CKEditor 5 Sample
ঢাকা ১৪ মার্চ, ২০২৬

ইরানের পক্ষ নিয়ে জাতিসংঘে যে বার্তা দিল চীন ও রাশিয়া

#
news image

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত টানা ১৪ দিন ধরে চলছে এবং ক্রমেই তা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। তবে ইরানের পক্ষে শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে রাশিয়া ও চীন।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের যৌক্তিকতা তুলে ধরার চেষ্টা করে। তবে রাশিয়া ও চীন তা রুখে দেয়। বৈঠকের সময় উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলে।

নিরাপত্তা পরিষদের চলতি মাসের সভাপতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তদারকি সংক্রান্ত ‘১৭৩৭ কমিটি’র কার্যক্রম সক্রিয় করার প্রস্তাব দেয়। রাশিয়া ও চীন প্রস্তাবটি ঠেকানোর চেষ্টা করলেও ভোটাভুটিতে তা ব্যর্থ হয়। ১১–২ ভোটে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব পাশ হয় এবং রাশিয়া ও চীন ভোটদান থেকে বিরত থাকে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, মস্কো ও বেইজিং তাদের প্রতিরক্ষা অংশীদার ইরানকে রক্ষা করতে এই কমিটির কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইরান বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্রহীন দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র রাষ্ট্র যারা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে এবং আইএইএ-কে পূর্ণ পরিদর্শনের সুযোগ দিচ্ছে না।

ওয়াল্টজ জানান, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ও সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের কারণে হুমকি তৈরি হয়েছে এবং এটি মোকাবিলার জন্য নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল জরুরি। তবে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া এই অভিযোগকে ‘অযথা আতঙ্ক’ হিসেবে উড়িয়ে দেন। চীনের প্রতিনিধি ফু ছং যুক্তরাষ্ট্রকে ‘উসকানিদাতা’ হিসেবে দায়ী করেন।

ব্রিটেন ও ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে জানায়, আন্তর্জাতিক উদ্বেগের যথাযথ জবাব না দেওয়ায় ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল ছাড়া কোনো পথ নেই।

বৈঠক শেষে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি বলেন, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সবসময়ই শান্তিপূর্ণ ছিল এবং কোনো নতুন নিষেধাজ্ঞা ইরান মেনে নেবে না।

এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঘোষণা ছাড়াই ইরানের ওপর সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রথম আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবার এবং সেনাবাহিনীর শীর্ষ কয়েকজন কমান্ডারকে হত্যা করা হয়। জবাবে ইরান ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। টানা ১৪ দিন ধরে চলা এই হামলা-পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্য ইতোমধ্যেই ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

নিউজ ডেস্ক

১৩ মার্চ, ২০২৬,  4:11 PM

news image
ইন্টারনেট

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত টানা ১৪ দিন ধরে চলছে এবং ক্রমেই তা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। তবে ইরানের পক্ষে শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে রাশিয়া ও চীন।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের যৌক্তিকতা তুলে ধরার চেষ্টা করে। তবে রাশিয়া ও চীন তা রুখে দেয়। বৈঠকের সময় উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলে।

নিরাপত্তা পরিষদের চলতি মাসের সভাপতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তদারকি সংক্রান্ত ‘১৭৩৭ কমিটি’র কার্যক্রম সক্রিয় করার প্রস্তাব দেয়। রাশিয়া ও চীন প্রস্তাবটি ঠেকানোর চেষ্টা করলেও ভোটাভুটিতে তা ব্যর্থ হয়। ১১–২ ভোটে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব পাশ হয় এবং রাশিয়া ও চীন ভোটদান থেকে বিরত থাকে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, মস্কো ও বেইজিং তাদের প্রতিরক্ষা অংশীদার ইরানকে রক্ষা করতে এই কমিটির কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইরান বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্রহীন দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র রাষ্ট্র যারা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে এবং আইএইএ-কে পূর্ণ পরিদর্শনের সুযোগ দিচ্ছে না।

ওয়াল্টজ জানান, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ও সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের কারণে হুমকি তৈরি হয়েছে এবং এটি মোকাবিলার জন্য নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল জরুরি। তবে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া এই অভিযোগকে ‘অযথা আতঙ্ক’ হিসেবে উড়িয়ে দেন। চীনের প্রতিনিধি ফু ছং যুক্তরাষ্ট্রকে ‘উসকানিদাতা’ হিসেবে দায়ী করেন।

ব্রিটেন ও ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিয়ে জানায়, আন্তর্জাতিক উদ্বেগের যথাযথ জবাব না দেওয়ায় ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল ছাড়া কোনো পথ নেই।

বৈঠক শেষে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি বলেন, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সবসময়ই শান্তিপূর্ণ ছিল এবং কোনো নতুন নিষেধাজ্ঞা ইরান মেনে নেবে না।

এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঘোষণা ছাড়াই ইরানের ওপর সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রথম আঘাতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবার এবং সেনাবাহিনীর শীর্ষ কয়েকজন কমান্ডারকে হত্যা করা হয়। জবাবে ইরান ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। টানা ১৪ দিন ধরে চলা এই হামলা-পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্য ইতোমধ্যেই ভয়ংকর যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।