পেনাল্টি রুখে দেওয়ার অদ্ভুত দক্ষতার জন্য তিনি আগেই নায়ক হয়েছেন ক্রোয়েশিয়ানদের কাছে। তবে দুর্বলতাও আছে দলটির। অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ই বয়সের ভারে পুরোনো ফর্ম হারিয়েছেন। 

গতিনির্ভর দলের বিপক্ষে কখনো কখনো পিছিয়ে পড়ে তারা। আর মডরিচ পুরোপুরি ফিট না থাকলে মাঝ মাঠের ছন্দও কমে যেতে পারে। তবু ক্রোয়েশিয়াকে কখনো হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ তারা বড় মঞ্চের দল। চাপের ম্যাচে লড়তে জানে। হারতে হারতেও ফিরে আসতে জানে। হয়তো এবার তারা ফেবারিট নয়। কিন্তু বিশ্বকাপ ইতিহাস বলছে, ক্রোয়েশিয়াকে অবহেলা করা মানেই বিপদ ডেকে আনা।

নিউজ ডেস্ক

১৭ মে, ২০২৬,  2:16 PM

news image
সংগৃহীত

বিশ্ব ফুটবলে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে যেসব দল, তাদের মধ্যে সম্ভবত ক্রোয়েশিয়াই শীর্ষে থাকবে। জনসংখ্যা মাত্র ৪০ লাখের কাছাকাছি। তবু বিশ্বকাপের মঞ্চে বারবার নিজেদের প্রমাণ করেছে তারা। শুধু অংশ নেওয়ার জন্য নয়, ট্রফির খুব কাছাকাছি পৌঁছে নিজেদের পরিচিত করেছে ক্রোয়েশিয়া।

গত শতকের শেষ বিশ্বকাপ হয় ১৯৯৮ সালে। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে প্রথম অংশ নিয়েই সবাইকে চমকে দিয়েছিল দলটি। সেই আসরে তৃতীয় হয়েছিল ক্রোয়াটরা। ডেভর সুকার জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট। তারপর দীর্ঘ অপেক্ষা। 

অবশেষে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে বদলে যায় গল্প। অবিশ্বাস্য এক যাত্রা শেষে ফাইনালে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। মাঝমাঠে তখন এক জাদুকরের রাজত্ব। তার নাম লুকা মডরিচ। রাশিয়ায় তার পায়ের ছোঁয়ায় বদলে গিয়েছিল ম্যাচের গতি। ক্রোয়েশিয়া শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সের কাছে হারলেও বিশ্বজুড়ে সম্মান কুড়িয়েছিল। সেই বছর ব্যালন ডি’অরও জয় করেন মডরিচ।

 জনসংখ্যাচার বছর পর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও নিজেদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখে ক্রোয়েশিয়া। সেমিফাইনাল খেলে দলটি। অর্জন করে তৃতীয় স্থান। সামনে আরেকটি বিশ্বকাপ। অনেকেই ভাবছিলেন, হয়তো ক্রোয়েশিয়ার সময় শেষ। কিন্তু বাছাইপর্বে দারুণ ফুটবল খেলেছে দলটি। আট ম্যাচে সাত জয়। ২৬ গোল। 

সবচেয়ে বড় আশার দিক, এখনো মডরিচ আছেন দারুণ ফর্মে। ৪০ বছর বয়সেও তিনি দলের প্রাণ। সম্প্রতি চোটে পড়ে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে তাকে। তবু কোচ জ্লাৎকো দালিচ বিশ্বাস করেন, বিশ্বকাপের আগেই ফিরবেন তার অধিনায়ক।

ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি মাঝমাঠ। মডরিচ ছাড়া আছেন ম্যানসিটি তারকা মাতেও কোভাচিচ ও আটলান্টার মারকো প্যাসালিচের মতো অভিজ্ঞরা। বল দখলে রাখতে তারা দারুণ দক্ষ। চাপের ম্যাচেও মাথা ঠান্ডা রাখে। এ জায়গাতেই অন্য দলগুলোর চেয়ে আলাদা ক্রোয়েশিয়া। রক্ষণভাগেও আছে শক্ত দেয়াল। 

বিশেষ করে ম্যানসিটি তারকা জোসকো গ্যাভার্ডিওল এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে বিবেচিত। তার গতি আর ট্যাকল ক্রোয়েশিয়াকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেয়। গোলবারের নিচে আছেন ডমিনিক লিভাকোভিচ। 

পেনাল্টি রুখে দেওয়ার অদ্ভুত দক্ষতার জন্য তিনি আগেই নায়ক হয়েছেন ক্রোয়েশিয়ানদের কাছে। তবে দুর্বলতাও আছে দলটির। অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ই বয়সের ভারে পুরোনো ফর্ম হারিয়েছেন। 

গতিনির্ভর দলের বিপক্ষে কখনো কখনো পিছিয়ে পড়ে তারা। আর মডরিচ পুরোপুরি ফিট না থাকলে মাঝ মাঠের ছন্দও কমে যেতে পারে। তবু ক্রোয়েশিয়াকে কখনো হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ তারা বড় মঞ্চের দল। চাপের ম্যাচে লড়তে জানে। হারতে হারতেও ফিরে আসতে জানে। হয়তো এবার তারা ফেবারিট নয়। কিন্তু বিশ্বকাপ ইতিহাস বলছে, ক্রোয়েশিয়াকে অবহেলা করা মানেই বিপদ ডেকে আনা।