CKEditor 5 Sample
ঢাকা ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

সুরের জগতে নক্ষত্র পতন, প্রয়াত আশা ভোঁসলে

#
news image

সুরের জগতে মহা পতন। প্রয়াত ‘নাইটেঙ্গেল’ আশা ভোঁসলে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ সকলে। গতকাল সন্ধ্যাবেলাতেই বুকে সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন আশা ভোঁসলে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। আজ দুপুরে এল দুঃসংবাদ। পরিবারের তরফে তাঁর মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করা হয়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামিকাল বিকেল ৪টার সময় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে আশা ভোঁসলের।

১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাঙ্গলিতে সঙ্গীত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। মাত্র ১০ বছর বয়সে প্রথমবার সিনেমায় গান গেয়েছিলেন তিনি। মারাঠি ছবি ‘মাজা বাল’ সিনেমায় গেয়েছিলেন ‘চালা চালা নাভ বালা’। সেই থেকে শুরু। আট দশকের দীর্ঘ কেরিয়ারে ২০টিরও বেশি ভাষায় ১১ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন তিনি।


‘ও হাসিনা জুলফোবালি’-র মতো গান যেমন গেয়েছেন, তেমনই ‘দিল চিজ় ক্যায়া হ্যায়’র মতো গজল ও বিভিন্ন ক্লাসিক্যাল গানও গেয়েছেন। শর্মিলা ঠাকুর, আশা পারেখ, রেখা, উর্মিলা মাতোন্ডকার, করিশ্মা কপূর, ঐশ্বর্য্য রাই বচ্চন- বলিউডের বিভিন্ন সময়ের অভিনেত্রীদের কণ্ঠে গান গেয়েছেন তিনি। ২০২২ সালে তিনি শেষ হিন্দি সিনেমায় গান গেয়েছিলেন। ৯১ বছর বয়সে ‘সাইয়া বিনা’ গান প্রকাশ করেন। এই গান তাঁর প্রয়াত স্বামী তথা সঙ্গীত পরিচালক আরডি বর্মনকে উৎসর্গ করেছিলেন।

১৯৮১ সালে তিনি উমরাও জান সিনেমায় গান গাওয়ার জন্য প্রথম জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালে ইজাজত সিনেমার জন্য দ্বিতীয় জাতীয় পুরস্কার পান। এরপর ২০০০ সালে ভারতীয় সিনেমার সর্বোচ্চ সম্মান দাদাসাহেব ফালকে অ্যাওয়ার্ড পান। ২০০৮ সালে পদ্মবিভূষণ পান।

কর্মজীবনে সাফল্য অর্জন করলেও, ব্যক্তিগত জীবনে নানা সময়ে চড়াই-উতরাইয়ের সম্মুখীন হয়েছিলেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি ব্যক্তিগত সেক্রেটারি গণপতরাও ভোঁসলের সঙ্গে পালিয়ে যান এবং বিয়ে করেন। তিন সন্তান হয় তাদের, তবে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাছে অত্যাচারিত হতেন। শেষে ১৯৬০ সালে গণপতরাওয়ের থেকে আলাদা হয়ে যান তিনি।

২০ বছর পর আশা ভোঁসলে বিয়ে করেন রাহুল দেব বর্মনকে। ২০১২ সালে তাঁর মেয়ে বর্ষা আত্মহত্যা করেন। তাঁর বড় ছেলে হেমন্ত ২০১৫ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন। ছোট ছেলে আনন্দ আজ মায়ের মৃত্যু খবর দেন।

তাঁর দিদি লতা মঙ্গেশকরও সুরের জগতে আরেক নক্ষত্র ছিলেন। এক সময়ে দুই বোনের মধ্য়ে রেষারেষির গল্পও খুব চর্চিত হয়েছিল। তবে পরে লতা মঙ্গেশকর এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে নিজেরাই এই সমস্ত গল্প নিয়ে হাসাহাসি করতেন। জীবনের অদ্ভূত সমাপতন, দুই বোনই একই বয়সে প্রয়াত হলেন।

নিউজ ডেস্ক

১২ এপ্রিল, ২০২৬,  2:55 PM

news image
আশা ভোঁসলে

সুরের জগতে মহা পতন। প্রয়াত ‘নাইটেঙ্গেল’ আশা ভোঁসলে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তাঁর মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ সকলে। গতকাল সন্ধ্যাবেলাতেই বুকে সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন আশা ভোঁসলে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। আজ দুপুরে এল দুঃসংবাদ। পরিবারের তরফে তাঁর মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করা হয়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামিকাল বিকেল ৪টার সময় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে আশা ভোঁসলের।

১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের সাঙ্গলিতে সঙ্গীত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। মাত্র ১০ বছর বয়সে প্রথমবার সিনেমায় গান গেয়েছিলেন তিনি। মারাঠি ছবি ‘মাজা বাল’ সিনেমায় গেয়েছিলেন ‘চালা চালা নাভ বালা’। সেই থেকে শুরু। আট দশকের দীর্ঘ কেরিয়ারে ২০টিরও বেশি ভাষায় ১১ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন তিনি।


‘ও হাসিনা জুলফোবালি’-র মতো গান যেমন গেয়েছেন, তেমনই ‘দিল চিজ় ক্যায়া হ্যায়’র মতো গজল ও বিভিন্ন ক্লাসিক্যাল গানও গেয়েছেন। শর্মিলা ঠাকুর, আশা পারেখ, রেখা, উর্মিলা মাতোন্ডকার, করিশ্মা কপূর, ঐশ্বর্য্য রাই বচ্চন- বলিউডের বিভিন্ন সময়ের অভিনেত্রীদের কণ্ঠে গান গেয়েছেন তিনি। ২০২২ সালে তিনি শেষ হিন্দি সিনেমায় গান গেয়েছিলেন। ৯১ বছর বয়সে ‘সাইয়া বিনা’ গান প্রকাশ করেন। এই গান তাঁর প্রয়াত স্বামী তথা সঙ্গীত পরিচালক আরডি বর্মনকে উৎসর্গ করেছিলেন।

১৯৮১ সালে তিনি উমরাও জান সিনেমায় গান গাওয়ার জন্য প্রথম জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালে ইজাজত সিনেমার জন্য দ্বিতীয় জাতীয় পুরস্কার পান। এরপর ২০০০ সালে ভারতীয় সিনেমার সর্বোচ্চ সম্মান দাদাসাহেব ফালকে অ্যাওয়ার্ড পান। ২০০৮ সালে পদ্মবিভূষণ পান।

কর্মজীবনে সাফল্য অর্জন করলেও, ব্যক্তিগত জীবনে নানা সময়ে চড়াই-উতরাইয়ের সম্মুখীন হয়েছিলেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি ব্যক্তিগত সেক্রেটারি গণপতরাও ভোঁসলের সঙ্গে পালিয়ে যান এবং বিয়ে করেন। তিন সন্তান হয় তাদের, তবে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাছে অত্যাচারিত হতেন। শেষে ১৯৬০ সালে গণপতরাওয়ের থেকে আলাদা হয়ে যান তিনি।

২০ বছর পর আশা ভোঁসলে বিয়ে করেন রাহুল দেব বর্মনকে। ২০১২ সালে তাঁর মেয়ে বর্ষা আত্মহত্যা করেন। তাঁর বড় ছেলে হেমন্ত ২০১৫ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন। ছোট ছেলে আনন্দ আজ মায়ের মৃত্যু খবর দেন।

তাঁর দিদি লতা মঙ্গেশকরও সুরের জগতে আরেক নক্ষত্র ছিলেন। এক সময়ে দুই বোনের মধ্য়ে রেষারেষির গল্পও খুব চর্চিত হয়েছিল। তবে পরে লতা মঙ্গেশকর এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে নিজেরাই এই সমস্ত গল্প নিয়ে হাসাহাসি করতেন। জীবনের অদ্ভূত সমাপতন, দুই বোনই একই বয়সে প্রয়াত হলেন।