CKEditor 5 Sample
ঢাকা ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

ইরানকে অত্যাধুনিক বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে চীন

#
news image

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাঝেই তেহরানকে অত্যাধুনিক বিমান বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে সিএনএন এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই অস্ত্র চালান ইরানে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত তিনটি সূত্র জানিয়েছে, বেইজিং মূলত কাঁধে বহনযোগ্য বিমান বিধ্বংসী মিসাইল সিস্টেম বা 'ম্যানপ্যাডস' পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাঁচ সপ্তাহব্যাপী চলা ইরান-মার্কিন যুদ্ধে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমানগুলোর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে মধ্যস্থতা করার দাবি করেছিল চীন। এর পরপরই এই অস্ত্র সরবরাহের খবরটিকে চরম উসকানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। বিশেষ করে আগামী মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের কথা রয়েছে, যেখানে তিনি চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

দুইটি সূত্র জানিয়েছে, অস্ত্রের প্রকৃত উৎস গোপন রাখতে বেইজিং তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে এই চালান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। গোয়েন্দারা মনে করছেন, ইরান এই যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিদেশি বন্ধুদের সহায়তায় তাদের অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় সমৃদ্ধ করছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল২০২৬) হোয়াইট হাউস থেকে ফ্লোরিডা যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, চীন যদি এমনটা করে, তবে তাদের বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে। তবে এই বিষয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার সরাসরি কোনো কথা হয়েছে কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

ওয়াশিংটনে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের একজন মুখপাত্র এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, চীন সংঘাতের কোনো পক্ষকেই কখনো অস্ত্র সরবরাহ করেনি। এই তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি আরও যোগ করেন, একটি দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে চীন সর্বদা আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এ ধরনের ‘বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণা’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়।

গত সপ্তাহে ইরানের আকাশে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিমানটি তাপ অনুসন্ধানকারী একটি ‘হ্যান্ডহেল্ড শোল্ডার মিসাইল’ দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। ইরান সে সময় একে তাদের ‘নতুন’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বলে দাবি করলেও সেটি চীনের তৈরি কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের কোম্পানিগুলো আগে থেকেই ইরানকে বিভিন্ন দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছিল, যা তেহরানকে অস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করত। তবে এবার সরাসরি সরকারি পর্যায়ে সমরাস্ত্র হস্তান্তর বেইজিংয়ের ইরান নীতির একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, চীন সরাসরি এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চায় না কারণ তারা জানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জেতা সম্ভব নয়। বরং তারা ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্ব বজায় রাখতে চায়, কারণ চীনের জ্বালানি তেলের বড় উৎস হলো ইরান। বেইজিং সম্ভবত এই অস্ত্রগুলোকে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হিসেবে দাবি করে নিজেদের নিরপেক্ষ প্রমাণ করার চেষ্টা করবে।

উল্লেখ্য, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন দিয়ে সহায়তা করেছে, অন্যদিকে চীন ইরানের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তাদের তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে অবস্থান করছে।

সূত্র: সিএনএন

নিউজ ডেস্ক

১২ এপ্রিল, ২০২৬,  10:32 AM

news image
ইন্টারনেট

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাঝেই তেহরানকে অত্যাধুনিক বিমান বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে সিএনএন এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই অস্ত্র চালান ইরানে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত তিনটি সূত্র জানিয়েছে, বেইজিং মূলত কাঁধে বহনযোগ্য বিমান বিধ্বংসী মিসাইল সিস্টেম বা 'ম্যানপ্যাডস' পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাঁচ সপ্তাহব্যাপী চলা ইরান-মার্কিন যুদ্ধে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমানগুলোর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে মধ্যস্থতা করার দাবি করেছিল চীন। এর পরপরই এই অস্ত্র সরবরাহের খবরটিকে চরম উসকানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন। বিশেষ করে আগামী মাসের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের কথা রয়েছে, যেখানে তিনি চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

দুইটি সূত্র জানিয়েছে, অস্ত্রের প্রকৃত উৎস গোপন রাখতে বেইজিং তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে এই চালান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। গোয়েন্দারা মনে করছেন, ইরান এই যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিদেশি বন্ধুদের সহায়তায় তাদের অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় সমৃদ্ধ করছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল২০২৬) হোয়াইট হাউস থেকে ফ্লোরিডা যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, চীন যদি এমনটা করে, তবে তাদের বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে। তবে এই বিষয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার সরাসরি কোনো কথা হয়েছে কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

ওয়াশিংটনে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের একজন মুখপাত্র এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, চীন সংঘাতের কোনো পক্ষকেই কখনো অস্ত্র সরবরাহ করেনি। এই তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি আরও যোগ করেন, একটি দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে চীন সর্বদা আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এ ধরনের ‘বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণা’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়।

গত সপ্তাহে ইরানের আকাশে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিমানটি তাপ অনুসন্ধানকারী একটি ‘হ্যান্ডহেল্ড শোল্ডার মিসাইল’ দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। ইরান সে সময় একে তাদের ‘নতুন’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বলে দাবি করলেও সেটি চীনের তৈরি কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের কোম্পানিগুলো আগে থেকেই ইরানকে বিভিন্ন দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছিল, যা তেহরানকে অস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করত। তবে এবার সরাসরি সরকারি পর্যায়ে সমরাস্ত্র হস্তান্তর বেইজিংয়ের ইরান নীতির একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, চীন সরাসরি এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চায় না কারণ তারা জানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জেতা সম্ভব নয়। বরং তারা ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্ব বজায় রাখতে চায়, কারণ চীনের জ্বালানি তেলের বড় উৎস হলো ইরান। বেইজিং সম্ভবত এই অস্ত্রগুলোকে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হিসেবে দাবি করে নিজেদের নিরপেক্ষ প্রমাণ করার চেষ্টা করবে।

উল্লেখ্য, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন দিয়ে সহায়তা করেছে, অন্যদিকে চীন ইরানের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তাদের তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে অবস্থান করছে।

সূত্র: সিএনএন